📄 চক্রবৃদ্ধি সুদ
চক্রবৃদ্ধি ব্যবস্থায় সময়মত জমা না দেয়া সুদের পরিমাণ মূল ঋণ বা আসলের সাথে যুক্ত হয়। এরপর মোট পরিমাণের উপর বর্ধিত সুদ আসে। তাই কিস্তি বিফলে গেলেই সুদের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে যেতে থাকে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
ধরি, জরিনা এবার চক্রবৃদ্ধি সুদে ঋণ নিল। এই অবস্থায়, প্রথম বছরে জরিনার সুদ আসবে ১০০ টাকা। প্রথম বছরের সুদ সময়মত জমা দিলে, দ্বিতীয় বছর সুদ আসবে ১০০ টাকা। এভাবে প্রতি বছরের পাওনা সুদ জমা দিতে থাকলে জরিনার সুদের পরিমাণ বাড়বে না এবং আসল বা মূল ঋণ ১ হাজার টাকাই থাকবে।
কিন্তু প্রথম বছর সুদ সময়মত পরিশোধ না করলে দ্বিতীয় বছর শেষে সুদ আসবে: ১০০০ টাকার উপর ১ম বছরের সুদ ১০০ টাকা + সময়মত কিস্তি না দেয়ায় পাওনা ১০০ টাকা সুদের উপর ১০ টাকা উপরি-সুদ = ১১০ টাকা সুদ। অর্থাৎ ১ম বছর কিস্তি না দেয়ায়, ২য় বছরে গিয়ে মূল ঋণ হয়ে গিয়েছে ১০০০ + ১০০ = ১১০০ টাকা এবং ২য় বছর শেষে এই ১১০০ টাকার উপর ১০% হিসেবে ১১০ টাকা সুদ এসেছে।
এবার, ২য় বছর শেষে কোনো কিস্তি পরিশোধ না করলে ৩য় বছর শেষে সুদ আসবে: ১১০০ টাকার উপর সুদ ১১০ টাকা + ১১০ টাকা সুদের উপর ১১ টাকা উপরি-সুদ = ১২১ টাকা। অর্থাৎ ২য় বছরেরও কিস্তি না দেয়ায়, ৩য় বছরে গিয়ে মূল ঋণ হয়ে গিয়েছে ১১০০ + ১১০ = ১২১০ টাকা এবং ৩য় বছর শেষে এই ১২১০ টাকার উপর ১০% হিসেবে ১২১ টাকা সুদ এসেছে।
এভাবে, কিস্তি শোধ না করলে প্রতি বছর মোট সুদের পরিমাণ কেবল বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কারণ, দেনার সুদ তাঁর মূল ঋণ বা আসলের সাথে যুক্ত হতে থাকবে। এভাবে ১০ বছর পরে একবারে সব ঋণ পরিশোধ করতে চাইলে জরিনাকে ১ম বছরে নেয়া ১০০০ টাকার বিপরীতে মোট ২,৫৯৩ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
চক্রবৃদ্ধি সুদ খুব দ্রুত বেড়ে পেয়ে যায়। জরিনা যদি ৩০ বছর পরে একত্রে সব দেনা পরিশোধ করতো তাহলে তাকে মোট ১৭,৫০০ টাকা দিতে হতো (অথচ সরল সুদে তা ছিল ৪০০০ টাকা মাত্র)। এবারে কাগজে-কলমে একটু হিসেব করে দেখুন ৬০ বছর পরে কী ফলাফল হতো? উত্তরটা দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।
📄 বর্তমান ব্যাংকগুলোর প্রদত্ত ‘সুদ’ কি ইসলামে নিষিদ্ধ রিবার অন্তর্ভুক্ত?
