📄 আশীর্বাদ ও সুফল
আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার চেষ্টা তখনই সফল হবে যখন আপনি এই লক্ষ্যকে জান্নাত অর্জনের লক্ষ্যের সাথে একীভূত করবেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনের পন্থাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন। তখন এই সমগ্র অনুসৃত প্রক্রিয়া শুধু আপনার আত্মাকেই বিশুদ্ধ করবে না বরং তা আপনার সমগ্র জীবনকেই আল্লাহ তায়ালার রঙে রঞ্জিত করবে এবং তখন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা অনুসরণই আপনার জন্য সহজতম মনে হবে। তখন দেখবেন যে অবচেতনভাবেই আপনার কৃত সকল কাজ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অনুযায়ী হচ্ছে এবং আপনি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির দিকে তথা জান্নাতের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
আপনাকে মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি পাপই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় ক্ষমাযোগ্য এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমাই হচ্ছে বেহেশত প্রাপ্তির উপায়। একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত; আপনি আপনার নিজের আত্মিক মানোন্নয়নের চেষ্টা করবেন অন্যদিকে সব সময় নিজের ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট মাফ চাইতে থাকবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
এবং যারা তওবা করে নিয়েছে এবং ইমান এনে নেক আমল করতে শুরু করেছে তাদের দোষত্রুটি ও অন্যায়কে আল্লাহ তায়ালা ভালো দ্বারা বদলে দিবেন; আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াবান (সুরা ফুরকান, ২৫ : ৭০)।
এটা ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র বেহেশত অর্জন জীবনের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করলেই তা পাওয়া যায়। তেমনি এটাও ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমেই বেহেশত পাওয়া যায়। বরং বাস্তবতা হচ্ছে এটাই যে বেহেশত অর্জনের ইচ্ছে থাকলে সেটাকে জীবনের মূল লক্ষ্য ধরে জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে তাক্বিয়ার আওতায় আনতে হবে। জীবনের প্রত্যেকটা কাজকে তাক্বিয়ার আওতায় আনার জন্য নিচের প্রশ্নমালা খেয়াল করুন -
১. বেহেশত হাসিলের জন্য সততা কি একটি মাধ্যম নয়?
২. দায়িত্বানুভূতি কি আমাকে বেহেশতে যেতে সক্ষম করে তুলবে না?
৩. মানুষের অভাব মোচনের চেষ্টা কি আমাকে বেহেশতে প্রবেশের উপযুক্ত করবে না?
৪. সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্পর্কে আমার সচেতনতা কি বেহেশত অর্জনের মাধ্যম নয়?
৫. নিষ্ফল কথাবর্তা ও উদ্দেশ্যহীন কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা কি আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না?
৬. ওয়াদা পালন করা এবং সময়মতো নামাজ পড়া যা খোদাভীরুতার বিশেষ পরিচয় কি আমাকে বেহেশত প্রবেশের রাজপথে তুলে দেবে না?
৭. উপরের সবগুলো কাজই কি বেহেশত অর্জনে বাঞ্ছিত নয়?
