📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 মুসলিম ভাই-বোনদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য

📄 মুসলিম ভাই-বোনদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য


উখুয়াত ভ্রাতৃত্ব হচ্ছে এমন একটি আদর্শিক বন্ধন যা মুসলিমদের একে অপরের সাথে আবদ্ধ করে (সুরা হুজুরাত, ৪৯ : ১০)। রসুল সা. বলেছেন, ইমানের সর্বোচ্চ প্রকাশ হচ্ছে কাউকে শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহ তায়ালার তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালোবাসা থেকে বিরত থাকা (আহমাদ)। আপনার মুসলিম ভাই বা বোনের সাথে সম্পর্কের ভিত্তি হবে নিম্নরূপ:

ক. সদুপদেশ: আপনি সবসময় আপনার অন্যান্য মুসলিম ভাইকে সদুপদেশ এবং সুপরামর্শ দেবেন। তাদের সৎপথে চালিত করবেন এবং তাদের শুভকামনা করবেন।
খ. আত্মত্যাগ: আপনি সর্বদা আপনার নিজের কল্যাণের চেয়ে আপনার ভাইয়ের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিবেন।
গ. সুবিচার: কুরআন আদেশ করছে আমরা যেন অপরের প্রতি সবসময় ন্যায়বিচার (আদল) এবং সহানুভূতি (ইহসান) প্রদর্শন করি।
ঘ. উত্তম ব্যবহার: আদল মানে যদি হয় আপনার ভাইকে তার প্রাপ্যটুকু দেওয়া তবে ইহসান মানে হবে তাকে প্রাপ্যের চাইতেও বেশি দেওয়া।
ঙ. দয়া: কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের পরস্পরের প্রতি 'রাহমাহ' বা দয়া প্রদর্শন করতে বলেছে।

চ. ক্ষমা: আপনার দ্বীনি ভাইয়ের প্রতি আপনি ক্ষমাশীল হবেন তার মানবিক ভুলের বিষয়ে তাকে মাফ করবেন কারণ রাগ ইমানকে নষ্ট করে।
ছ. ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা: আপনি অবশ্যই আপনার দ্বীনি ভাইয়ের প্রতি সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা দেখাবেন।
জ. পারস্পরিক নির্ভরতা: আপনার দ্বীনি ভাই যেন তার প্রয়োজনের সময় আপনাকে কাছে পায় এবং আপনার উপর নির্ভর করতে পারে। তার সুখ-দুঃখ আর আপদ-বিপদে আপনি পাশে থাকবেন।

আপনার ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় এবং তা ভেঙে যাওয়া রোধ করতে আরো কয়েকটি লক্ষ্যণীয় ও বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে:

১. তার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা (সুরা বাকারা, ২: ২২৯)।
২. তার জীবনের (প্রাণের) প্রতি শ্রদ্ধা রাখা (সুরা নিসা, ৪: ৯৩)।
৩. আপনার কথায় কাজে, আপত্তিকর ভাষায় সে যেন মনে আঘাত না পায় সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন (সুরা হুজুরাত, ৪৯: ১১)।
৪. কখনো তার নামে গিবত করবেন না বা তার দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াবেন না (সুরা হুজুরাত, ৪৯: ১২)।
৫. কখনও আপনার মুসলিম ভাইকে অপদস্থ বা বিব্রত করবেন না, খাটো করবেন না, অথবা তার ত্রুটি অন্বেষণ করে বেড়াবেন না (সুরা হুজুরাত, ৪৯ : ১১)।
৬. এটা নিশ্চিত করুন যেন কোনোভাবে আপনি অন্য মুসলিম ভাইকে আঘাত না করেন বা তার ক্ষতির কারণ না হন। সর্বোপরি, কখনও তার প্রতি হিংসা অনুভব করবেন না (সুরা ফালাক, ১১৩ ৫)।

আরও কয়েকটি কাজ যা আপনার মুসলিম ভাইয়ের সাথে আপনার সম্পর্ক আরও সংহত করবে তা হচ্ছে;