আমাদের অনেকেই এই ধারণা করেন যে ব্যাংকের 'সুদ' আর ইসলামে নিষিদ্ধ 'রিবা' এক না। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে আবার অনেকেই বলে থাকেন, “আরে এগুলা 'সিরিয়াস ইস্যু' না, ইসলামের আরও অনেক বড় বিষয় আছে।” তাই, এই ধারণা মানুষের মাঝে শক্ত শিকড় গেড়েছে যে ব্যাংক ব্যবস্থা ক্ষতিকারক না। অর্থাৎ, অর্থমন্ত্রীর কথা আসলে তার একার না বরং এই কথাগুলো একটি শ্রেণির মানুষের সুদের প্রতি মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রথমত, কথাটি প্রচলিত অর্থনীতির মানদণ্ডে সত্যি না। তাই, 'কস্ট অব ফান্ড'-এর ভিতরে সুদকে অন্তর্ভুক্ত করা মস্ত বড় ভুল। সুদ কখনও কস্ট বা খরচের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। এটা মনগড়া উক্তি। ব্যাংকগুলোতে যে কস্ট (খরচ) ধরা হয় তাতে কি শুধু খরচই থাকে নাকি সুদও থাকে? অর্থমন্ত্রী সাহেব হয়তো বলবেন, পুরোটাই 'কস্ট অব ফান্ড'। কিন্তু খেলাপি ঋণের খসড়া নীতিমালা থেকে এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত যে, কস্ট ও সুদ দুটোকেই হিসাব করা হয়েছিল! সুতরাং সুদকে ঢালাওভাবে শুধু খরচ বা কস্ট দাবি করে বৈধ বলার পথ আর বাকি থাকল না।
দ্বিতীয়ত, 'রিবা' আরবি শব্দ। কুরআন ও হাদিসের শব্দ। এর মুজমাআলাই (ইসলামি স্কলারদের সর্বস্বীকৃত) ও মুতাওয়ারাছ (নববি যুগ থেকে আজ পর্যন্ত চলে আসা ধারাবাহিকভাবে অনুসৃত) ব্যাখ্যা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ঋণের বিপরীতে মূলধনের অতিরিক্ত কোনো কিছুর শর্তারোপ করাই হলো রিবার চুক্তি। আর অতিরিক্ত বস্তু হচ্ছে রিবা। এতে ঋণের ধরন ও শর্তকৃত অর্থ কম-বেশি হওয়ার কোনো পার্থক্য নেই। সুদ হলো ফারসি, উর্দু ও বাংলা ভাষার শব্দ। এই তিন ভাষার মানুষের কাছে জিজ্ঞাসা করা হোক, তিন ভাষার নির্ভরযোগ্য অভিধান দেখা হোক, কোথাও পাওয়া যাবে না যে, 'সুদের অর্থ- কস্ট অব ফান্ড বা কস্ট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (প্রশাসনিক খরচ)। সব জায়গায় যা পাওয়া যাবে তা হলো, ঋণ গ্রহণ বাবদ ঋণের পরিমাণের হিসাবে যে অতিরিক্ত লাভ বা অর্থ দেয়া হয়, সেটাই 'সুদ'।
তৃতীয়ত, আরবি শব্দ 'রিবা'র বাংলা পারিভাষিক শব্দ বা অর্থ যদি 'সুদ' না হয়, তাহলে 'রিবা'র বাংলা কী হবে? আচ্ছা ধরে নিলাম, ব্যাংকিং রিবাকে সুদ বলবেন না। সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু ভাষার ভিন্নতার কারণে মূলে পরিবর্তন হতে পারে না। এটি খুবই ভ্রান্ত কথা হবে এবং সেই ভ্রান্তির একটা উদাহরণ দেই। যেমন: খমর বা মদ হারাম। তবে, 'বিয়ার' হারাম নয়। কারণ, বিয়ারের কথা কুরআনে নেই!! অর্থাৎ আপনি যেভাবেই বা যতই ইনিয়ে-বিনিয়ে দাবি করুন না কেন, "কুরআনে বর্ণিত 'খমর' আর বর্তমান যুগে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রস্তুতকৃত 'বিয়ার' এক নয়”, সেটা মোটেই সঠিক নয়। বরং 'খমর' নিষিদ্ধ হওয়ার দ্বারা সব ধরনের 'মদ' নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে, সেটা কুরআনের যুগে উপস্থিত থাকুক আর না থাকুক。
