📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 যৌন লালসা

📄 যৌন লালসা


আল্লাহ তায়ালার কাছের মানুষ হওয়ার পথে ষষ্ঠ এবং সর্বশেষ বাধা হচ্ছে লালসাপূর্ণ যৌনাকাঙ্ক্ষা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের যেসব শক্তিশালী তাড়না দিয়ে তৈরি করেছেন যৌনতা সেগুলোর অন্যতম। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সেইসব মানুষের প্রশংসা করেছেন যারা তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাজতে রাখে (সুরা নূর ২৪ : ৩০-৩১)।

প্রচণ্ড লোভের মুখেও মুমিন বান্দারা তাদের যৌনাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে সমর্থ হয়।

মানুষের যৌনাঙ্গের অপব্যবহার তাদের ব্যভিচার বা জ্বেনার দিকে চালিত করে যাকে কুরআনে মহাপাপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে-

হে ইমানদারগণ, তোমরা জেনার নিকটবর্তী হয়ো না, এটা এক বিরাট অসাধুতা এবং শয়তানী পন্থা (সুরা বনি ইসরাঈল ১৭: ৩২)।

এই আয়াতে অবৈধ যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয় বা নারী পুরুষের মাঝে আপত্তিকর সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এমন সব ক্ষেত্রকে এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে আমাদের নিম্নোক্ত উপদেশ দেওয়া হয়েছে:

১. সামর্থ্য থাকলে যথাসময়ে আমাদের বিয়ে করা উচিত। রসুল সা. বলেছেন, হে যুবকগণ! তোমাদের মাঝে যারা স্ত্রীর ভরণপোষণে সক্ষম তাদের বিয়ে করা উচিত। কারণ এটা তোমাদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করবে এবং অন্য স্ত্রী লোকদের দিকে চাহনি থেকে তোমাদের মুক্ত রাখবে (বুখারি)।

যদি আপনার বিয়ের আর্থিক সঙ্গতি না থাকে তবে আপনার নফল রোজা রাখা উত্তম, কারণ এটা আপনার যৌনাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। রসুল সা. বলেছেন, হে যুবকগণ তোমাদের বিয়ে করা উচিত। যারা বিয়ে করতে (আর্থিকভাবে) অক্ষম তাদের রোজা রাখা উচিত কারণ রোজা যৌনকাঙ্ক্ষা হ্রাস করে (বুখারি)।

২. আমাদের শরীরের সকল অংশকে (শুধুমাত্র লজ্জাস্থানকে নয়) জেনার নিকটবর্তী হওয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। রসুল সা. বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেক অঙ্গেরই জেনা হতে পারে। চোখে জ্বেনা হতে পারে লালসার দৃষ্টির মাধ্যমে। হাতের জ্বেনা হতে পারে স্পর্শের মাধ্যমে। পায়ের জেনা হতে পারে অনৈতিক কাজের স্থানে গমনের মাধ্যমে। মুখের জেনা হতে পারে চুম্বনের মাধ্যমে। হৃদয়ের জেনা হতে পারে কুচিন্তার মাধ্যমে যা যৌন অঙ্গের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে" (বুখারি, মুসলিম)।
এজন্য রসুল সা. সব সময় শয়তানের কবল থেকে আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় চাইতে বলেছেন, আমি আমার চোখ, কান, হৃদয় এবং বীর্যে অবস্থানরত শয়তানের কবল থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় চাই (আবু দাউদ)।

৩. বিপরীত লিঙ্গের মানুষের দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকানো বর্জন করতে হবে। রসুল সা. কামনার দৃষ্টিতে তাকানোকে চোখের জ্বেনা বলেছেন, চোখেরও জেনা হতে পারে এবং তা হচ্ছে লালসার (কামনার) দৃষ্টি (বুখারি)।
তিনি আরও বলেছেন, লালসার দৃষ্টি হচ্ছে শয়তানের তরফ থেকে আসা এক বিষাক্ত তীর; যে এটা থেকে আল্লাহ তায়ালার ভয়ে নিজেকে বিরত রাখবে তার ইমান বৃদ্ধি পাবে; এর ফলে সে অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করবে (মুসনাদ ইবনে হামবাল)।

৪. অন্যের আওরা বা গোপন অঙ্গের দিকে তাকানো পরিহার করতে হবে। রসুল সা. অন্যের গোপন অঙ্গের দিকে তাকাতে বারণ করেছেন। একজন পুরুষ অপর পুরুষের গোপন অঙ্গের দিকে তাকাবে না, কোনো নারী অপর নারীর গোপন অঙ্গের দিকে তাকাবে না, এক চাদরের নিচে দুজন পুরুষ ঘুমানো ঠিক নয় এবং এক চাদরের নিচে দুজন নারীও ঘুমানো ঠিক নয় (মুসলিম)।

৫. আমাদের খালওয়া আইন মেনে চলা উচিত। খালওয়া হচ্ছে এক ঘরে নারী-পুরুষের এমন অবস্থান যেখানে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নেই এবং তৃতীয় কোনো ব্যক্তি আসার সম্ভাবনা নেই। এ ধরনের পরিবেশ মানুষের অসৎ চিন্তা বাস্তবায়নে সহায়ক হয়। ইসলাম মাহরাম আত্মীয়তার বাইরের নারী পুরুষের খালওয়া নিষেধ করেছে। এর মানে এই নয় যে ইসলাম আমাদের উপর আস্থা কম রাখছে; এর মানে এই যে কোনো শয়তানী প্ররোচণার মুখোমুখি হওয়া থেকে আমাদের মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। রসুল সা. বলেছেন, যারাই আল্লাহ তায়ালা এবং হাশরের বিশ্বাসী তারা যেন কোনো (গায়ের মাহরাম) মহিলার সাথে একাকী নিভৃতে (তার মাহরাম আত্মীয় বা তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়া) না বসে, তা না হলে তাদের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে শয়তান উপস্থিত হবে (আহমাদ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00