📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 ব্যবসা প্রকৃতি

📄 ব্যবসা প্রকৃতি


একজন ব্যক্তি যেই উদ্দেশ্যে কর্জ নিচ্ছেন তা হালাল কিনা সেইটা দেখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ একজন সকালে চা-বিস্কুট বিক্রি করে এবং সেই ব্যবসার উপকরণ কেনার কথা বলে টাকা কর্জ চাইল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে, সে ব্যক্তি রাতে ছোট টেবিলে করে জুয়ার আসর বসায়। এমন হতে পারে যে সে জুয়া ছাড়তে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজছে, আবার এমন হতেও পারে যে সে এই টাকা দিয়ে চা-বিস্কুট বিক্রি করে সন্ধ্যায় আরো বড় পরিসরে জুয়ার আয়োজন করতে চায়। ব্যক্তিগতভাবে কেউ সুধারণা পোষণ করতে পারে এবং তাকে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এইরকম মানুষকে অবশ্যই কর্জ দেয়া যাবে না।

প্রতিষ্ঠান চাইলে আরও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ইসলামিক রিলিফের ক্ষুদ্র কর্জ প্রোগ্রাম এমন কৃষকদের কর্জ অনুমোদন করে না যারা ছোট ও ঘিঞ্জি খাঁচায় মুরগি পালন করেন, যেহেতু এটি প্রাণীদের জন্য কষ্টকর। ঠিক তেমনি পরিবেশ তীব্র দূষণ করে এমন প্রকল্পে কর্জ দেওয়াও উচিত হবে না।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 অনুদান

📄 অনুদান


কেউ চাইলে কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠানকে দান করতে পারবেন। এই অনুদানের টাকা কেবল প্রতিষ্ঠানের কাজেই ব্যয় হতে হবে, অভাবী এবং দেউলিয়া ব্যক্তিদের দান করা যাবে না। কারণ যেহেতু দাতা টাকাটা প্রাতিষ্ঠানিক কাজ বা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য দিয়েছে, তাই শরঈ নিয়ম অনুযায়ীই প্রতিষ্ঠানের জন্য পাওয়া অনুদান অন্যদের দিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে, অন্যদেরকে দান করে দেয়ার জন্য প্রদত্ত অর্থ বিতরণ করা যাবে।

আপনার প্রতিষ্ঠান দাতব্য কার্যক্রম চালাতে পারে বা জাকাত দিতে পারে। তাই আমার পরামর্শ থাকবে, আপনি জাকাত ফান্ড নাকি সদকা ফান্ড নাকি কর্জে হাসানা ফান্ড সেটা পরিষ্কার রাখবেন। যদি আপনি আসলে কর্জে হাসানা ফান্ড হন, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে জাকাত-সদকা ফান্ড মনে করে, তাহলে বিপদ। দেখা যেতে পারে, কর্জ গ্রাহকদের কর্জ পরিশোধ করার মনোভাব নষ্ট হয়ে যাবে। একই সাথে এই সুযোগকে আশ্রয় করে অসাধু কর্জ গ্রহীতারা স্বেচ্ছায় কর্জ খেলাপ করে অনুদানের জন্য হাত পাততে শুরু করবে। তাই আবেগপ্রবণ না হয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালককে নীতিতে অটল থাকতে হবে এবং কর্জ আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে, যাতে জাকাত-সদকা ফান্ড তাদের মতো চলে এবং আপনার কর্জে হাসানা ফান্ড যথাযথভাবে চলে।

যারা সবগুলোই করেন বা করতে চান, অর্থাৎ কর্জে হাসানার পাশাপাশি অভাবীদের দান-সদকা-জাকাত পৌঁছাতে চাইলে কর্জে হাসানার পাশাপাশি অপর একটি দাতব্য সংস্থা খুলে অনুদান কার্যক্রম চালাতে পারেন। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠানের নামে কর্জে হাসানা এবং দান সদকা করা উচিত হবে না, এটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে একটি অপরটির কার্যক্রমে বিঘ্ন তৈরি করতে পারে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 স্বাধীনতা

📄 স্বাধীনতা


কর্জ-গ্রহীতা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ কর্জ অনুমোদন কমিটির হাতে থাকবে। এই ব্যাপারে আমানতকারীরা বা কর্জ-দাতাদের কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কর্জ-দাতা যদি নিজেই নির্ধারণ করতে চান তিনি কাকে কর্জ দিবেন বা দিবেন না তাহলে প্রতিষ্ঠানে টাকা বা সম্পদ জমা রাখার প্রয়োজন নেই বরং নিজের পক্ষ থেকেই দিয়ে দিতে পারেন। নিয়ম হচ্ছে টাকা বা সম্পদ প্রতিষ্ঠানকে কর্জ দিয়েই কর্জ-দাতা সব দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। তারপরে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম চলতে থাকবে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 অপব্যবহার

📄 অপব্যবহার


কর্জের অপব্যবহারের সুযোগ অনেক। একজন চিন্তা করল জমির দাম খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই কিছু কর্জ করে যদি একটি জমি কিনে রাখি, পরবর্তীতে অধিক মূল্যে বিক্রয় করে কর্জ পরিশোধ করে দিব। এমন উদ্দেশ্যে কর্জ চাওয়া অসম্ভব নয়। এগুলো হচ্ছে স্পেকুলেশন বা ফাটকাবাজি। এগুলো কোনো ব্যবসা নয়। ফাটকাবাজি করে কোনো উৎপাদন হয় না, তাই এই ধরনের কাজে কর্জ দেওয়া যাবে না। এটা অর্থনৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য না এবং আপনার কর্জে হাসানা ফান্ডের অপব্যবহার ও অযথা ঝুঁকি বাড়বে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00