📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 কুরআন অধ্যয়নের পদ্ধতি

📄 কুরআন অধ্যয়নের পদ্ধতি


কুরআন অধ্যয়ন এমন একটি কাজ যাতে আপনার সমগ্র সত্তা যথা আত্মা, হৃদয়, মন, জিহ্বা এবং শরীরের সবকিছুকে একসাথে অংশগ্রহণ করতে হবে। অতএব, কুরআন অধ্যয়ন অতি সহজ বা অতি হালকা কাজ নয়; আবার তাই বলে এটা কোনো কঠিন বা অসম্ভব কাজও নয়। যদি তাই হতো তাহলে আল্লাহ তায়ালা কুরআনকে সার্বজনীন করতেন না এবং এটাকে সবার জন্য ক্ষমার ও নির্দেশনার উৎস করা হতো না। কুরআন অধ্যয়নের জন্য কিছু বিধিমালা রয়েছে যা মনে রাখতে হবে। যথা:

নিয়মিত/প্রতিদিনই কুরআন অধ্যয়ন করতে হবে। আপনি কুরআন অধ্যয়ন ছাড়া আপনার দিনের কাজ অসম্পূর্ণ মনে করবেন। মাঝে মাঝে বিশাল অংশ পড়ার চেয়ে অল্প পরিমাণে হলেও নিয়মিতই কুরআন অধ্যয়ন প্রয়োজন।

প্রতিদিন অল্প-অল্প করে সাধ্যমতো কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সুরা ও আয়াত মুখস্থ করার চেষ্ট করুন। প্রথমে ছোট সুরা থেকে শুরু করুন, অতঃপর পরিমাণে বাড়াতে থাকুন।

নামাজে যত বেশি সম্ভব কুরআন পড়ুন। বিশেষভাবে রাতের নামাজে। এশার পর, ফজরের আগে এবং পরে কুরআন পড়ুন। কুরআন অনুধাবনের উত্তম সময় রাত এবং ভোর অর্থাৎ প্রথম প্রহর ও সুবহে সাদিক।

কুরআন যথাসম্ভব শুদ্ধভাষায় উচ্চারণ করে পড়ার চেষ্টা করুন। হাদিসে বলা হয়েছে: তোমরা উত্তম ভাষায় কুরআনকে সুন্দর করে পড়ো (আবু দাউদ)। তবে মনে রাখবেন, কুরআন পাঠের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই আসে যখন অন্তরে খোদাভীতি জাগ্রত হয়।

মনোযোগ এবং বুঝ সহকারে কুরআন পড়ুন। এক হাদিসে রসুল সা. ইবনে উমরকে অন্তত এক সপ্তাহের কম সময়ে কুরআন পড়া শেষ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনদিনের কম সময়ে কুরআন পড়ে শেষ করল সে এর কিছুই বুঝতে পারল না। একজন সাহাবি বলেছেন যে তিনি সুরা আল-বাকারা বা সুরা আল-ইমরান এর মতো বড় সুরা তাড়াহুড়া করে পড়ার চেয়ে সুরা আল-ক্বারিয়া বা এর মতো ছোট সুরা যথাযথ বুঝ-এর সাথে পড়া পছন্দ করেন।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 কুরআন : আপনার নিত্যসাথী

📄 কুরআন : আপনার নিত্যসাথী


রসুল সা. বলেছেন যে তিনি আমাদের জন্য দু'জন মুর্শিদ রেখে গেছেন। মুর্শিদ শব্দের অর্থ সেই ব্যক্তি যিনি সত্য পথে পরিচালিত করেন। প্রথম মুর্শিদ হচ্ছে আল-কুরআন। আর দ্বিতীয় মুর্শিদ হচ্ছে মৃত্যু-সচেতনতা। যতক্ষণ আমরা কুরআনের সংস্পর্শে থাকবো এবং যতক্ষণ আমাদের হৃদয় এই ধারণা দিয়ে চালিত হবে যে আমাদের জীবন ক্ষণস্থায়ী, আমাদের শীঘ্রই আল্লাহ তায়ালার নিকট ফিরে যেতে হবে ততক্ষণ কোনো কিছুই আমাদের সত্য পথ থেকে দূরে নিতে পারবে না। আপনার তখন অন্য কোনো প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বা কোনো প্রশিক্ষকের দরকার হবে না। বস্তুত এই দুই মুরশিদই আমাদের পথ প্রদর্শনের জন্য যথেষ্ট এবং দুই মুর্শিদই আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00