📄 জীবজন্তুর অধিকার
জীব-জানোয়ারেরও অধিকার আছে, কারণ এরা সবাই আল্লাহ তায়ালার পরিবারভুক্ত। সাহল ইবনে আমর বলেছেন: একবার রসুল সা. পথিমধ্যে একটি উট দেখলেন খাদ্যাভাবে যার পেট দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না। তখন তিনি বললেন, যেসব পশু-পাখি কথা বলতে পারে না তাদের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, তারা যখন সুস্থ থাকে তখনই তাদের উপর চড়ো এবং সুস্থ অবস্থায়ই তাকে ভক্ষণ করো (আবু দাউদ)।
একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে যে একজন মহিলা দোজখে গিয়েছিলেন একটি বিড়াল হত্যার জন্য; তিনি সেটিকে বেঁধে রেখেছিলেন যাতে তা অনাহারে মারা যায়; তিনি সেটিকে কিছু খেতে বা পান করতে দেননি; সেটিকে মুক্ত করে দেননি যাতে সে নিজের আহার জোগাড় করে খেতে পারে (বুখারি, মুসলিম)। রসুল সা. আরও বলেছেন, এক বারবণিতার মধ্যেও দয়ার মতো গুণ ছিল! তিনি দেখলেন একটি কুয়ার কাছে একটি কুকুর তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছে। তিনি তার চামড়ার মোজা তার মাথার স্কার্ফের সাথে বেঁধে তাতে করে কুকুরটির জন্য পানি এনে সেটিকে পান করালেন। এই কাজের জন্য তার অপরাধ মাফ করে দেওয়া হলো। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে রসুল, আমরা কি জীবজন্তর প্রতি সদয় হওয়ার জন্যও সওয়াব পুরস্কৃত হবে? জবাবে রসুল সা. বললেন: যে কোনো জীবিত প্রাণীর সেবার জন্যই পুরস্কার পাওয়া যাবে (বুখারি, মুসলিম)।
📄 সারসংক্ষেপ
সকল সৃষ্টজীব আল্লাহ তায়ালার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা তাদের ভালাবাসেন যারা তাঁর পরিবারের সদস্যদের দয়া ও সেবা করেন। অন্যের প্রতি মামাদের দায়িত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, ব্যক্তির হক নষ্ট করার কোনো ক্ষমা নেই।
আপনার নিজের প্রয়োজন পূরণের পর আপনার প্রথম দায়িত্ব আপনার পরিবারের প্রতি। বস্তুত আল্লাহ তায়ালার পর আপনার উপর সবচাইতে বড় দায়িত্ব আপনার পিতা-মাতার প্রতি। আপনার স্ত্রী/স্বামীর প্রতি আপনার দায়িত্ব পূরণ করুন এবং আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে আপনার সন্তানদের যত্ন নিন। আপনার পার্শ্ববর্তী মুসলিমের প্রতি দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে মনে রাখবেন যে, ইমানের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে কাউকে শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালোবাসা।
উদ্যোক্তা (মালিক) হিসেবে সব সময় মনে রাখবেন যে আপনার অধীনস্থ কর্মচারীর উপর আপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে কর্মচারী (শ্রমিক) হিসেবেও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে আপনার কাজ দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে করা।
আখেরাতে আপনার ভাগ্য আরও নির্ধারিত হবে এটার ভিত্তিতে যে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে আপনার প্রতিবেশীর উপর দায়িত্ব আপনি কীভাবে পালন করেছেন। রসুল সা. অমুসলিমদের প্রয়োজনের দিকে সবসময় বিশেষ খেয়াল রাখতেন, এমনকি মুসলিম সমাজের দারিদ্র সত্ত্বেও।
জীব-জানোয়ারেরও অধিকার আছে, কারণ তারাও আল্লাহ তায়ালার পরিবারভুক্ত। আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করুন সেই সব প্রাণীর স্বার্থের বিষয়ে যারা কথা বলতে পারে না। তাদের উপর আরোহন করুন যখন তারা সুস্থ এবং তাদের গোশতও খাবেন যখন তারা সুস্থ্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে সক্ষম ও সচেতন করুন।