📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 মোনাফেকি

📄 মোনাফেকি


একজন ইমানদারের সকল নেক আমল নষ্ট করে দেয় এমন আরেকটি বদগুণ হচ্ছে নিফাক। নিফাক মানে শঠতা বা প্রদর্শন এবং এমন ভালো বৈশিষ্ট্যের অভিনয় যা আসলে নিজের মধ্যে নেই। রসুল সা. এমন বৈশিষ্ট্যের নিন্দা করেছেন এভাবে: যে অন্যকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে সে একজন মূর্তিপূজারীর সমতুল্য কারণ সে অন্যকে আল্লাহ তায়ালার সমপর্যায়ের মনে করছে; যে অন্যকে দেখানোর জন্য রোজা রাখছে সেও অন্যকে আল্লাহ তায়ালার মতো মনে করছে; তেমনি যে অন্যদের দেখানোর জন্য দান করছে সেও আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করছে (আহাম্মদ)। তিনি আরও বলেছেন, একজন মুনাফিকের তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে যদিও সে নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এবং দাবি করে যে সে মুসলিম। সে বৈশিষ্ট্য তিনটি হচ্ছে: প্রথমত সে মিথ্যা কথা বলে, দ্বিতীয়ত সে ওয়াদা ভঙ্গ করে, তৃতীয়ত সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে (বুখারি, মুসলিম)।

শঠতা হচ্ছে এমন খারাপ বৈশিষ্ট্য যা আপনার ইমানকে আড়াল করে। এটা এমনভাবে আপনার চরিত্রকে ধ্বংস করে যেমন উইপোকা কাপড়কে খেয়ে ফেলে। নিফাক হচ্ছে ইখলাসের বিপরীত। ইখলাস হচ্ছে সকল ভালো কাজ ও ইমানের অত্যাবশ্যকীয় পূর্বশর্ত। কাজেই আপনি পুনঃপুন আপনার কাজ ও নিয়তকে ইখলাস ও নিফাকের সাপেক্ষে যাচাই ও বিচার করবেন।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 হতাশাৰাদ

📄 হতাশাৰাদ


আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী হওয়ার পথে আরেকটি বাধা হচ্ছে নিরাশা বা হতাশাবাদ। অবশ্যই নিরাশা বা হতাশা থেকে মুক্ত থাকতে সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমতের উপর নিরাশ হওয়াকে কুফরি বলেছেনে। তিনি বলেছেন:

সে ধ্বংস হবে যে আল্লাহ তায়ালার রহমতের বিষয়ে নিরাশ হয় (সুরা হিজর ১৫: ৫৬)।

আপনি যদি শতবারও চেষ্টা করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হন, তবু নিশ্চিত থাকুন যে প্রতিবারের চেষ্টার জন্য আপনি অপরিমিত পূণ্য লাভ করছেন। এভাবে ভাবলে মুমিনদের মনে কখনও পরাজিত বা হতাশাভাব আসবে না। আল্লাহ তায়ালা যা ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই সত্য এবং তা আসবেই,

আর যারা আমার জন্য চেষ্টা সাধনা করবে তাদের আমি অবশ্যই পথ দেখাবো। আর আল্লাহ তায়ালা নিশ্চিতই সৎকর্মশীলদের সাথে রয়েছেন (সুরা আনকাবূত ২৯: ৬৯)।

অতত্রব সর্বদা আশাবাদী ও ইতিবাচক মনোভাব রাখুন। আজীবন আশাবাদী থাকুন।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ

📄 অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ


চতুর্থ যে বদগুণ মানুষকে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তা হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত রাগ। যখনই আপনি আল্লাহ তায়ালার রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবেন তখনি দেখবেন আপনার জীবন আনন্দময় ও সহজ হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তায়ালার পথে কাজ করাই আপনার জন্য আনন্দের বিষয় মনে হবে। দেখবেন ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অথবা সংগঠনের সদস্যদের মধ্যকার বিরোধগুলো অতি সহজেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সামাজিক এবং সাংগঠনিক জীবনে যেসব ব্যক্তিগত অমিল ও সংঘাত স্থায়ী হয় তা আসলে এজন্য যে আমরা পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ তায়ালার পথে আন্তরিক হতে পারিনি।

যদি আপনি শুধুমাত্র আল্লাহরই তুষ্টির জন্য সবকিছু করতে থাকেন তবে কারো পক্ষ থেকে অবমাননা বা উপেক্ষার জবাবে আপনার রাগ করবার প্রয়োজন হবে না। কারণ সেই ব্যক্তি তার কাজ দিয়ে আপনার কোনো ক্ষতি করছে না। কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টিই মুমিনকে শঙ্কিত করবে। মনে রাখবেন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

করো প্রতি শত্রুতা তোমাদের যেন এত উত্তেজিত করে না দেয় যে তার ফলে তোমরা বেইনসাফি করবে। সর্বদা ইনসাফ করো (সুরা মায়েদা, ৫:৮)।

