📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 জান্নাতের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ

📄 জান্নাতের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ


বস্তুত আত্মোউন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে জান্নাত অর্জনে নিজের মনকে নিবদ্ধ করা। যে ব্যক্তি তার জীবনের এই লক্ষ্য অর্জনে স্থির না অর্থাৎ যে পরকাল এবং ইহকাল দুটোর প্রতিই সমভাবে আকৃষ্ট থাকে তার অবস্থা হয় দুই নৌকায় পা রাখা যাত্রীর মতো। যে ব্যক্তি তার জীবনের লক্ষ্য শুধু জান্নাতের পানেই নিবিষ্ট রাখে সেই হবে সফল কাম।

জান্নাত অর্জনের এই দৃঢ় ইচ্ছা অবশ্যই সচেতনভাবে গ্রহণ করতে হবে। এটা এমন এক সিদ্ধান্ত যা একজনের জীবনের ধারাকেই পাল্টে দিতে পারে। তার অতীত জীবনের সাথে স্পষ্ট বিভক্তি টেনে দিতে পারে। বস্তুত জান্নাতকে জীবনের লক্ষ্যে পরিণত করা মানে এক নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করা। এই নতুন জীবনের শুরুটা এভাবে করাই উত্তম, যথা: অজুর মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করে দু'রাকাত নফল নামাজ আদায় করা; নামাজের মধ্যে এটা স্মরণ করা যে আপনি জীবনের যাবতীয় পাপের পথের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে দোজখের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষায় উদ্যোগী হয়েছেন; একই সাথে আপনার জন্য অপেক্ষমান জান্নাতের আলোকজ্জল সুখী জীবনের কথাও স্মরণ করুন; সেই জীবনে যেতে যে সমস্ত ধাপ অতিক্রম করতে হবে সেগুলোর কথা চিন্তা করুন; মৃত্যু যে অতি সন্নিকটে এবং তা যে কোনো মুহূর্তে জীবনের যবনিকা টেনে দিতে পারে তা অনুভব করুন; কল্পনা করুন সেই মুহূর্তের কথা যখন ফেরেশতা আজরাইল এসে ঘোষণা করবেন, আপনার সময় শেষ, এখন আমার সাথে আসুন। চিন্তা করুন সেই মুহূর্তের কথা যখন আপনি হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার সামনে জবাবদিহি করতে দাঁড়াবেন, সেই বিচারের পরবর্তী অবস্থাগুলোর কথা ভাবুন। এভাবে যখন দু'রাকাত নামাজ শেষ হবে তখন আবার চিন্তা করুন যে এখন থেকে আপনার সকল কাজ ও প্রচেষ্টা বেহেশত অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হবে। এ অবস্থায় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে অত্যন্ত বিনয় ও দরদের সাথে দোয়া করুন: হে আল্লাহ তায়ালা আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। অন্তর থেকে এবং প্রকাশ্যে আপনার নৈকট্যলাভের আশা করি। আমাকে এমন ইমান দিন যা কখনো ধ্বংস হবে না। আমায় এমন রহমত দান করুন যা কখনো হ্রাস পাবে না। এমন সুখ দান করুন যা কখনো হারিয়ে যাবে না। বেহেশতের সবচেয়ে সম্মানিত স্থানে আপনার মহান রসুল সা.-এর সান্নিধ্য আমাকে দান করুন।

এভাবে যদিও মানুষের সার্বিক আত্মোউন্নয়ন ও কর্মের পরিশুদ্ধি একটি আজীবন চলমান প্রক্রিয়া তবুও এর জন্য দৃঢ় নিয়ত করতে পারি এই মুহূর্তেই। বস্তুত এই নিয়তই আপনাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টায় একটা গতি এনে দেবে।

বস্তুত আত্মোউন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে জান্নাত অর্জনে নিজের মনকে নিবদ্ধ করা। যে ব্যক্তি তার জীবনের এই লক্ষ্য অর্জনে স্থির না অর্থাৎ যে পরকাল এবং ইহকাল দুটোর প্রতিই সমভাবে আকৃষ্ট থাকে তার অবস্থা হয় দুই নৌকায় পা রাখা যাত্রীর মতো। যে ব্যক্তি তার জীবনের লক্ষ্য শুধু জান্নাতের পানেই নিবিষ্ট রাখে সেই হবে সফল কাম।

