📄 মৃত্যুভয় জয় করা
গদিও হাশরের দিনটিকে ভয় করতে হবে, তবে মনে রাখতে হবে যে এটা আমাদের আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভের দিনও বটে। হজরত বিবি আয়েশা রা. উল্লেখ করেছেন যে রসুল সা. বলেছেন যে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে আল্লাহ তায়ালা-ও তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পছন্দ করেন। আর যে আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহ তায়ালাও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। তখন বিবি আয়েশা রা. জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ তায়ালা রসুল সা. এটা কি মৃত্যুকে অপছন্দ করার কারণে হয়, কারণ আমরা সবাই মৃত্যুকে অপছন্দ করি। রসুল সা. বললেন, ঠিক তা নয়, বরং এটা হচ্ছে এই রকম যে, যখন কোনো ইমানদার বান্দাহ আল্লাহ তায়ালার দয়া, তাঁর তুষ্টি এবং তাঁর বেহেশতের সুসংবাদ শোনে তখন সে আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাতের জন্য আকুল হয়। আর আল্লাহ তায়ালাও তাঁর সাক্ষাৎ পেতে চান। অন্যদিকে যখন কোনো কাফের তাঁর শাস্তি এবং তাঁর অসন্তুষ্টির কথা শোনে তখন সে আল্লাহ তায়ালার দেখা পেতে অপছন্দ করে, আল্লাহ তায়ালাও তার দেখা পেতে অপছন্দ করেন (মুসলিম)।
কাজেই, আমাদের সব নামাজে এবং দোয়ায় আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ-সান্নিধ্য লাভের আগ্রহ প্রকাশিত হওয়া উচিত। রসুল সা. সবসময় এই দোয়া পড়তেন, হে আল্লাহ তায়ালা আমি আপনার কাছে পরকালে শান্তিময় জীবনের জন্য আবেদন করছি; আমি আপনার কাছে আপনার বরকতপূর্ণ মুখপানে তাকাবার সুযোগ লাভের এবং আপনার সাক্ষাৎ লাভের জন্য আবেদন করছি; যে কোনো কষ্ট বা এমন পরীক্ষা যা বিপথে নিয়ে যায় তা থেকে পানাহ চাচ্ছি; হে আল্লাহ তায়ালা আমাকে ইমানের বলে বলীয়ান করুন; আমাকে সত্য পথ প্রদর্শন করুন এবং সত্যপথে চালিত করুন (নাসায়ি)।
এভাবে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভে আমাদের আগ্রহ আমাদের মন থেকে মৃত্যুভয় দূর করবে, যেই ভয় একটি প্রাকৃতিক বাস্তবতা। এমনকি নবি মুসা আ. তাঁর লাঠি যখন আল্লাহ তায়ালার আদেশে সাপ হয়ে গেল তা দেখে ভয় পেয়েছিলেন (সুরা ত্বহা, ২০ : ১৭-২৪)।
এই ভয়কে জয় করা যায় জিকির, সৎকাজ এবং হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি মনে রাখার মাধ্যমে।
যে লোক আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাতের জন্য আশান্বিত হবে সে যেন নেক আমল করে এবং বন্দেগি ও দাসত্বের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার সাথে অপর কাউকে শরিক বানিয়ে না নেয় (সুরা কাহাফ, ১৮: ১১০)।
📄 সারসংক্ষেপ
আমাদের জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। এটা হচ্ছে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যা আমাদের আজই এবং এখনই নিতে হবে। এই একটি সিদ্ধান্ত আমাদের গোটা জীবনের চলার দিক ও লক্ষ্যের নির্দেশনা দেবে। যে পথের কথা বলা হয়েছে কুরআনে, যে পথে চলার উদাহরণ রেখে গেছেন মহানবি হজরত মুহাম্মদ সা.।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের যে জ্ঞান দিয়ে ধন্য করেছেন তাই হবে আমাদের এ পথে চলার সহায়ক। আমাদের মিশন যখন সফল হবে তখন আমরা দেখবো আমাদের দোয়ার জবাব আল্লাহ তায়ালা দিচ্ছেন, আমাদের প্রয়োজনে তাঁর সাহায্য ও মদদ পাচ্ছি ঠিক যেমনটি তিনি বলেছেন:
হে প্রশান্ত আত্মা, তোমার প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তন করো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। আমার অনুগত বান্দাদের মধ্যে শামিল হও আর আমার বেহেস্তে প্রবেশ করো (সুরা ফজর, ৮৯: ২৭-৩০)।