📄 কর্জ আদায় করা
কর্জে হাসানা বা উত্তম কর্জ প্রদানে যেমন অনেক ফজিলত রয়েছে ঠিক তেমনি কর্জ নিয়ে যদি কেউ তা পরিশোধ না করলে রয়েছে কঠিন বিধান। কর্জ গ্রহণ সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বনে মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারার ২৮২ নং আয়াতে এরশাদ করেন-
“হে মুমিনগণ, তোমরা যখন পরস্পরে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কর্জের আদান-প্রদান করো, তখন তা লিখে রাখ..."
যেই ব্যক্তি কর্জ গ্রহণ করে তা আদায় করে না বা আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করে না তার ব্যাপারে শরিয়ার মনোভাব অত্যন্ত কঠোর। হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর খাদেম হযরত আবুল কাসেম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি কর্জ গ্রহণ করে কিন্তু সে কর্জ পরিশোধ করার ইচ্ছা পোষণ করে না, পরিশোধের জন্য তৎপর হয় না; তার নেকিসমূহ কর্জদাতার নেকির সঙ্গে মিশানো হবে, (কর্জগ্রস্ত ব্যক্তির) নেকি না থাকলে কর্জদাতার গুনাহ সমূহ কর্জ-গ্রহীতা ব্যক্তির ওপর চাপানো হবে।' -বাইহাকি, তারগিব ওয়াত তারহিব
রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "হে মুসলমানরা, তালির ওপর তালিযুক্ত ছিন্নবস্ত্র পরিধান করা কর্জ গ্রহণ অপেক্ষা উত্তম। যদি তা শোধ করার শক্তি না থাকে।" - মুসনাদে আহমাদ
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি সে কর্জগ্রস্ত থাকে তবে তার সম্পদ থেকে প্রথমে কর্জ পরিশোধ করা জরুরি অতঃপর বাকি সম্পদ অংশীদারদের জন্য প্রযোজ্য। কর্জগ্রস্ত ব্যক্তি যদি ইসলামের জন্য শাহাদতকারীও হয় তবুও তাকে কর্জ পরিশোধ করতে হবে। এ সম্পর্কে প্রিয় নবি (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস আছে। হযরত কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সমাবেশে দাঁড়ালেন এবং এই আলোচনা করলেন যে, আল্লাহর দ্বীনের জন্য জেহাদ এবং আল্লাহর প্রতি ইমান সর্বোত্তম আমল বটে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, আমি আল্লাহর দ্বীনের জন্য জেহাদে যদি নিহত হই, তবে আল্লাহ আমার জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন কি? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এবার সংশোধনের সঙ্গে উত্তর দিলেন) বললেন, 'হ্যাঁ', যদি তুমি রণাঙ্গনে স্থিতিশীল থাক, সাওয়াব লাভের নিয়ত করে থাক, সম্মুখ দিকে থাক, পলায়নের দিকে না থাক: কিন্তু কর্জ ব্যতীত। (অর্থাৎ ইসলামের জন্য শহিদ হওয়ার দ্বারাও কর্জ মাফ হবে না।) এই মাত্র জিবরিল আমাকে একথা বললেন।' -মুসলিম
যে মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে (কর্জ) নেয়, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেন। আর যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তা ধ্বংস করে দেন। -সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩৮৭
হাদিসে আরো এসেছে, আবু হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধনী ব্যক্তির (কর্জ আদায়ে) গড়িমসি করা জুলুম। -সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪০০
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোকের কাছ থেকে একটি উটনি কর্জ নিয়েছিলেন। সে তা চাইতে এসে কঠোর ব্যবহার করল। তখন উপস্থিত সাহাবিগণ খ্যাপে গেলেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে বাধা দিয়ে বললেন, "তাকে বলতে দাও। পাওনাদারের কিছু বলার অধিকার আছে।" এরপর তাঁদেরকে তাকে একটি উটনি কিনে দিতে বললেন। তাঁরা খুঁজে এসে বললেন, "আমরা (এর সমকক্ষ উটনি পাইনি) এর চেয়ে উৎকৃষ্টই শুধু পেয়েছি।" নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এটাই কিনে দাও। (জেনে রেখ) তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে পরিশোধে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর।" -সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩৯০
