📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ 📄 সুদকে নিশ্চিহ্ন করার অর্থ

📄 সুদকে নিশ্চিহ্ন করার অর্থ


মোটকথা, يَسْحَقُ اللَّهُ الرِّبُو وَيُرْبِي الصَّدَقْتِ এ আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ আল্লাহ্ সুদকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং দান-খায়রাতকে বর্ধিত করেন। এ উক্তি পরকালের দিক দিয়ে তো সম্পূর্ণ পরিষ্কারই; সত্যোপলব্ধির সামান্য চেষ্টা করলে দুনিয়ার দিক দিয়েও সুস্পষ্ট। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ উক্তির উদ্দেশ্যও তাই।
إِنَّ الرِّبُوا وَإِنْ كَثُرَ فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيرُ إِلَى قُل অর্থাৎ সুদ যদিও বৃদ্ধি পায় কিন্তু এর শেষ পরিণতি হচ্ছে স্বল্পতা। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ)
আয়াতের শেষে বলা হয়েছে- وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা'আলা কোন কাফির গোনাহগারকে পছন্দ করেন না। এতে ইশারা করা হয়েছে যে, যারা সুদকে হারামই মনে করে না, তারা কুফরে লিপ্ত এবং যারা হারাম মনে করা সত্ত্বেও কার্যত সুদ খায়, তারা গোনাহগার, পাপাচারী।
তৃতীয় আয়াতে নামায ও যাকাতের নির্দেশের প্রতি অনুগত সৎকর্মশীল মু'মিনদের বিরাট পুরস্কার ও পরকালীন সুখ-শান্তি বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তী আয়াতে সুদখোরদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি এবং লাঞ্ছনার কথা উল্লিখিত হয়েছিল। তাই কুরআন পাকের সাধারণ রীতি অনুযায়ী এর সাথে সাথে ঈমানদার সৎকর্মী তথা নামায ও যাকাত আদায়কারীদের ছওয়াব ও পরকালীন মর্তবা উল্লেখ করা হয়েছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرَّبُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ চতুর্থ আয়াত অর্থাৎ এই আয়াতের সারমর্ম হলো, সুদের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হওয়ার পর সুদের যেসব বকেয়া অর্থ কারও কাছে প্রাপ্য ছিল, এ আয়াতে সেগুলোর লেনদেনও হারাম করা হয়েছে।
এর ব্যাখ্যা এই যে, সুদের অবৈধতা অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আরবে ব্যাপকভাবে সুদী কারবারের প্রচলন ছিল। আলোচ্য আয়াতসমূহের প্রথম আয়াতে এর নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হলে মুসলমানরা যথারীতি সুদের কাজ-কারবার পরিত্যাগ করেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোকের বকেয়া সুদের দাবী তখনও অন্যদের উপর অবশিষ্ট ছিল। বনী সাকীফ ও বনী মাখযুমের মধ্যে পরস্পর সুদের কারবার বহাল ছিল এবং বনী সাকীফের কিছু সুদের দাবী তখন পর্যন্ত বনী মাখযুমের উপর অবশিষ্ট ছিল। বনী মাখযুম মুসলমান হওয়ার পর সুদের টাকা পরিশোধ করাকে অবৈধ মনে করতে থাকে। আবার এদিকে বনী সাকীফ তাদের প্রাপ্য সুদ দাবী করতে থাকে কারণ, তারা মুসলমান ছিল না; কিন্তু মুসলমানদের সাথে শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। বনী মাখযুমের বক্তব্য ছিল এই যে, ইসলাম গ্রহণ করার পর আমরা যে হালাল উপার্জন করছি, তা সুদ পরিশোধে ব্যয় করবো না।
এ মতবিরোধের ঘটনাস্থল ছিল মক্কা মুকাররমা। তখন মক্কা বিজিত হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে মক্কার শাসক ছিলেন হযরত মু'আয (রাযি.)। অন্য রেওয়ায়েত মতে ইতাব ইবনে উসায়দ (রাযি.)