📄 সাহারা মরুভূমিতে পানির কর্জে হাসানা
দক্ষিণ সুদানে পানির সংকটের সময় সিমিরা নামক এক তরুণী একটি চমৎকার বুদ্ধি বের করে। সে অতিরিক্ত পানি একটি পাত্রে জমা রেখে অভাবীদের মাঝে কর্জ হিসেবে বিতরণ করা শুরু করে। নিয়ম হলো, আজ যে পানি নিবে সে আগামীকাল সমপরিমাণ পানি ফেরত দিবে। এর ফলে অলসরা নিরুৎসাহিত হয় এবং যারা সত্যিকারের অভাবী তারা উপকৃত হয়। এই গল্পের শিক্ষা হলো, ছোট ছোট সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কর্জের আবর্তন বড় সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে পারে।
📄 চালের আড়ত + ...
চালের আড়তের সাথে ডাল, গম, তেলবীজ বা অন্যান্য শস্য যুক্ত করলে সারা বছর কর্জ লেনদেন সচল রাখা যায়। এছাড়া দ্রুত প্রয়োজনের জন্য নগদ টাকার স্বল্পমেয়াদী কর্জে হাসানা ফান্ডও রাখা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের উচিত সচ্ছল মানুষের একটি তালিকা রাখা যারা বিপদের সময় দ্রুত কর্জ দিতে আগ্রহী। এতে করে গ্রামের মানুষের বহুমুখী সমস্যার সমাধান এক জায়গা থেকেই সম্ভব হবে।
টিকাঃ
৬০. এটা আসলে একটা উদাহরণ। আমরা বাস্তবে প্রচুর হালাল লেনদেনের পন্থা ব্যবহার করি না এবং অনেক লেনদেনের পন্থা হালাল হলেও প্র্যাকটিক্যালি প্র্যাকটিস করা একটু কঠিন। 'সুদ হারাম, কর্জে হাসানা সমাধান' বইয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে 'হালালভাবে কর্জ লেনদেন সম্ভব' এমন কিছু আইডিয়া সংকলন করা।
📄 দোকান চুক্তি
কর্জে হাসানার প্রসারে স্থানীয় মুদি দোকানগুলোকেও কাজে লাগানো যায়। ধরুন, জালালুদ্দীন সাহেব ৫ হাজার টাকা দিয়ে ডাল কিনে সজলের দোকানে ১ বছর মেয়াদে কর্জে হাসানা দিলেন। সজল সেই ডাল বিক্রি করে তার ব্যবসার পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং ১ বছর পর সমপরিমাণ ডাল ফেরত দিবেন। এভাবে ছোট ছোট ব্যবসায়ী এবং দাতার মধ্যে চুক্তি হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, দাতা যেন এর বিনিময়ে দোকান থেকে কোনো বাড়তি ছাড় বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ না করেন, কারণ তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
📄 বৃহৎ ঋণ
বড় অংকের কর্জের প্রয়োজন মেটাতে 'স্থায়ী সম্পত্তি অংশীদার কাঠামো' ব্যবহার করা যায়। যেমন জমির শেয়ার কর্জ দেওয়া। ওমর তার জমির ৫টি শেয়ার সুবর্ণাকে কর্জ হিসেবে দিতে পারে। সুবর্ণা সেই শেয়ার বিক্রি করে টাকা ব্যবহার করবে এবং মেয়াদ শেষে পুনরায় শেয়ার কিনে ফেরত দিবে। বড় শহরে শেয়ার মার্কেটের হালাল কোম্পানির শেয়ার ব্যবহার করেও এই লেনদেন করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে মার্কেট ঝুঁকি এবং কোম্পানির বৈধতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।