📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 সাহাবাযুগে ব্যাংকিং-এর একটি দৃষ্টান্ত

📄 সাহাবাযুগে ব্যাংকিং-এর একটি দৃষ্টান্ত


হযরত যুবায়র ইবনে আওয়াম (রাযি.) জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন। তিনি হুবহু এ যুগের ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানুষ যখন তাঁর কাছে আমানত রাখত, তখন তিনি বলে নিতেন, আমানতের এই অর্থ আমি ঋণ হিসেবে গ্রহণ করছি। তোমার এই অর্থ আমার দায়িত্বে ঋণ হিসেবে থাকল। তারপর এই অর্থকে তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন। এই ধারাবাহিকতায় মৃত্যুর সময় তাঁর দায়িত্বে যে ঋণ ছিল, সে সম্পর্কে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযি.) বলেন : فَحَسِبْتُ مَا عَلَيْهِ مِنَ الدِّيْنِ فَوَجَدتُّ أَلْفَيْ أَلْفٍ وَمِأَتَى أَلْفٍ 'আমি তাঁর ঋণগুলো হিসাব করে দেখলাম, তার পরিমাণ বাইশ লাখ দিনার।'
কাজেই সে যুগে বাণিজ্যিক ঋণ ছিল না একথাটি একেবারেই অবাস্তব ও ঐতিহাসিক ভুল। বাস্তবতা হলো, সেযুগে বাণিজ্যিক ঋণও ছিলো এবং তার উপর সুদের লেনদেনও হতো। পবিত্র কুরআন যেকোনো ঋণের উপর অতিরিক্ত আদায় করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই এই অভিমত ব্যক্ত করা সঠিক নয় যে, কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা জায়েয আর ব্যক্তিগত লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা না-জায়েয।

হযরত যুবায়র ইবনে আওয়াম (রাযি.) জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন। তিনি হুবহু এ যুগের ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানুষ যখন তাঁর কাছে আমানত রাখত, তখন তিনি বলে নিতেন, আমানতের এই অর্থ আমি ঋণ হিসেবে গ্রহণ করছি। তোমার এই অর্থ আমার দায়িত্বে ঋণ হিসেবে থাকল। তারপর এই অর্থকে তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন। এই ধারাবাহিকতায় মৃত্যুর সময় তাঁর দায়িত্বে যে ঋণ ছিল, সে সম্পর্কে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযি.) বলেন : فَحَسِبْتُ مَا عَلَيْهِ مِنَ الدِّيْنِ فَوَجَدتُّ أَلْفَيْ أَلْفٍ وَمِأَتَى أَلْفٍ 'আমি তাঁর ঋণগুলো হিসাব করে দেখলাম, তার পরিমাণ বাইশ লাখ দিনার।'
কাজেই সে যুগে বাণিজ্যিক ঋণ ছিল না একথাটি একেবারেই অবাস্তব ও ঐতিহাসিক ভুল। বাস্তবতা হলো, সেযুগে বাণিজ্যিক ঋণও ছিলো এবং তার উপর সুদের লেনদেনও হতো। পবিত্র কুরআন যেকোনো ঋণের উপর অতিরিক্ত আদায় করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই এই অভিমত ব্যক্ত করা সঠিক নয় যে, কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা জায়েয আর ব্যক্তিগত লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা না-জায়েয।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 ‘চক্রবৃদ্ধি সুদ’ ও ‘সরল সুদ’ দু-ই হারাম