বস্তুত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিবেদিত প্রতিটি বৈধ কাজই তাকিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
এভাবে ইনশাআল্লাহ্, যদি আপনি উপরে আলোচিত তাক্বিয়া অর্জনের সব পন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে মনোযোগী হন তবে আপনি অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় সঠিক পথের সন্ধান পাবেন, যোগ্য এবং সৎ বন্ধু ও সাথি পাবেন যাদের সহায়তায় আপনার আত্মগঠন প্রক্রিয়া সহজ এবং সফল হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
অতএব, সুসংবাদ দাও আমার সেই বান্দাদেরকে যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং এর উত্তম দিকগুলো অনুযায়ী আমল করে। এরা সেই লোক যাদের আল্লাহ তায়ালা হেদায়েত নসিব করেছেন আর এরাই হচ্ছে প্রজ্ঞাবান (সুরা যুমার, ৩৯: ১৭-১৮)।
আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার চেষ্টা তখনই সফল হবে যখন আপনি এই লক্ষ্যকে জান্নাত অর্জনের লক্ষ্যের সাথে একীভূত করবেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনের পন্থাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন। তখন এই সমগ্র অনুসৃত প্রক্রিয়া শুধু আপনার আত্মাকেই বিশুদ্ধ করবে না বরং তা আপনার সমগ্র জীবনকেই আল্লাহ তায়ালার রঙে রঞ্জিত করবে এবং তখন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা অনুসরণই আপনার জন্য সহজতম মনে হবে। তখন দেখবেন যে অবচেতনভাবেই আপনার কৃত সকল কাজ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অনুযায়ী হচ্ছে এবং আপনি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির দিকে তথা জান্নাতের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
আপনাকে মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি পাপই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় ক্ষমাযোগ্য এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমাই হচ্ছে বেহেশত প্রাপ্তির উপায়। একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত; আপনি আপনার নিজের আত্মিক মানোন্নয়নের চেষ্টা করবেন অন্যদিকে সব সময় নিজের ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট মাফ চাইতে থাকবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
এবং যারা তওবা করে নিয়েছে এবং ইমান এনে নেক আমল করতে শুরু করেছে তাদের দোষত্রুটি ও অন্যায়কে আল্লাহ তায়ালা ভালো দ্বারা বদলে দিবেন; আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াবান (সুরা ফুরকান, ২৫ : ৭০)।
এটা ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র বেহেশত অর্জন জীবনের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করলেই তা পাওয়া যায়। তেমনি এটাও ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমেই বেহেশত পাওয়া যায়। বরং বাস্তবতা হচ্ছে এটাই যে বেহেশত অর্জনের ইচ্ছে থাকলে সেটাকে জীবনের মূল লক্ষ্য ধরে জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে তাক্বিয়ার আওতায় আনতে হবে। জীবনের প্রত্যেকটা কাজকে তাক্বিয়ার আওতায় আনার জন্য নিচের প্রশ্নমালা খেয়াল করুন -
১. বেহেশত হাসিলের জন্য সততা কি একটি মাধ্যম নয়?
২. দায়িত্বানুভূতি কি আমাকে বেহেশতে যেতে সক্ষম করে তুলবে না?
৩. মানুষের অভাব মোচনের চেষ্টা কি আমাকে বেহেশতে প্রবেশের উপযুক্ত করবে না?
৪. সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্পর্কে আমার সচেতনতা কি বেহেশত অর্জনের মাধ্যম নয়?
৫. নিষ্ফল কথাবর্তা ও উদ্দেশ্যহীন কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা কি আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না?
৬. ওয়াদা পালন করা এবং সময়মতো নামাজ পড়া যা খোদাভীরুতার বিশেষ পরিচয় কি আমাকে বেহেশত প্রবেশের রাজপথে তুলে দেবে না?
৭. উপরের সবগুলো কাজই কি বেহেশত অর্জনে বাঞ্ছিত নয়?
বস্তুত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিবেদিত প্রতিটি বৈধ কাজই তাকিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
এভাবে ইনশাআল্লাহ্, যদি আপনি উপরে আলোচিত তাক্বিয়া অর্জনের সব পন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে মনোযোগী হন তবে আপনি অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় সঠিক পথের সন্ধান পাবেন, যোগ্য এবং সৎ বন্ধু ও সাথি পাবেন যাদের সহায়তায় আপনার আত্মগঠন প্রক্রিয়া সহজ এবং সফল হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
