📄 আরবে প্রচলিত রিবা
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 আল্লামা ইবনে জারির রহ.-এর বর্ণনা
এবার আরবে প্রচলিত 'রিবা' সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। তাফসীরবিদ ইবনে জারীর রহ. মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, জাহিলিয়াত আমলে প্রচলিত ও কুরআন নিষিদ্ধ 'রিবা' হলো কাউকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ দিয়ে মুলধনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা। আরবরা তাই করতো এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে সুদ বাড়িয়ে দেওয়ার শর্তে মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হতো। হযরত কাতাদাহ (রহ.) এবং অন্যান্য তাফসীরবিদ থেকেও এ কথাই বর্ণিত হয়েছে। (তাফসীরে ইবনে জারীর, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬২)
📄 মুফাসসির আবু হাইয়্যানের বক্তব্য
স্পেনের খ্যাতনামা তাফসীরবিদ আবু হাইয়্যান গারনাতী রচিত 'তাফসীরে বাহরে মুহীত'-এও জাহিলিয়াত আমলে প্রচলিত রিবার সংজ্ঞা ও প্রকৃতি এরূপই বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ, তারা অর্থ লগ্নি করে মুনাফা গ্রহণ করতো এবং ঋণের মেয়াদ যতই বেড়ে যেতো, ততই সুদ বাড়িয়ে দেওয়া হতো। এরাই বলতো যে, ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে মুনাফা নেওয়া যেমন জায়েয, তেমনি অর্থ ঋণ দিয়ে মুনাফা নেওয়াও জায়েয হওয়া উচিৎ। কুরআন পাক একে হারাম করেছে এবং ক্রয়-বিক্রয় ও রিবার মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করেছে। এ বিষয়বস্তুই তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে কাবীর ও রূহুল- মা'আনী প্রভৃতি বিশিষ্ট তাফসীর গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতের মাধ্যমে বর্ণিত রয়েছে।
📄 ইবনে আরাবী রহ.-এর বক্তব্য
ইবনে আরাবী রহ. আহকামুল কুরআনে বলেছেনঃ الرِّبُوا فِي اللُّغَةِ الرَّبَاوَةُ وَالْمُرَادُ بِهِ فِي الْآيَةِ كُلُّ زِيَادَةٍ لَا يُقَابِلُهَا عِوَضٌ (احکام القران ۲-۱۱۰). অর্থাৎ, অভিধানে রিবা শব্দের অর্থ অতিরিক্ত। আয়াতে রিবা বলতে প্রত্যেক এমন অতিরিক্ত পরিমাণকে বোঝান হয়েছে যার বিপরীতে কোন বিনিময় নেই। (কেবল ঋণ ও তার মেয়াদ আছে।) (আহকামুল কুরআনঃ ২য় খণ্ড: ১০১ পৃ.)