📄 জিকিরের অর্থ
জিকির শব্দের যথাযথ অর্থ কি? কোন্ কোন্ কাজ এর আওতায় পড়বে এবং এর ফল হিসেবে কি পাওয়া যাবে? জিকির বলতে কি নিছক জিহ্বা দিয়ে কিছু শব্দের উচ্চারণকেই বুঝায়, যেমন সুবহানাল্লাহ (আমি আল্লাহ তায়ালার নিরঙ্কুশ পবিত্রতা ও পূর্ণতা ঘোষণা করছি), আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার প্রাপ্য), আল্লাহু আকবার (আল্লাহ তায়ালা শ্রেষ্ঠ), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) এবং কুরআনের আরও কিছু নির্দিষ্ট আয়াতের তেলাওয়াতকে বুঝায়, নাকি এর আরও বিস্তৃত অর্থ ও কর্মপরিধি রয়েছে? এর উত্তরে বলতে হয় যে, অবশ্যই এসব শব্দের বা আয়াতের মৌখিক উচ্চারণের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তবে প্রকৃত জিকির হচ্ছে তা-ই যেখানে মৌখিক উচ্চরণের সাথে হৃদয় ও আত্মা একাত্ম হয়। আর এ ধরনের জিকিরই মানুষের জীবন ও কর্মকে পরিবর্তিত বা পরিশুদ্ধ করতে পারে।
বস্তুত জিকির শুধু মুখে উচ্চারণ ও অন্তরে অনুধাবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না বরং এই জিকির যেন ব্যক্তির সৎকর্ম (আমলে-সালেহ) কে প্রভাবিত করে। তাৎপর্যপূর্ণ যে ইবনে আল কাইয়্যুম বলেছেন, আপনার জিকির যেন আপনার প্রতিটি মুহূর্ত, চিন্তা, কাজকে আল্লাহ তায়ালার পছন্দ অনুযায়ী চালিত করে; কাজেই, আপনার কথা-বার্তায় যদি আল্লাহ তায়ালার কথার পরিপূর্ণ প্রতিফলন থাকে আর আপনার কাজ যদি আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা অনুযায়ী চালিত হয় তবে তা-ই জিকির। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন আমরা যেন দণ্ডায়মান অবস্থায়, বসা অবস্থায়, এমনকি শায়িত অবস্থায়ও তাঁকে স্মরণ করি। এটা তখনই সম্ভব যখন জিকির জীবনের প্রতিটি বিষয়কে স্পর্শ করবে। কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি লক্ষ্য করুন যেখানে যুগপৎ নামাজ ও ব্যবসায়িক কাজ সর্বাবস্থায় জিকিরে থাকতে বলা হয়েছে:
হে ইমানদারগণ যারা ইমান এনেছো, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ঘোষণা দেওয়া হবে তখন আল্লাহ তায়ালার স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং সকল (দুনিয়াবি) ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো। এটাই তোমাদের জন্য অধিক উত্তম-যদি তোমরা উপলব্ধি করো। পরে নামাজ যখন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে তখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং খোদার অনুগ্রহ সন্ধান করো। আর আল্লাহ তায়ালাকে খুব বেশি বেশি করে স্মরণ করতে থাকো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো (সুরা জুমআ, ৬২ ৯-১০)।
জুমার নামাজে উপস্থিত থাকা, খোৎবা বা ইমাম সাহেবের উপদেশ শ্রবন, জামায়াতে নামাজ আদায় এসব কাজই জিকিরের স্বীকৃত এবং পরিচিত পন্থা। তবে আমাদের দুনিয়াবি কাজের মাঝেও আমাদের অন্তরে আল্লাহ তায়ালার স্মরণ এবং তাঁর আদেশ- নিষেধের প্রতি সচেতন থাকাও জিকিরেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কাজেই, পরিশেষে আমরা বলতে পরি যে, আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনার-অনুভূতি সদা জাগ্রত রাখলে আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণে কাজ করা, হালাল জীবিকা উপার্জন করা এবং পরিবারের জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করা ইত্যাদি সব কিছুই জিকিরে পরিণত হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে এসব কাজই আল্লাহ তায়ালার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বহাল রেখে এবং তাঁর সন্তুষ্টির নিয়তে করতে হবে। অন্যথায় তা আমাদের জিকির থেকে দূরে নিয়ে যাবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান-সন্তাতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ তায়ালার স্মরণ থেকে গাফেল না করে। আর, যে রিজিক আমরা তোমাদের দিয়েছি তা হতে ব্যয় করো (সুরা মুনাফিকুন, ৬৩ : ৯-১০)।