। তিনি নির্দেশ লাভের উদ্দেশ্যে ঘটনার বিবরণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট লিপিবদ্ধ করে পাঠালেন। এরই প্রেক্ষিতে কুরআন পাকের আলোচ্য এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। এর সারমর্ম এই যে, ইসলাম গ্রহণ করার পর সুদের পূর্ববর্তী সব কাজ-কারবার অবিলম্বে মওকুফ করে দিতে হবে। অতীত সুদও গ্রহণ না করে শুধু মূলধন আদায় করতে হবে। এই ইসলামী আইন কার্যকর হলে মুসলমানরা তো তা মানতে বাধ্য ছিলই, যেসব অমুসলিম গোত্র মুসলমানদের সাথে শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ইসলামী আইন কবুল করে নিয়েছিল, তারাও এই আইন মেনে নিতে বাধ্য হলো। কিন্তু এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায়-হজ্জের ভাষণে এ আইন ঘোষণা করলেন, তখন একথাও প্রকাশ করলেন যে, এ আইন ব্যক্তি বিশেষ, সম্প্রদায় বিশেষ কিংবা মুসলমানদের আর্থিক স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য করে নয়; বরং সমগ্র মানব সমাজের উন্নতি ও কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রেখেই জারি করা হয়েছে। তাই আমি সর্বপ্রথম অ-মুসলমানদের কাছে مسلمانوں প্রাপ্য বকেয়া সুদের বিরাট অংক মওকুফ করে দিচ্ছি। এখন তাদেরও নিজ নিজ বকেয়া সুদের অংক ছেড়ে দিতে আপত্তি থাকা উচিৎ নয়। তিনি এ ভাষণে বলেনঃ
أَلَا إِنَّ كُلَّ رِبَا كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ عَنْكُمْ كُلُّهُ لَكُمْ رَؤُسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ وَأَوَّلُ رَبَّا مَوْضُوعَ رِبَا الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَلَبِ كُلُّهُ.
অর্থাৎ, জাহিলিয়াত যুগে সুদের যেসব লেনদেন হয়েছে, সবগুলোর সুদ ছেড়ে দেওয়া হলো। এখন প্রত্যেকেই মূলধন পাবে। সুদের অতিরিক্ত অংক পাবে না। তোমরা সুদ আদায় করে আর কারও উপর জুলুম করতে পারবে না এবং কেউ মূলধন পরিশোধ করতে অস্বীকার করে তোমাদের উপর জুলুম করতে পারবে না। সর্বপ্রথম যে সুদ ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের প্রাপ্য সুদ। এ সুদের বিরাট অংক অমুসলিমদের কাছে প্রাপ্য ছিল। কুরআন পাকের আলোচ্য আয়াতে এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত এবং বকেয়া সুদ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে اتَّقُوا اللَّهَ )আল্লাহকে ভয় কর) আদেশ দ্বারা আয়াতটি শুরু করা হয়েছে। এরপর আসল বিষয়ের নির্দেশ বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমেই কুরআন পাক সমগ্র বিশ্বের অন্য সকল সংবিধানের তুলনায় এক অনন্য স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী। মানুষের পক্ষে পালন করা কঠিন মনে হয়- যখনই এরূপ কোন আইন কুরআন পাকে বর্ণনা করা হয়েছে, তখনই আগে পরে আল্লাহ্ সামনে হাযিরা, হিসাব-নিকাশ এবং পরকালের শাস্তি অথবা ছওয়াবের কথা উল্লেখ করে মুসলমানদের অন্তর ও মন-মানসকে তা পালন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এরপর নির্দেশ শুনানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও অতীত সুদের অঙ্ক ছেড়ে দেওয়া মানবমনের পক্ষে কঠিন হতে পারত। তাই আগে اِتَّقُوا اللَّهَ বলে এরপর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَوا অর্থাৎ বকেয়া সুদ ছেড়ে দাও। আয়াতের শেষে বলা হয়েছে : إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ অর্থাৎ যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আল্লাহ্র নির্দেশ মান্য করা এবং বিরুদ্ধাচরণ না করাই ঈমানের পরিচায়ক। নির্দেশটি পালন কষ্টসাধ্য ছিল বলেই নির্দেশের পূর্বে اِتَّقُوا اللَّهَ এবং নির্দেশের পরে إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ যুক্ত করা হয়েছে।
এরপর পঞ্চম আয়াতে এ নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদেরকে কঠোর শাস্তির কথা শুনানো হয়েছে। অর্থাৎ তোমরা যদি সুদ না ছাড়, তবে আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। কুফর ছাড়া অন্য কোন বৃহত্তম গোনাহের কারণে কুরআন পাকে এতবড় শাস্তির কথা আর উচ্চারিত হয়নি। এআয়াতের শেষে বলা হয়েছেঃ
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ.
