📄 ফাটকার বাজারে আটকা
ঐতিহাসিকভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা জনপ্রিয় বিনিময় মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এর গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কমে গিয়েছে স্পেকুলেশন বা ফাটকাবাজির কারণে। ফাটকাবাজি কোনো নিয়মিত ব্যবসা না, এটি শুধু 'ধারণা'র উপর ভিত্তি করে চলে। ফাটকাবাজরা পণ্যের প্রকৃত প্রয়োজন থেকে নয় বরং শুধু অধিক লাভে বিক্রির আশায় পণ্য কেনে। এর ফলে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং পরে হুট করে কমে যায়, যাকে 'বাবল বার্স্ট' (Bubble Burst) বলা হয়। এই ফাটকাবাজির কারণে অনেক সময় সোনার মূল্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যা মুদ্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি 'Store of Value' বা সঞ্চয়ের সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে কর্জ দাতা বা গ্রহীতা উভয়ই বাজারদরের ব্যাপক উঠানামার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
📄 ফসল যখন মুদ্রা
মূল্যবান রত্ন বা সম্পদ অনেক সময় ফাটকাবাজির শিকার হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি চমৎকার বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে চাল, গম, ভুট্টা বা লবণ ইত্যাদি ফসলকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা। চালকে কর্জ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সুবিধাগুলো হলো:
১. মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশে চালের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং এটি খুব দ্রুত বাজারমূল্য হারায় না।
২. কিস্তিতে পরিশোধ: গ্রহীতা চাইলে প্রতি মৌসুমে অল্প অল্প করে চাল ফেরত দিয়ে কিস্তিতে দেনা শোধ করতে পারেন।
৩. সহজলভ্যতা: চাল কেনাবেচা করা সহজ এবং এতে সোনার মতো আইনি জটিলতা বা কঠোর নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই।
গ্রামাঞ্চলে ধান বা স্থানীয় ফসল কাটার মৌসুম-কেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এই মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
📄 কর্জে হাসানা হাট
বাজার ব্যবস্থা যেভাবে কেনাকাটা সহজ করতে পারে, ঠিক তেমনি একটি কর্জে হাসানা হাট বা বাজার সুদমুক্ত লেনদেনকে সহজ করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে একদিন একটি নির্দিষ্ট স্থানে কর্জে হাসানা হাট বসতে পারে। সেখানে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, সাক্ষী ও লেখক উপস্থিত থাকবে। কর্জ দাতা এবং গ্রহীতা উভয় পক্ষ হাটে মিলিত হয়ে নিজেদের মধ্যে চুক্তি করবে। এই মডেলে প্রতিষ্ঠান সরাসরি কোনো দায়ভার বহন করে না, বরং এটি কেবল দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে দেয়।
📄 কর্জে হাসানা চালের আড়ত
চালের আড়তকে কর্জে হাসানা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। দাতা তার উদ্বৃত্ত চাল আড়তে কর্জ হিসেবে জমা রাখবেন। আড়তদার বা প্রতিষ্ঠান সেই চাল গ্রহীতাকে কর্জ দিবে। এক্ষেত্রে সমজাতীয় ও সমমানের চাল ফেরত নেওয়ার শর্ত থাকবে। প্রতিষ্ঠান চাইলে চাল কর্জ দিতে পারে অথবা চাল বাকিতে বিক্রি করে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিতে পারে। এই পদ্ধতিতে গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন কৃষক ও অভাবী মানুষের মধ্যে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক যোগসূত্র তৈরি হয়।