📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 অনুদান

📄 অনুদান


কেউ চাইলে কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠানকে দান করতে পারবেন। এই অনুদানের টাকা কেবল প্রতিষ্ঠানের কাজেই ব্যয় হতে হবে, অভাবী এবং দেউলিয়া ব্যক্তিদের দান করা যাবে না। কারণ যেহেতু দাতা টাকাটা প্রাতিষ্ঠানিক কাজ বা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য দিয়েছে, তাই শরঈ নিয়ম অনুযায়ীই প্রতিষ্ঠানের জন্য পাওয়া অনুদান অন্যদের দিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে, অন্যদেরকে দান করে দেয়ার জন্য প্রদত্ত অর্থ বিতরণ করা যাবে।

আপনার প্রতিষ্ঠান দাতব্য কার্যক্রম চালাতে পারে বা জাকাত দিতে পারে। তাই আমার পরামর্শ থাকবে, আপনি জাকাত ফান্ড নাকি সদকা ফান্ড নাকি কর্জে হাসানা ফান্ড সেটা পরিষ্কার রাখবেন। যদি আপনি আসলে কর্জে হাসানা ফান্ড হন, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে জাকাত-সদকা ফান্ড মনে করে, তাহলে বিপদ। দেখা যেতে পারে, কর্জ গ্রাহকদের কর্জ পরিশোধ করার মনোভাব নষ্ট হয়ে যাবে। একই সাথে এই সুযোগকে আশ্রয় করে অসাধু কর্জ গ্রহীতারা স্বেচ্ছায় কর্জ খেলাপ করে অনুদানের জন্য হাত পাততে শুরু করবে। তাই আবেগপ্রবণ না হয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালককে নীতিতে অটল থাকতে হবে এবং কর্জ আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে, যাতে জাকাত-সদকা ফান্ড তাদের মতো চলে এবং আপনার কর্জে হাসানা ফান্ড যথাযথভাবে চলে।

যারা সবগুলোই করেন বা করতে চান, অর্থাৎ কর্জে হাসানার পাশাপাশি অভাবীদের দান-সদকা-জাকাত পৌঁছাতে চাইলে কর্জে হাসানার পাশাপাশি অপর একটি দাতব্য সংস্থা খুলে অনুদান কার্যক্রম চালাতে পারেন। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠানের নামে কর্জে হাসানা এবং দান সদকা করা উচিত হবে না, এটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে একটি অপরটির কার্যক্রমে বিঘ্ন তৈরি করতে পারে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 স্বাধীনতা

📄 স্বাধীনতা


কর্জ-গ্রহীতা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ কর্জ অনুমোদন কমিটির হাতে থাকবে। এই ব্যাপারে আমানতকারীরা বা কর্জ-দাতাদের কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কর্জ-দাতা যদি নিজেই নির্ধারণ করতে চান তিনি কাকে কর্জ দিবেন বা দিবেন না তাহলে প্রতিষ্ঠানে টাকা বা সম্পদ জমা রাখার প্রয়োজন নেই বরং নিজের পক্ষ থেকেই দিয়ে দিতে পারেন। নিয়ম হচ্ছে টাকা বা সম্পদ প্রতিষ্ঠানকে কর্জ দিয়েই কর্জ-দাতা সব দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। তারপরে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম চলতে থাকবে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 অপব্যবহার

📄 অপব্যবহার


কর্জের অপব্যবহারের সুযোগ অনেক। একজন চিন্তা করল জমির দাম খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই কিছু কর্জ করে যদি একটি জমি কিনে রাখি, পরবর্তীতে অধিক মূল্যে বিক্রয় করে কর্জ পরিশোধ করে দিব। এমন উদ্দেশ্যে কর্জ চাওয়া অসম্ভব নয়। এগুলো হচ্ছে স্পেকুলেশন বা ফাটকাবাজি। এগুলো কোনো ব্যবসা নয়। ফাটকাবাজি করে কোনো উৎপাদন হয় না, তাই এই ধরনের কাজে কর্জ দেওয়া যাবে না। এটা অর্থনৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য না এবং আপনার কর্জে হাসানা ফান্ডের অপব্যবহার ও অযথা ঝুঁকি বাড়বে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 উপহার

📄 উপহার


উপহার প্রোগ্রামের সাফল্য কর্জ কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের উপর একটি বড় মাত্রায় নির্ভর করতে পারে। তাই তাদের অবশ্যই ভালো আচরণ এবং সততা বজায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের উপহার এবং ঘুস গ্রহণ করা উচিত নয়, তা যত বড় বা ছোটই হোক না কেন। প্রকৃতপক্ষে, এই বিষয়ে একটি প্রাসঙ্গিক হাদিস আছে। আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কারো জন্য সুপারিশ করল এবং সেই সুপারিশের প্রতিদান স্বরূপ তাকে কিছু উপহার দিল। যদি সে তা গ্রহণ করে তাহলে সে রিবার দরজাসমূহের একটি বড় দরজায় উপস্থিত হলো" -মিশকাত, হা/৩৭৫৭, সনদঃ হাসান

অর্থাৎ কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মকর্তাদের জন্য রিবার দরজায় সহজেই হাজির হয়ে যাওয়া সম্ভব! সুতরাং যারাই এই কাজে ব্রতী হবেন, তারা তাদের তাকওয়া, আমল ও জ্ঞানচর্চা বাড়িয়ে দিবেন। আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00