অর্থাৎ, যদি তোমরা তাওবা করে ভবিষ্যতের জন্য বকেয়া সুদ ছেড়ে দিতে কৃতসংকল্প হও, তবে তোমরা আসল মূলধন ফেরত পেয়ে যাবে। মূলধনের অতিরিক্ত আদায় করে তোমরা কারও উপর জুলুম করতে পার না এবং কেউ মূলধন হ্রাস করে কিংবা পরিশোধে বিলম্ব করে তোমাদের উপরও জুলুম করতে পারবে না। আয়াতে আসল মূলধন দেওয়াকে তাওবার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, যদি তোমরা তাওবা কর এবং ভবিষ্যতে সুদ ছেড়ে দিতে কৃতসংকল্প হও, তবেই তোমরা আসল মূলধন পাবে।
এ থেকে বাহ্যত বোঝা যায় যে, সুদ ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করে তাওবা না করলে মূলধনও পাবে না। এ মাসআলার বিবরণ এই যে, যদি মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও সুদকে হারামই মনে না করে, উপরন্তু আল্লাহ্র নির্দেশ মোতাবেক সুদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাওবা না করে, তবে এ ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ, ধর্মত্যাগী-মুরতাদ। মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীর ধন-সম্পদ তার মালিকানায় থাকে না। মুসলমান অবস্থায় সে যা উপার্জন করে, তা তার মুসলমান ওয়ারিশগণ পায়। আর কুফর অবস্থায় অর্থাৎ, মুরতাদ হওয়ার পর যা উপার্জন করে তা বাইতুল মাল তথা সরকারী ধনাগারে জমা হয়। তাই সুদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাওবা না করা যদি হলাল মনে করার কারণে হয়, তবে আসল মূলধনও সে ফেরত পাবে না। আর যদি হারাম মনে করেও কার্যত সুদ থেকে বিরত না হয় এবং দল গঠন করে ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে, তবে সে বিদ্রোহী। বিদ্রোহীরও সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারী ধনাগারে আমানত হিসেবে জমা করা হয়। যখন সে তাওবা করে তখন আবার সহায়-সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করা হয়। বস্তুত এ জাতীয় সূক্ষ্ম দিকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করার জন্যই শর্তের আকারে বলা হয়েছে-
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ
যদি তোমরা তাওবা কর, তাহলে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে।
এরপর ষষ্ঠ আয়াতে সুদখোরীর মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের বিপরীতে পূত-পবিত্র চরিত্র এবং দরিদ্র ও নিঃস্বদের প্রতি কৃপামূলক ব্যবহার শিক্ষা দিয়ে বলা হয়েছেঃ
وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থাৎ তোমার খাতক যদি রিক্তহস্ত হয়-ঋণ পরিশোধে সক্ষম না হয়, তবে শরীয়তের নির্দেশ এই যে, তাকে স্বাচ্ছন্দ্যশীল হওয়া পর্যন্ত সময় দেওয়া বিধেয়। যদি তাকে ঋণ থেকেই রেহাই দিয়ে দাও, তবে তা তোমার জন্য আরও উত্তম। সুদখোরদের অভ্যাস এই যে, খাতক নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধে সক্ষম না হলে সুদের