জান্নাত অর্জনের এই দৃঢ় ইচ্ছা অবশ্যই সচেতনভাবে গ্রহণ করতে হবে। এটা এমন এক সিদ্ধান্ত যা একজনের জীবনের ধারাকেই পাল্টে দিতে পারে। তার অতীত জীবনের সাথে স্পষ্ট বিভক্তি টেনে দিতে পারে। বস্তুত জান্নাতকে জীবনের লক্ষ্যে পরিণত করা মানে এক নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করা। এই নতুন জীবনের শুরুটা এভাবে করাই উত্তম, যথা: অজুর মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করে দু'রাকাত নফল নামাজ আদায় করা; নামাজের মধ্যে এটা স্মরণ করা যে আপনি জীবনের যাবতীয় পাপের পথের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে দোজখের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষায় উদ্যোগী হয়েছেন; একই সাথে আপনার জন্য অপেক্ষমান জান্নাতের আলোকজ্জল সুখী জীবনের কথাও স্মরণ করুন; সেই জীবনে যেতে যে সমস্ত ধাপ অতিক্রম করতে হবে সেগুলোর কথা চিন্তা করুন; মৃত্যু যে অতি সন্নিকটে এবং তা যে কোনো মুহূর্তে জীবনের যবনিকা টেনে দিতে পারে তা অনুভব করুন; কল্পনা করুন সেই মুহূর্তের কথা যখন ফেরেশতা আজরাইল এসে ঘোষণা করবেন, আপনার সময় শেষ, এখন আমার সাথে আসুন। চিন্তা করুন সেই মুহূর্তের কথা যখন আপনি হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার সামনে জবাবদিহি করতে দাঁড়াবেন, সেই বিচারের পরবর্তী অবস্থাগুলোর কথা ভাবুন। এভাবে যখন দু'রাকাত নামাজ শেষ হবে তখন আবার চিন্তা করুন যে এখন থেকে আপনার সকল কাজ ও প্রচেষ্টা বেহেশত অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হবে। এ অবস্থায় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে অত্যন্ত বিনয় ও দরদের সাথে দোয়া করুন: হে আল্লাহ তায়ালা আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। অন্তর থেকে এবং প্রকাশ্যে আপনার নৈকট্যলাভের আশা করি। আমাকে এমন ইমান দিন যা কখনো ধ্বংস হবে না। আমায় এমন রহমত দান করুন যা কখনো হ্রাস পাবে না। এমন সুখ দান করুন যা কখনো হারিয়ে যাবে না। বেহেশতের সবচেয়ে সম্মানিত স্থানে আপনার মহান রসুল সা.-এর সান্নিধ্য আমাকে দান করুন।

এভাবে যদিও মানুষের সার্বিক আত্মোউন্নয়ন ও কর্মের পরিশুদ্ধি একটি আজীবন চলমান প্রক্রিয়া তবুও এর জন্য দৃঢ় নিয়ত করতে পারি এই মুহূর্তেই। বস্তুত এই নিয়তই আপনাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টায় একটা গতি এনে দেবে।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 আপনার মিশন

📄 আপনার মিশন


এভাবে বেহেশত লাভের এবং আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করার পরই আপনার মনে প্রশ্ন জাগবে যে এই নিয়ত পূর্ণ করতে আল্লাহ তায়ালা আপনার কাছ থেকে কী তৎপরতা আশা করেন। কুরআন মতে, আল্লাহ তায়ালা আপনার কাছ থেকে যা চান তা হচ্ছে আপনি একই সাথে একজন মুমিন ও মুজাহিদ হবেন। একজন মুমিন হচ্ছেন সেই ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার উপর ইমান রক্ষায় যে সৎ এবং দৃঢ়। একজন মুজাহিদ হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর সকল মেধা ও শ্রম দিয়ে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে সংগ্রামে লিপ্ত। আপনি যদি যুগপৎ মুমিন ও মুজাহিদ হন তবে স্বয়ং পরম করুণাময় ও ক্ষমাশীল আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদার আসন লাভে সাহায্য করবেন। আল্লাহ তায়ালা ইমানদার এবং মুজাহিদদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি আল-কুরআনে দিয়েছেন:

প্রকৃতপক্ষে মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের প্রতি ইমান এনেছে, এবং অতঃপর কোনো সন্দেহ করে না এবং নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালার পথে জিহাদ করেছে। তারাই সত্যবাদী সত্যনিষ্ঠ লোক (সুরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৫)।

এখন আপনার মিশন হচ্ছে যুগপৎ একজন মুমিন এবং মুজাহিদ হওয়া। যখন আপনি জীবনের এই মিশনকে গ্রহণ করবেন তখন হয়তো আপনার মনে হতে পারে যে আপনার যে মানের পরিশুদ্ধি অর্জন প্রয়োজন, আপনার ইসলাম সংক্রান্ত জ্ঞান ঠিক সে মানের নয়, যদিও এমনটি হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এই অনুভূতি যেন কোনো অবস্থাতেই আপনাকে হতাশায় আচ্ছন্ন না করে। আপনার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা যেন আপনার ইসলামের অনুসরণে বাধা না হয়। মনে রাখতে হবে যে জীবনে ইসলামের অনুসরণ ও আমলের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে ইসলামের জ্ঞান বাড়বে। এটা এমন নয় যে আগে জ্ঞান অর্জন হবে অতঃপর অনুসরণ শুরু হবে। প্রতিদিনই আপনার চেষ্টা থাকবে কীভাবে আগের চাইতে জ্ঞান ও আমল আরও বাড়ানো যায়, আরও পরিশুদ্ধ করা যায়।