১. তার সম্মান মর্যাদা রক্ষা করে চলুন, তার দুঃখ-বেদনার শরিক হোন।
২. তার ভুল-ত্রুটি শুধরানোর জন্য বিনয়ী এবং আন্তরিকভাবে উপদেশ দিন। তার সাথে নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করুন।

৩. যখন তিনি অসুস্থ তখন সম্ভব হলে তার সেবা করুন এবং তাকে দেখতে যান। তার আরোগ্যের জন্য দোয়া করুন।
৪. দেখা হলে সবসময় দরদভরা হাসিমুখে দ্বীনিভাইকে গ্রহণ করুন, উত্তম শব্দ প্রয়োগ করে তাকে সম্বোধন করুন।
৫. দেখা হলে বুকে জড়িয়ে ধরুন ও মোসাফাহা করুন।
৬. সুন্দর বিশেষণে বা নামে তাকে ডাকুন
৭. তার ব্যক্তিগত বিষয়ে খোঁজ নিন, আপনার উদ্বেগের কথা জানান এবং যে কোনো প্রয়োজনে আপনার পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়ান।
৮. আপনার ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা প্রকাশের জন্য তাকে মাঝে মাঝে উপহার দিন।
৯. আপনার প্রতি তার ভালোবাসা ও সহানুভূতির জন্য বারবার তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
১০. যখনই সম্ভব তার সাথে পানাহার করুন।
১১. তার জন্য নিয়মিত দোয়া করুন।
১২. তার যে কোনো আহ্বানে স্নেহ-ভালোবাসার সাথে সাড়া দিন।
১৩. তার সাথে আপনার যে কোনো দ্বিমত বা দ্বন্দ্ব কোমলভাবে মিটিয়ে ফেলুন, প্রয়োজনে যথাসম্ভব ক্ষমাশীল হন।
১৪. সব সময় কুরআনের এই আয়াত মনে রাখবেন : মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী-এরা পরস্পরের হেফাজতকারী বন্ধু। (এরা পরস্পরকে) যাবতীয় ভালো কাজের নির্দেশ দেয়, সব অন্যায় ও পাপকাজ হতে বিরত রাখে। নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে। এরা এমন লোক যাদের উপর আল্লাহ তায়ালার রহমত অবশ্যই নাজিল হবে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ তায়ালা মহাপরাক্রমশালী সুবিজ্ঞ (সুরা তাওবা, ৯: ৭১)।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 মালিক ও শ্রমিকের পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য

📄 মালিক ও শ্রমিকের পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য


একজন উদ্যোক্তা (মালিক) হিসেবে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে আপনার অধীনস্থ কর্মচারীর প্রতি সযত্ন হওয়া; তার জন্য উত্তম কাজের পরিবেশ তৈরি করা; এটা নিশ্চিত করা যে তাদের সকল কাজের পাওনা যথাযথভাবে আদায় করা হচ্ছে: শ্রমিকের ঘام শুকাবার আগেই তার পাওনা পরিশোধ করো (ইবনে মাজাহ)।

রসুল সা. আরও বলেছেন যে, কেয়ামতের দিন তিনি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন যে তার অধীনস্থ কর্মচারীর ন্যায্য বেতন ঠিকমতো পরিশোধ করেনি।

অন্যদিকে একজন কর্মচারী/শ্রমিক হিসেবে আপনি আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে পালন করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তিকে ভালোবাসেন যে তার কাজ নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করে (বায়হাকি)। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

তোমরা কাজ (আমল) করো, আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রসুল এবং মুমিনগণ সকলেই তোমার কাজের প্রতি লক্ষ্য করবেন (সুরা তাওবা, ৯: ১০৫)।

মনে রাখবেন সেই খাবারই সর্বশ্রেষ্ঠ যা আপনার হালাল শ্রমে অর্জিত। কেউই তার নিজের হাতে অর্জিত খাবারের চাইতে উত্তম কিছু খেতে পারে না (বুখারি)।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 প্রতিবেশীদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য