অংক আসলের সাথে যোগ করে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের কারবার চালায় এবং সুদের হারও আগের চাইতে বাড়িয়ে দেয়। এখানে শ্রেষ্ঠতম বিচারক আল্লাহ্ তা'আলা আইন প্রণয়ন করে দিয়েছেন যে, কোন খাতক বাস্তবিকই নিঃস্ব হলে এবং ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হলে তাকে অতিষ্ঠ করা জায়েয নয়; বরং তাকে সক্ষম হওয়া পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিৎ। সাথে সাথে এ ব্যাপারেও উৎসাহিত করেছেন যে, যদি এ গরীবকে ক্ষমা করে দাও তবে তা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম।
এখানে ক্ষমা করাকে কুরআন পাক সাদাকা শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছে। এতে ইঙ্গিত আছে যে, এ ক্ষমা প্রদর্শন তোমাদের জন্য সাদাকা হয়ে যাবে। এবং বিরাট ছওয়াবের কারণ হবে। এছাড়া আরও বলেছেনঃ ক্ষমা করা তোমাদের জন্য উত্তম। অথচ বাহ্যত এতে তাদের ক্ষতি। কারণ, সুদ তো ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, এখন মূলধনও গেল। কিন্তু কুরআন পাক একে উত্তম বলেছে এর কারণ দ্বিবিধঃ
এক. এটা যে উত্তম, তা এ দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের পর চোখের সামনে এসে যাবে। তখন এ সামান্য অর্থের বিনিময়ে জান্নাতের চিরস্থায়ী নিয়ামত অর্জিত হবে।
দুই. এতে সম্ভবত ইঙ্গিত রয়েছে যে, দুনিয়াতেও এ কার্যের কল্যাণকারিতা প্রত্যক্ষ করা যাবে। অর্থাৎ তোমাদের ধন-সম্পদে বরকত হবে। বরকতের স্বরূপ এই যে, অল্প ধন-সম্পদ দ্বারা অধিক কাজ সাধিত হবে। এর জন্য ধন-সম্পদের পরিমাণ ও সংখ্যা বেড়ে যাওয়া জরুরী নয়। চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা এই যে, খয়রাতকারীদের ধন-সম্পদে অপরিসীম বরকত হয়। তাদের অল্প ধন-সম্পদ দ্বারা এত অধিকতর কাজ সাধিত হয় যে, হারাম মালের অধিকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থকড়ি দ্বারা তত কাজ সাধিত হয় না। বরকতহীন ধন-সম্পদের অবস্থা এই যে, যে উদ্দেশ্যে ব্যয় করা হয়, তা অর্জিত হয় না কিংবা উদ্দেশ্য নয়- এমন কাজেই তা অধিক ব্যয় হয়ে যায়। যেমন, ঔষধপত্র, চিকিৎসা এবং ডাক্তারের ফি ইত্যাদি। এসব কাজে ধনীদের বিস্তর অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। গরীবদের এগুলোর দরকার খুব কমই হয়ে থাকে। প্রথমত, আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে সুস্থতার নেয়ামত দান করেন। ফলে চিকিৎসায় অর্থ ব্যয় করার বড় একটা প্রয়োজনই তাদের জন্য দেখা দেয় না। দ্বিতীয়ত, অসুস্থ হলেও মামূলী খরচেই তাদের জন্য সুস্থতা অর্জিত হয়ে যায়। এ হিসাবে নিঃস্ব খাতককে কর্জ মাফ করে দেওয়া বাহ্যত অলাভজনক দেখা গেলেও কুরআনের এ শিক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এ একটি উপকারী ও লাভজনক কাজ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px