📄 অর্থ ও সম্পদের মূল্যমানের ক্ষয়
কর্জে হাসানাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হচ্ছে সময়ের সাথে টাকার মূল্যমানের ক্ষয় হওয়া। মুদ্রাস্ফীতির কারণে আজ যে টাকার মান যা আছে, এক বছর পর তা কমে যায়। যিনি কর্জে হাসানা দিবেন তার সঞ্চয়ের মূল্য ধীরে ধীরে কমে যায়। এই আর্থিক ক্ষতি মেনে নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয় বিধায় তারা কর্জে হাসানা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
📄 কর্জ দেয়ার চেয়ে কর্জ নেয়ায় দুনিয়াবি লাভ বেশি
যিনি কর্জে হাসানা গ্রহণ করেন তিনি কোনো প্রকার লাভ বা সুদ প্রদান করেন না। এদিকে মূল্যস্ফীতি সময়ের সাথে টাকার মান কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ, যিনি কর্জ নিচ্ছেন তিনি দুই দিক থেকেই লাভবান হচ্ছেন। আবার যিনি কর্জ দিচ্ছেন তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুনিয়াবি প্রথায় এই 'অসম' বণ্টন ব্যবস্থায় কর্জ নেয়ার মতো প্রার্থীর অভাব হয় না, কিন্তু দাতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
📄 সুযোগ-সন্ধানী সুদ-প্রেমীদের অপতৎপরতা
কর্জে হাসানার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুদের ব্যবসায় লিপ্ত হতে পারে। এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক প্রথমে প্রতিষ্ঠান থেকে কর্জ নিবেন, তারপর সেই টাকা প্রচলিত সুদি ব্যাংকে জমা রাখবেন। মেয়াদ শেষে তিনি সুদে-আসলে সব টাকা তুলে সুদটা নিজের কাছে রেখে আসল ফেরত দিয়ে কর্জে হাসানা পরিশোধ করবেন। এ ধরনের অসাধু তৎপরতা সুদমুক্ত সমাজ গড়ার পথে বড় বাধা।
📄 বেকার কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠান!
বিনা লভ্যাংশে কর্জ প্রদান করার ফলে প্রতিষ্ঠানটির নিজের খরচ চালানো বা বেড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। অনুদানের মাধ্যমে টেনেটুনে কিছুটা চালানো গেলেও, আয় করতে না পারলে একটি প্রতিষ্ঠান বড় হতে পারে না। তাই কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠানের নিজেদের খরচ চালানোর জন্য নিজস্ব আয়ের পথ বের করা জরুরি।