📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 প্রতিটি গোত্র এক-একটি ‘জয়েন্ট স্টক কোম্পানী’ ছিল

📄 প্রতিটি গোত্র এক-একটি ‘জয়েন্ট স্টক কোম্পানী’ ছিল


কিন্তু মনে রাখবেন, একথাটি সঠিক নয়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমাজে আগমন করেছিলেন, সেই সমাজেও আজকের আধুনিক ব্যবসার প্রায় সব কটি প্রকারের ভিত্তি বিদ্যমান ছিল। যেমন- আজকাল 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' আছে। এ ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, এটি চতুর্দশ শতাব্দীর আবিষ্কার। এর আগে 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'র কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু আমরা যখন আরবের ইতিহাস পাঠ করি, তখন দেখতে পাই, আরবের প্রতিটি গোত্র এক-একটি স্বতন্ত্র 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' ছিল। কারণ, প্রতিটি গোত্রে ব্যবসার পদ্ধতি এই ছিল যে, গোত্রের প্রতিজন মানুষ এক টাকা-দুটাকা করে একস্থানে সঞ্চয় করত এবং সেই অর্থ শাম প্রেরণ করে সেখান থেকে ব্যবসাপণ্য আমদানি করত।
আপনারা অনেক বাণিজ্যিক কাফেলার (Commercial Caravan)-এর নাম শুনে থাকবেন। এসকল কাফেলার কাজ এটিই হতো যে, গোত্রের সব মানুষ এক-একটি টাকা একত্রিত করে অন্যত্র পাঠাত আর সেখান থেকে পণ্য ক্রয় করে নিজ অঞ্চলে এনে বিক্রি করত।
যেমন- পবিত্র কুরআনের সূরা কুরাইশে আল্লাহপাক সে যুগের 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'গুলোর বাণিজ্যিক তৎপরতারই প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহপাক বলেন:
لِإِيلَفِ قُرَيْشٍ إِيلَفِهِمْ رِحْلَةَ الشَّتَاءِ وَالصَّيْفِ
'যেহেতু কুরাইশের আসক্তি আছে, আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরের।' (সূরা কুরাইশ, আয়াত ১-২)
এই ব্যবসারই মিশন নিয়ে আরবের লোকেরা শীতকালে ইয়ামেন আর গ্রীষ্মকালে শাম (সিরিয়া) সফর করত। তাদের শীত-গ্রীষ্মের এই সফর শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যে হতো। এখান থেকে পণ্য নিয়ে ওখানে বিক্রি করত আর ওখান থেকে পণ্য এনে এখানে বিক্রি করত। কোনো-কোনো সময় এক-একজন মানুষ আপন গোত্র থেকে দশ লাখ দিনার পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করত। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কি এজন্য ঋণ গ্রহণ করত যে, তাদের ঘরে খাওয়ার কিছু ছিল না? তাদের কাছে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করবার মতো কাপড় ছিল না। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এত বড় ঋণ তারা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করত।

