📄 মৃত্যু নিশ্চিত ও অনিবার্য
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক প্রাণীকেই একটি নির্দিষ্ট আয়ু দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
কোনো প্রাণীই খোদার অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না। মৃত্যুর সময় তো নির্দিষ্টভাবে লিখিত রয়েছে (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৪৫)।
বস্তুত মৃত্যু হচ্ছে প্রত্যেক জীবনের জন্য অনিবার্য বাস্তবতা।
প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৮৫)।
মৃত্যু যে শুধু অপ্রতিরোধ্য তাই নয় বরং মৃত্যুর স্থান, তারিখ ও সময় নির্ধারিত।
কোনো প্রাণীই জানে না আগামীকাল সে কি কামাই করবে, না কেউ জানে যে তার মৃত্যু হবে কোন জমিনে (সুরা লোকমান, ৩১: ৩৪)।
যখন সেই সময় (মৃত্যুর সময়) এসে উপস্থিত হয় তখন তার এক মুহূর্ত আগে-পরে হতে পারে না (সূরা হিজর, ১৫: ৬১)।
মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য। কাজেই এটাই উত্তম যে সেই প্রত্যাবর্তনের আগেই এই পৃথিবীতে আমরা তাঁর সন্তোষ অর্জন করতে পারি তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করে। এভাবেই আমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাতের জন্য দুনিয়া ত্যাগের আগেই তাঁর সাথে সাক্ষাতের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারি।
এই জীবনে যারা আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত সীমার মধ্যে চলতে পারে না; আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না; তাদের জন্য জীবন শেষে চিরকাল আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। কুরআনে সতর্ক করে বর্ণিত হয়েছে,
যখন তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু এসে পৌঁছাবে তখন সে বলতে শুরু করবে, হে আমার খোদা! আমাকে সেই দুনিয়াতে আবারো পাঠাও, আশা করি এখন থেকে আমি সৎপথে চলবো, কখনও নয়, এটা তো অর্থহীন একটি কথা মাত্র যা সে বলছে। এখন এদের (মৃত লোকদের) পেছনে একটি বরজখ (পর্দা/বাধা) আছে পরবর্তী জীবনের দিন (হাশর) পর্যন্ত। পরে যখন শিঙ্গা ফুঁকা হবে, তখন তাদের মধ্যে আর কোনো আত্মীয়তা থাকবে না, আর না তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। সেই সময় যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা হবে সেই লোক যারা নিজেদের মহাক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছে; তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে (সুরা মুমিনুন, ২৩: ৯৯-১০৩)।
📄 মানুষের পরকাল ভুলে যাওয়ার প্রবণতা
যদিও মৃত্যু অনিবার্য বাস্তবতা তবুও আমরা বারে বারেই ভুলে যাই আমাদের স্রষ্টার কাছে প্রত্যাবর্তনের কথা। যদিও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা মানবিক, তবুও তা মাঝে মধ্যেই আমাদেরকে জীবনের মিশন থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
যে ব্যক্তি স্রষ্টার স্মরণ হতে গাফেল হয়ে জীবনযাপন করবে আমি তার উপর এক শয়তান চাপিয়ে দেই, সে তার ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে যায় (সুরা আজ জুখরুফ, ৪৩: ৩৬)।
জীবনের সব কাজে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চেয়ে এবং তাঁকে স্মরণ করে এই ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে জয় করা যায়। এ বিষয়ে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
