📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 সুন্নাহ শব্দের প্রকৃত অর্থ

📄 সুন্নাহ শব্দের প্রকৃত অর্থ


সুন্নাহ শব্দের প্রায়োগিক অর্থ হলো যা কিছু রসুল সা. বলেছেন, করেছেন বা অনুমোদন করেছেন তার সব। সুন্নাহ শব্দ শুনলেই আমাদের অভ্যাসবশত মনে হয় এর অর্থ রসুল সা. ব্যক্তিগত জীবনে যেভাবে চলেছেন, যে পোশাক-আশাক পরেছেন, যেভাবে খাবার খেয়েছেন, অজু-গোসল করেছেন ইত্যাদি।

যদিও এসব তুলনামূলকভাবে সাধারণ অভ্যাসগত সুন্নাহগুলোকে খাটো বা গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই, তবু এই প্রসঙ্গে আমার রসুলের জীবন থেকেই একটি কথা মনে পড়ছে। একবার বহুদূর থেকে এক ব্যক্তি এবং তার পুত্র এলেন রসুল সা.-এর সাথে দেখা করতে। যখন তারা রসুলের ঘরে আসলেন তখন সম্ভবত দ্বিপ্রহরের গরমের কারণে রসুল সা. জামার বোতাম খোলা রেখে তাদের সাথে দেখা করলেন এবং হাত মিলালেন। ওই ব্যক্তি তাঁর লোকালয়ে ফিরে গেলেন। পরবর্তী জীবনে আর রসুলের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। তবে তিনি এবং তার পুত্র সবসময় জামার বোতাম খোলা রাখতেন, যদিও তারাও বুঝতেন যে এটা শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত কোনো কাজ নয়। তবুও এর ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে যখন আপনি কারো প্রেমে পড়বেন তখন আপনি চাইবেন সর্বতোভাবে তাকে অনুকরণ করতে। এটা স্বভাবিক এবং প্রশংসনীয়।

এখন আসুন প্রকৃত সুন্নাতের বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। আমরা সুন্নাতের অর্থ অনুধাবনের জন্য রসুলের সা. গোটা জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করব। আমরা লক্ষ্য করব হেরা গুহায় প্রথম আল্লাহ তায়ালার ওহি লাভের পর থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি কী করেছেন। ওহি লাভের পর কোন কাজ এবং কোন লক্ষ্য অর্জনে তিনি জীবন নিয়োজিত করেছিলেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দাওয়াহ্ অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার বাণী পৌছানো। তাঁর সমাজের মানুষকে আল্লাহ তায়ালার কাছে আত্মসমর্পণ করার আহবান। তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন মানুষকে পরিশুদ্ধ করার ও তাদের মাঝে আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য ও ভালোবাসা তৈরি করার কাজে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি তাঁর মিশনের কথাই বলেছেন বা কাজ করেছেন। মক্কার পথে পথে, তায়েফের পথে-প্রান্তরে, বদর, অহুদ বা হুনায়েনের জেহাদের ময়দানে বা মদিনার পুরো কর্মময় সময়ে তাঁর জীবনের সকল কাজ কেন্দ্রীভূত ছিল দাওয়াতের লক্ষ্যে। এটাই তাঁর অত্যাবশ্যকীয় সুন্নাহ।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 আপনার মিশন

📄 আপনার মিশন


বর্তমান যুগের مسلمانوں সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথম কাজ হচ্ছে দাওয়াহ। আপনার প্রতিদিনের কাজে এই সুন্নাহকেই আপনার হৃদয় ও মনে সবচাইতে ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। আপনার সবচেয়ে বেশি সময় ও সম্পদ এই কাজেই নিয়োজিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: একটি বৈরী সংস্কৃতির প্রভাবসম্পন্ন সমাজে আপনার ইমান নিয়ে টিকে থাকতে হলে শুধু কিছু যুক্তির কথাই যথেষ্ট নয় বরং এজন্যে প্রচণ্ড আবেগ এবং নিজস্ব সাংস্কৃৃতিক ও সভ্যতার প্রতীক ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সুন্নাহর অনুসরণ আপনাকে এই সভ্যতার প্রতীক দেবে এবং আপনার স্বতন্ত্র পরিচয় ঘোষণা করে আপনার ইমানকে রক্ষা ও মজবুত করবে।

তৃতীয়ত: আপনাকে মনে রাখতে হবে যে সুন্নাহর অনুসরণের আসল সময় হচ্ছে আপনার যৌবনে। যুব বয়সেই মানুষের সবচাইতে বেশি শক্তি ও স্পৃহা থাকে রসুল সা.-এর মিশন অনুযায়ী কাজ করার।

চতুর্থত: বর্তমান সমাজে যখন ইসলাম নিয়ে নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তখন আপনার জীবন হতে হবে ইসলামের বাস্তব উদাহরণ। ইসলাম মানবতার জন্য যে শান্তি ও কল্যাণের ঘোষণা দিয়েছে, রসুল সা. যেমনটি দেখিয়েছেন, আপনার জীবনে সেভাবে ইসলামের কল্যাণময় রূপকে মূর্ত করতে হবে। রসুল সা. ছিলেন রাহমাতাল্লিল আলামিন (জগৎসমূহের জন্য রহমত)। আপনার আচরণ যেন জগতবাসীর জন্য কল্যাণকর হয়।

রসুল সা. দয়ার এমন সাগর ছিলেন যে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি পথ থেকে একটি কাঁটা সরাবে সে জান্নাতের দিকে চালিত হবে। যে একটি কুকুরের তৃষ্ণা মিটাবে সে জান্নাতের দিকে ধাবিত হবে। যে একটি বিড়ালকে মৃত্যু পর্যন্ত বেঁধে রাখবে সে দোজখে ধাবিত হবে। এমনই ছিল তাঁর অনুসৃত পন্থা। আপনি শুধুমাত্র দয়ার এই গুণ অর্জন করেই মানুষকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে পারেন।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 সারসংক্ষেপ

📄 সারসংক্ষেপ


আমাদের জীবনে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে রসুলকে সা. সবার আগে এবং সবার উপরে স্থান দিতে হবে। আমাদের সকল ভালোবাসা সবার উপরে আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসুলের জন্য নির্দিষ্ট রাখতে হবে।

মানুষের সামনে আল্লাহ তায়ালার খলিফা হিসেবে তাঁর শেষ নবির সা. বাণী পৌঁছে দেওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের কথা, কাজ, কর্তব্যনিষ্ঠা, দয়া ও ভালোবাসার গুণের মাধ্যমে আমাদের সকল সহকর্মী, প্রতিবেশীকে বুঝাতে হবে ইসলাম কি? এবং রসুল সা.-এর মিশন কি?

অবএব এই কাজে রসুল সা.-এর দয়ার গুণ অনুসরণে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর গুণ অর্জনের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত সুন্নাহ্ শেখাতে সক্ষম হবো। তখনই সম্ভবত আমাদের এই পৃথিবীর জীবন শুধুমাত্র মুসলমান সমাজের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণকর হয়ে দেখা দিবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00