কিন্তু মনে রাখবেন, একথাটি সঠিক নয়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমাজে আগমন করেছিলেন, সেই সমাজেও আজকের আধুনিক ব্যবসার প্রায় সব কটি প্রকারের ভিত্তি বিদ্যমান ছিল। যেমন- আজকাল 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' আছে। এ ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, এটি চতুর্দশ শতাব্দীর আবিষ্কার। এর আগে 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'র কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু আমরা যখন আরবের ইতিহাস পাঠ করি, তখন দেখতে পাই, আরবের প্রতিটি গোত্র এক-একটি স্বতন্ত্র 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' ছিল। কারণ, প্রতিটি গোত্রে ব্যবসার পদ্ধতি এই ছিল যে, গোত্রের প্রতিজন মানুষ এক টাকা-দুটাকা করে একস্থানে সঞ্চয় করত এবং সেই অর্থ শাম প্রেরণ করে সেখান থেকে ব্যবসাপণ্য আমদানি করত।
আপনারা অনেক বাণিজ্যিক কাফেলার (Commercial Caravan)-এর নাম শুনে থাকবেন। এসকল কাফেলার কাজ এটিই হতো যে, গোত্রের সব মানুষ এক-একটি টাকা একত্রিত করে অন্যত্র পাঠাত আর সেখান থেকে পণ্য ক্রয় করে নিজ অঞ্চলে এনে বিক্রি করত।
যেমন- পবিত্র কুরআনের সূরা কুরাইশে আল্লাহপাক সে যুগের 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'গুলোর বাণিজ্যিক তৎপরতারই প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহপাক বলেন:
لِإِيلَفِ قُرَيْشٍ إِيلَفِهِمْ رِحْلَةَ الشَّتَاءِ وَالصَّيْفِ
'যেহেতু কুরাইশের আসক্তি আছে, আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরের।' (সূরা কুরাইশ, আয়াত ১-২)
এই ব্যবসারই মিশন নিয়ে আরবের লোকেরা শীতকালে ইয়ামেন আর গ্রীষ্মকালে শাম (সিরিয়া) সফর করত। তাদের শীত-গ্রীষ্মের এই সফর শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যে হতো। এখান থেকে পণ্য নিয়ে ওখানে বিক্রি করত আর ওখান থেকে পণ্য এনে এখানে বিক্রি করত। কোনো-কোনো সময় এক-একজন মানুষ আপন গোত্র থেকে দশ লাখ দিনার পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করত। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কি এজন্য ঋণ গ্রহণ করত যে, তাদের ঘরে খাওয়ার কিছু ছিল না? তাদের কাছে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করবার মতো কাপড় ছিল না। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এত বড় ঋণ তারা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করত।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 সর্বপ্রথম পরিত্যাগ করা সুদ

📄 সর্বপ্রথম পরিত্যাগ করা সুদ


নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে যখন সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা প্রদান করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانًا رِنَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ 'জাহেলিয়াতের সুদ রহিত করা হলো। সবার আগে আমি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ রহিত করলাম। তার সম্পূর্ণ সুদ রহিত করা হলো।' -মুসলিম হাদীস নং ১২৩৭, আবু দাউদ হাদীস নং ১৬২৮
হযরত আব্বাস (রাযি.) সুদের উপর ঋণ দিতেন। তাই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দিলেন, আমি আমার চাচা আব্বাস-এর সম্পূর্ণ সুদ রহিত করে দিলাম। যার-যার কাছে তিনি সুদ পাওনা আছেন, সেগুলো আর পরিশোধ করতে হবে না।
বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্বাস (রাযি.)-এর যে সুদ রহিত ঘোষণা করেছিলেন, তার পরিমাণ ছিল দশ হাজার মিছকাল সোনা। প্রায় চার মাশায় এক মিছকাল হয়। আর এই দশ হাজার মিছকাল মূলধন ছিল না। বরং এই পরিমাণটি ছিল সুদ, যা তিনি মানুষের কাছে পাওনা ছিলেন।
আপনারাই বলুন, যে বিনিয়োগের বিপরীতে দশ হাজার মিছকাল সোনা সুদ আসে, সেই ঋণ কি শুধু খাওয়া-পরার প্রয়োজনে গ্রহণ করা হয়েছিল? বলা অনাবশ্যক যে, উক্ত ঋণ ব্যবসার জন্যই গ্রহণ করা হয়েছিল।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে যখন সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা প্রদান করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانًا رِنَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ 'জাহেলিয়াতের সুদ রহিত করা হলো। সবার আগে আমি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ রহিত করলাম। তার সম্পূর্ণ সুদ রহিত করা হলো।' -মুসলিম হাদীস নং ১২৩৭, আবু দাউদ হাদীস নং ১৬২৮
হযরত আব্বাস (রাযি.) সুদের উপর ঋণ দিতেন। তাই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দিলেন, আমি আমার চাচা আব্বাস-এর সম্পূর্ণ সুদ রহিত করে দিলাম। যার-যার কাছে তিনি সুদ পাওনা আছেন, সেগুলো আর পরিশোধ করতে হবে না।
বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্বাস (রাযি.)-এর যে সুদ রহিত ঘোষণা করেছিলেন, তার পরিমাণ ছিল দশ হাজার মিছকাল সোনা। প্রায় চার মাশায় এক মিছকাল হয়। আর এই দশ হাজার মিছকাল মূলধন ছিল না। বরং এই পরিমাণটি ছিল সুদ, যা তিনি মানুষের কাছে পাওনা ছিলেন।
আপনারাই বলুন, যে বিনিয়োগের বিপরীতে দশ হাজার মিছকাল সোনা সুদ আসে, সেই ঋণ কি শুধু খাওয়া-পরার প্রয়োজনে গ্রহণ করা হয়েছিল? বলা অনাবশ্যক যে, উক্ত ঋণ ব্যবসার জন্যই গ্রহণ করা হয়েছিল।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 সাহাবাযুগে ব্যাংকিং-এর একটি দৃষ্টান্ত

