📄 ছোট-ছোট দান
কোনো দানকেই যেন আমরা ক্ষুদ্র মনে করে অবহেলা না করি। এমনকি অপর মুসলিম ভাই বা বোনের সাথে সাক্ষাতের সময় হাসিমুখে থাকা, বা কাউকে একটি মিষ্টি কথা বা উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলাও সাদকার উত্তম উদাহরণ। আদী ইবনে হাতেম তায়ী বলেছেন যে রসুল সা. বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই একদিন আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভ করবে। সেইদিন তাদের ও আল্লাহ তায়ালার মাঝে কোনো পর্দা থাকবে না। কোনো অনুবাদকও থাকবে না। আল্লাহ তায়ালা তাদের বলবেন, আমি কি তোমাদের কাছে আমার বাণীবাহক রসুল প্রেরণ করিনি? তারা জবাব দিবে অবশ্যই! আল্লাহ তায়ালা আরও বলবেন, আমি কি তোমাদের অনুগ্রহ করিনি এবং সম্পদশালী করিনি? তারা জবাবে বলবে অবশ্যই হে আল্লাহ তায়ালা! তখন তারা তাদের ডানদিকে তাকাবে এবং শুধুমাত্র জাহান্নাম দেখবে, অতঃপর তাদের বামদিকে তাকাবে এবং শুধুমাত্র জাহান্নামই দেখবে। অতঃপর রসুল সা. বললেন, এই জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করো, যদি তা একটি খেজুরের অর্ধেক দিয়েও হয়। আর যদি কারও কাছে তাও পর্যন্ত না থাকে তবে সে যেন উত্তম কথার মাধ্যমে তা করে (বুখারি)।
কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এতো সংকীর্ণ যে তারা একটি সুন্দর বা দয়ালু শব্দ উচ্চারণ করে না। আল্লাহ তায়ালার রসুল সা. বলেছেন, তোমরা ক্ষুদ্রতম কোমলতা বা দয়াকেও বর্জন করবে না, এমনকি এটা যদি হয় তোমার ভাইয়ের সাথে হাসি-খুশি মুখে সাক্ষাৎ করা (মুসলিম)।
একটি উত্তম বা সুন্দর কথা বলতে একটি পয়সাও খরচ হয় না। অথচ আমরা এতই কৃপণ যে আমরা দয়ার, প্রশংসার বা উৎসাহের একটি শব্দও উচ্চারণ করতে চাই না। যদি আমরা এমন দয়া ও ভালোবাসাময় আন্ত-ব্যক্তি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি তবে তা আমাদের সংসারে ও প্রতিবেশীদের (মুসলিম ও অমুসলিম) মাঝে বন্ধুত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে সমাজকে আরও সুখী করবে।
📄 দানের ধরন
আপনার জীবনে চলার পদ্ধতি দু'ধরনের যে কোনো একটি হতে পারে। একধরনের জীবন পদ্ধতি হচ্ছে আপনি সবসময় শুধু নিজের স্বার্থ উদ্ধারেই সচেষ্ট থাকবেন, আত্মস্বার্থ ভিন্ন অন্য কোনো চিন্তা আপনার হৃদয়ে স্থান পায় না। আর এক ধরনের জীবন পদ্ধতি হচ্ছে যে আল্লাহ তায়ালার তুষ্টি অর্জনের জন্য আপনি সব সময় অন্যের ভালো করার চেষ্টা করবেন, এমনকি আপনার নিজস্বার্থ ত্যাগ করে হলেও। এই দুটো হচ্ছে বিপরীতমুখী দুটো জীবন দর্শন। এখন আল্লাহ তায়ালার পথ হচ্ছে ত্যাগের পথ। রসুল সা. এই দুটো জীবন দর্শনের তুলনা করেছেন এভাবে, কৃপণ এবং দানশীল লোকের উপমা হচ্ছে এমন দু'জন লোক যাদের বুক থেকে কণ্ঠাস্থি (Clavicle/Collarbone) পর্যন্ত লৌহবর্ম পরা আছে। যখন দানশীল ব্যক্তি দান করে কখন তার বর্ম প্রসারিত হয়ে তার হাত এবং আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অন্যদিকে যখন কৃপণ ব্যক্তি কোনো কিছু দান করার কথা চিন্তা করে তখন তার বর্মের প্রতিটি জোড়া তার বুকের উপর চেপে বসে। সে এটাকে ঢিল করার চেষ্টা করলেও তা পারে না (বুখারি, মুসলিম)।