📄 প্রতিবেশীদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য


মুসলিম-অমুসিলম নির্বিশেষে আপনার প্রতিবেশীদের আপনার উপর হক আছে। রসুল সা. বলেছেন, সেই ব্যক্তি ইমানদার নয় যে প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে নিজে পেটভরে খেয়ে ঘুমুতে গেল (বায়হাকি)। এভাবেই আপনার ইমানের মান এবং আখেরাতে আপনার ভাগ্য নির্ধারিত হবে আপনার প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে। আবু হুরাইরা রা. একটি হাদিসে বলেছেন যে, একবার এক ব্যক্তি রসুল সা. কে বললেন: হে আল্লাহ তায়ালার রসুল অমুক ব্যক্তির ভালো নামাজী এবং দানশীল হওয়ার ব্যাপারে সুনাম আছে অথচ সে প্রায়ই প্রতিবেশীকে কটু কথা বলে কষ্ট দিয়ে থাকে। তখন রসুল সা. বললেন যে, সেই ব্যক্তি দোজখে যাবে। অতঃপর ওই ব্যক্তি আরও বললেন, হে আল্লাহ তায়ালার রসুল, আর এক ব্যক্তি ন্যূনতম পরিমাণ নামাজ পড়ে, রোজা রাখে ও দান করে কিন্তু কখনও প্রতিবেশীকে কটু কথা বলে না তখন রসুল সা. বললেন যে সেই ব্যক্তি বেহেস্তে যাবে (আহমাদ, বায়হাকী)।

কুরআনে প্রতিবেশীর এক বিশদ তালিকা দেওয়া হয়েছে (সুরা নিসা, ৪: ৩৬-৩৭)।

এর মধ্যে এক জাতীয় প্রতিবেশী হচ্ছে আপনার আত্মীয়। আর এক জাতীয় প্রতিবেশী হচ্ছেন অনাত্মীয় প্রতিবেশী। তৃতীয় আর এক রকম প্রতিবেশী হচ্ছেন যারা চলা ফেরার সময় সফর সঙ্গী, যদি তা মাত্র কয়েক মিনিটের জন্যও হয়। এই তৃতীয় ধরনের প্রতিবেশীর মধ্যে অনেক মানুষই অন্তর্ভুক্ত। যখন আপনি ট্যাক্সি, বাস, ট্রেন অথবা বিমানে ভ্রমণ করেন তখন আপনার পাশের যাত্রী আপনার প্রতিবেশী। যখন আপনি অফিসে কাজ করেন তখন আপনার সহকর্মী আপনার প্রতিবেশী। যখন আপনি স্কুল-কলেজে পড়েন তখন আপনার সহপাঠী আপনার প্রতিবেশী। এক সাহাবির প্রশ্নের উত্তরে রসুল সা. প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্বের এক বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। যদি তোমার প্রতিবেশী তোমার কাছে ঋণ চায় তবে তুমি তাকে ঋণ দাও; যদি সে তোমার সাহায্য চায় তবে তুমি তাকে সাহায্য করো; যদি সে অসুস্থ হয় তবে তুমি তাকে দেখতে যাও; যদি সে অভাবে পড়ে তবে তুমি তার অভাব পূরণে যথাসাধ্যে সাহায্য করো; যদি তার কোনো ভালো খবর আসে বা কোনো সাফল্য লাভ করে তবে তুমি তাকে মোবারকবাদ জানাও; যদি তার উপর কোনো আপদ-বিপদ আসে তবে তুমি তাকে সান্ত্বনা দাও; তোমার প্রতিবেশী মারা গেলে তুমি তার জানাজায় অংশ নাও; তোমার বাড়ির প্রাচীর এমন উঁচু করবে না যে তা প্রতিবেশীর বাড়িতে বায়ুপ্রবাহে বাধা হয়, এমনকি যদিও সে মত দেয়; তোমার বাড়িতে তৈরি করা সুস্বাদু ও দামি খাবারের ঘ্রাণ দিয়ে তাকে বিরক্ত বিব্রত করো না যদি না তার জন্য কিছু পাঠাও; যদি তাকে পাঠাতে না পারো তবে গোপনে খাও; খেয়াল রেখো, তোমার সন্তানেরা ভালো খাবার খেতে খেতে যেন প্রতিবেশীর বাড়ি না যায়, যেন তার সন্তানেরা দুঃখ না পায় (তাবারানি)।

