📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 বিকল্প ব্যবস্থা

📄 বিকল্প ব্যবস্থা


যদি কোনো দাতা তার গলার হার লকারে জমা দেন এবং প্রতিষ্ঠান তা কাউকে কর্জে হাসানা হিসেবে দিতে চায়, তবে দাতার পূর্বানুমতি প্রয়োজন। গ্রহীতা সেই হারটি বিক্রি করে ব্যবসা করতে পারেন এবং মেয়াদ শেষে একই মানের ও ওজনের একটি সোনার হার তৈরি করে ফেরত দিবেন। তবে সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে মজুরি খরচ ও বিক্রয় মূল্যের পার্থক্যের কারণে এটি গ্রহীতার জন্য কিছুটা ব্যয়বহুল হতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠান নিজেই ক্যাশ টাকা রাখতে পারে। যখন কেউ সোনা কর্জ নিবে, সে প্রতিষ্ঠানের কাছেই তা বাজার মূল্যে বিক্রি করে টাকা নিতে পারবে এবং পরবর্তীতে বাজার মূল্যে সোনা কিনে তা ফেরত দিতে পারবে। এটি লেনদেনকে অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল করে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 ফাটকার বাজারে আটকা

📄 ফাটকার বাজারে আটকা


ঐতিহাসিকভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা জনপ্রিয় বিনিময় মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এর গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কমে গিয়েছে স্পেকুলেশন বা ফাটকাবাজির কারণে। ফাটকাবাজি কোনো নিয়মিত ব্যবসা না, এটি শুধু 'ধারণা'র উপর ভিত্তি করে চলে। ফাটকাবাজরা পণ্যের প্রকৃত প্রয়োজন থেকে নয় বরং শুধু অধিক লাভে বিক্রির আশায় পণ্য কেনে। এর ফলে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং পরে হুট করে কমে যায়, যাকে 'বাবল বার্স্ট' (Bubble Burst) বলা হয়। এই ফাটকাবাজির কারণে অনেক সময় সোনার মূল্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যা মুদ্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি 'Store of Value' বা সঞ্চয়ের সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে কর্জ দাতা বা গ্রহীতা উভয়ই বাজারদরের ব্যাপক উঠানামার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 ফসল যখন মুদ্রা

📄 ফসল যখন মুদ্রা


মূল্যবান রত্ন বা সম্পদ অনেক সময় ফাটকাবাজির শিকার হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি চমৎকার বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে চাল, গম, ভুট্টা বা লবণ ইত্যাদি ফসলকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা। চালকে কর্জ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সুবিধাগুলো হলো:
১. মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশে চালের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং এটি খুব দ্রুত বাজারমূল্য হারায় না।
২. কিস্তিতে পরিশোধ: গ্রহীতা চাইলে প্রতি মৌসুমে অল্প অল্প করে চাল ফেরত দিয়ে কিস্তিতে দেনা শোধ করতে পারেন।
৩. সহজলভ্যতা: চাল কেনাবেচা করা সহজ এবং এতে সোনার মতো আইনি জটিলতা বা কঠোর নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই।
গ্রামাঞ্চলে ধান বা স্থানীয় ফসল কাটার মৌসুম-কেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এই মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

📘 সুদ হারাম কর্জে হাসানা একটি সমাধান > 📄 কর্জে হাসানা হাট

📄 কর্জে হাসানা হাট


বাজার ব্যবস্থা যেভাবে কেনাকাটা সহজ করতে পারে, ঠিক তেমনি একটি কর্জে হাসানা হাট বা বাজার সুদমুক্ত লেনদেনকে সহজ করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে একদিন একটি নির্দিষ্ট স্থানে কর্জে হাসানা হাট বসতে পারে। সেখানে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, সাক্ষী ও লেখক উপস্থিত থাকবে। কর্জ দাতা এবং গ্রহীতা উভয় পক্ষ হাটে মিলিত হয়ে নিজেদের মধ্যে চুক্তি করবে। এই মডেলে প্রতিষ্ঠান সরাসরি কোনো দায়ভার বহন করে না, বরং এটি কেবল দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে দেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00