📄 জীবনের লক্ষ্য
আপাতদৃষ্টিতে একজন ব্যক্তি যে শুধুমাত্র পার্থিব জীবনকে সুখী করার জন্য কাজ করছে এবং আরেক যে আখেরাতে সুখ ও সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে এমন দু'জনের জীবনধারার মাঝে খুব বেশি পার্থক্য পরিলক্ষিত নাও হতে পারে। কারণ উভয়েই পৃথিবীতে একটা মানসম্পন্ন জীবনযাপন করছেন। কিন্তু কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে উভয়ের জীবন ধারা এক হতে পারে না।
এটা কি কখনো হতে পারে যে ব্যক্তি মুমিন (পরকালে বিশ্বাসী) সে ওই ব্যক্তির মতো হয়ে যাবে, যে ফাসেক ও দুষ্কর্মকারী? না! এই দু'জন সমান হতে পারে না (সুরা আস সাজদাহ, ৩২: ১৮)।
অতএব এটা স্পষ্ট যে, অবিশ্বাসী ব্যক্তি শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ এবং নক্স এর তুষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে সে কখনও ইমানদার লোকের সাথে তুলনীয় হতে পারে না। অবিশ্বাসী ব্যক্তি এই ভেবে সন্তুষ্ট হতে পারে যে তার সকল পার্থিব খায়েশ তৃপ্ত হচ্ছে, কিন্তু তার সকল অর্জনই সাময়িক।
যে কেউ এই পৃথিবীতেই নগদ পেতে চায় তাকে আমি এখানেই দিয়ে দেই, যাকেই দিতে চাই। পরিণামে অতঃপর তার ভাগ্যে আমরা জাহান্নাম লিখে দেই (সুরা বনি ইসরাঈল, ১৭: ১৮)।
অন্যদিকে সত্যিকার মুমিনও যদি কিছু পার্থিব সুখ-সাচ্ছন্দ্য লাভ করে তখনও সে মনে রাখে যে তার আসল অর্জন হবে তখনই যখন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করে বেহেশতে যাবে।
যা কিছু আল্লাহ তায়ালার নিকট রয়েছে তা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম যদি তোমরা জানতে ও বুঝতে পারতে। তোমাদের নিকট যা কিছু আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর যা আল্লাহ তায়ালার নিকট রয়েছে তাই চিরস্থায়ী হবে (সুরা নাহল, ১৬: ৯৫-৯৬)।
বস্তুত জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে এই উপলব্ধিই পৃথিবীতে মুমিনের মানসিক শক্তিও নির্ভরতার উৎস। এই বোধ তাকে পৃথিবীতে শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর করে। সুরা আল-ইসরায় বর্ণিত হয়েছে:
আর যে লোক পরকাল কামী এবং তার জন্য এমন চেষ্টা সাধনা করে যেমন করা দরকার, সে যদি মুমিন হয় তাহলে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির চেষ্টা সাধনাই সাদরে গৃহীত হবে (সুরা বনি ইসরাঈল, ১৭: ১৯)।
অতএব শুরু করুন! আজই, এখনই শুরু করুন আপনার আখেরাতের প্রস্তুতি! আপনার সময় ও স্বাস্থ্য কেন এমন জিনিস অর্জনে অপচয় করবেন যা অচিরেই ধ্বংস হবে বরং তাকে এমন জিনিস অর্জনে ব্যয় করুন যা আপনাকে দেবে চিরস্থায়ী সুখ এবং আনন্দ। আপনার যা কিছু সম্পদ ও সামর্থ্য আছে তা সেই চিরস্থায়ী জীবনের জন্য বিনিয়োগ করুন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে যা কিছু সম্পদ দিয়েছেন যথা: আপনার শরীর, মন, পদমর্যাদা, সম্পদ এই সব কিছুই তাঁর উদ্দেশ্যেই নিয়োজিত করুন, পরকালের জন্য বিনিয়োগ করুন। মনে রাখবেন আপনার জীবনের লক্ষ্য আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করা।