সবশেষে, ব্যবসায়ীর লোকসান হলেও ব্যাংক সুদ-সহ আসল ফেরত নেয়। কখনো প্রসেসিং ফি নামেও আরো কিছু নেয়। সুদ যদি হয় তাদের ভাষায় কস্ট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (প্রশাসনিক খরচ), তাহলে ব্যাংক লাভ করে কোথা থেকে? প্রকৃতপক্ষে, সুদ যদি কেবল কস্ট (খরচ) হতো, তাহলে ব্যাংক 'ফর প্রফিট' বা 'লাভ নিয়ে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠান' না হয়ে 'সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান' হয়ে যেত এবং ব্যাংক কখনোই সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী, লাভজনক ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠত না। তাই, ব্যাংকের খরচের পরিমাণ টাকাই 'সুদ' এই কথাগুলো একবিন্দু বাস্তবসম্মত না।
প্রকৃতপক্ষে, আধুনিক ব্যাংকিং সম্পর্কে অধ্যয়ন করলে আপনারা জানতে পারবেন যে রিবা আগে যতটা অমানবিক ছিল এখনও তার চেয়েও অমানবিক হয়ে গেছে। ব্রিটেনের অক্সফ্যাম ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা একথার পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। যাতে বলা হয়েছে, পুরো পৃথিবীর ধনী ১% মানুষ বাকি ৯৯% মানুষের চেয়ে বেশি সম্পদ উপভোগ করছে। এটি সুদ-ভিত্তিক অর্থনীতির ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অমানবিকতারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কীভাবে সুদ এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণ হিসেবে দায়ী সেই ব্যাপারে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ পেতে ব্যাংকব্যবস্থা ও টাকার গোপন রহস্য বইটি পড়ার আমন্ত্রণ রইল।
টিকাঃ
১ Prothom Alo News Link - t.ly/l5tm
২ কেউ যদি কুরআনে বর্ণিত রিবা আর হাদিসে বর্ণিত রিবাকে আলাদা করতে চান, তারা পড়াশোনা ও গবেষণা করার জন্য এটা করতে পারেন। কিন্তু পুরোটাই একসাথে ইসলামে নিষিদ্ধ রিবা। তাই আমরা ইসলামের নিষিদ্ধ রিবার সাথেই ব্যাংকের 'সুদ' এর তুলনা টানব।
৩ অক্সফাম রিপোর্ট লিংক - : .ly/RWkl
📄 ‘রিবা’র আদ্যোপান্ত
বাংলায় 'সুদ' বা ইংরেজিতে 'ইন্টারেস্ট' বলতে যা বুঝানো হয় আরবিতে এর প্রতিশব্দ হল- الربا 'আর-রিবা' বা 'রিবা'। আরবি ভাষায় আভিধানিকভাবে 'রিবা' বলতে বুঝানো হয়- অতিরিক্ত হওয়াকে। এই শব্দটির মূল অর্থ - الزيادة، والنماء، والعلو বা 'অতিরিক্ত, বৃদ্ধি ও উঁচু হওয়া।' ইমাম আবু বকর জাস্স্সাস রহ. লিখেছেন- “আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রিবা শব্দের মূল অর্থ হলো বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত।” - আহকামুল কুরআন, সুহাইল একাডেমি, লাহোর, প্রকাশকাল- ১৯৮০ইং, খ.১, পৃ. ৪৬৪।
এই অতিরিক্তটা বিভিন্নভাবে হতে পারে। ঋণের উপর হতে পারে বা বকেয়া মূল্যের উপর হতে পারে কিংবা সমজাতীয় দ্রব্যের লেনদেনেও হতে পারে। শরিয়তের পরিভাষায় রিবা মোট দুই প্রকার।
এক. 'রিবাল কুরআন' বা কুরআনুল কারিম কর্তৃক নিষিদ্ধ রিবা। ইসলামের পরিভাষায় যাকে রিবান্-নাসিয়াহ (Riba an- Nasiyah) বলা হয়।
দুই. ‘রিবাস্ সুন্নাহ বা হাদিস কর্তৃক নিষিদ্ধ রিবা। পরিভাষায় যাকে ‘রিবাল্-বুয়ু’ (Riba al-Buyu) বা ‘ক্রয়-বিক্রয়-সংক্রান্ত রিবা’ (Buying-Selling based Interest) বলা হয়।
প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম ইবনে রুশদ আল-হাফীদ রহ. (মৃত-৫৯৫ হি.) লিখেছেন : সকল আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত পোষণ করেছেন যে, রিবা মোট দু'টি বিষয়ে পাওয়া যায়। এক. ক্রয়-বিক্রয়-সংক্রান্ত বিশেষ লেনদেনে। দুই. বকেয়া মূল্য, ঋণ বা অন্য কোনো কারণে সৃষ্ট দায় বা দেনাতে।