📄 ‘চক্রবৃদ্ধি সুদ’ ও ‘সরল সুদ’ দু-ই হারাম


এ ছাড়া আরও একটি বিভ্রান্তি' এই ছড়ানো হচ্ছে যে, এক হলো 'সরল সুদ' (Simple Interest) আরেক হলো 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' (Compound Interest)। 'চক্রবৃদ্ধি' মানে সুদের উপর সুদ আরোপ করা। কেউ কেউ বলে থাকেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হতো। আর পবিত্র কুরআন এই সুদকেই হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম হলেও 'সরল সুদ' জায়েয। কারণ, 'সরল সুদ' সে যুগে ছিল না। আর না কুরআন তাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু এই একটু আগে আমি আপনাদের সম্মুখে কুরআনের যে আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি, তাতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبوا
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর সুদের যা বকেয়া আছে, সেগুলো ছেড়ে দাও।' -সূরা বাকারা ২৭৮
এই আয়াতে আল্লাহপাক বকেয়া সুদের দাবি পরিত্যাগ করতে আদেশ করেছেন। 'সরল' আর 'চক্র'র কোনো উল্লেখ নেই। তারপর বলেছেন:
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ
'যদি তোমরা (সুদ থেকে) তাওবা করে নাও, তা হলে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে।' সূরা বাকারা ২৭৯
পবিত্র কুরআন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে, তোমাদের মূলধন ঠিক থাকবে। এটি তোমাদের অধিকার। কিন্তু এর বাইরে সামান্যতম বাড়তিও হারাম। কাজেই একথা বলা সম্পূর্ণ ভুল যে, 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম – 'সরল সুদ' হারাম নয়। বরং সুদ কম হোক কিংবা বেশি, সবই হারাম। ঋণগ্রহীতা যদি গরিব হয়, তবুও হারাম; যদি বিত্তশালী হয়, তবুও হারাম। যদি কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করে, তবুও সুদ হারাম; যদি ব্যবসার জন্য ঋণ করে, তবুও হারাম। সব ধরনের সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই।

এ ছাড়া আরও একটি বিভ্রান্তি' এই ছড়ানো হচ্ছে যে, এক হলো 'সরল সুদ' (Simple Interest) আরেক হলো 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' (Compound Interest)। 'চক্রবৃদ্ধি' মানে সুদের উপর সুদ আরোপ করা। কেউ কেউ বলে থাকেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হতো। আর পবিত্র কুরআন এই সুদকেই হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম হলেও 'সরল সুদ' জায়েয। কারণ, 'সরল সুদ' সে যুগে ছিল না। আর না কুরআন তাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু এই একটু আগে আমি আপনাদের সম্মুখে কুরআনের যে আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি, তাতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبوا
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর সুদের যা বকেয়া আছে, সেগুলো ছেড়ে দাও।' -সূরা বাকারা ২৭৮
এই আয়াতে আল্লাহপাক বকেয়া সুদের দাবি পরিত্যাগ করতে আদেশ করেছেন। 'সরল' আর 'চক্র'র কোনো উল্লেখ নেই। তারপর বলেছেন:
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ
'যদি তোমরা (সুদ থেকে) তাওবা করে নাও, তা হলে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে।' সূরা বাকারা ২৭৯
পবিত্র কুরআন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে, তোমাদের মূলধন ঠিক থাকবে। এটি তোমাদের অধিকার। কিন্তু এর বাইরে সামান্যতম বাড়তিও হারাম। কাজেই একথা বলা সম্পূর্ণ ভুল যে, 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম – 'সরল সুদ' হারাম নয়। বরং সুদ কম হোক কিংবা বেশি, সবই হারাম। ঋণগ্রহীতা যদি গরিব হয়, তবুও হারাম; যদি বিত্তশালী হয়, তবুও হারাম। যদি কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করে, তবুও সুদ হারাম; যদি ব্যবসার জন্য ঋণ করে, তবুও হারাম। সব ধরনের সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 বর্তমান ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সর্বসম্মতিক্রমে হারাম

📄 বর্তমান ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সর্বসম্মতিক্রমে হারাম