📄 সাহাবাযুগে ব্যাংকিং-এর একটি দৃষ্টান্ত


হযরত যুবায়র ইবনে আওয়াম (রাযি.) জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন। তিনি হুবহু এ যুগের ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানুষ যখন তাঁর কাছে আমানত রাখত, তখন তিনি বলে নিতেন, আমানতের এই অর্থ আমি ঋণ হিসেবে গ্রহণ করছি। তোমার এই অর্থ আমার দায়িত্বে ঋণ হিসেবে থাকল। তারপর এই অর্থকে তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন। এই ধারাবাহিকতায় মৃত্যুর সময় তাঁর দায়িত্বে যে ঋণ ছিল, সে সম্পর্কে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযি.) বলেন : فَحَسِبْتُ مَا عَلَيْهِ مِنَ الدِّيْنِ فَوَجَدتُّ أَلْفَيْ أَلْفٍ وَمِأَتَى أَلْفٍ 'আমি তাঁর ঋণগুলো হিসাব করে দেখলাম, তার পরিমাণ বাইশ লাখ দিনার।'
কাজেই সে যুগে বাণিজ্যিক ঋণ ছিল না একথাটি একেবারেই অবাস্তব ও ঐতিহাসিক ভুল। বাস্তবতা হলো, সেযুগে বাণিজ্যিক ঋণও ছিলো এবং তার উপর সুদের লেনদেনও হতো। পবিত্র কুরআন যেকোনো ঋণের উপর অতিরিক্ত আদায় করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই এই অভিমত ব্যক্ত করা সঠিক নয় যে, কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা জায়েয আর ব্যক্তিগত লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা না-জায়েয।

হযরত যুবায়র ইবনে আওয়াম (রাযি.) জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন। তিনি হুবহু এ যুগের ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানুষ যখন তাঁর কাছে আমানত রাখত, তখন তিনি বলে নিতেন, আমানতের এই অর্থ আমি ঋণ হিসেবে গ্রহণ করছি। তোমার এই অর্থ আমার দায়িত্বে ঋণ হিসেবে থাকল। তারপর এই অর্থকে তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন। এই ধারাবাহিকতায় মৃত্যুর সময় তাঁর দায়িত্বে যে ঋণ ছিল, সে সম্পর্কে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযি.) বলেন : فَحَسِبْتُ مَا عَلَيْهِ مِنَ الدِّيْنِ فَوَجَدتُّ أَلْفَيْ أَلْفٍ وَمِأَتَى أَلْفٍ 'আমি তাঁর ঋণগুলো হিসাব করে দেখলাম, তার পরিমাণ বাইশ লাখ দিনার।'
কাজেই সে যুগে বাণিজ্যিক ঋণ ছিল না একথাটি একেবারেই অবাস্তব ও ঐতিহাসিক ভুল। বাস্তবতা হলো, সেযুগে বাণিজ্যিক ঋণও ছিলো এবং তার উপর সুদের লেনদেনও হতো। পবিত্র কুরআন যেকোনো ঋণের উপর অতিরিক্ত আদায় করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই এই অভিমত ব্যক্ত করা সঠিক নয় যে, কমার্শিয়াল লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা জায়েয আর ব্যক্তিগত লোনের উপর ইন্টারেস্ট গ্রহণ করা না-জায়েয।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 ‘চক্রবৃদ্ধি সুদ’ ও ‘সরল সুদ’ দু-ই হারাম