এখানে প্রথম প্রকার হলো ক্রয়-বিক্রয়-সংক্রান্ত রিবা অর্থাৎ ‘রিবাল বুয়ু’ এবং দ্বিতীয় প্রকারটি হলো ঋণ বা দায়সংক্রান্ত রিবা অর্থাৎ রিবান্-নাসিয়াহ। এরা প্রত্যেকে আবার দুই প্রকার।
রিবান নাসিয়াহ (Riba an-Nasiyah) এর প্রকারভেদগুলো হলো : এক. ঋণসংক্রান্ত রিবা। একে রিবাল-কর্জ বা Loan based Interest বলে। দুই. দায়সংক্রান্ত রিবা। একে রিবাদ্-দাইন বা ‘দায়ভিত্তিক সুদ’ বা Sale based Interest বলে।
রিবাল বুয়ু’র প্রকারভেদগুলো হলো : এক. রিবাল ফযল। অর্থাৎ সমজাতীয় ও পরিমাপীয় দুটি বস্তুর লেনদেনে বিনিময়হীন অতিরিক্ত সম্পদ। দুই. রিবান নাসা। দুটি অসমজাতীয় পরিমাপীয় বা ওজনযোগ্য অথবা সমজাতীয় ও পরিমাপীয় দুটি বস্তুর বাকিতে লেনদেন।
📄 রিবাল কর্জ
'কর্জ' শব্দটি আরবি (القرض) (আল-কর্জ)। এর মূল অর্থ হল- 'القطع' কাটা বা কর্তন করা। যেহেতু ঋণদাতা তার সম্পদের একটি অংশ কেটে ঋণগ্রহীতাকে প্রদান করে থাকে তাই ঋণকে 'قرض' (করদ্/কুর্দ/কর্জ) বলা হয়।
রিবাল কর্জে মূল ৩টি বিষয় লক্ষ করা হয় : ১. ঋণ-সংক্রান্ত লেনদেন হবে ২. যে পরিমাণ অর্থ-সম্পদ ঋণ দেয়া হয়েছে, সেই পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ-সম্পদ নেয়ার জন্য শর্ত দেয়া হবে ৩. মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আরো অতিরিক্ত অর্থ-সম্পদ নেয়ার শর্ত দেয়া হবে এই রিবাল কর্জকে দুইভাবে পাওয়া যেতে পারে :
এক. অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে ঋণ দেয়া।
পলাশপুরের ছোটন ভাই তার চাচাতো ভাই টুকুনকে ১০ হাজার টাকা ১ বছরের জন্য এই শর্তে ঋণ দিল যে মেয়াদ শেষে টুকুন ৫ শতাংশ অতিরিক্ত (৫০০ টাকা) ফেরত দেবে। এই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা ৫০০ টাকা সুদ হবে। ছোটন ভাই যদি টাকা ধার না দিয়ে টুকুনকে ২০ কেজি চাল এই শর্তে ধার দিত যে, ১ বছর পর ২৫ কেজি চাল ফেরত দিতে হবে তাহলেও অতিরিক্ত পাঁচ কেজি চাল হবে সুদ বা রিবাল কর্জ।
দুই. ঋণগ্রহীতা থেকে ঋণের বিনিময়ে কোনো উপকার নেয়া।
ছোটন তাঁর চাচাতো ভাই টুকুনকে ঋণ দেয়ার পর বলে বসল যে, ভাই তোর কাছ থেকে এখন থেকে সব মুদি জিনিসপত্র কিনব, কিন্তু আমাকে কেনা মূল্যে দিবি। ঋণ দেয়ার বিনিময়ে এই যে ডিস্কাউন্টে পণ্য চেয়ে বসল ছোটন, এটাও রিবাল কর্জের অন্তর্ভুক্ত। ঋণ দেয়ার কারণে কোনো প্রকার উপকার নেয়া যাবে না।
আড়ত বাণিজ্যে এই রিবা আমরা দেখি। অনেক সময় দেখা যায়, কৃষক বা ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত পুঁজি বা অর্থ থাকে না। তখন আড়ত ব্যবসায়ীরা তাদেরকে অর্থ প্রদান করে কর্জ হিসাবে। তবে শর্ত করে, পণ্য তাদের কাছেই বিক্রি করতে হবে। এটি বৈধ নয়। কারণ তাতে ঋণ প্রদান করে অতিরিক্ত সুবিধা নেয়া হচ্ছে।
এক কথায় ঋণের বিনিময়ে ঋণদাতা ঋণগ্রহীতা থেকে যে-কোনভাবে উপকার নেয়ার শর্ত 'রিবাল কর্জ' বলে গণ্য হবে। এই ব্যাপারে ফাযালা বিন উবাইদ রা. বলেন, “যেই কর্জ কোনো মুনাফা নিয়ে আসে তা রিবার প্রকারসমূহের একটি প্রকার।" - আস্-সুনানুল কুবরা, খ.৫ পৃ.৭৪১, হাদিস নং- ১০৯৩৩।