📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 সত্যপন্ধীদের সঙ্গ অনুসন্ধান

📄 সত্যপন্ধীদের সঙ্গ অনুসন্ধান


জিকির সামষ্টিকভাবে বা সম্মিলিতভাবেও করা যেতে পারে। আল্লাহ তায়ালার রসুল সা. আমাদের বলেছেন যে তাদের উপর আল্লাহ তায়ালার বরকতও রহমত বর্ষিত হয় যারা সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামের জন্য কাজ করে, আল্লাহ তায়ালার হাত প্রসারিত (ইসলামি) জামায়াতের উপর (তিরমিজি)। এভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহ তায়ালার স্মরণ ও তাঁর কাজ করাকে অনেক হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে। রসুল মুহাম্মাদ সা. বলেছেন, যদি একদল লোক আল্লাহ তায়ালার স্মরণে একসাথে বসে তবে রহমতের ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে। তাদের উপর দয়া, সুখ ও শান্তি বর্ষিত হতে থাকে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে নিজের লোক হিসেবে স্মরণ করবেন (মুসলিম)।

যে জিকিরের প্রয়োজনীয় আফ্ফার জানে না সে দলবদ্ধ জিকিরে অংশ নিয়ে সহজেই তা শিখতে পারে আর এই সংঘবদ্ধ জিকির মুমিনদের হৃদয়কে একসাথে গেঁথে তাদের ভাইয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে। যদি আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে উচ্চ আসন পেতে চাই তবে আমাদের অন্তর সর্বদা তাঁর স্মরণে ভরপুর রাখতে হবে আর সেজন্য আমাদের অবশ্যই এমন ব্যক্তিদের সঙ্গ খুঁজতে হবে যারা তাঁর স্মরণকারী। এ বিষয়ে হাসান আল-বসরী বলেছেন, বিদ্যান মুমিনের সংস্পর্শে থাকো। তারা তোমার সৎ আমলে খুশি হবেন আর তোমার ভুল ক্ষমা করবেন। তোমার কোনো ভুল হলে তারা তোমায় তাড়িয়ে দিবেন না বরং ভুল শুধরাবার সঠিক পথ দেখাবেন। আর যখন সাক্ষ্য দেওয়ার প্রশ্ন আসবে তখন তাঁরা তোমার পক্ষে সত্য সাক্ষ্য দেবেন।

কাজেই বন্ধু নির্বাচনে আপনি সতর্ক হবেন কারণ এই বন্ধু বান্ধবের সাহচর্যও হতে হবে এক ধরনের জিকির। আল্লাহ তায়ালার রসুল সা. বলেছেন, সে-ই তোমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু যার সাথে দেখা হলে সে তোমাকে আল্লাহ তায়ালার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ চান তাকে ভালো বন্ধু দেন, যে তাকে আল্লাহ তায়ালার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাঁর পথে চলতে উৎসাহিত করে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

তাদের সাথে বন্ধুত্বে জড়াও যারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহ তায়ালার পথে (মানুষকে) ডাকে (সুরা ইবরাহিম, ১৪: ২৭-২৮)।

যখনই আপনি আপনার অন্তরে যে ইমানের বীজ প্রোথিত আছে সেই একই মতের কাউকে সাথে পাবেন তখনই দেখবেন নিজেকে দশগুণ বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে। সমাজ বিজ্ঞানীরাও গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে সংঘবদ্ধ জীবন মানুষের মানসিক বিকাশে সবচাইতে শক্তিশালী নিয়ামক।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 মানবতার সামনে সত্যের সাক্ষ্য হওয়া

📄 মানবতার সামনে সত্যের সাক্ষ্য হওয়া


আপনার জীবন তখনই জিকিরময় হয়ে উঠবে যখন আপনি নিজে যে সত্যপথের সন্ধান পেয়েছেন সেই পথে অন্যদের দাওয়াত দিবেন। এই দাওয়াত কার্যক্রম হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার প্রতি আপনার ইমানের এক স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। আল-কুরআন আমাদের আদেশ করেছে:

(সত্যকে) মানুষের সামনে প্রকাশ করো এবং এটাকে গোপন করবে না (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৮৭)। আরও বলা হয়েছে:

তোমরা পরস্পরকে তাক্বওয়া এবং সত্যের পথে সাহায্য করো আর পাপ এবং অবাধ্যতার পথে কখনো পরস্পরকে সাহায্য করবে না (সুরা মায়েদা, ৫: ২)।

তারা পরস্পরকে সত্যের আদেশ করে এবং পরস্পরকে ধৈর্য্য ধারণে সাহায্য করে (সুরা আসর, ১০৩: ৩)।
কাজেই তুমি উপদেশ দাও যদি উপদেশ কল্যাণকর হয়। যে ব্যক্তি ভয় করে সেই উপদেশ গ্রহণ করবে (সুরা আ'লা, ৮৭: ৯-১০)।

এভাবে যতই আপনার ইমান বৃদ্ধি পেতে থাকবে ততই আপনি নতুন নতুন মানুষকে সেই পথে ডাকবেন যে পথ আপনি সত্য-সঠিক বলে উপলব্ধি করেছেন। সেই সংগঠনে যোগ দিতে ডাকবেন যেখানে তারা সমবেত হয়েছে, যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে,

তার কথার চাইতে উত্তম আর কার কথা হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহ তায়ালার পথে ডাকে এবং বলে আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত (সুরা হা-মীম আস সাজদা, ৪১: ৩৩)।

এভাবে যতই আপনার সংগঠন প্রসারিত হবে ততই আল্লাহ তায়ালার প্রতি আপনার দায়িত্ববোধ বাড়বে। ইমান এবং সংগঠন একটি আরেকটিকে শক্তিশালী করবে। এভাবে একজনের পুরো জীবন ক্রমান্বয়ে আল্লাহ তায়ালার পথে নিবেদিত হয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00