ধন-সম্পদ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পাওয়া বরকত বা উপহার যদি তা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যয় করা হয়। অন্যথায় এটা হতে পারে আমাদের ভয়াবহ শত্রু বা অভিশাপ। যখনই আমরা এটা অনুধাবন করবো যে আমাদের সমস্ত সম্পদই হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার এবং এর যথাযথ ব্যয়ের উপরই আমাদের আখেরাতের পুরস্কার প্রাপ্তি নির্ভর করছে তখনই আমাদের পকেটের অর্থদান আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। তখন দান এবং কুরবানি হবে আনন্দের বিষয়, বোঝা নয়।
📄 দুনিয়াপ্রীতি
আমি এমন কথা বলছি না যে আপনারা এ পৃথিবীর জীবন উপভোগ করবেন না বরং আমরা অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করবো আমাদের তথা মানবজাতির জন্য পৃথিবীকে সুখময় ও নিরাপদ করতে। কোনো সুখ বা উত্তম বিষয় বিনাশ্রমে অর্জিত হয় না। হজরত অবুবকর সিদ্দিক রা. বলেছেন, তোমার দ্বীন (ধর্ম) হচ্ছে তোমাদের ভবিষ্যৎ। তোমার অর্থ তোমার জীবিকা। কোনো মানুষের টাকা-পয়সাবিহীন হওয়ার মধ্যে উত্তম কিছুই নেই। অতএব আমাদের যথাযথভাবেই এ জীবন পরিচালনা করা উচিত। জীবনের প্রতি আমাদের আগ্রহ থাকা উচিত। আল্লাহ তায়ালাও আমাদের জীবনকে ভালোবাসতে বলেছেন,
আল্লাহ তায়ালা তোমাকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন তা দিয়ে পরকালের ঘর বানানোর চিন্তা করো, অবশ্য দুনিয়া হতেও নিজের অংশ নিতে ভুলো না। তুমি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তায়ালা তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করো না (সুরা কাসাস, ২৮: ৭৭)।
এ ছাড়া রসুল সা. বলেছেন, আমাদের সম্পদ আমাদের তাকওয়া বৃদ্ধিতেও সাহায্য করতে পারে। খোদা সচেতনতা রক্ষায় সম্পত্তি উত্তম সাহায্যকারী” (কানজ আল উম্মাল)। তিনি আরও বলেছেন, তোমাদের যে কেউ বৈধ পন্থায় ধন-সম্পদ লাভ করে এবং বৈধভাবে তা ব্যয় করে তার জন্য এই সম্পদ উত্তম সাহায্যকারী (মুসলিম)।
কাজেই জীবনকে সুন্দর করার উপকরণ অর্জন করায় কোনো দোষ নেই, শুধুমাত্র দুনিয়াপ্রীতি যেন আমাদের পেয়ে না বসে। যতক্ষণ আমরা আখেরাতে আমাদের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে না পারি, ততক্ষণ পৃথিবীতে আমাদের সত্যিকার আনন্দ উপভোগের কিছু নেই। ওমর ইবনে আবদুল আজিজ একটি কথা প্রায়ই বলতেন, যাকে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে কিছুই দিবেন না তার দুনিয়ার জীবনে ভালো বলে কিছুই নেই, যে জীবনের জন্য আমাদের আকর্ষণ বোধ করতে হবে তা হচ্ছে আখেরাত। এটা অর্জন তখনই করা যাবে যখন আমরা আর সব কিছুর চাইতে আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর নবি সা. কেই বেশি ভালোবাসবো (সুরা বাকারা, ২: ১৬৫)।
এর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়া এবং আখেরাতে উভয় স্থানেই সুখী হতে পারবো। একবার একজন সাহাবি রসুল সা.-এর কাছে এসে বললেন, আমাকে এমন উপায় বলুন, যার মাধ্যমে আমি আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা এবং অন্যান্য মানুষেরও ভালোবাসা অর্জন করতে পারবো। তখন রসুল সা. বললেন, দুনিয়াকে ব্যাগ্রভাবে কামনা করো না তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে ভালোবাসবেন। মানুষের সম্পদ কামনা করো না তাহলে মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে (বুখারি)।