আবদুল্লাহ ইবনে আবী রাবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ থেকে ত্রিশ বা চল্লিশ হাজার (দিরহাম?) কর্জ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তিনি তা পরিশোধ করলেন এবং বললেন, আল্লাহ তোমার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন। কর্জের বিনিময় তো হলো পরিশোধ ও কৃতজ্ঞতা। - মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১৬৪১০: সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪৬৮৩
কর্জ বান্দার হক, যা পরিশোধ করতে হয় অথবা দাতা কর্তৃক মাফ পেতে হয়। এছাড়া মুক্তির কোনো পথ নেই। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, আমরা নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে ছিলাম। তখন একজন মায়্যিত (মৃত ব্যক্তি) উপস্থিত করা হলো। লোকেরা তাঁকে নামাজ পড়ানোর অনুরোধ করলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তার উপর কি কোনো কর্ম আছে? লোকেরা বলল, জি না। আবার জিজ্ঞাসা করলেন, সে কি কিছু রেখে গিয়েছে? তারা বলল, জি না। তখন তিনি নামাজ পড়ালেন। তারপর আরেকজন মায়্যিত উপস্থিত করা হলো। লোকেরা তাঁকে নামাজ পড়ানোর অনুরোধ করলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তার উপর কি কোনো কর্জ আছে? বলা হলো, জি হ্যাঁ। জিজ্ঞাসা করলেন, সে কি কিছু রেখে গিয়েছে? লোকেরা বলল, তিন দিনার রেখে গিয়েছে। তখন তিনি নামাজ পড়ালেন। এরপর আরেকজন মায়্যিত আনা হলো। লোকেরা তাঁকে নামাজ পড়ানোর অনুরোধ করলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কি কিছু রেখে গিয়েছে? তারা বলল, জি না। জিজ্ঞাসা করলেন, তার উপর কি কোনো কর্জ আছে? বলা হলো, তিন দিনার আছে। তিনি বললেন, তোমাদের সাথীর নামাজ তোমরাই পড়। একথা শুনে আবু কাতাদা (রা.) বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ! আপনি নামাজ পড়িয়ে দিন, তার কর্জ আমার জিম্মায়। তখন তিনি নামাজ পড়ালেন। -সহিহ বুখারি, হাদিস ২২৮৯
📄 কর্জ থেকে দূরে থাকা
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে এই দুআ করতেন, "ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। মসীহ দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। জীবনের ফেতনা ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ ও কর্জ থেকে আশ্রয় চাই।"
কেউ (অন্য বর্ণনায় আছে বর্ণনাকারী নিজেই) জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কর্জ থেকে এত বেশি আশ্রয় চান! তিনি বললেন, মানুষ যখন কর্জগ্রস্ত হয় তখন কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে। -সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৩২
অর্থাৎ, খুব বেশি বিপদে না পড়লে কারো কাছে কর্জের জন্য হাত পাতা উচিত নয়। রসুলল্লাহ (সা.) বলেন, হে মুসলমানরা কর্জ গ্রহণ থেকে বেঁচে থাক। কেননা, কর্জ রাত্রীকালে মর্ম বেদনা ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে এবং দিনের বেলায় অপমান ও লাঞ্ছনায় লিপ্ত করে। -বায়হাকি
📄 কর্জ থেকে বাঁচার জন্য করণীয়
১। বিশেষ প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের প্রবল ধারণা ছাড়া কর্জ না নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
২। আয় ও ব্যয়ের মাঝে সমন্বয় করে চলা।
৩। কর্জ হয়ে গেলে পরিশোধের জন্য নিচের দুয়াটা পাঠ করাঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ'উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ'উযু বিকা মিনাল-'আজযি ওয়াল- কাসালি, ওয়া আ'উযু বিকা মিনাল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া আ'উযু বিকা মিন দ্বলাবাতিদ্দাইনি ওয়া গলাবাতির রিজা-ল।
অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, কর্জের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।
এই দুয়াটা নেয়া হয়েছে নিচের হাদিসটি থেকেঃ হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন; একদিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববিতে প্রবেশ করে আনসারি একজন লোককে দেখতে পেলেন, যার নাম আবু উমামা। রসুল তাকে বললেন, “আবু উমামা! ব্যাপার কী, নামাজের সময় ছাড়াও তোমাকে মসজিদে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে?” আবু উমামা বললেন, “ইয়া রসুলাল্লাহ! অনেক কর্জ এবং দুনিয়ার চিন্তা আমাকে গ্রাস করে রেখেছে।” তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালিমা শিখিয়ে দেব, যেগুলো বললে আল্লাহ তায়ালা তোমার চিন্তাকে দূর করে দেবেন এবং তোমার কর্জগুলো আদায় করে দেবেন।” তিনি বলেন: "জি হ্যাঁ ইয়া রসুলাল্লাহ! অবশ্যই বলুন।” তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপর্যুক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দেন এবং তা সকাল সন্ধ্যায় পড়তে বলেন। আবু উমামা বলেন, “আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দোয়াটি পড়তে লাগলাম ফলে আল্লাহ তায়ালা আমার চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমার কর্জগুলোও আদায় করে দিলেন।"