যারা প্রকৃতই আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে তাদের অবস্থা এই যে, শয়তানের প্ররোচণায় কোনো খারাপ খেয়াল তাদের স্পর্শ করলেও তার সাথে সাথে সতর্ক ও সজাগ হয়ে যায় এবং তাদের জন্য সঠিক ও কল্যাণকর পথ ও পন্থা কি তারা তা স্পষ্টভাবে দেখতে পায় (সুরা আ'রাফ, ৭: ২০১)।
এ ছাড়াও কুরআনে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চেয়ে এই দোয়া করতে বলা হয়েছে, হে আমাদের আল্লাহ তায়ালা, ভুল ভ্রান্তিবশত আমাদের যা কিছু ত্রুটি হয় তার জন্য আমাদের শাস্তি দিও না। হে রব, আমাদের উপর সেই বোঝা চাপিয়ে দিও না যেরূপ পূর্বগামী লোকদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলে। হে রব, যে বোঝা বহন করার শক্তি-ক্ষমতা আমাদের নেই তা আমাদের উপর চাপিও না। আমাদের প্রতি উদারতা দেখাও, আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো। আমাদের প্রতি রহমত নাজিল করো, তুমিই আমাদের মাওলা-আশ্রয়দাতা। কাফেরদের প্রতিকূলে তুমি আমাদের সাহায্য দান করো (সুরা বাকারা, ২: ২৮৬)।
মনে রাখবেন, অনিবার্য যে মৃত্যু তাকে ভয় করা বোকামি বরং বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে সেই অনিবার্য মৃত্যু আসার আগেই মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য পাথেয় সংগ্রহ। অতএব মৃত্যুকে ভয় নয় বরং মৃত্যু-সচেতন জীবনযাপন করা দরকার। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
নিজেদের হাতেই নিজদিগকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না (সুরা বাকারা, ২: ১৯৫)।
বাস্তবতা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার কোনো চেষ্টাই বিনা পুরস্কারে বিফলে যাবে না। অন্যদিকে নক্সকে তুষ্ট করার জন্য সকল আয়োজনই অর্থহীন, নিস্ফল। কাজেই নিজের সময়ের, সম্পদের অপচয় করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। সবকিছুকে আল্লাহ তায়ালার পথে নিয়োজিত করুন। রসুল সা. বলেছেন, মৃত্যুর পর আমাদের সৎকর্ম ছাড়া আর কোনো কিছুই আমাদের সাথে কবরে যাবে না। তিনি আরও বলেছেন যে, নিয়ত : মৃত্যুর স্মরণ আমাদের বস্তুবাদী হওয়া থেকে দূরে রাখবে। সেই মৃত্যুকে স্মরণ কর যা সমস্ত হাসি আনন্দকে বিনাশ করবে (তিরমিজি)। তিনি আমাদের জানাজায় শামিল হতে এবং মাঝে মাঝে কবর জিয়ারত করতে বলেছেন যাতে আমাদের মনে মৃত্যুর স্মরণ জাগ্রত থাকে।
রসুল সা. আমাদের আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি আমরা শুধু পার্থিব স্বার্থ হাসিলেই ব্যস্ত থাকি তবে আমাদের জীবন হতাশায় ভরে যাবে। যারাই দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দিবে তারা আল্লাহ তায়ালার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; বরং আল্লাহ তায়ালা তাদের হৃদয়ে চারটি খারাপ জিনিস ঢুকিয়ে দিবেন; এগুলো হচ্ছে, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা যা তাকে কখনও ছাড়বে না, এমন ব্যস্ততা যা থেকে সে কখনও মুক্তি পাবে না, দারিদ্র্যতা যা তাকে কখনও ছেড়ে যাবে না এবং এমন আশা যা কোনো দিনই সে পূরণ করতে পারবে না (তাবারানি)।
এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে আখেরাতে কঠিনতম সাজা নির্ধারিত রয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে যায়। হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথে কথা বলবেন না এমনকি তাদের দিকে তাকাবেনও না। যদিও এই দুনিয়ায় তারা দাবি করবে যে তাদের আল্লাহ তায়ালার উপর বিশ্বাস আছে কিন্তু আল্লাহ তায়ালার আদেশ অনুসরণে তারা উদাসীন। হাশরের দিনে আল্লাহ তায়ালা এবং তাদের মাঝে এক প্রাচীর থাকবে। সেদিন তাঁর দয়া ও ক্ষমা সবদিকেই ধাবিত হবে শুধুমাত্র সেই হতভাগাদের দিক ছাড়া।
