📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 বর্তমান ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সর্বসম্মতিক্রমে হারাম

📄 বর্তমান ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সর্বসম্মতিক্রমে হারাম


এখানে আমি আরও একটি কথা বলতে চাই। তা হলো, বিগত ৫০-৬০ বছর যাবত মুসলিম বিশ্বে Banking Interest সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে আসছে। আর যেমনটি বলেছি, কিছু লোক বলছে, Compound Interest হারাম আর Simple Interest হালাল কিংবা বাণিজ্যিক লোন হারাম নয় ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন ও অভিযোগ মুসলিম বিশ্বে প্রায় ৫০-৬০ বছর যাবত আলোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই আলোচনার এখন সমাপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের শুধু আলেমগণই নন - অর্থনীতিবিদ ও মুসলিম ব্যাংকারগণও এই সিদ্ধান্তে একমত যে, সাধারণ ঋণের উপর সুদ যেমন হারাম, ব্যাংকিং ইন্টারেস্টও তেমনই হারাম। এই সিদ্ধান্তের উপর এখন ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিত্বের এতে কোনোই ভিন্নমত নেই। এ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে জিদ্দায় 'আল-মাজমাউল ফিক্হিল ইসলামী'তে। তাতে প্রায় ৪৫টি মুসলিম দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণের সমাবেশ ঘটেছিল। আমিও তাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রায় ২০০ আলেম সর্বসম্মতিক্রমে এই ফতোয়া প্রদান করেছিলেন যে, ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সম্পূর্ণ হারাম এবং তার জায়েয হওয়ার কোনোই পথ নেই। কাজেই এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এখন বাতুলতা বই কিছু নয়।

এখানে আমি আরও একটি কথা বলতে চাই। তা হলো, বিগত ৫০-৬০ বছর যাবত মুসলিম বিশ্বে Banking Interest সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে আসছে। আর যেমনটি বলেছি, কিছু লোক বলছে, Compound Interest হারাম আর Simple Interest হালাল কিংবা বাণিজ্যিক লোন হারাম নয় ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন ও অভিযোগ মুসলিম বিশ্বে প্রায় ৫০-৬০ বছর যাবত আলোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই আলোচনার এখন সমাপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের শুধু আলেমগণই নন - অর্থনীতিবিদ ও মুসলিম ব্যাংকারগণও এই সিদ্ধান্তে একমত যে, সাধারণ ঋণের উপর সুদ যেমন হারাম, ব্যাংকিং ইন্টারেস্টও তেমনই হারাম। এই সিদ্ধান্তের উপর এখন ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিত্বের এতে কোনোই ভিন্নমত নেই। এ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে জিদ্দায় 'আল-মাজমাউল ফিক্হিল ইসলামী'তে। তাতে প্রায় ৪৫টি মুসলিম দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণের সমাবেশ ঘটেছিল। আমিও তাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রায় ২০০ আলেম সর্বসম্মতিক্রমে এই ফতোয়া প্রদান করেছিলেন যে, ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সম্পূর্ণ হারাম এবং তার জায়েয হওয়ার কোনোই পথ নেই। কাজেই এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এখন বাতুলতা বই কিছু নয়।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণে সমস্যাটা কী?

📄 কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণে সমস্যাটা কী?


আরও একটি কথা বুঝে নেওয়া দরকার। তা হলো, আলোচনার শুরুতে যেমনটি বলেছিলাম যে, মানুষ বলছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা হতো। এখন যদি কোনো লোক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ নেয় আর ঋণদাতা সুদ দাবি করে, তা হলে এটি অমানবিক আচরণ ও অবিচার বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু কেউ আমার অর্থ তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে মুনাফা করল আর আমি সেই মুনাফা থেকে একটি অংশ গ্রহণ করলাম, তাতে দোষের কী আছে?

আরও একটি কথা বুঝে নেওয়া দরকার। তা হলো, আলোচনার শুরুতে যেমনটি বলেছিলাম যে, মানুষ বলছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা হতো। এখন যদি কোনো লোক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ নেয় আর ঋণদাতা সুদ দাবি করে, তা হলে এটি অমানবিক আচরণ ও অবিচার বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু কেউ আমার অর্থ তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে মুনাফা করল আর আমি সেই মুনাফা থেকে একটি অংশ গ্রহণ করলাম, তাতে দোষের কী আছে?