আপনি কেন রাগ করবেন? একটি ইসলামি সংগঠনে যেখানে সকল ভাই-বোনদের একসাথে আল্লাহ তায়ালার পথে হাতে হাত রেখে চলতে হয় সেখানে অনিয়ন্ত্রিত রাগ বা অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা এবং পারস্পরিক বিবাদ ইসলামি জামায়াতকে সংকটাপন্ন করে। মনে রাখবেন যে আমরা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করছি। সেখানে আপনার সকল ভালো আমলকে গর্ব-অহংকার দিয়ে ধ্বংস করবেন না অথবা আপনার নফসকে নিছক ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা শুধু নিজের লাভের লক্ষ্যে নিয়োজিত করবেন না। আপনার রাগকে নিয়ন্ত্রিত করার পন্থা উদ্ভাবন করুন। রসুল সা. উপদেশ দিয়েছেন, যদি তোমাদের কারো দাঁড়ানো অবস্থায় ক্রোধ জাগে তবে যেন সে বসে পড়ে। যদি এতেও তার রাগ দূর না হয় তবে যেন সে শুয়ে পড়ে (আহম্মদ, তিরমিজি)।

আমাদের হৃদয়কে সকল নেতিবাচক আচরণ থেকে মুক্ত করতে রসুল সা. আমাদের আরও কিছু দোয়া শিখিয়েছেন যেমন: হে আল্লাহ তায়ালা আমার হৃদয়কে শঠতা থেকে মুক্ত করে দাও এবং আমার কাজকে সকল ভান (লোক-দেখানো) থেকে মুক্ত করে দাও (বুখারি)।

হে আল্লাহ তায়ালা আমার মধ্যে তোমার প্রতি ভালোবাসাকে চিরস্থায়ী করে দাও। এমন ভালোবাসা পয়দা করে দাও যেভাবে তোমার প্রিয় মানুষ তোমাকে ভালোবাসে। এমন ভালোবাসা যা আমাকে তোমার নিকটতর করে দেয়। আমার প্রতি তোমার ভালোবাসাকে (তীব্র গরমে) শীতল পানির চাইতে প্রিয়তর করে দাও (বুখারি)।

এমন ধরনের আরও অনেক দোয়া রসুল সা. শিখিয়েছেন। এসব দোয়া ও ইবাদত হচ্ছে আত্মার খোরাক, ক্বলবের পুষ্টিদাতা, এবং জীবনে সফল হওয়ার পাথেয়। জীবনের সকল তৎপরতায় এসব দোয়া উচ্চারণ করুন পড়াশোনার সময়, কাজের সময়, সন্তানকে শিক্ষা প্রদানের সময়। মনে রাখবেন যদি আমরা নিছক দুনিয়াবি স্বার্থপ্রণোদিত হয়েই কাজ করি, তবে আত্মা তার খোরাক বঞ্চিত হবে, আমাদের সব ভালো আমল হারিয়ে যাবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

যেসব লোক নিজেদের খোদার সাথে কুফরি করেছে তাদের কাজের দৃষ্টান্ত সেই ভন্মের মতো যাকে এক ঝটিকাপূর্ণ দিনের ঝড়ো হাওয়া উড়িয়ে দিয়েছে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের কোনো ফলই পেতে পারবে না। এটাঁত এক ঘোর বিভ্রান্তি (সুরা ইবরাহিম ১৪: ১৮)।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 জিহবার অপব্যবহার

📄 জিহবার অপব্যবহার


পঞ্চম ভয়াবহ বদভ্যাস হচ্ছে জিহ্বার অপব্যবহার। জিহ্বার ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এর অপব্যবহার দোজখের আগুনকে দ্রুত নিকটতর করে। মিথ্যা, অশন্টীল-নোংরা কথা, গিবত এবং কটুভাষণ যেন আমাদের জিহ্বা থেকে নির্গত না হয়। অন্যদের বিষয়ে বলার সময় আমরা যেন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি। রসুল সা. বলেছেন, তোমাদের কেউ আমাকে অন্যের বিষয়ে কিছু বলা থেকে বিরত থাকো, কারণ আমি তোমাদের প্রত্যেককে পরিষ্কার হৃদয়বিশিষ্ট দেখতে চাই (আবু দাউদ)।

যারা তাদের কথা উচ্চারণে সতর্ক, তাদের জন্য রসুল সা. বেহেশতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের যে কেউ আমাকে তাঁর জিহ্বা এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতের আশ্বাস দিবে আমি তাকে বেহেশতের আশ্বাস দিবো (মুসলিম)।

জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজতম উপায় হচ্ছে পারস্পরিক কথোপকথনের সময়েও মনে আল্লাহ তায়ালার স্মরণ জাগ্রত রাখা। এ বিষয়ে রসুল সা. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার জিকির ছাড়া দীর্ঘ সময় কথা বলো না, কারণ দীর্ঘসময় আল্লাহ তায়ালার স্মরণ বিহীন কথাবার্তা হৃদয়কে কঠোর করে দেয়, আর যার হৃদয় কঠোর সে আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে সবচেয়ে দূরের মানুষ (তিরমিজি)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00