মনে রাখবেন আপনার চূড়ান্ত নিবাস হচ্ছে আখেরাত। কিন্তু সেই আখেরাতের পাথেয় তৈরির ক্ষেত্র হচ্ছে এই দুনিয়া। প্রকৃতপক্ষে রসুল সা.-এর জীবন থেকে দেখা যায় যে, এই দুনিয়ার জীবন থেকে পালিয়ে নয় বরং এই জীবনে পূর্ণ অংশ নিয়েই আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। রসুল সা. এবং তাঁর সাহাবাগণ এই দুনিয়াকেই যথাযথভাবে নির্মাণ করার চেষ্টা করেছেন আখেরাতের চিন্তা মাথায় রেখে।
অতএব আপনাকেও দুনিয়ার জীবন এবং আখেরাতের ভাবনার মাঝে এই জটিল ভারসাম্য বজায় রেখে এগুতে হবে। রসুল সা. বলেছেন: এই দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা সহজ। কিন্তু যদি কেউ বেশি করে তবে সে বেশি পাবে। অতএব সর্বদা সঠিক পথে যথাযথভাবে চলো, সকাল-সন্ধ্যায় এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চাও (বুখারি)।
📄 পরকালের বাস্তবতা
সেই ভাগ্যবান সাহাবাগণ যারা রসুলের পাশে বসে তাঁর মুখেই পরকালের কথা শুনেছেন, পরকাল তাদের কাছে এক বাস্তবতা হয়েই মূর্ত হয়েছিল। তাঁরা তাদের জীবনকে এমনভাবে চালিত করেছেন যেন তাঁরা পরকালকে দেখছেন। কখনও কখনও এসব বর্ণনা দেওয়ার সময় রসুল সা. দু'হাত সামনে বাড়িয়ে কিছু আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করতেন; আবার কখনও দু'হাত এক করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতেন। যখন সাহাবারা তাঁকে এমন করার কারণ জিজ্ঞেস করলেন তখন তিনি বললেন, যে জান্নাতের বর্ণনা দেওয়ার সময় তিনি সামনে জান্নাত দেখতে পেলেন; তিনি দু'হাত দিয়ে জান্নাতের ফল ধরতে চেষ্টা করলেন; তিনি বললেন, যদি তিনি সেই ফল আনতে পারতেন তবে তা গোটা দুনিয়ার মানুষকে খাওয়াবার জন্য যথেষ্ট হতো; জাহান্নামের বর্ণনা দেওয়ার সময় তিনি চোখের সামনে জাহান্নামের আগুন দেখতে পেলেন আর তা থেকে হাত সরিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেন। এভবেই রসুল সা.-এর কাছ থেকে জান্নাত ও জাহান্নামের বাস্তব বর্ণনা লাভ সাহাবাদের জীবন ধারাকেই পাল্টে দিয়েছিল। তাদের সব চিন্তা, তৎপরতা, জীবনের লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ট অর্জনের দিকেই নিবদ্ধ ছিল। কুরআনে বারবার আমাদের জীবন গঠনে পরকালের অস্তিত্বকে এভাবে মনে গেঁথে নিতে বলা হয়েছে; রসুল সা. এভাবেই আমাদের শিখিয়েছেন আমরা যেন পরকালকে চোখের সামনে দৃষ্টিমান দেখে আমাদের চিন্তা, কাজ ও তৎপরতাকে পুনর্গঠিত করি।
📄 মৃত্যু নিশ্চিত ও অনিবার্য
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক প্রাণীকেই একটি নির্দিষ্ট আয়ু দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
কোনো প্রাণীই খোদার অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না। মৃত্যুর সময় তো নির্দিষ্টভাবে লিখিত রয়েছে (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৪৫)।
বস্তুত মৃত্যু হচ্ছে প্রত্যেক জীবনের জন্য অনিবার্য বাস্তবতা।
প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৮৫)।
মৃত্যু যে শুধু অপ্রতিরোধ্য তাই নয় বরং মৃত্যুর স্থান, তারিখ ও সময় নির্ধারিত।
কোনো প্রাণীই জানে না আগামীকাল সে কি কামাই করবে, না কেউ জানে যে তার মৃত্যু হবে কোন জমিনে (সুরা লোকমান, ৩১: ৩৪)।
যখন সেই সময় (মৃত্যুর সময়) এসে উপস্থিত হয় তখন তার এক মুহূর্ত আগে-পরে হতে পারে না (সূরা হিজর, ১৫: ৬১)।
মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য। কাজেই এটাই উত্তম যে সেই প্রত্যাবর্তনের আগেই এই পৃথিবীতে আমরা তাঁর সন্তোষ অর্জন করতে পারি তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করে। এভাবেই আমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাতের জন্য দুনিয়া ত্যাগের আগেই তাঁর সাথে সাক্ষাতের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারি।
এই জীবনে যারা আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত সীমার মধ্যে চলতে পারে না; আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না; তাদের জন্য জীবন শেষে চিরকাল আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। কুরআনে সতর্ক করে বর্ণিত হয়েছে,
যখন তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু এসে পৌঁছাবে তখন সে বলতে শুরু করবে, হে আমার খোদা! আমাকে সেই দুনিয়াতে আবারো পাঠাও, আশা করি এখন থেকে আমি সৎপথে চলবো, কখনও নয়, এটা তো অর্থহীন একটি কথা মাত্র যা সে বলছে। এখন এদের (মৃত লোকদের) পেছনে একটি বরজখ (পর্দা/বাধা) আছে পরবর্তী জীবনের দিন (হাশর) পর্যন্ত। পরে যখন শিঙ্গা ফুঁকা হবে, তখন তাদের মধ্যে আর কোনো আত্মীয়তা থাকবে না, আর না তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। সেই সময় যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা হবে সেই লোক যারা নিজেদের মহাক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছে; তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে (সুরা মুমিনুন, ২৩: ৯৯-১০৩)।
📄 মানুষের পরকাল ভুলে যাওয়ার প্রবণতা
যদিও মৃত্যু অনিবার্য বাস্তবতা তবুও আমরা বারে বারেই ভুলে যাই আমাদের স্রষ্টার কাছে প্রত্যাবর্তনের কথা। যদিও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা মানবিক, তবুও তা মাঝে মধ্যেই আমাদেরকে জীবনের মিশন থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
যে ব্যক্তি স্রষ্টার স্মরণ হতে গাফেল হয়ে জীবনযাপন করবে আমি তার উপর এক শয়তান চাপিয়ে দেই, সে তার ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে যায় (সুরা আজ জুখরুফ, ৪৩: ৩৬)।
জীবনের সব কাজে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চেয়ে এবং তাঁকে স্মরণ করে এই ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে জয় করা যায়। এ বিষয়ে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
যারা প্রকৃতই আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে তাদের অবস্থা এই যে, শয়তানের প্ররোচণায় কোনো খারাপ খেয়াল তাদের স্পর্শ করলেও তার সাথে সাথে সতর্ক ও সজাগ হয়ে যায় এবং তাদের জন্য সঠিক ও কল্যাণকর পথ ও পন্থা কি তারা তা স্পষ্টভাবে দেখতে পায় (সুরা আ'রাফ, ৭: ২০১)।
এ ছাড়াও কুরআনে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চেয়ে এই দোয়া করতে বলা হয়েছে, হে আমাদের আল্লাহ তায়ালা, ভুল ভ্রান্তিবশত আমাদের যা কিছু ত্রুটি হয় তার জন্য আমাদের শাস্তি দিও না। হে রব, আমাদের উপর সেই বোঝা চাপিয়ে দিও না যেরূপ পূর্বগামী লোকদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলে। হে রব, যে বোঝা বহন করার শক্তি-ক্ষমতা আমাদের নেই তা আমাদের উপর চাপিও না। আমাদের প্রতি উদারতা দেখাও, আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো। আমাদের প্রতি রহমত নাজিল করো, তুমিই আমাদের মাওলা-আশ্রয়দাতা। কাফেরদের প্রতিকূলে তুমি আমাদের সাহায্য দান করো (সুরা বাকারা, ২: ২৮৬)।
