📄 আকৃতির পরিবর্তনে প্রকৃতি বদলায় না
এই যুক্তির জবাবে আমাদের প্রথম কথা হলো, কোনো বস্তুর হারাম হওয়ার জন্য জরুরি নয় যে, বস্তুটি হুবহু ওই আকৃতিতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে বিদ্যমান থাকতে হবে। পবিত্র কুরআন যখন কোনো বস্তুকে হারাম ঘোষণা করে, তখন সেই বস্তুটির একটি প্রকৃতি তার সামনে থাকে। কুরআন সেই প্রকৃতিকে হারাম সাব্যস্ত করে। চাই তার বিশেষ কোনো আকার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক।
একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে কথাটি বুঝুন। পবিত্র কুরআন মদকে হারাম ঘোষণা করেছে। মদের প্রকৃতি হলো, এটি এমন একটি পানীয়, যার মধ্যে নেশা থাকে। এখন যদি কেউ একথা বলতে শুরু করে যে, জনাব, এ যুগের হুইস্কি, বিয়ার ও ব্রান্ডি নবীজির যুগে ছিল না; কাজেই এগুলো হারাম নয়, তা হলে তার এই দাবি সঠিক বলে বিবেচিত হবে না। কারণ, এই পানীয়গুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ঠিক এই আকারে ছিল না বটে; কিন্তু প্রকৃতি, তথা 'বস্তুটি নেশাকর হওয়া' বিদ্যমান ছিল। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেশাকর বস্তুকে হারাম ঘোষণা করেছেন। কাজেই যে কোনো নেশাকর বস্তু চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে গেছে। চাই তার নাম ও আকার যা-ই হোক। নাম হুইস্কি হোক কিংবা বিয়ার। ব্রান্ডি হোক কিংবা কোকেন। নেশাকর বস্তুমাত্রই হারাম।
📄 মজার একটি গল্প শুনুন
একটি মজার গল্প মনে পড়ল। হিন্দুস্তানে এক গায়ক ছিল। একবার সে হজে গেল। হজ সমাপনের পর মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পথে এক মনযিলে যাত্রাবিরতি করল। সেযুগে চলার পথে বিভিন্ন মনযিল থাকত। মানুষ সেসব মনযিলে রাত্রিযাপন করত এবং পরদিন সকালে সম্মুখপানে রওনা হতো। নিয়ম অনুযায়ী হিন্দুস্তানি গায়ক রাত্রিযাপনের জন্য এক মনযিলে অবস্থান গ্রহণ করল। উক্ত মনযিলে এক আরব গায়কও গিয়ে উপস্থিত হলো এবং ওখানে বসে আরবিতে গান গাইতে শুরু করল। আরব গায়কের কণ্ঠ ছিল খানিক কর্কশ ও কাঠখোট্টা। হিন্দুস্তানি গায়কের কাছে তার গান খুব বিশ্রী ও বিরক্তিকর ঠেকল। তাই সে বলে উঠল, আজ আমার বুঝে এসেছে, আমাদের নবীজি গান-বাজনাকে কেন হারাম সাব্যস্ত করেছিলেন। তার কারণ হলো, তিনি বেদুঈনদের বেসুরো ও কর্কশ গান শুনেছিলেন। তাই তিনি গানকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। তিনি যদি আমার গান শুনতেন, তা হলে গান-বাজনাকে তিনি হারাম ঘোষণা করতেন না।
📄 আজকালকার মেজাজ
আজকাল মেজাজ তৈরি হয়ে গেছে, যেকোনো বিষয়ের ব্যাপারে মানুষ হুট করে বলে ফেলে, জনাব, নবীজির আমলে তো এই আমলটি এভাবে হতো আর সেজন্য তিনি তাকে হারাম সাব্যস্ত করেছিলেন। বর্তমানে যেহেতু আমলটি সেভাবে হয় না, তাই সেটি হারাম নয়। যারা এ ধরনের যুক্তির অবতারণা করে, তারা এমনও বলে থাকে যে, শূকরকে এজন্য হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছিল যে, সেযুগে এই জন্তুটি নোংরা পরিবেশে পড়ে থাকত, আবর্জনা খেত এবং নোংরা পরিবেশে প্রতিপালিত হতো। কিন্তু শূকর এখন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রতিপালিত হচ্ছে এবং তাদের জন্য উন্নতমানের ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হয়েছে। কাজেই এখন শূকর হারাম হওয়ার কোনোই কারণ নেই।
📄 শরীয়তের একটি মূলনীতি
মনে রাখবেন, পবিত্র কুরআন যখন কোনো বস্তুকে হারাম সাব্যস্ত করে, তখন তার একটি প্রকৃতি থাকে। তার আকৃতি যতই পরিবর্তিত হোক, তার প্রস্তুতপ্রণালী যতই বদলাতে থাকুক, প্রকৃতি তার আপন স্থানে বহাল থাকে এবং সেই প্রকৃতিটি-ই হারাম সাব্যস্ত হয়। এ হলো শরীয়তের মূলনীতি।