📄 ২. রক্তের নদী ও প্রস্তর নিক্ষেপ
(২) عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي فَأَخْرَ جَانِي إِلَى أَرْضٍ مُقَدَّسَةٍ فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى نَهَرٍ مِنْ دَمٍ فِيهِ رَجُلٌ قَائِمٌ وَعَلَى وَسَطِ النَّهْرِ رَجُلٌ بَيْنَ يَدَيْهِ حِجَارَةً فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ الَّذِي فِي النَّهْرِ فَإِذَا أَرَادَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْرُجَ رَمَى الرَّجُلُ بِحَجَرٍ فِي فِيهِ فَرَدَّهُ حَيْثُ كَانَ فَجَعَلَ كَلَّمَا جَاءَ لِيَخْرُجَ رَمَى فِي فِيهِ بِحَجَرٍ فَيَرْجِعُ كَمَا كَانَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ الَّذِي رَأَيْتَهُ فِي النَّهْرِ أَكِلُ الرِّبَا البخاري (٢٨٠/١) رقم الحديث ( ٢٠٨٥)
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমি আজ রাতে দেখেছি দু'ব্যক্তি আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেলো। এরপর আমরা সামনে অগ্রসর হলে একটি রক্তের নদী দেখলাম। নদীর মধ্যে এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান। অপর এক ব্যক্তি নদীর কিনারে দণ্ডায়মান। নদীস্থিত ব্যক্তি যখন নদী থেকে উপরে উঠতে চায়, তখন কিনারের ব্যক্তি তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করে। পাথরের আঘাত খেয়ে সে আবার পূর্বের জায়গায় চলে যায়। অতঃপর সে আবার তীরে ওঠার চেষ্টা করে। কিনারের ব্যক্তি আবার তার সাথে একই আচরণ করে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি স্বীয় সঙ্গীদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলাম : আমি এ কি ব্যাপার দেখছি? তারা বলল, রক্তের নদীতে বন্দী ব্যক্তি সুদখোর। সে স্বীয় কার্যের শাস্তি ভোগ করছে। -(বুখারী: ১: ২৮০, হাদীস : ২০৮৫)
📄 ৩. সুদখোরের প্রতি অভিশাপ
(۳) عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ. مسلم (۲۰۰۲) رقم (١٥٩٠٨) وفي رواية أحمد (إذا علموا به) (٤٠٩١) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, (সুদের) দলীল লেখক ও সাক্ষ্যদাতা এদের সকলের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। আর বলেছেন, এরা সবাই সমান (অপরাধী) । (মুসলিম ২/২৭, হাদীস ১৫৯৮) মুসনাদে আহমাদের রেওয়ায়েতে এসেছে- 'যদি তারা অবগত থাকে' (অর্থাৎ দলীল লেখক ও সাক্ষ্যদাতার প্রতি অভিশাপ তখনই, যদি তাদের জানা থাকে যে, এটা সুদী কারবার।) (মুসনাদে আহমাদ: ১ : ৪০৯)
📄 ৪. চার শ্রেণীর লোক বেহেশতে যাবে না
(٤) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَةٌ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يُدْخِلَهُمُ الْجَنَّةَ وَلَا يُذِيقَهُمْ نَعِيمًا: مُؤْمِنُ الْخَمْرِ وَاكِلُ الرِّبَا وَاكِلُ مَالِ الْيَتِيمِ بِغَيْرِ حَقِّ وَالْعَاقُ لِوَالِدَيْهِ . المستدرك على الصحيحين (٣٧/٢) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : চার ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলার সিদ্ধান্ত এই যে, তাদেরকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন না এবং জান্নাতের নেয়ামতের স্বাদ গ্রহণ করতে দেবেন না। এ চার ব্যক্তি হলো: (১) মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি। (২) সুদখোর। (৩) অন্যায়ভাবে এতীমের মাল ভক্ষণকারী। এবং (৪) পিতামাতার অবাধ্যতাকারী। (মুস্তাদরাক-হাকেম: ২ : ৩৭)
📄 ৫. সুদের গোনাহ ছত্রিশবার ব্যভিচার করার চেয়েও মারাত্মক
(٥) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ... وَمَنْ أَكَلَ دِرْ هَمَّا رِبًا فَهُوَ ثَلَاثَ وَثَلَاثِينَ زَنِيَّةً وَمَنْ نَبَتَ لَحْمُهُ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَولَى بِهِ. اخرجه الطبراني في الكبير ( ٩٤/١١) (١١٢١٦) والاوسط (٤٥١/٣) (٢٩٦٨) وقال في المجمع (٢١٢/٥) وفيه ابو محمد الجزري حمزة ولم أعرفه وبقية رجاله رجال الصحيح. وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّ مِنْ أَرْبَيَ الرِّبَا الْاِسْتِطَالَةَ فِي عِرْضِ الْمُسْلِمِ بِغَيْرِ حَقٍ أبو داؤد رقم الحديث : (٤٨٧٦) مسند احمد (١٦٥١)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক দিরহাম সুদ খাওয়া তেত্রিশবার (কোন কোন বর্ণনায় ছত্রিশবার) ব্যভিচার করার চাইতে বড় গোনাহ্। আর হারাম মাল দ্বারা যে মাংস গঠিত হয়, তার জন্য আগুনই যোগ্য। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে, কোন মুসলমানের মানহানি করা সুদের চাইতেও কঠোর গোনাহ্।
-(তাবরানী : ১১ : ৯৪, হাদীস নং ১১২১৬, আবু দাউদ: ৪৮৭৬, আহমদ: ১৬৫১)