আর যারা নিজেদের শপথ এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি সামান্য বা নগদ মূল্যে বিক্রয় করে ফেলে, পরকালে তাদের জন্য কোনো অংশই নির্দিষ্ট নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের দিকে চেয়ে দেখবেন; আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন বরং তাদের জন্য থাকবে কঠিন ও পীড়াদায়ক শাস্তি (সুরা আলে ইমরান, ৩: ৭৭)।
📄 আল্লাহ তায়ালার দয়া অন্বেষণ
পবিত্র আমল বা কর্ম ব্যতিরেকে আল্লাহ তায়ালার দয়া ও রহমতের প্রাচুর্য আসবে না। নেক আমল করার মাধ্যমেই আপনি আল্লাহ তায়ালার দয়া পাওয়ার উপযুক্ত হতে যা ভবিষ্যতে আপনাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও জান্নাত হাসিলে সাহায্য করবে। আল্লাহ তায়ালাকেই ডাকো, ভয় সহকারে এবং আশান্বিত হয়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালার রহমত নেক চরিত্রের লোকদের অতি নিকটে (সুরা আ'রাফ, ৭: ৫৬)।
আল্লাহ তায়ালার রসুল সা. বলেছেন, তোমাদের কেউই শুধুমাত্র তার আমল এর গুণে নিজেকে রক্ষা (দোজখের আগুন থেকে) করতে পারবে না। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ তায়ালা রসুল এমনকি আপনিও? রসুল সা. উত্তরে বললেন: হ্যাঁ, এমনকি আমিও, যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালা তাঁর দয়ার গুণে আমাকে ক্ষমা করবেন। কাজেই তোমরা যথাযথভাবে, আন্তরিকতার সাথে ও মধ্যমপন্থা অবলম্বনে সকাল, দুপুর, রাতে সৎকাজ করো। সবসময় মধ্যমপন্থা অনুসরণ করো। এভাবেই তোমরা সঠিক লক্ষ্যপানে পৌঁছতে পারবে (বুখারি, মুসলিম)।
সব সময় মনে রাখবেন যে আল্লাহ তায়ালা প্রতিশোধপ্রবণ কোনো প্রভু নন যে, সবসময় শান্তি প্রদানে উৎসাহী বরং আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন দয়া ও ক্ষমার আঁধার। তিনি নিজেই বলেছেন:
আমার রহমত সকল জিনিসকে পরিব্যাপ্ত করে আছে (সুরা আ'রাফ, ৭: ১৫৬)।
তিনি কীভাবে আমলনামায় আমাদের ভালো-মন্দ কাজের হিসাব লেখেন সে প্রসঙ্গে হাদিসে বলা হয়েছে: আল্লাহ তায়ালা এভাবেই ভালো ও মন্দ কাজের হিসাব রাখেন। যদি কেউ কোনো ভালো কাজের নিয়ত করে কিন্তু অবশেষে সেটা যদি করতে না পারে, তবে আল্লাহ তায়ালা তার আমলনামায় একটি ভালো কাজ হিসেবে লিখে রাখেন। যদি সে একটি ভালো কাজের নিয়ত করে এবং অবশেষে কাজটি করে ফেলে তখন আল্লাহ তায়ালা তা দশ থেকে সাত'শ টি ভালো কাজ হিসেবে লিখে রাখেন। যদি কেউ একটি খারাপ কাজ করার পরিকল্পনা করে কিন্তু কাজটি না করে তবে আল্লাহ তায়ালা তার আমলনামায় একটি ভালো কাজের রেকর্ড রাখেন। যদি কেউ একটি খারাপ কাজের ইচ্ছা করে এবং সেটা শেষপর্যন্ত করে তাহলে শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালা তার আমলনামায় একটি খারাপ কাজের রেকর্ড রাখেন (বুখারি, মুসলিম)।
কাজেই যতক্ষণ আমাদের কাজ ঠিক থাকবে এবং আমরা তাঁর দয়া অন্বেষণ করবো ততক্ষণ তাঁর দয়া আমাদের প্রতি থাকবে। রসুল সা. বলেছেন: দয়ার একশ ভাগ আছে; তার মধ্যে মাত্র একভাগ আল্লাহ তায়ালা মানুষ, জ্বিন, পশু- পাখি এবং কীট-পতঙ্গের মাঝে বিতরণ করেছেন। এ জন্যই তারা পরস্পরের প্রতি দয়ালু, এ জন্যই বন্য প্রাণীরা তাদের বাচ্চদের হত্যা করে না। দয়ার বাকি নিরানব্বই ভাগ আল্লাহ তায়ালা নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন, যা তিনি তাঁর বান্দাদের হাশরের ময়দানে দেখাবেন (বুখারি, মুসলিম)।