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 আপনাকে লোকসানের ঝুঁকিও নিতে হবে

📄 আপনাকে লোকসানের ঝুঁকিও নিতে হবে


এর উত্তরে আমার প্রথম কথা হলো, একজন মুসলমানের জন্য আল্লাহর কোনো বিধানে প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আল্লাহ যদি কোনো বস্তু বা বিষয়কে হারাম করে দিয়ে থাকেন, তা হলে তা হারাম হয়ে গেল। ইসলামের বিধান হলো, আপনি যদি কাউকে ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন, তা হলে দেওয়ার আগে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি ঠিক করে নিন। আপনি কি তাকে সহযোগিতা করতে চাচ্ছেন, নাকি তার কারবারে অংশীদার হতে চাচ্ছেন? আপনি যদি ঋণের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করতে চান, তা হলে শুধু সহযোগিতা-ই করবেন। এমতাবস্থায় উক্ত ঋণের উপর অতিরিক্ত কিছু দাবি করার কোনো অধিকার থাকবে না।
পক্ষান্তরে যদি আপনি তার কারবারে অংশীদার হতে চান, তা হলে যেভাবে আপনি তার লাভের অংশীদার হবেন, তেমনি আপনাকে তার ব্যবসায় লোকসানেরও অংশীদার হতে হবে। এমনটি হতে পারবে না যে, কারবারে লোকসানের ঝুঁকি সবটুকু তিনি বহন করবেন আর আপনি মুনাফা গণনা করবেন। এই পদ্ধতিতে আপনি তাকে ঋণ প্রদান থেকে বিরত থাকুন। আপনি বরং তার সঙ্গে একটি Joint Enterprise (জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) গড়ে তুলুন। অর্থাৎ- আপনি তার সঙ্গে এই চুক্তিতে আবদ্ধ হোন যে, তুমি যে ব্যবসার জন্য ঋণ চাচ্ছ, আমাকে তার অংশীদার বানিয়ে নাও। ব্যবসা যদি লাভজনক হয়, তা হলে আমাকে এত শতাংশ দিয়ো। আর যদি লোকসান হয়, তা হলেও মুনাফার হারে আমি সেই ক্ষতি বহন করব। কিন্তু এটা বৈধ নয় যে, আপনি তাকে বলবেন, এই ঋণের উপর আমি তোমার নিকট থেকে এত পার্সেন্ট মুনাফা নেব। কারবারে তোমার লাভ হলো, না লোকসান হলো, আমি তা দেখব না। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ হারাম ও সুদ।

এর উত্তরে আমার প্রথম কথা হলো, একজন মুসলমানের জন্য আল্লাহর কোনো বিধানে প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আল্লাহ যদি কোনো বস্তু বা বিষয়কে হারাম করে দিয়ে থাকেন, তা হলে তা হারাম হয়ে গেল। ইসলামের বিধান হলো, আপনি যদি কাউকে ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন, তা হলে দেওয়ার আগে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি ঠিক করে নিন। আপনি কি তাকে সহযোগিতা করতে চাচ্ছেন, নাকি তার কারবারে অংশীদার হতে চাচ্ছেন? আপনি যদি ঋণের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করতে চান, তা হলে শুধু সহযোগিতা-ই করবেন। এমতাবস্থায় উক্ত ঋণের উপর অতিরিক্ত কিছু দাবি করার কোনো অধিকার থাকবে না।
পক্ষান্তরে যদি আপনি তার কারবারে অংশীদার হতে চান, তা হলে যেভাবে আপনি তার লাভের অংশীদার হবেন, তেমনি আপনাকে তার ব্যবসায় লোকসানেরও অংশীদার হতে হবে। এমনটি হতে পারবে না যে, কারবারে লোকসানের ঝুঁকি সবটুকু তিনি বহন করবেন আর আপনি মুনাফা গণনা করবেন। এই পদ্ধতিতে আপনি তাকে ঋণ প্রদান থেকে বিরত থাকুন। আপনি বরং তার সঙ্গে একটি Joint Enterprise (জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) গড়ে তুলুন। অর্থাৎ- আপনি তার সঙ্গে এই চুক্তিতে আবদ্ধ হোন যে, তুমি যে ব্যবসার জন্য ঋণ চাচ্ছ, আমাকে তার অংশীদার বানিয়ে নাও। ব্যবসা যদি লাভজনক হয়, তা হলে আমাকে এত শতাংশ দিয়ো। আর যদি লোকসান হয়, তা হলেও মুনাফার হারে আমি সেই ক্ষতি বহন করব। কিন্তু এটা বৈধ নয় যে, আপনি তাকে বলবেন, এই ঋণের উপর আমি তোমার নিকট থেকে এত পার্সেন্ট মুনাফা নেব। কারবারে তোমার লাভ হলো, না লোকসান হলো, আমি তা দেখব না। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ হারাম ও সুদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00