📄 দোকান চুক্তি
কর্জে হাসানার প্রসারে স্থানীয় মুদি দোকানগুলোকেও কাজে লাগানো যায়। ধরুন, জালালুদ্দীন সাহেব ৫ হাজার টাকা দিয়ে ডাল কিনে সজলের দোকানে ১ বছর মেয়াদে কর্জে হাসানা দিলেন। সজল সেই ডাল বিক্রি করে তার ব্যবসার পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং ১ বছর পর সমপরিমাণ ডাল ফেরত দিবেন। এভাবে ছোট ছোট ব্যবসায়ী এবং দাতার মধ্যে চুক্তি হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, দাতা যেন এর বিনিময়ে দোকান থেকে কোনো বাড়তি ছাড় বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ না করেন, কারণ তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
📄 বৃহৎ ঋণ
বড় অংকের কর্জের প্রয়োজন মেটাতে 'স্থায়ী সম্পত্তি অংশীদার কাঠামো' ব্যবহার করা যায়। যেমন জমির শেয়ার কর্জ দেওয়া। ওমর তার জমির ৫টি শেয়ার সুবর্ণাকে কর্জ হিসেবে দিতে পারে। সুবর্ণা সেই শেয়ার বিক্রি করে টাকা ব্যবহার করবে এবং মেয়াদ শেষে পুনরায় শেয়ার কিনে ফেরত দিবে। বড় শহরে শেয়ার মার্কেটের হালাল কোম্পানির শেয়ার ব্যবহার করেও এই লেনদেন করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে মার্কেট ঝুঁকি এবং কোম্পানির বৈধতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
📄 পণ্য নির্বাচন
সব পণ্যের দাম সমান হারে বাড়ে না। কর্জ লেনদেনের জন্য এমন পণ্য নির্বাচন করা উচিত যা ফটকাবাজদের নজরের বাইরে থাকে এবং যার দাম স্থিতিশীল। জমি, সোনা বা শেয়ার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফটকাবাজির ঝুঁকি থাকে। প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই যাচাই করতে হবে গ্রাহক জুয়া বা ফাটকাবাজির উদ্দেশ্যে কর্জ নিচ্ছে কিনা। একটি দক্ষ গাইডলাইন ও সঠিক পণ্য নির্বাচন কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
📄 কর্জে হাসানা সমবায় সমিতি
টাকা ব্যবহার করে কর্জে হাসানা পরিচালনার জন্য সমবায় পদ্ধতি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাধান। এখানে সবাই প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা জমা দেয়। কারো প্রয়োজন হলে সেই জমা থেকে বিনা সুদে কর্জ দেওয়া হয়। এটি অনেকটা বীমা পদ্ধতির মতো কাজ করে, যেখানে সদস্যরা বিপদের সময় সহায়তা পায়। সিন্দুক বা একটি কেন্দ্রীয় ফান্ড থাকলে এই লেনদেন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হয় এবং সদস্যদের আমানত নিরাপদ থাকে।