📄 সুদী কারবারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা
সবার আগে বুঝবার বিষয় হলো, 'সুদ'কে পবিত্র কুরআন যত বড় অপরাধ সাব্যস্ত করেছে, সম্ভবত অন্য কোনো গুনাহকে এত বড় অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়নি। যেমন- মদ পান করা, শূকর খাওয়া, ব্যভিচার করা ইত্যাদি অপরাধের জন্য পবিত্র কুরআনে এমন ধমকের শব্দ ব্যবহার করা হয়নি, যা সুদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
যেমন- সূরা বাকারায় আল্লাহপাক বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿۲۸﴾ فَإِنْ لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ *
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে, তা ছেড়ে দাও; যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। যদি তোমরা তা না কর (সুদের বকেয়া না ছাড় এবং সুদের কারবার অব্যাহত রাখ), তা হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।'
(সূরা বাকরা, ২৭৮-২৮৯)
অর্থাৎ- সুদি মহাজনদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই যুদ্ধঘোষণা অন্য কোনো অপরাধের জন্য করা হয়নি। যেমন- যারা মদ পান করে, তাদের সম্পর্কে একথা বলা হয়নি যে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। যারা শূকর খায়, তাদের সম্পর্কে একথা বলা হয়নি যে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। যারা ব্যভিচার করে, তাদের সম্পর্কে একথা বলা হয়নি যে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু 'সুদ' সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা সুদের কারবার বর্জন না করবে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। এত শক্ত ও কঠিন হুঁশিয়ারি সুদের ব্যাপারে উচ্চারিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এর জন্য এত কঠিন, এত শক্ত হুঁশিয়ারি কেন? এর বিস্তারিত জবাব ইনশাআল্লাহ সামনে জানা যাবে।