📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 স্বাধীনতা

📄 স্বাধীনতা


কর্জ-গ্রহীতা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ কর্জ অনুমোদন কমিটির হাতে থাকবে। এই ব্যাপারে আমানতকারীরা বা কর্জ-দাতাদের কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কর্জ-দাতা যদি নিজেই নির্ধারণ করতে চান তিনি কাকে কর্জ দিবেন বা দিবেন না তাহলে প্রতিষ্ঠানে টাকা বা সম্পদ জমা রাখার প্রয়োজন নেই বরং নিজের পক্ষ থেকেই দিয়ে দিতে পারেন। নিয়ম হচ্ছে টাকা বা সম্পদ প্রতিষ্ঠানকে কর্জ দিয়েই কর্জ-দাতা সব দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। তারপরে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম চলতে থাকবে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 অপব্যবহার

📄 অপব্যবহার


কর্জের অপব্যবহারের সুযোগ অনেক। একজন চিন্তা করল জমির দাম খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই কিছু কর্জ করে যদি একটি জমি কিনে রাখি, পরবর্তীতে অধিক মূল্যে বিক্রয় করে কর্জ পরিশোধ করে দিব। এমন উদ্দেশ্যে কর্জ চাওয়া অসম্ভব নয়। এগুলো হচ্ছে স্পেকুলেশন বা ফাটকাবাজি। এগুলো কোনো ব্যবসা নয়। ফাটকাবাজি করে কোনো উৎপাদন হয় না, তাই এই ধরনের কাজে কর্জ দেওয়া যাবে না। এটা অর্থনৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য না এবং আপনার কর্জে হাসানা ফান্ডের অপব্যবহার ও অযথা ঝুঁকি বাড়বে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 উপহার

📄 উপহার


উপহার প্রোগ্রামের সাফল্য কর্জ কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের উপর একটি বড় মাত্রায় নির্ভর করতে পারে। তাই তাদের অবশ্যই ভালো আচরণ এবং সততা বজায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের উপহার এবং ঘুস গ্রহণ করা উচিত নয়, তা যত বড় বা ছোটই হোক না কেন। প্রকৃতপক্ষে, এই বিষয়ে একটি প্রাসঙ্গিক হাদিস আছে। আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কারো জন্য সুপারিশ করল এবং সেই সুপারিশের প্রতিদান স্বরূপ তাকে কিছু উপহার দিল। যদি সে তা গ্রহণ করে তাহলে সে রিবার দরজাসমূহের একটি বড় দরজায় উপস্থিত হলো" -মিশকাত, হা/৩৭৫৭, সনদঃ হাসান

অর্থাৎ কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মকর্তাদের জন্য রিবার দরজায় সহজেই হাজির হয়ে যাওয়া সম্ভব! সুতরাং যারাই এই কাজে ব্রতী হবেন, তারা তাদের তাকওয়া, আমল ও জ্ঞানচর্চা বাড়িয়ে দিবেন। আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করুন।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 মৃত ব্যক্তির কর্জ

📄 মৃত ব্যক্তির কর্জ


যিনি কর্জ নিয়েছেন তিনি হঠাৎ মারা যেতে পারেন। এই সমস্যা ঠেকাতে ব্যাংক গ্রাহকের নামে জীবনবিমা করিয়ে রাখে। সাধারণ বিমাগুলো ইসলামি শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম, তাই এই পথা আপনার যাওয়ার সুযোগ নেই। নিজেরা নতুন কোনো হালাল বিমা করতে পারলে ভালো। তবে যথাযথ কাগজপত্র যেমন কর্জের চুক্তি, মেয়াদ, সময়, দাতা, গ্রহীতা, সাক্ষী ইত্যাদি থাকায় এই মৃত ব্যক্তির এই কর্জ ওয়ারিশদের উপর বর্তাবে। এটা অনেক বড় একটা কাজ শরিয়তে। মৃত ব্যক্তির কর্জ শোধ না হলে রসুল (সা.) সেই ব্যক্তির জানাজা পড়তে চাইতেন না।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.)-এর কাছে যখন কোনো কর্জ-গ্রস্ত ব্যক্তির জানাজা উপস্থিত করা হতো, তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে তার কর্জ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ রেখে গেছে কি? যদি বলা হতো যে সে তার কর্জ পরিশোধের মতো সম্পদ রেখে গেছে। তখন তার জানাজার সালাত আদায় করতেন। নতুবা বলতেন, তোমাদের সাথির জানাজা আদায় করে নাও।' -বুখারি, ২২৯৮

কর্জ বান্দার হক, আর বান্দার হক বান্দা মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না। এটা আদায় করতেই হবে। তাহলে, আপনি কী করতে পারেন? ওয়ারিশরা কর্জ আদায় নাও করতে পারে, এমন সম্ভাবনার মুখে কোনো কর্জ নেয়ার সময় যেমন জামিনদার থাকেন, তেমনি ওয়ারিশদের হলফনামা যোগ করা যেতে পারে, যেখানে তারা ঐ ব্যক্তি মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে সেই কর্জ শোধ করে দেয়ার অঙ্গীকার করবে।

পাকিস্তানের আখুওয়াত এজন্য একটি পরিবারকে কর্জ দেয়, যেন কোনো ব্যক্তি মারা গেলে কর্জ আদায়ে জটিলতা তৈরি হয় না। একই সাথে তারা নিজ উদ্যোগে কর্জ-গ্রহীতাদের সাথে সুদ-মুক্ত বিমার মতো ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00