📄 কর্জে হাসানা ক্লাব
দীর্ঘমেয়াদি সেবা নিশ্চিত করতে চাইলে কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ভাবে টেকসই হতে হবে। কর্জে হাসানা যেই ব্যক্তি অর্জন করছেন তিনি হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি লাভবান। তাই তিনি চাইলেই এই প্রতিষ্ঠানের খরচ কিছুটা বহন করতে পারেন।
তবে আমরা যদি টাকা দিয়ে অধিক টাকা ফেরত নেই তাহলে তা সুদ হয়ে যাবে। সে কারণে আমরা ক্লাবের মতো ব্যবস্থা চালু করতে পারি। একটি ফুটবল ক্লাবে সবাই প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা প্রদান করে ফুটবল খেলতে পারে। তেমনি যে সমাজকে আমরা সেবা করছি তারা নিজেরা চাঁদা দিয়ে এর ব্যয়ভার বহন করতে পারে।
ব্যয়ভার বহন করলে যে কর্জ নিতেই হবে বা দিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে যে কেউ যুক্ত থাকতে পারেন। আবার কেউ চাইলে ক্লাবের মেম্বারশিপ ফি অপেক্ষা অধিক টাকা অনুদান করতে পারেন। পরিচালক অত্যন্ত দ্বীনদারিতার সাথে সকল নিষিদ্ধ প্রভাব খাটানোকে দমন করে সততা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে এই কর্জ প্রদান করবেন।
📄 স্বেচ্ছাসেবা
ক্লাব-মেম্বার সিস্টেম একমাত্র উপায় না। খরচ বহনের আরও বিভিন্ন রাস্তা আছে। চাইলে যেই গ্রাম অথবা মহল্লাতে কর্জ সেবা দিচ্ছে সেখানে সবার থেকে যার যা সাধ্য আছে সেই অনুযায়ী চাঁদা দিতে পারে। যেমন: হাতিয়ামুড়ি গ্রামে আমরা কর্জে হাসানা কার্যক্রম চালু করলাম। এই সেবা কেবল আমাদের গ্রামের অধিবাসীরা পাবে। এখন আমরা গ্রামের সদস্যদের থেকে যার যা সাধ্য সেই অনুযায়ী সাহায্যের আবেদন জানাতে পারি। স্বেচ্ছাসেবীর হিসেবে গ্রামের একজন আলেম বা শিক্ষিত এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নিয়োজিত হতে আবেদন করতে পারি। একবার প্রতিষ্ঠা খরচ জোগাড় করতে পারলেই হয়। একটি ছোট গ্রামে পরিচালনা খরচ নাই বললেই চলে। ছোট শহরেও এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এমনকি বড় শহরেও আমরা এলাকাবাসীর সহায়তা কামনা করতে পারি। সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান না করে যদি সপ্তাহে একদিন বা প্রতিদিন বিকালে কারো বাড়ির সামনে বা মসজিদে একত্র হয়ে কর্ম সম্পাদন করে ফেলি এবং টাকাপয়সার হিসেবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারি তাহলে পরিচালনা কোনো বড় সমস্যা নয়।
টিকাঃ
৬১. অনুদান পদ্ধতিকে অবহেলা করা উচিত নয়। পৃথিবীর অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান কেবল অনুদানের ভিত্তিতে চলছে। বাংলাদেশের বড় বড় মসজিদ, মাদ্রাসা এবং এতিমখানা অনুদান দিয়ে চলছে। সেই তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানের খরচ একেবারেই কম।
📄 ব্যবসা ও অনুদান
আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ব্যবসা পদ্ধতি। এখানে একই সাথে ব্যবসা এবং অনুদান চলবে। ধরা যাক, প্রতিষ্ঠানকে সবাই মিলে ৫০ হাজার টাকা দান বা ওয়াক্ফ করল। এই টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠান একটি দোকান কিনে ভাড়া দিল এবং সেই ভাড়ায় পরিচালনা ব্যয় সম্পন্ন করল। একটি এলাকার সবাই মিলে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে পারলে যাদের হাতে একটু অতিরিক্ত টাকা বা সঞ্চয় আছে এবং যাদের হাতে কম টাকা আছে তাদের সমন্বয়সাধন করতে নিরলসভাবে প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাবে।
📄 ফর্ম বিক্রি
ফর্ম বিক্রিও হতে পারে আয়ের একটি উৎস। এক্ষেত্রে যারা কর্জের আবেদন করতে চান তাকে ২০০ টাকার আবেদন ফর্ম কিনতে হতে পারে। এভাবে আবেদনের টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বহনে সহায়ক হবে। তবে ফর্ম বিক্রির আড়ালে ঘুরিয়ে সুদ খাওয়া যেন না হয় এই ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।