📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 একটি বিভ্রান্তিকর ঘটনা ও তার উত্তর

📄 একটি বিভ্রান্তিকর ঘটনা ও তার উত্তর


'রিবা' আরবী ভাষার একটি বহুল প্রচলিত শব্দ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত প্রাপ্তি এবং কুরআন অবতরণের পূর্বে জাহিলিয়াত যুগের আরবেও এ শব্দটি প্রচলিত ছিল। শুধু প্রচলিতই নয়, বরং রিবার লেনদেনও তখনকার সমাজে ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছিল। সূরা নিসার আয়াত থেকে আরও জানা যায় যে, 'রিবা শব্দ এবং এর লেনদেন তাওরাতের আমলেও সুবিদিত ছিল এবং তাওরাতেও একে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। যে শব্দ প্রাচীনকাল থেকেই আরবে ও নিকটবর্তী দেশসমূহে সুবিদিত রয়েছে, যার লেনদেনেরও প্রচলন রয়েছে এবং যার অবৈধতা ও নিষেধাজ্ঞা বর্ণনা করার সাথে কুরআন পাক বলে যে, মূসা (আ.)-এর উম্মতের জন্য সুদ বা 'রিবা' হারাম করা হয়েছিল, অতএব এটা জানা কথা যে, সেই শব্দের স্বরূপ এমন ধরনের কোন অস্পষ্ট বিষয় হতে পারে না যে, তাকে বুঝতে গিয়ে অহেতুক জটিলতা দেখা দেবে। এ কারণেই অষ্টম হিজরীতে যখন সুদ বা রিবা'র অবৈধতা সম্পর্কে সূরা বাকারার আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়, তখন কোথাও বর্ণিত হয়নি যে, সাহাবায়ে কিরাম 'রিবা' শব্দের স্বরূপ বোঝার ব্যাপারে কোনরূপ সন্দিগ্ধতার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে অন্যান্য ব্যাপারের মত রিবার স্বরূপ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন; বরং দেখা গেছে যে, মদ্যপানের অবৈধতা অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সাথে যেমন সাহাবায়ে কিরাম তা বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছিলেন, তেমনি রিবার অবৈধতার বিধান নাযিল হওয়ার সাথে সাথে তাঁরা রিবার যাবতীয় লেনদেনও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
অতীতকালের কাজ-কারবারে مسلمانوں যেসব সুদ অ-মুসলমানদের কাছে প্রাপ্য ছিল, মুসলমানরা তাও ছেড়ে দেন। অ-মুসলমানদের যেসব সুদ مسلمانوں কাছে প্রাপ্য ছিল, নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হওয়ার পর মুসলমানরা তা পরিশোধে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন- এ মাসআলা মক্কার প্রশাসকের কাছে উপস্থিত হলে তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন। এর ফয়সালা সূরা বাকারার সংশ্লিষ্ট আয়াতে আল্লাহ্‌র তরফ থেকেই অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ অতীতকালের বকেয়া সুদের লেনদেনও অবৈধ বলে ঘোষণা করে দেওয়া হয়। এতে অ-মুসলমানদের পক্ষ থেকে এরূপ অভিযোগ উত্থাপনের অবকাশ ছিল যে, ইসলামী শরীয়তের একটি নির্দেশের কারণে তাদের এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কেন হাতছাড়া হবে? এ অভিযোগ নিরসনের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের ভাষণে ঘোষণা করেন যে, এ নির্দেশের আওতাধীন শুধু অ-মুসলমানরাই নয়, মুসলমানরাও। উভয়ের ক্ষেত্রেই এ নির্দেশ সমভাবে প্রযোজ্য। সেমতে সর্বপ্রথম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা হযরত আব্বাস (রাযি.)-এর বিরাট অংকের সুদ ছেড়ে দেওয়া হয়।
মোটকথা, রিবা নিষিদ্ধ হওয়ার সময় রিবা শব্দের ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা ছিল না, সকলের কাছেই তার প্রকৃত অর্থ সুবিদিত ছিল। আরবরা যাকে রিবা বলতো এবং যার লেনদেন করতো, কুরআন তাকেই হারাম করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিধানকে শুধু নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই নয়, দেশের আইন হিসাবেও জারি করেন। তবে এমন কতগুলো প্রকারকেও তিনি রিবার অর্ন্তভুক্ত করে দেন, যেগুলোকে সাধারণভাবে রিবা মনে করা হতো না। এসব প্রকার নির্ধারণের ব্যাপারেই হযরত ফারূকে আ'যম (রাযি.)-এর মনে খটকা দেখা দিয়েছিল এবং এগুলোর ব্যাপারেই মুজতাহিদ ইমামগণ মতভেদ পোষণ করেছেন। নতুবা আরবরা যাকে রিবা বলতো, সেই আসল রিবা সম্পর্কে কারও কোন সন্দেহ ছিল না এবং কেউ এ নিয়ে কোন মতভেদও ব্যক্ত করেন নি।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 আরবে প্রচলিত রিবা

📄 আরবে প্রচলিত রিবা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 আল্লামা ইবনে জারির রহ.-এর বর্ণনা

📄 আল্লামা ইবনে জারির রহ.-এর বর্ণনা


এবার আরবে প্রচলিত 'রিবা' সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। তাফসীরবিদ ইবনে জারীর রহ. মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, জাহিলিয়াত আমলে প্রচলিত ও কুরআন নিষিদ্ধ 'রিবা' হলো কাউকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ দিয়ে মুলধনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা। আরবরা তাই করতো এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে সুদ বাড়িয়ে দেওয়ার শর্তে মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হতো। হযরত কাতাদাহ (রহ.) এবং অন্যান্য তাফসীরবিদ থেকেও এ কথাই বর্ণিত হয়েছে। (তাফসীরে ইবনে জারীর, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬২)

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 মুফাসসির আবু হাইয়্যানের বক্তব্য

📄 মুফাসসির আবু হাইয়্যানের বক্তব্য


স্পেনের খ্যাতনামা তাফসীরবিদ আবু হাইয়্যান গারনাতী রচিত 'তাফসীরে বাহরে মুহীত'-এও জাহিলিয়াত আমলে প্রচলিত রিবার সংজ্ঞা ও প্রকৃতি এরূপই বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ, তারা অর্থ লগ্নি করে মুনাফা গ্রহণ করতো এবং ঋণের মেয়াদ যতই বেড়ে যেতো, ততই সুদ বাড়িয়ে দেওয়া হতো। এরাই বলতো যে, ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে মুনাফা নেওয়া যেমন জায়েয, তেমনি অর্থ ঋণ দিয়ে মুনাফা নেওয়াও জায়েয হওয়া উচিৎ। কুরআন পাক একে হারাম করেছে এবং ক্রয়-বিক্রয় ও রিবার মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করেছে। এ বিষয়বস্তুই তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে কাবীর ও রূহুল- মা'আনী প্রভৃতি বিশিষ্ট তাফসীর গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতের মাধ্যমে বর্ণিত রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00