আপনার প্রতিবেশীর জীবন, সম্মান-মর্যাদা এবং সম্পদ রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। এর কোনোটির লঙ্ঘন আপনার জন্য হারাম। তার জীবন অমূল্য সম্পদ। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে কাউকে হত্যা ইসলামে কঠোর অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করবে তাকে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। অবশ্য দুর্ঘটনাবশত মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে ক্ষমা পেতে পারে।

মনে রাখবেন একজন অমুসলিমের জীবন একজন মুসলিমের জীবনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। রসুল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি (মুসলিম রাষ্ট্রের জিম্মাভুক্ত) কোনো অমুসলিমকে হত্যা করবে সে কখনও জান্নাতের সুবাস পাবে না এমনকি যদিও তা ৪০ বছরের দূরত্বে গিয়ে পৌঁছে তবুও (বুখারি, মুসলিম)।

কাজেই অমুসলিমদের সম্পদ, মর্যাদা আর জীবন রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবাই সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সমান দাবিদার। এটা আমাদের জন্য বর্তমান সময়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে আমরা এখন বহুধর্ম এবং বহু সংস্কৃতি বিশিষ্ট সমাজে বাস করছি এবং এক বিশাল সংখ্যক মুসলিম এর মাঝে এ বিষয়ে ভ্রান্তধারণা রয়েছে। রসুল সা. তাঁর জীবদ্দশায় মুসলিম সমাজের অনেক দারিদ্র্য আর অসুবিধার মাঝেও অমুসলিমদের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখতেন।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 জীবজন্তুর অধিকার

📄 জীবজন্তুর অধিকার


জীব-জানোয়ারেরও অধিকার আছে, কারণ এরা সবাই আল্লাহ তায়ালার পরিবারভুক্ত। সাহল ইবনে আমর বলেছেন: একবার রসুল সা. পথিমধ্যে একটি উট দেখলেন খাদ্যাভাবে যার পেট দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না। তখন তিনি বললেন, যেসব পশু-পাখি কথা বলতে পারে না তাদের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, তারা যখন সুস্থ থাকে তখনই তাদের উপর চড়ো এবং সুস্থ অবস্থায়ই তাকে ভক্ষণ করো (আবু দাউদ)।

একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে যে একজন মহিলা দোজখে গিয়েছিলেন একটি বিড়াল হত্যার জন্য; তিনি সেটিকে বেঁধে রেখেছিলেন যাতে তা অনাহারে মারা যায়; তিনি সেটিকে কিছু খেতে বা পান করতে দেননি; সেটিকে মুক্ত করে দেননি যাতে সে নিজের আহার জোগাড় করে খেতে পারে (বুখারি, মুসলিম)। রসুল সা. আরও বলেছেন, এক বারবণিতার মধ্যেও দয়ার মতো গুণ ছিল! তিনি দেখলেন একটি কুয়ার কাছে একটি কুকুর তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছে। তিনি তার চামড়ার মোজা তার মাথার স্কার্ফের সাথে বেঁধে তাতে করে কুকুরটির জন্য পানি এনে সেটিকে পান করালেন। এই কাজের জন্য তার অপরাধ মাফ করে দেওয়া হলো। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে রসুল, আমরা কি জীবজন্তর প্রতি সদয় হওয়ার জন্যও সওয়াব পুরস্কৃত হবে? জবাবে রসুল সা. বললেন: যে কোনো জীবিত প্রাণীর সেবার জন্যই পুরস্কার পাওয়া যাবে (বুখারি, মুসলিম)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00