মনে রাখবেন, অনিবার্য যে মৃত্যু তাকে ভয় করা বোকামি বরং বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে সেই অনিবার্য মৃত্যু আসার আগেই মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য পাথেয় সংগ্রহ। অতএব মৃত্যুকে ভয় নয় বরং মৃত্যু-সচেতন জীবনযাপন করা দরকার। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
নিজেদের হাতেই নিজদিগকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না (সুরা বাকারা, ২: ১৯৫)।
বাস্তবতা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার কোনো চেষ্টাই বিনা পুরস্কারে বিফলে যাবে না। অন্যদিকে নক্সকে তুষ্ট করার জন্য সকল আয়োজনই অর্থহীন, নিস্ফল। কাজেই নিজের সময়ের, সম্পদের অপচয় করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। সবকিছুকে আল্লাহ তায়ালার পথে নিয়োজিত করুন। রসুল সা. বলেছেন, মৃত্যুর পর আমাদের সৎকর্ম ছাড়া আর কোনো কিছুই আমাদের সাথে কবরে যাবে না। তিনি আরও বলেছেন যে, নিয়ত : মৃত্যুর স্মরণ আমাদের বস্তুবাদী হওয়া থেকে দূরে রাখবে। সেই মৃত্যুকে স্মরণ কর যা সমস্ত হাসি আনন্দকে বিনাশ করবে (তিরমিজি)। তিনি আমাদের জানাজায় শামিল হতে এবং মাঝে মাঝে কবর জিয়ারত করতে বলেছেন যাতে আমাদের মনে মৃত্যুর স্মরণ জাগ্রত থাকে।
রসুল সা. আমাদের আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি আমরা শুধু পার্থিব স্বার্থ হাসিলেই ব্যস্ত থাকি তবে আমাদের জীবন হতাশায় ভরে যাবে। যারাই দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দিবে তারা আল্লাহ তায়ালার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; বরং আল্লাহ তায়ালা তাদের হৃদয়ে চারটি খারাপ জিনিস ঢুকিয়ে দিবেন; এগুলো হচ্ছে, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা যা তাকে কখনও ছাড়বে না, এমন ব্যস্ততা যা থেকে সে কখনও মুক্তি পাবে না, দারিদ্র্যতা যা তাকে কখনও ছেড়ে যাবে না এবং এমন আশা যা কোনো দিনই সে পূরণ করতে পারবে না (তাবারানি)।
এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে আখেরাতে কঠিনতম সাজা নির্ধারিত রয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে যায়। হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথে কথা বলবেন না এমনকি তাদের দিকে তাকাবেনও না। যদিও এই দুনিয়ায় তারা দাবি করবে যে তাদের আল্লাহ তায়ালার উপর বিশ্বাস আছে কিন্তু আল্লাহ তায়ালার আদেশ অনুসরণে তারা উদাসীন। হাশরের দিনে আল্লাহ তায়ালা এবং তাদের মাঝে এক প্রাচীর থাকবে। সেদিন তাঁর দয়া ও ক্ষমা সবদিকেই ধাবিত হবে শুধুমাত্র সেই হতভাগাদের দিক ছাড়া।
আর যারা নিজেদের শপথ এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি সামান্য বা নগদ মূল্যে বিক্রয় করে ফেলে, পরকালে তাদের জন্য কোনো অংশই নির্দিষ্ট নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের দিকে চেয়ে দেখবেন; আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন বরং তাদের জন্য থাকবে কঠিন ও পীড়াদায়ক শাস্তি (সুরা আলে ইমরান, ৩: ৭৭)।