📄 জিকিরের পদ্ধতি
জিকিরের অর্থ, গুরুত্ব এবং বিস্তৃতি (ক্ষেত্র) সম্পর্কে বেশ কিছু আলোচনা হলো। এখন জিকিরের বিভিন্ন প্রকার ও পদ্ধতি সম্পর্কে আলাপ করা যাক। লক্ষ্য করুন, আমরা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায়, দিন এবং রাতে, শায়িত-বসা এবং দাঁড়ানো অবস্থায় কিভাবে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করি। মূলত দু'ধরনের জিকির আছে। প্রথম ধরনের জিকির হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের প্রতিটি কথা ও কাজের নেপথ্যে অব্যাহত ও সার্বক্ষণিক চালিকা হিসেবে আল্লাহ তায়ালার স্মরণকে বহাল রাখা। দ্বিতীয় ধরনের জিকির হচ্ছে এমন সব ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পর্যায়ের কর্মসূচি-যা প্রথম ধরনের জিকির (আল্লাহ তায়ালার স্মরণ জাগ্রত অন্তর) এর উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়।
📄 সদা-সর্বদা আল্লাহ তায়ালার স্মরণ
এ পর্যায়ে আমরা প্রথম ধরণের জিকির সম্পর্কে আলোচনা করবো। এখানে একটি প্রশ্ন উঠতে পারে যে, কীভাবে নিজের দুনিয়াবি কাজ-কর্মে ব্যস্ত থেকেও প্রতিদিনের প্রতি মুহূর্তে অন্তরে আল্লাহ তায়ালার স্মরণ জাগ্রত রাখা যায়? দুনিয়াবি কাজ থেকে নিজকে প্রত্যাহার না করে কি অন্তরে এভাবে সদা-সর্বদা-সর্বক্ষণ আল্লাহ তায়ালার স্মরণ জাগ্রত করা সম্ভব? কীভাবে আপনি এটা নিশ্চিত করবেন যে আপনার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, পেশাগত জীবন এবং এ জাতীয় অন্য সব কাজ যথাযথভাবে চলবে আর সাথে সাথে আপনার অন্তর প্রতিনিয়ত আল্লাহ তায়ালার স্মরণে সিক্ত হতে থাকবে? এমন সর্বব্যাপী জিকির অবশ্যই একটু ব্যতিক্রমী এবং কঠিন কাজ; তবে এটা অসম্ভব কিছুই নয়, আগ্রহী ব্যক্তির জন্য বরং সহজ। আসুন আপনাকে চার ধরনের বোধের কথা বলে দেই যেগুলো মনে রেখে, আত্মস্থ করে এবং বারবার নিজেকে স্মরণ করিয়ে জিকিরে সাফল্য আনা যেতে পারে।
এক: নিজেকে বলুন-আমি আল্লাহ তায়ালার নিকটে আছি, তিনি আমাকে দেখছেন। আল্লাহ তায়ালা আপনার সাথে সর্বদাই আছেন। যখন আপনি একা তখন তিনি আপনার সাথে দ্বিতীয়, যখন আপনার সাথে আর একজন মানব আছে তখন-আল্লাহ তায়ালা আপনাদের মাঝে তৃতীয় সাথি।
তিনি তোমাদের সাথে আছেন যেখানেই তুমি থাকো না কেন (সূরা মুজাদালা, ৫৮: ৭)। আল্লাহ তায়ালা তোমার শাহ রগের চেয়েও নিকটতর (সুরা ক্বাফ, ৫০: ১৬-১৮)।
তিনি প্রতিমুহূর্তে আপনার প্রতিটি কথা শুনছেন প্রতিটা কাজ দেখছেন। তিনি সদা- সর্বদা উপস্থিত এবং তাঁর জ্ঞানের পরিধি সর্বব্যাপ্ত। এই কথাটি আপনি বারবার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন, প্রতিটি নতুন কাজের শুরুতে কথার প্রারম্ভে স্মরণ করুন। বস্তুত আপনার চেষ্টা হবে আপনার অন্তরে এই আল্লাহ তায়ালার 'স্মরণ'কে এমনভাবে প্রোথিত করা যাতে তা আপনার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গী হয়ে যায়। একবার জনৈক সাহাবি রসুল সা.-এর নিকট জানতে চাইলেন, নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সর্বোত্তম উপায় সম্পর্কে। জবাবে রসুল সা. বললেন, তুমি সবসময় মনে রেখো যে আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র তোমার সাথে আছেন (তিরমিজি)।