📄 আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা অনুসন্ধান
আল্লাহ তায়ালার পথে জীবন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও এমন কোনো গ্যারান্টি নেই যে আমরা ভুল করবো না বা আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে যাবো না। হাদিসে বলা হয়েছে; সব আদম সন্তানই পাপী, কিন্তু তাদের মধ্যে উত্তম তারাই যারা অনুশোচনা করে (তিরমিজি)। ইমাম বুখারি উদ্ধৃত করেছেন যে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা রসুল সা. যিনি ছিলেন সকল পাপের ঊর্ধ্বে তিনি প্রতিদিন ৭০ বার আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতেন। কাজেই আমাদের প্রতিনিয়ত প্রতিটি ক্ষুদ্র বা বড় পাপের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে মাফ চাইতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
তোমরা আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা চাও। অতঃপর তাঁর দিকেই অনুশোচনাসহ ফিরে এসো। তিনি তোমাদের জন্য আকাশের দুয়ার খুলে দেবেন এবং তোমাদের শক্তি ও ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দিবেন (সুরা হ্রদ, ১১:৫২)।
এভাবে প্রতিনিয়ত আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে আমাদের হৃদয় ও আত্মা বিশুদ্ধ ও পরিপূর্ণ থাকে, রসুল সা. এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যখন কোনো মুমিন পাপ করে তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে। কিন্তু যদি সে অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে মাফ চায় তবে তার হৃদয় আবার পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু যদি সে (অনুতাপবোধ ও ক্ষমা চাওয়া ছাড়া) একের পর এক পাপ করতে থাকে তবে সেই দাগ বাড়তে থাকে এবং একসময় পুরো হৃদয় ঢেকে ফেলে (আহমাদ, তিরমিজি)।
আল্লাহ তায়ালা এই দাগের কথা কুরআনেও বর্ণিত হয়েছে:
এই লোকদের দিলের উপর তাদের পাপ কাজের মরিচা জমে গিয়েছে (সুরা মুতাফফিফিন, ৮৩: ১৪)।
আমাদের ভুল বা অন্যায় যত বড়ই হোক আল্লাহ তায়ালা তার চাইতেও বড় দয়ালু মন নিয়ে আমাদের ক্ষমা করার জন্য আমাদের অনুতাপ প্রত্যাশা করেন। কাজেই কখনও আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে দেরি বা দ্বিধা করবেন না, এমনকি যে পাপ পুনঃপুন হয় তার জন্যও।
হে আমার বান্দাগণ যারা নিজের নফসের উপর বাড়াবাড়ি করেছো, তোমরা আল্লাহ তায়ালার রহমত হতে নিরাশ হয়ে যেয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল ও দয়াবান (সুরা জুমার, ৩৯: ৫৩)।
কাজেই যতক্ষণ ক্ষমা লাভের আশা আছে ততক্ষণ মানুষের ফিরে আসার চেষ্টা ও মুক্তির উপায় থাকছে। তবে স্মরণ রাখবেন যে উত্তম অনুশোচনা মানে হচ্ছে একই পাপে পুনরায় লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় শপথ এবং ভবিষ্যতে ভালো করবার অঙ্গীকার। আল্লাহ তায়ালা রসুল সা. বলেছেন, যেখানেই থাক সব সময় আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে সচেতন থাক এবং তাঁকে ভয় করো। মন্দ কাজের সাথে সাথে ভালো কাজ করো যা মন্দ কাজকে ধুয়ে ফেলবে এবং মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করো (তিরমিজি)।