📄 ফসল যখন মুদ্রা
মূল্যবান রত্ন বা সম্পদ অনেক সময় ফাটকাবাজির শিকার হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি চমৎকার বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে চাল, গম, ভুট্টা বা লবণ ইত্যাদি ফসলকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা। চালকে কর্জ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সুবিধাগুলো হলো:
১. মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশে চালের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং এটি খুব দ্রুত বাজারমূল্য হারায় না।
২. কিস্তিতে পরিশোধ: গ্রহীতা চাইলে প্রতি মৌসুমে অল্প অল্প করে চাল ফেরত দিয়ে কিস্তিতে দেনা শোধ করতে পারেন।
৩. সহজলভ্যতা: চাল কেনাবেচা করা সহজ এবং এতে সোনার মতো আইনি জটিলতা বা কঠোর নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই।
গ্রামাঞ্চলে ধান বা স্থানীয় ফসল কাটার মৌসুম-কেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এই মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
📄 কর্জে হাসানা হাট
বাজার ব্যবস্থা যেভাবে কেনাকাটা সহজ করতে পারে, ঠিক তেমনি একটি কর্জে হাসানা হাট বা বাজার সুদমুক্ত লেনদেনকে সহজ করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে একদিন একটি নির্দিষ্ট স্থানে কর্জে হাসানা হাট বসতে পারে। সেখানে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, সাক্ষী ও লেখক উপস্থিত থাকবে। কর্জ দাতা এবং গ্রহীতা উভয় পক্ষ হাটে মিলিত হয়ে নিজেদের মধ্যে চুক্তি করবে। এই মডেলে প্রতিষ্ঠান সরাসরি কোনো দায়ভার বহন করে না, বরং এটি কেবল দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে দেয়।
📄 কর্জে হাসানা চালের আড়ত
চালের আড়তকে কর্জে হাসানা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। দাতা তার উদ্বৃত্ত চাল আড়তে কর্জ হিসেবে জমা রাখবেন। আড়তদার বা প্রতিষ্ঠান সেই চাল গ্রহীতাকে কর্জ দিবে। এক্ষেত্রে সমজাতীয় ও সমমানের চাল ফেরত নেওয়ার শর্ত থাকবে। প্রতিষ্ঠান চাইলে চাল কর্জ দিতে পারে অথবা চাল বাকিতে বিক্রি করে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিতে পারে। এই পদ্ধতিতে গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন কৃষক ও অভাবী মানুষের মধ্যে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক যোগসূত্র তৈরি হয়।
📄 চাল ব্যাপারী
এই পদ্ধতিতে গ্রাহক কর্জ হিসেবে চাল বুঝে পায় এবং প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের কাছেই সেই চাল বাজার মূল্যে বিক্রয় করে নগদ টাকা সংগ্রহ করে। ঋণ পরিশোধের সময় সে পুনরায় বাজার মূল্যে চাল কিনে তা শোধ করে। এটি চালু রাখতে প্রতিষ্ঠানের কাছে সামান্য কিছু নগদ টাকা ও চালের মজুদ থাকাই যথেষ্ট। প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে চাল কেনাবেচার পূর্ণ স্বাধীনতা দিবে, যাতে কোনোভাবেই এটি সুদে রূপান্তর না হয়।