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আমাদেরকে কর্জ-মুক্ত, সচ্ছল ও স্বাবলম্বী করে দিন এবং কর্জ হয়ে গেলে সেটা উত্তমভাবে সময়মত পরিশোধ করার তওফিক দিন। আমিন।
📄 কর্জ পরিশোধ করতে দেরি হওয়া
যদি কেউ কর্জ গ্রহণ করার পর তা দিতে অপারগ হয় বা কষ্টে পতিত হয়, সে সময় ঋণদাতার করণীয় বিষয়েও মহান আল্লাহতায়ালা নির্দেশনা দিয়েছেন, "যদি সেই কর্জ-গ্রহণকারী দরিদ্র হয়, তবে সচ্ছল অবস্থা আসা পর্যন্ত অবকাশ দিবে আর মাফ করে দেয়া তোমাদের পক্ষে অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!” -সুরা বাকারা, আয়াত ২৮০
আবদুল্লাহ ইবনে আবী কাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু কাতাদা (রা.) তার এক কর্জগ্রহীতাকে খুঁজলে সে আত্মগোপন করল। পরে তাকে পাওয়া গেল। তখন সে বলল, "আমি অসচ্ছল।” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "আল্লাহর কসম?" সে বলল, “আল্লাহর কসম (আমি অসচ্ছল)!” আবু কাতাদা (রা.) বললেন, “আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যার পছন্দ যে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের বিপদসমূহ থেকে মুক্তি দিন সে যেন অসচ্ছলকে সুযোগ দেয় অথবা মাফ করে দেয়।" -সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৬৩
মুসনাদে আহমদে আছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো দরিদ্র লোকের উপর স্বীয় প্রাপ্য আদায়ের ব্যাপারে নম্রতা প্রকাশ করে এবং তাকে অবকাশ দেয়, অতঃপর যতদিন পর্যন্ত সে তার কাছে প্রাপ্য পরিশোধ করতে না পারবে ততদিন পর্যন্ত সে প্রতিদিন সেই পরিমাণ দান করার সাওয়াব পেতে থাকবে।" অন্য রেওয়াতে এসেছে - "সে প্রতিদিন ওর দ্বিগুণ পরিমাণ দান করার সওয়াব পেতে থাকবে।" একথা শুনে বুরাইদা (রা.) বলেন, “হে আল্লাহর রসুল! পূর্বে আপনি ঐ পরিমাণ দানের সওয়ার প্রাপ্তির কথা বলেছিলেন। আর এখন ওর দিগুণ পরিমাণ প্রাপ্তির কথা বললেন?" রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, যে পর্যন্ত মেয়াদ অতিক্রান্ত না হবে সেই পর্যন্ত ওর সমপরিমাণ দানের সওয়াব লাভ করবে এবং যখন মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়ে যাবে তখন ওর দ্বিগুণ পরিমাণ দানের সওয়াব লাভ করবে।"
অর্থাৎ, কর্জ প্রদানকারী ব্যক্তি খাতকের সময় বৃদ্ধি করতে বাধ্য নয় কিন্তু সময় বৃদ্ধি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। একটি বার চিন্তা করুন, শ্রেষ্ঠতম বিচারক আল্লাহ তায়ালা আইন প্রণয়ন করে দিয়েছেন, কোনো খাতক বাস্তবিকই নিঃস্ব হলে বা কর্জ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে অতিষ্ঠ না করতে। আর সেই তুলনায় বর্তমান সমাজব্যবস্থা কেমন? বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির থেকে জোরপূর্বক সুদের উপর অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
হাদিসে আরো এসেছে, “তোমাদের পূর্ববর্তী এক লোকের হিসাব নেওয়া হলে তার কোনো নেক আমল পাওয়া যায়নি। তবে সে মানুষের সাথে লেনদেন করত এবং বিত্তবান ছিল। কর্মচারীদের প্রতি তার এ নির্দেশ ছিল যে, অক্ষমদের যেন তারা মাফ করে দেয়। আল্লাহ বললেন, "মাফ করার সক্ষমতা তো ওর চেয়ে আমার বেশি।" এরপর তিনি ফিরিশতাদেরকে আদেশ দেন তাকে মাফ করে দেওয়ার।" -সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৬১। অন্য এক হাদিসে এসেছে, “যে অক্ষমকে সুযোগ দেয়, আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়াতলে জায়গা দিবেন- যখন আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে।" -সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১৩০৬