📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 শরীয়তের একটি মূলনীতি

📄 শরীয়তের একটি মূলনীতি


মনে রাখবেন, পবিত্র কুরআন যখন কোনো বস্তুকে হারাম সাব্যস্ত করে, তখন তার একটি প্রকৃতি থাকে। তার আকৃতি যতই পরিবর্তিত হোক, তার প্রস্তুতপ্রণালী যতই বদলাতে থাকুক, প্রকৃতি তার আপন স্থানে বহাল থাকে এবং সেই প্রকৃতিটি-ই হারাম সাব্যস্ত হয়। এ হলো শরীয়তের মূলনীতি।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 নববী যুগ সম্পর্কে একটি ভুল বোঝাবুঝি

📄 নববী যুগ সম্পর্কে একটি ভুল বোঝাবুঝি


তা ছাড়া একথাটিও যথাযথ নয় যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে বাণিজ্যিক ঋণের প্রচলন ছিল না এবং সকল ঋণ কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজনে করা হতো। এ বিষয়বস্তুটির উপর আমার আব্বাজান মুফতী মুহাম্মাদ শফী' রহ. 'মাসআলায়ে সুদ' (সুদের বিধান) নামে একটি পুস্তক লিখেছেন। তার দ্বিতীয় খণ্ডটি আমি লিখেছি। তাতে আমি কয়েকটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আমলেও বাণিজ্যিক ঋণের লেনদেন হতো।
যখন একথাটি বলা হয়, আরবরা মরুবাসী ছিল, তখন সঙ্গে-সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কে একটি কল্পনা এসে উপস্থিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে যুগে আগমন করেছিলেন, সেটি এমন একটি সরল ও সাধারণ সমাজ হয়ে থাকবে, যেখানে ব্যবসা বলতে কিছু ছিল না। যদি থাকেও তবে শুধু গম ও যব ইত্যাদির। আর তাও দশ-বিশ টাকার বেশির হতো না। এ ছাড়া বড় কোনো বাণিজ্য সেই সমাজে ছিল না। সাধারণভাবে মানুষের মস্তিষ্কে এই ধারণাটি-ই বদ্ধমূল হয়ে আছে।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 প্রতিটি গোত্র এক-একটি ‘জয়েন্ট স্টক কোম্পানী’ ছিল

📄 প্রতিটি গোত্র এক-একটি ‘জয়েন্ট স্টক কোম্পানী’ ছিল


কিন্তু মনে রাখবেন, একথাটি সঠিক নয়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমাজে আগমন করেছিলেন, সেই সমাজেও আজকের আধুনিক ব্যবসার প্রায় সব কটি প্রকারের ভিত্তি বিদ্যমান ছিল। যেমন- আজকাল 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' আছে। এ ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, এটি চতুর্দশ শতাব্দীর আবিষ্কার। এর আগে 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'র কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু আমরা যখন আরবের ইতিহাস পাঠ করি, তখন দেখতে পাই, আরবের প্রতিটি গোত্র এক-একটি স্বতন্ত্র 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' ছিল। কারণ, প্রতিটি গোত্রে ব্যবসার পদ্ধতি এই ছিল যে, গোত্রের প্রতিজন মানুষ এক টাকা-দুটাকা করে একস্থানে সঞ্চয় করত এবং সেই অর্থ শাম প্রেরণ করে সেখান থেকে ব্যবসাপণ্য আমদানি করত।
আপনারা অনেক বাণিজ্যিক কাফেলার (Commercial Caravan)-এর নাম শুনে থাকবেন। এসকল কাফেলার কাজ এটিই হতো যে, গোত্রের সব মানুষ এক-একটি টাকা একত্রিত করে অন্যত্র পাঠাত আর সেখান থেকে পণ্য ক্রয় করে নিজ অঞ্চলে এনে বিক্রি করত।
যেমন- পবিত্র কুরআনের সূরা কুরাইশে আল্লাহপাক সে যুগের 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'গুলোর বাণিজ্যিক তৎপরতারই প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহপাক বলেন:
لِإِيلَفِ قُرَيْشٍ إِيلَفِهِمْ رِحْلَةَ الشَّتَاءِ وَالصَّيْفِ
'যেহেতু কুরাইশের আসক্তি আছে, আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরের।' (সূরা কুরাইশ, আয়াত ১-২)
এই ব্যবসারই মিশন নিয়ে আরবের লোকেরা শীতকালে ইয়ামেন আর গ্রীষ্মকালে শাম (সিরিয়া) সফর করত। তাদের শীত-গ্রীষ্মের এই সফর শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যে হতো। এখান থেকে পণ্য নিয়ে ওখানে বিক্রি করত আর ওখান থেকে পণ্য এনে এখানে বিক্রি করত। কোনো-কোনো সময় এক-একজন মানুষ আপন গোত্র থেকে দশ লাখ দিনার পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করত। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কি এজন্য ঋণ গ্রহণ করত যে, তাদের ঘরে খাওয়ার কিছু ছিল না? তাদের কাছে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করবার মতো কাপড় ছিল না। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এত বড় ঋণ তারা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করত।

