📄 কর্জে হাসানাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের প্রয়োজনীয়তা
আমরা আমাদের জীবনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কর্জে হাসানা বলতে কেবল বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় এবং প্রতিবেশী এই ক্ষুদ্র পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকি। কিন্তু এখন যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ কর্জ দানে অনাগ্রহী হয়ে গিয়েছে, তাই কর্জে হাসানার সর্বব্যাপী প্রচলন বলতে যা বুঝায় তা হয়ে ওঠেনি। কর্জ-দাতার হয়ে কর্জের বিষয়বস্তু সামলানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠান আন্তরিকতা ও দ্বীনদারিতার সাথে ব্যস্ত কর্জ-দাতার হয়ে কর্জের বিষয়বস্তু সামলাবে। কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠান থাকার আরও একটি সুবিধা হচ্ছে একজন ব্যক্তি যে-কোনো পরিমাণ টাকা জমা রাখতে পারবেন। অনেক সময় দেখা যায় ১০০ জন কর্জ দিতে সামর্থ্যবান হলেও হয়তো কর্জ দিচ্ছেন ২ জন। সারা দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১ কোটি সক্ষম ব্যক্তি যদি কেবল ১০ হাজার টাকা করে কর্জে হাসানা ফান্ডে জমা রাখত, তাহলে সেটাই পরিণত হতো ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ডে।
ব্যক্তিগত চুক্তির তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি হয় শক্তিশালী। প্রতিষ্ঠান থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান নিজ-দায়িত্বে কর্জ আদায় করতে পারে। এর ফলে একজন কর্জদাতাকে বারবার টাকা চাওয়ার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় না। সময়মত কর্জ আদায়ের ক্ষেত্রেও সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ খুবই কার্যকর। যথাযথ কারণে মেয়াদ বাড়ানো, জাকাত বা সাদাকার মাধ্যমে বেইল আউট বা কর্জ পরিশোধের ব্যবস্থা করা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া—এসব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানই বেশি উপযোগী।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
কর্জে হাসানার ব্যাপারে একটি অভিযোগ আসে যে, সুদ না থাকলে গ্রাহকরা ঋণ ফেরত দিতে দেরি করবে বা গড়িমসি করবে। এটা সম্পূর্ণ খোঁড়া যুক্তি। পাকিস্তানের আখুওয়াত কিংবা আন্তর্জাতিক এনজিও ইসলামিক রিলিফ প্রত্যেকের কর্জে হাসানা রিকভারি রেট ৯৯ শতাংশের অধিক যা পৃথিবীর সবচেয়ে সফল ব্যাংকগুলোর সফলতম বছরের তুলনায়ও ঈর্ষণীয়।
📄 কর্জে হাসানাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চর্চার প্রতিবন্ধকতা
অসংখ্য সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বড় কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্জে হাসানাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সহজ হচ্ছে না। এর প্রধান কারণগুলো হলো সময়ের সাথে টাকার মূল্যমানের ক্ষয়, কর্জ দেয়ার চেয়ে কর্জ নেয়ায় দুনিয়াবি লাভ বেশি হওয়া, সুযোগ-সন্ধানী সুদ-প্রেমীদের অপতৎপরতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা না থাকা।
📄 অর্থ ও সম্পদের মূল্যমানের ক্ষয়
কর্জে হাসানাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হচ্ছে সময়ের সাথে টাকার মূল্যমানের ক্ষয় হওয়া। মুদ্রাস্ফীতির কারণে আজ যে টাকার মান যা আছে, এক বছর পর তা কমে যায়। যিনি কর্জে হাসানা দিবেন তার সঞ্চয়ের মূল্য ধীরে ধীরে কমে যায়। এই আর্থিক ক্ষতি মেনে নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয় বিধায় তারা কর্জে হাসানা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
📄 কর্জ দেয়ার চেয়ে কর্জ নেয়ায় দুনিয়াবি লাভ বেশি
যিনি কর্জে হাসানা গ্রহণ করেন তিনি কোনো প্রকার লাভ বা সুদ প্রদান করেন না। এদিকে মূল্যস্ফীতি সময়ের সাথে টাকার মান কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ, যিনি কর্জ নিচ্ছেন তিনি দুই দিক থেকেই লাভবান হচ্ছেন। আবার যিনি কর্জ দিচ্ছেন তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুনিয়াবি প্রথায় এই 'অসম' বণ্টন ব্যবস্থায় কর্জ নেয়ার মতো প্রার্থীর অভাব হয় না, কিন্তু দাতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।