অতএব, সুসংবাদ দাও আমার সেই বান্দাদেরকে যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং এর উত্তম দিকগুলো অনুযায়ী আমল করে। এরা সেই লোক যাদের আল্লাহ তায়ালা হেদায়েত নসিব করেছেন আর এরাই হচ্ছে প্রজ্ঞাবান (সুরা যুমার, ৩৯: ১৭-১৮)।
📄 সারসংক্ষেপ
একজন মুসলমানের জন্য জীবনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বেহেশত অর্জন। আর এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী, আজীবন স্থায়ী প্রক্রিয়া যা যে কোনো মুহূর্তেই শুরু করা যায়। এই লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় ইচ্ছাই এই কাজের উপায় বাৎলে দেয় এবং লক্ষ্য অর্জনে গতি সঞ্চয় করে।
আত্মউন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার আদর্শ হচ্ছে স্বয়ং রসুল মুহাম্মদ সা.। আর এই লক্ষ্যে এগুতে হলে আপনার দায়িত্বশীল আপনাকেই হতে হবে। আপনার মাঝে প্রচণ্ড ইচ্ছা শক্তি জাগ্রত করতে হবে। আপনার দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে এবং প্রয়োজনীয় চেষ্টা নিয়োজিত করতে হবে। আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জীবনের সব কাজে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আরও মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের লক্ষ্যে নিবেদিত প্রতিটি বৈধ কাজই তাযকিয়া অর্জনের মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ক্ষমার গুণে আমাদের ছোট-ছোট ভুলগুলোকে মাফ করে দিতে পারেন এবং আল্লাহ তায়ালার এই দয়া বা ক্ষমালাভ আমাদের বেহেশত গমনের পূর্বশর্ত।
আর যে লোক নিজের খোদার সম্মুখে দাঁড়ানোর ভয় করেছিল এবং প্রবৃত্তির খারাপ কামনা-বাসনা হতে বিরত থেকেছিল, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা (সুরা নাযিয়াত, ৭৯: ৪০-৪১)।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাঁর সফল এবং পরিশুদ্ধ বান্দাদের মাঝে শামিল হওয়ার তৌফিক দান করুন কেন না,
প্রকৃত পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি তো আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকেই দান করবেন (যারা এই পবিত্রতা ও শুদ্ধি পায় না) তাদের প্রতি এক বিন্দু পরিমাণ জুলুম করা হয় না (সুরা নিসা, ৪:৪৯)।
আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়া যদি তোমাদের উপর না থাকতো তাহলে তোমাদের মধ্যে কেউই পাক পবিত্র হতে পারতো না। বরং আল্লাহ তায়ালাই যাকে চান পরিশুদ্ধ করে দেন। আর আল্লাহ তায়ালাই সর্ব-শ্রোতা সর্বাধিক শুনেন ও সর্বাজ্ঞে (সুরা নূর, ২৪: ২১)।
একজন মুসলমানের জন্য জীবনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বেহেশত অর্জন। আর এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী, আজীবন স্থায়ী প্রক্রিয়া যা যে কোনো মুহূর্তেই শুরু করা যায়। এই লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় ইচ্ছাই এই কাজের উপায় বাৎলে দেয় এবং লক্ষ্য অর্জনে গতি সঞ্চয় করে।
আত্মউন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার আদর্শ হচ্ছে স্বয়ং রসুল মুহাম্মদ সা.। আর এই লক্ষ্যে এগুতে হলে আপনার দায়িত্বশীল আপনাকেই হতে হবে। আপনার মাঝে প্রচণ্ড ইচ্ছা শক্তি জাগ্রত করতে হবে। আপনার দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে এবং প্রয়োজনীয় চেষ্টা নিয়োজিত করতে হবে। আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জীবনের সব কাজে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আরও মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের লক্ষ্যে নিবেদিত প্রতিটি বৈধ কাজই তাযকিয়া অর্জনের মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ক্ষমার গুণে আমাদের ছোট-ছোট ভুলগুলোকে মাফ করে দিতে পারেন এবং আল্লাহ তায়ালার এই দয়া বা ক্ষমালাভ আমাদের বেহেশত গমনের পূর্বশর্ত।
আর যে লোক নিজের খোদার সম্মুখে দাঁড়ানোর ভয় করেছিল এবং প্রবৃত্তির খারাপ কামনা-বাসনা হতে বিরত থেকেছিল, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা (সুরা নাযিয়াত, ৭৯: ৪০-৪১)।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাঁর সফল এবং পরিশুদ্ধ বান্দাদের মাঝে শামিল হওয়ার তৌফিক দান করুন কেন না,
প্রকৃত পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি তো আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকেই দান করবেন (যারা এই পবিত্রতা ও শুদ্ধি পায় না) তাদের প্রতি এক বিন্দু পরিমাণ জুলুম করা হয় না (সুরা নিসা, ৪:৪৯)।
আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়া যদি তোমাদের উপর না থাকতো তাহলে তোমাদের মধ্যে কেউই পাক পবিত্র হতে পারতো না। বরং আল্লাহ তায়ালাই যাকে চান পরিশুদ্ধ করে দেন। আর আল্লাহ তায়ালাই সর্ব-শ্রোতা সর্বাধিক শুনেন ও সর্বাজ্ঞে (সুরা নূর, ২৪: ২১)।