📄 ‘চক্রবৃদ্ধি সুদ’ ও ‘সরল সুদ’ দু-ই হারাম


এ ছাড়া আরও একটি বিভ্রান্তি' এই ছড়ানো হচ্ছে যে, এক হলো 'সরল সুদ' (Simple Interest) আরেক হলো 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' (Compound Interest)। 'চক্রবৃদ্ধি' মানে সুদের উপর সুদ আরোপ করা। কেউ কেউ বলে থাকেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হতো। আর পবিত্র কুরআন এই সুদকেই হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম হলেও 'সরল সুদ' জায়েয। কারণ, 'সরল সুদ' সে যুগে ছিল না। আর না কুরআন তাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু এই একটু আগে আমি আপনাদের সম্মুখে কুরআনের যে আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি, তাতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبوا
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর সুদের যা বকেয়া আছে, সেগুলো ছেড়ে দাও।' -সূরা বাকারা ২৭৮
এই আয়াতে আল্লাহপাক বকেয়া সুদের দাবি পরিত্যাগ করতে আদেশ করেছেন। 'সরল' আর 'চক্র'র কোনো উল্লেখ নেই। তারপর বলেছেন:
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ
'যদি তোমরা (সুদ থেকে) তাওবা করে নাও, তা হলে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে।' সূরা বাকারা ২৭৯
পবিত্র কুরআন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে, তোমাদের মূলধন ঠিক থাকবে। এটি তোমাদের অধিকার। কিন্তু এর বাইরে সামান্যতম বাড়তিও হারাম। কাজেই একথা বলা সম্পূর্ণ ভুল যে, 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম – 'সরল সুদ' হারাম নয়। বরং সুদ কম হোক কিংবা বেশি, সবই হারাম। ঋণগ্রহীতা যদি গরিব হয়, তবুও হারাম; যদি বিত্তশালী হয়, তবুও হারাম। যদি কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করে, তবুও সুদ হারাম; যদি ব্যবসার জন্য ঋণ করে, তবুও হারাম। সব ধরনের সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই।

এ ছাড়া আরও একটি বিভ্রান্তি' এই ছড়ানো হচ্ছে যে, এক হলো 'সরল সুদ' (Simple Interest) আরেক হলো 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' (Compound Interest)। 'চক্রবৃদ্ধি' মানে সুদের উপর সুদ আরোপ করা। কেউ কেউ বলে থাকেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হতো। আর পবিত্র কুরআন এই সুদকেই হারাম সাব্যস্ত করেছে। কাজেই 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম হলেও 'সরল সুদ' জায়েয। কারণ, 'সরল সুদ' সে যুগে ছিল না। আর না কুরআন তাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু এই একটু আগে আমি আপনাদের সম্মুখে কুরআনের যে আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি, তাতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبوا
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর সুদের যা বকেয়া আছে, সেগুলো ছেড়ে দাও।' -সূরা বাকারা ২৭৮
এই আয়াতে আল্লাহপাক বকেয়া সুদের দাবি পরিত্যাগ করতে আদেশ করেছেন। 'সরল' আর 'চক্র'র কোনো উল্লেখ নেই। তারপর বলেছেন:
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ
'যদি তোমরা (সুদ থেকে) তাওবা করে নাও, তা হলে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে।' সূরা বাকারা ২৭৯
পবিত্র কুরআন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে, তোমাদের মূলধন ঠিক থাকবে। এটি তোমাদের অধিকার। কিন্তু এর বাইরে সামান্যতম বাড়তিও হারাম। কাজেই একথা বলা সম্পূর্ণ ভুল যে, 'চক্রবৃদ্ধি সুদ' হারাম – 'সরল সুদ' হারাম নয়। বরং সুদ কম হোক কিংবা বেশি, সবই হারাম। ঋণগ্রহীতা যদি গরিব হয়, তবুও হারাম; যদি বিত্তশালী হয়, তবুও হারাম। যদি কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করে, তবুও সুদ হারাম; যদি ব্যবসার জন্য ঋণ করে, তবুও হারাম। সব ধরনের সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00