দুই: নিজেকে বলুন আমার যা আছে তার সবই আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত। আপনার নিজের মালিকানায় বা নিজের মধ্যে যা কিছু আছে, আপনার চারপাশে যা আছে তার সবই একমাত্র আল্লাহ তায়ালার তরফ থেকেই এসেছে।
আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেউ নেই যে কিছু তৈরি করতে বা দান করতে সক্ষম (সুরা নাহল ১৬: ৭৮, সুরা ইয়াসিন, ৩৬: ৩৩-৩৫)।
অতএব আপনি প্রতিনিয়ত তাঁর শোকরগোজার করুন এবং কথায় ও কাজে তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বরকতও দয়ার প্রতিফলন ঘটান। রসুল সা. আমাদের যত আঙ্কার শিখিয়েছেন তার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার হামদ বা তাঁর প্রতি শোকরগোজারি হচ্ছে একটি সার্বক্ষণিক পালনীয় বিষয়। এসব আফ্ফার এর অধিকাংশই শেখা খুব সহজ। সবচাইতে বেশিবার উচ্চরিত আফ্ফার সবচাইতে সহজ। রসুল সা. যখন ঘুম থেকে উঠতেন তখন বলতেন আলহামদুলিল্লাহ, খাবার শেষে বলতেন আলহামদুলিল্লাহ, রোগমুক্তির পর বলতেন আলহামদুলিল্লাহ। এভাবে আপনার সারা দিনের কাজ কর্মের সাথে জড়িত যত বেশি সম্ভব আফ্ফার আপনি শিখে নিন এবং আপনার প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহ তায়ালার স্মরণে নিযুক্ত করুন।
যদি কখনো আপনার এমন ধারণা হয় যে আপনি এমন কিছু পাননি যার জন্য কৃতজ্ঞ হতে হবে তখন রসুলের সেই হাদিস স্মরণ করুন, যেখানে রসুল সা. বলেছেন, যে মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড়া রয়েছে যার প্রতিটির জন্য প্রতিদিন (আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতার) একটি সদকা করা উচিত। আপনি অবশ্যই প্রতিটি জোড়ার জন্য সদকা দিবেন কারণ এর একটি জোড়া ছাড়াও আপনি অসম্পূর্ণ, অচল। আর আপনি এ কাজ প্রতিদিনই করবেন, কারণ আপনি জানেন না কখন কোনদিন আপনার কোন জোড়া অচল হয়ে আপনি পঙ্গু হয়ে পড়েন।
এছাড়াও আধুনিক মানব-শারীরবিদ্যা থেকে আমরা জানি যে আমাদের হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে ৭২ বার স্পন্দন দেয়। আপনার মনে রাখা দরকার যে প্রতিবার আপনার হৃৎপিণ্ড আল্লাহ তায়ালার অনুমতি নিয়েই সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। যখনই আল্লাহ তায়ালার অনুমতি স্থগিত হয়ে যাবে তখনই এই হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বন্ধ হয়ে আপনার জীবন শেষ হবে। যদি আপনি আল্লাহ তায়ালাকে ধন্যবাদ জানাবার অন্য কারণ খুঁজে না পান তবে আপনি শুধু তাঁর দেওয়া আপনার জীবনের কথা চিন্তা করুন-তাহলেই আপনি আল্লাহ তায়ালার হামদ ও শুকুর করে শেষ করতে পারবেন না।
তিন: নিজেকে বলুন-জগতে কোনো কিছুই আল্লাহ তায়ালার অনুমতি ছাড়া ঘটতে পারে না।
জগতের সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আল্লাহ তায়ালার হাতে ন্যস্ত। তাঁর অনুমতি ছাড়া আপনার উপর কোনো বিপদ-আপদ হতে পারে না বা আপনার কোনো লাভ বা উন্নতিও তাঁর অনিচ্ছায় সম্ভব নয়। কুরআন আমাদের এই শিক্ষাই দেয়,
আল্লাহ তায়ালা যদি তোমার কোনো ক্ষতিসাধন করেন তবে তিনি ব্যতীত তোমাকে এই ক্ষতি হতে রক্ষা করবে এমন কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণের ভাগী করে দেন তবে তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি তাঁর বান্দার উপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। তিনি জ্ঞানী ও সব বিষয়ে ওয়াকিফহাল (সুরা আন'আম, ৬: ১৭-১৮)।