কিন্তু মনে রাখবেন, একথাটি সঠিক নয়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমাজে আগমন করেছিলেন, সেই সমাজেও আজকের আধুনিক ব্যবসার প্রায় সব কটি প্রকারের ভিত্তি বিদ্যমান ছিল। যেমন- আজকাল 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' আছে। এ ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, এটি চতুর্দশ শতাব্দীর আবিষ্কার। এর আগে 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'র কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু আমরা যখন আরবের ইতিহাস পাঠ করি, তখন দেখতে পাই, আরবের প্রতিটি গোত্র এক-একটি স্বতন্ত্র 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী' ছিল। কারণ, প্রতিটি গোত্রে ব্যবসার পদ্ধতি এই ছিল যে, গোত্রের প্রতিজন মানুষ এক টাকা-দুটাকা করে একস্থানে সঞ্চয় করত এবং সেই অর্থ শাম প্রেরণ করে সেখান থেকে ব্যবসাপণ্য আমদানি করত।
আপনারা অনেক বাণিজ্যিক কাফেলার (Commercial Caravan)-এর নাম শুনে থাকবেন। এসকল কাফেলার কাজ এটিই হতো যে, গোত্রের সব মানুষ এক-একটি টাকা একত্রিত করে অন্যত্র পাঠাত আর সেখান থেকে পণ্য ক্রয় করে নিজ অঞ্চলে এনে বিক্রি করত।
যেমন- পবিত্র কুরআনের সূরা কুরাইশে আল্লাহপাক সে যুগের 'জয়েন্ট স্টক কোম্পানী'গুলোর বাণিজ্যিক তৎপরতারই প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহপাক বলেন:
لِإِيلَفِ قُرَيْشٍ إِيلَفِهِمْ رِحْلَةَ الشَّتَاءِ وَالصَّيْفِ
'যেহেতু কুরাইশের আসক্তি আছে, আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরের।' (সূরা কুরাইশ, আয়াত ১-২)
এই ব্যবসারই মিশন নিয়ে আরবের লোকেরা শীতকালে ইয়ামেন আর গ্রীষ্মকালে শাম (সিরিয়া) সফর করত। তাদের শীত-গ্রীষ্মের এই সফর শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যে হতো। এখান থেকে পণ্য নিয়ে ওখানে বিক্রি করত আর ওখান থেকে পণ্য এনে এখানে বিক্রি করত। কোনো-কোনো সময় এক-একজন মানুষ আপন গোত্র থেকে দশ লাখ দিনার পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করত। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কি এজন্য ঋণ গ্রহণ করত যে, তাদের ঘরে খাওয়ার কিছু ছিল না? তাদের কাছে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করবার মতো কাপড় ছিল না। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এত বড় ঋণ তারা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করত।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 সর্বপ্রথম পরিত্যাগ করা সুদ

📄 সর্বপ্রথম পরিত্যাগ করা সুদ


নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে যখন সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা প্রদান করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانًا رِنَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ 'জাহেলিয়াতের সুদ রহিত করা হলো। সবার আগে আমি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ রহিত করলাম। তার সম্পূর্ণ সুদ রহিত করা হলো।' -মুসলিম হাদীস নং ১২৩৭, আবু দাউদ হাদীস নং ১৬২৮
হযরত আব্বাস (রাযি.) সুদের উপর ঋণ দিতেন। তাই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দিলেন, আমি আমার চাচা আব্বাস-এর সম্পূর্ণ সুদ রহিত করে দিলাম। যার-যার কাছে তিনি সুদ পাওনা আছেন, সেগুলো আর পরিশোধ করতে হবে না।
বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্বাস (রাযি.)-এর যে সুদ রহিত ঘোষণা করেছিলেন, তার পরিমাণ ছিল দশ হাজার মিছকাল সোনা। প্রায় চার মাশায় এক মিছকাল হয়। আর এই দশ হাজার মিছকাল মূলধন ছিল না। বরং এই পরিমাণটি ছিল সুদ, যা তিনি মানুষের কাছে পাওনা ছিলেন।
আপনারাই বলুন, যে বিনিয়োগের বিপরীতে দশ হাজার মিছকাল সোনা সুদ আসে, সেই ঋণ কি শুধু খাওয়া-পরার প্রয়োজনে গ্রহণ করা হয়েছিল? বলা অনাবশ্যক যে, উক্ত ঋণ ব্যবসার জন্যই গ্রহণ করা হয়েছিল।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে যখন সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা প্রদান করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانًا رِنَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ 'জাহেলিয়াতের সুদ রহিত করা হলো। সবার আগে আমি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ রহিত করলাম। তার সম্পূর্ণ সুদ রহিত করা হলো।' -মুসলিম হাদীস নং ১২৩৭, আবু দাউদ হাদীস নং ১৬২৮
হযরত আব্বাস (রাযি.) সুদের উপর ঋণ দিতেন। তাই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দিলেন, আমি আমার চাচা আব্বাস-এর সম্পূর্ণ সুদ রহিত করে দিলাম। যার-যার কাছে তিনি সুদ পাওনা আছেন, সেগুলো আর পরিশোধ করতে হবে না।
বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্বাস (রাযি.)-এর যে সুদ রহিত ঘোষণা করেছিলেন, তার পরিমাণ ছিল দশ হাজার মিছকাল সোনা। প্রায় চার মাশায় এক মিছকাল হয়। আর এই দশ হাজার মিছকাল মূলধন ছিল না। বরং এই পরিমাণটি ছিল সুদ, যা তিনি মানুষের কাছে পাওনা ছিলেন।
আপনারাই বলুন, যে বিনিয়োগের বিপরীতে দশ হাজার মিছকাল সোনা সুদ আসে, সেই ঋণ কি শুধু খাওয়া-পরার প্রয়োজনে গ্রহণ করা হয়েছিল? বলা অনাবশ্যক যে, উক্ত ঋণ ব্যবসার জন্যই গ্রহণ করা হয়েছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00