এখানে আমি আরও একটি কথা বলতে চাই। তা হলো, বিগত ৫০-৬০ বছর যাবত মুসলিম বিশ্বে Banking Interest সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে আসছে। আর যেমনটি বলেছি, কিছু লোক বলছে, Compound Interest হারাম আর Simple Interest হালাল কিংবা বাণিজ্যিক লোন হারাম নয় ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন ও অভিযোগ মুসলিম বিশ্বে প্রায় ৫০-৬০ বছর যাবত আলোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই আলোচনার এখন সমাপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের শুধু আলেমগণই নন - অর্থনীতিবিদ ও মুসলিম ব্যাংকারগণও এই সিদ্ধান্তে একমত যে, সাধারণ ঋণের উপর সুদ যেমন হারাম, ব্যাংকিং ইন্টারেস্টও তেমনই হারাম। এই সিদ্ধান্তের উপর এখন ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিত্বের এতে কোনোই ভিন্নমত নেই। এ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে জিদ্দায় 'আল-মাজমাউল ফিক্হিল ইসলামী'তে। তাতে প্রায় ৪৫টি মুসলিম দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণের সমাবেশ ঘটেছিল। আমিও তাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রায় ২০০ আলেম সর্বসম্মতিক্রমে এই ফতোয়া প্রদান করেছিলেন যে, ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সম্পূর্ণ হারাম এবং তার জায়েয হওয়ার কোনোই পথ নেই। কাজেই এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এখন বাতুলতা বই কিছু নয়।

এখানে আমি আরও একটি কথা বলতে চাই। তা হলো, বিগত ৫০-৬০ বছর যাবত মুসলিম বিশ্বে Banking Interest সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে আসছে। আর যেমনটি বলেছি, কিছু লোক বলছে, Compound Interest হারাম আর Simple Interest হালাল কিংবা বাণিজ্যিক লোন হারাম নয় ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন ও অভিযোগ মুসলিম বিশ্বে প্রায় ৫০-৬০ বছর যাবত আলোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই আলোচনার এখন সমাপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের শুধু আলেমগণই নন - অর্থনীতিবিদ ও মুসলিম ব্যাংকারগণও এই সিদ্ধান্তে একমত যে, সাধারণ ঋণের উপর সুদ যেমন হারাম, ব্যাংকিং ইন্টারেস্টও তেমনই হারাম। এই সিদ্ধান্তের উপর এখন ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিত্বের এতে কোনোই ভিন্নমত নেই। এ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে জিদ্দায় 'আল-মাজমাউল ফিক্হিল ইসলামী'তে। তাতে প্রায় ৪৫টি মুসলিম দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণের সমাবেশ ঘটেছিল। আমিও তাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রায় ২০০ আলেম সর্বসম্মতিক্রমে এই ফতোয়া প্রদান করেছিলেন যে, ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট সম্পূর্ণ হারাম এবং তার জায়েয হওয়ার কোনোই পথ নেই। কাজেই এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এখন বাতুলতা বই কিছু নয়।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণে সমস্যাটা কী?

📄 কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণে সমস্যাটা কী?


আরও একটি কথা বুঝে নেওয়া দরকার। তা হলো, আলোচনার শুরুতে যেমনটি বলেছিলাম যে, মানুষ বলছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা হতো। এখন যদি কোনো লোক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ নেয় আর ঋণদাতা সুদ দাবি করে, তা হলে এটি অমানবিক আচরণ ও অবিচার বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু কেউ আমার অর্থ তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে মুনাফা করল আর আমি সেই মুনাফা থেকে একটি অংশ গ্রহণ করলাম, তাতে দোষের কী আছে?

আরও একটি কথা বুঝে নেওয়া দরকার। তা হলো, আলোচনার শুরুতে যেমনটি বলেছিলাম যে, মানুষ বলছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা হতো। এখন যদি কোনো লোক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ নেয় আর ঋণদাতা সুদ দাবি করে, তা হলে এটি অমানবিক আচরণ ও অবিচার বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু কেউ আমার অর্থ তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে মুনাফা করল আর আমি সেই মুনাফা থেকে একটি অংশ গ্রহণ করলাম, তাতে দোষের কী আছে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00