রসুল সা. প্রতি বার নামাজ শেষে এই দোয়া করতেন, হে আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাকে যা দান করতে চান তা থেকে কেউ আমাকে বঞ্চিত করতে পারবে না, আর আপনি আমাকে যা থেকে বঞ্চিত করতে চান তা আমাকে কেউ দিতে পারবে না।
আপনিও প্রতিবার নামাজের পর এই সুন্দর শব্দমালা সজ্জিত দোয়া পড়ুন। এছাড়াও সারাদিন বারে বারে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন যে আপনি যা কিছু করবেন আশা করেন তা আল্লাহ তায়ালার অনুমোদন ছাড়া করা সম্ভব নয় আর যে বিষয় হবে না বলে আপনি মনে করেন তা-ও আল্লাহ তায়ালার হুকুম ছাড়া রদ হবে না।
চার: বলুন-একদিন আমাকে আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে এবং সেই দিনটি হতে পারে আজও।
আপনি জানেন না কখন আপনার এই পৃথিবীর জীবন শেষ হয়ে যাবে। এমনও হতে পারে আগামী সকালটাই আপনার জীবনের শেষ সকাল বা আগামী বিকেলটাই জীবনের শেষ বিকেল। এমনওতো হতে পারে যে এই ঘণ্টাটাই আপনার জীবনের শেষ ঘণ্টা বা এই মুহূর্তটাই জীবনের শেষ মুহূর্ত। অবশ্য জীবনের এই অনিত্যতার মানে এই নয় যে জীবনের যাবতীয় কর্ম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে বৈরাগী হতে হবে। জীবনের অনিত্যতার অনুভূতি এজন্যই মনে রাখতে হবে যাতে এটা আপনার মাঝে এমন সচেতনতা এনে দেয় যে এখন থেকে আপনি জীবনের অবশিষ্ট প্রতিটি মুহূর্তকে পুঁজি মনে করে যথাযথভাবে ব্যয় করবেন। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা মোতাবেক তাঁর প্রদত্ত জীবন, সময়, সম্পদ ও শক্তির আমানতকে ব্যয় করবেন। আপনি যখন এমন সময় সচেতন হবেন কেবলমাত্র তখনই আপনার ইহজীবন সফল হবে এবং পরকালে আপনার প্রত্যাবর্তন হবে সার্থক। এই মানের সচেতনতায় নিজেকে উপনীত করতে কুরআনের এই আয়াত বারবার স্মরণ করুন,
নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকেই এসেছি এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করবো (সুরা বাকারা, ২: ১৫৬)।
এই হচ্ছে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে নিবেদিত জীবন অর্জনের লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য সচেতনতার চারটি ধাপ। আন্তরিকতার সাথে এই চারটি ধাপই একবার অর্জনের চেষ্টা করাই হচ্ছে বিশুদ্ধতা অর্জনের পথ। দৃঢ়ভাবে এই চার ধাপ অর্জনে আপনার প্রচেষ্টা আপনাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে।
📄 জিকিরের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মসূচি
২. জিকিরের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি
আমরা যেন সার্বক্ষণিক আল্লাহ তায়ালা-সচেতনতা অর্জন করতে পারি সেজন্য তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও ক্ষমার গুণে নিজেই আমাদের জিকিরের অত্যাবশ্যকীয় পন্থা শিক্ষা দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে মৌলিক ইবাদত সমূহ যথা- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ফরজ রোজা, জাকাত এবং হজ; এছাড়াও কুরআন তেলাওয়াত, বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তিগফার, তওবা খোদাভীরুদের সাহচর্য কামনা, এবং দ্বীনের প্রচার। এই দুই ধরনের তৎপরতাকে আমরা আবার দু'ভাগে ভাগ করতে পারি, যথা : ঐসব পন্থা-যা ব্যক্তিগতভাবে চর্চা করতে হয় এবং ওইসব পন্থা-যা সামষ্টিকভাবে করতে হয়।