📄 আপনার জিকিরকে সংগঠিত করুন
এতক্ষণ ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পর্যায়ের যত ধরনের জিকিরের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা করা হল সেগুলো ক্রমান্বয়ে আপনার প্রতিদিনের ইবাদত, অধ্যয়ন ও কর্মতৎপরতার মধ্যে বাস্তবায়ন করুন। প্রতিদিন একটু সময় আলাদা করে নিন শুধু এই জিকিরের জন্য যখন আপনার মাঝে দুনিয়াবি কোনো চিন্তার অনুপ্রবেশ থাকবে না। এভাবে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও নিয়মিত জিকির আপনাকে আল্লাহ তায়ালার কাছে উপনীত করবে এবং তাঁর দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার সাথে আপনি একাত্ম হয়ে যাবেন।
প্রতিদিন সকালে ফজর নামাজের পর কিছু জিকির করে আল্লাহ তায়ালার হুকুম অনুযায়ী পুরো দিন কাটানোর প্রতিজ্ঞা করুন। এভাবে জিকিরের পর সারাদিন যেন তাঁর পথে থাকা যায় সেই প্রার্থনা করে দোয়া করুন। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং কুরআনে বলেছেন,
হে ইমানদারগণ বার বার আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করো। সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর মহিমা ঘোষণা করো (সুরা আহজাব, ৩৩: ৪১)।
এভাবে ফজরের পর জিকির ও দোয়া শেষে কিছু সময় কুরআন অধ্যয়ন করুন। ফজরের পর কুরআন অধ্যয়ন আপনার পক্ষে সাক্ষ্য হবে (সুরা বনী ইসরাঈল, ১৭: ৭৮)।
যদি ফজরের পর সম্ভব না হয় তবে দিনের অন্য যে কোনো সময় অন্তত অল্প পরিমাণ হলেও কুরআন অধ্যয়ন করুন। একটি দিনও যেন আপনার জীবনে কুরআন ছাড়া না যায়। কুরআন অধ্যয়নের বাইরে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় বরাদ্দ রাখুন পরিকল্পিত অধ্যয়নের জন্য যা এমন একটি সিলেবাসের অংশ হবে যাতে থাকবে কুরআন ও হাদিস নির্ভর সাহিত্য, শরিয়ত বা ইসলামি আইন, উসুল-আল-ফিকাহ বা ইসলামি জুরিসপ্রুডেন্স, সিরাত বা নবিজীবনী এবং ইসলামও মুসলমানদের ইতিহাস।
সম্ভবত ইসলাম সম্পর্কে শেখার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেখা যিনি আপনার চাইতে বেশি জ্ঞান রাখেন। কাজেই আপনি চেষ্টা করবেন বিভিন্ন ইসলামি পাঠচক্র, প্রশিক্ষণ কোর্স ও ক্যম্পে অংশ নিতে। আপনি নতুন নতুন ইসলামি জ্ঞান লাভ করার সাথে আপনার পরিবারের সদস্যদের এবং আপনার সহকর্মীদের প্রতি আপনার দায়িত্ব ভুলে যাবেন না। আপনার সময় থেকে কিছু সময় আলাদা করে রাখুন তাদের ইসলামি জ্ঞান দেওয়ার প্রয়োজনে।
এভাবে আল্লাহ তায়ালার পথে কর্মব্যস্ত দিন কাটানোর শেষে মাগরিবের নামাজের পর যখন রাত শুরু হবে তখন জিকিরের আর একটি পর্যায় শুরু হবে। এটা শুরু হবে আল্লাহ তায়ালার কাছে রাত্রিকালীন নিরাপত্তা প্রার্থনা করে। এশার পর রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে একবার গভীরভাবে চিন্তা করুন আপনার আজকের সারাদিনের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে। সারাদিনে আপনি যেসব ভালো কাজ করেছেন, যেসব কাজে সফল হয়েছেন তার জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন। কারণ আল্লাহ তায়ালাই আপনাকে সাফল্য অর্জনে সক্ষম করেছেন। যেসব কাজে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন তার জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে বিনয় ও নিষ্ঠার সাথে ক্ষমা চান। অতঃপর আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে আপনার দুর্বলতাসমূহ দূর করে দেওয়ার জন্য এবং আপনার সামর্থ্য বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্য এবং নির্দেশনা চেয়ে দোয়া করার মাধ্যমে দিনটি শেষ করুন।
📄 সারসংক্ষেপ
আপনার চূড়ান্ত সাফল্য ও মুক্তি নির্ভর করছে আপনার আত্মার পরিশুদ্ধির উপর। আত্মার পরিশুদ্ধির চাবিকাঠি হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার জিকির।
আপনি একদিকে সার্বক্ষণিক এবং অব্যাহতভাবে অন্তরে আল্লাহ তা'আলা সচেতনতা জাগ্রত করে প্রতিদিনের সকল কথা এবং কাজকে নিয়ন্ত্রিত করুন। অন্তরে এই চেতনা বদ্ধমূল করুন যে, আল্লাহ তায়ালা সব সময় আমাদের দেখছেন, সকল কথা কাজ এবং চিন্তার খবর রাখছেন, আমাদের সকল সম্পদ আসলে তাঁরই মালিকানাভুক্ত, তিনি এর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং সর্বোপরি আপনাকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে জবাবদিহির জন্য। অপরদিকে আপনি ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পর্যায়ে কিছু সুনির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করুন। این পন্থাগুলোর নিয়মিত সুসংগঠিত এবং আন্তরিক চর্চা ইনশাআল্লাহ আপনাকে সার্বক্ষণিক আল্লাহ তায়ালার স্মরণসম্পন্ন এক জীবন উপহার দেবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রায়ই বেশি বেশি করে তার স্মরণ করার তৌফিক দিন। আমাদের অন্তর আল্লাহ তায়ালার স্মরণে প্রশান্তি লাভ করুক।