কত টাকা বা কত সম্পদ আপনার মালিকানায় আছে সেটা আল্লাহ তায়ালার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেই অর্থ বা সম্পদের মোহ আপনার মাঝে কতটুকু। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সম্পদের মোহ থেকে মুক্ত দেখতে চান। কারো যদি মাত্র এক পাউন্ড থাকে আর তার হৃদয়ও সেই এক পাউন্ডেই নিবদ্ধ থাকে তবে সেই লোক দুনিয়াদার, পক্ষান্তরে কারো এক লক্ষ পাউন্ড আছে কিন্তু তার মন তাতে নিবদ্ধ নয়, বরং সে খোদার পথে এর যে কোনো অংশ ব্যয়ে প্রস্তুত তবে সে দুনিয়াদার নয় বরং সে একজন আধ্যাত্মিকতা সম্পন্ন মানুষ। একইভাবে আপনি দশ পাউন্ড আয় করে তা থেকে পাঁচ পাউন্ড ব্যয় করেন আল্লাহ তায়ালার পথে, আল্লাহ তায়ালার চোখে এটা আর একজন যিনি এক লক্ষ পাউন্ড আয় করেন এবং তা থেকে একহাজার পাউন্ড ব্যয় করেন তার থেকেও উত্তম দান। কারণ, আপনি আপনার আয়ের অর্ধেক দান করছেন আর দ্বিতীয় ব্যক্তি আয়ের একশ ভাগের একভাগ দান করছেন।
রসুল সা.-এর জামানায় মানুষ আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা এত বাস্তবভাবে বিশ্বাস করতো যে তারা তাদের যাবতীয় সম্পদ রসুলের সা. সামনে এনে আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে পেশ করতো। এই সাহাবাদের ত্যাগ সম্পর্কেই কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
এরা নিজেদের তুলনায় অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়-নিজেরা যতই অভাবগ্রস্ত হোক না কেন (সুরা হাশর, ৫৯: ৯)।
আপনি যদি সত্যই পরকালের পুরস্কার ও সুখের জীবন পেতে চান তবে আপনি আল্লাহ তায়ালার পথে দান করুন। এটা হচ্ছে আমাদের দুনিয়াপ্রীতি থেকে মুক্ত হওয়ার এবং আখেরাতমুখী হওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। শুধু তাই নয়, এটা আত্মশুদ্ধি (তাজকিয়া) অর্জনেরও পথ। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
এবং যারা নিজেদের ধনমাল খালিসভাবে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য মনের ঐকান্তিক স্থিরতা ও দৃঢ়তা সহকারে খরচ করে, তাদের এই ব্যয়ের দৃষ্টান্ত এরূপ যেমন কোনো উচ্চভূমিতে একটি উর্বর বাগান, প্রবল বেগে বৃষ্টি হলে তাতে দ্বিগুণ ফল ধরে (সুরা বাকারা, ২: ২৬৫)।
যখন আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করবেন তখন আপনি যত বেশি দিতে পারেন দেবেন, তবে তা করবেন মধ্যমপন্থায়, ঠিক তাদের মতো যারা খরচ করলে না বেহুদা খরচ করে আর না কার্পণ্য করে; বরং দুই সীমার মাঝখানে মধ্যম নীতির উপর দাঁড়িয়ে থাকে (সুরা ফুরকান, ২৫: ৬৭)।
দরিদ্র ব্যক্তিকে দান করার সময় দুটো বিষয়ে খুব সতর্ক থাকুন। একটি হচ্ছে অহংকার এবং অপরটি হচ্ছে প্রদর্শনেচ্ছা। অহংকারের সাথে দান আপনার সম্পদই খরচ করাবে বিনিময়ে আখেরাতে কিছুই দেবে না। আর প্রদর্শনীর জন্য দান আপনার নিয়তকে নষ্ট করে আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার দানকে অর্থহীন করে দেবে।
আপনার সম্পদ ধরে রাখার আর আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করার প্রবণতার মাঝে সংগ্রাম আপনাকে করে যেতে হবে তাঁর সাথে সাক্ষাত (মৃত্যু) পর্যন্ত। এটা হচ্ছে আপনার পার্থিব লোভ/তাড়না আর আল্লাহ তায়ালা প্রেমের মঝে চিরন্তন এক দ্বন্দ্ব।
এই দুনিয়া সৌন্দর্য এবং আকর্ষণে ভরা, কিন্তু মনে রাখবেন আখেরাতের সৌন্দর্য অকল্পনীয়, সীমাহীন। কুরআনে আখেরাতের সাথে দুনিয়ার তুলনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,
মানুষের জন্য তাদের মনঃপুত জিনিস, নারী, সন্তান, স্বর্ণ-রৌপ্যের স্তুপ, বাছাই করা ঘোড়া, গৃহপালিত পশু ও কৃষি জমি বড়ই আনন্দদায়ক ও লালসার বস্তু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা দুনিয়ার সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী জীবনের সামগ্রী মাত্র। মূলত ভালো আশ্রয় তো আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে। বলো, আমি কি তোমাদের বলব এসবের চেয়ে অধিক ভালো জিনিস কোনটি? যারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করবে, তাদের জন্য খোদার নিকট রয়েছে বাগ-বাগিচা যার নিচ দিয়ে ঝর্নাধারা প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরন্তন জীবন লাভ করবে, পবিত্রা স্ত্রীগণ তাদের সঙ্গী হবে এবং খোদার সন্তোষ লাভ করে তারা ধন্য হবে (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৪-১৫)।
📄 অন্যদের ক্ষমা করা
মানুষের প্রতি দয়া ও ভালোবাসাহীন সাদকার কোনো মূল্য নেই। একটু মিষ্টি কথা এবং কোনো দুঃসহ ব্যাপারে সামান্য উদারতা দেখানো সেই দান অপেক্ষা উত্তম যার পেছনে আসে দুঃখ ও তিক্ততা (সুরা বাকারা, ২: ২৬৩)।
যারা প্রকৃত দানশীল তারা মানুষকে তাদের ভুলের জন্য মাফ করে দেয়। রসুল সা. আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেউ দান করলে তার সম্পদ কমে না। যে ক্ষমা করে আল্লাহ তায়ালা তাকে বেশি সম্মান দান করেন এবং কেউ যদি আল্লাহ তায়ালার পথে বিনয়ী হয় তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে বড় করেন (মুসলিম)। কুরআনেও দাম এবং ক্ষমা সম্পর্কে বলা হয়েছে:
সেই পথে প্রতিযোগিতা করে তীব্র বেগে চল যা তোমাদের রবের ক্ষমা এবং আকাশ ও পৃথিবীর সমান প্রশস্ত বেহেশতের দিকে চলে গিয়েছে এবং যা সেই খোদাভীরু লোকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা সব সময় নিজেদের ধনমাল খরচ করে, দুরবস্থাতেই হোক আর সচ্ছল অবস্থাতেই হোক; যারা ক্রোধকে দমন করে এবং অন্যান্য লোকদের অপরাধ মাফ করে দেয়। এসব নেককার লোকদের আল্লাহ তায়ালা খুব ভালোবাসেন (সূরা আলে ইমরান, ৩: ১৩৩-১৩৪)।
আল্লাহ তায়ালার পথে দান ক্রোধ দমন এবং ক্ষমার গুণের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। সবই এক বড় হৃদয় থেকে আসে। রসুল সা. বলেছেন, দুটি গুণ আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন, তা হচ্ছে ও বিনয় এবং দানশীলতা (বুখারি)। যখন আপনি বড় হৃদয় নিয়ে কাউকে ক্ষমা করেন তখন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে বেহেশত পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন,
অবশ্যই যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করবে এবং ক্ষমা করবে-এটা নিঃসন্দেহে বড় উচ্চমানের সাহসিকতাপূর্ণ কাজের অন্যতম (সুরা আশ শুরা, ৪২:৪৩)।