অর্থাৎ তাক্বিয়া আপনার আত্মোন্নয়নের নতুন এমন একটি প্রক্রিয়া যা ধাপে ধাপে অগ্রসর হবে। কেউ একবারেই এর চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হতে পারবে না। বস্তুত এটা স্বাভাবিক মানব প্রকৃতিরও বিরোধী। রসুল সা. তাঁর পাশের জনগণের পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়াতেও এই ধাপে ধাপে উন্নয়নের বিষয়টিতে খেয়াল রাখতেন। যখন কেউ নতুন ইসলাম গ্রহণ করতো তখনই রসুল সা. একবারে তার উপর ইসলামের সব আইন কানুন চাপিয়ে দিতেন না। বরং ওই ব্যক্তি সেই মুহূর্তে যতটুকু দায়িত্ব পালনে সক্ষম ততটুকু দায়িত্বই তাকে দিতেন। একই মূলনীতি লক্ষ্য করা যায় ২৩ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে কুরআন নাজিলের প্রক্রিয়ায়। একজন উত্তম মুমিন হওয়ার প্রক্রিয়ায় আপনাকেও এই ধীর ও ধারাবাহিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় আপনি নিজের জন্য এমন অসম্ভব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবেন যা অর্জন করতে আপনি ব্যর্থ হয়ে অবশেষে হতাশ হয়ে পড়বেন। আমলের এই পর্যায়ে আসবে আল্লাহ তায়ালার সাথে আপনার লেনদেনের সম্পর্কের বিষয়টি। যদিও আপনার মনে হতে পারে যে আল্লাহ তায়ালার সাথে আবার বান্দার লেনদেনের সম্পর্কটি কী ধরনের। কিন্তু মুমিনদের সাথে আল্লাহ তায়ালার এই বেচা কেনার সম্পর্কের কথাটি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল করিমে ঘোষণা করেছেন:

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের নিকট হতে তাদের হৃদয়-মন এবং তাদের মাল-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহ তায়ালার পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে। তাদের প্রতি (জান্নাত দানের ওয়াদা) খোদার জিম্মায় একটি পাকা পোক্ত ওয়াদা যা তিনি দিয়েছেন তওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআনে। আর খোদার অপেক্ষা নিজের ওয়াদা বেশি পূরণকারী আর কে থাকতে পারে (সুরা তাওবা, ৯: ১১১)।

বস্তুত যখন থেকেই আপনি নিজেকে আল্লাহ তায়ালার পথে নিবেদিত বলে দাবি করবেন তখন থেকেই নিজের জান এবং মাল এভাবেই আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করতে হবে। যদিও এটা ইমানের এমন এক স্তর যাতে উপনীত হওয়া খুব সহজ নয়। কাজেই আপনাকে এটা অনুধাবন করতে হবে যে কঠিন কাজটিই আপনাকে সাধন করতে হবে। হয়তো নিজের সর্বস্ব এভাবে আল্লাহ তায়ালার রাহে বিলীন করার স্তরে উপনীত হওয়া একদিনেই সম্ভব হবে না। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা ক্রমাগত এবং অবিরাম চালিয়ে যেতে হবে। এভাবে নিজের সবকিছু আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করার চেষ্টার নামই জেহাদ যার আর এক অর্থ-তাযকিয়া।

এভাবে বেহেশত লাভের এবং আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করার পরই আপনার মনে প্রশ্ন জাগবে যে এই নিয়ত পূর্ণ করতে আল্লাহ তায়ালা আপনার কাছ থেকে কী তৎপরতা আশা করেন। কুরআন মতে, আল্লাহ তায়ালা আপনার কাছ থেকে যা চান তা হচ্ছে আপনি একই সাথে একজন মুমিন ও মুজাহিদ হবেন। একজন মুমিন হচ্ছেন সেই ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার উপর ইমান রক্ষায় যে সৎ এবং দৃঢ়। একজন মুজাহিদ হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর সকল মেধা ও শ্রম দিয়ে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে সংগ্রামে লিপ্ত। আপনি যদি যুগপৎ মুমিন ও মুজাহিদ হন তবে স্বয়ং পরম করুণাময় ও ক্ষমাশীল আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদার আসন লাভে সাহায্য করবেন। আল্লাহ তায়ালা ইমানদার এবং মুজাহিদদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি আল-কুরআনে দিয়েছেন:

প্রকৃতপক্ষে মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের প্রতি ইমান এনেছে, এবং অতঃপর কোনো সন্দেহ করে না এবং নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালার পথে জিহাদ করেছে। তারাই সত্যবাদী সত্যনিষ্ঠ লোক (সুরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৫)।

এখন আপনার মিশন হচ্ছে যুগপৎ একজন মুমিন এবং মুজাহিদ হওয়া। যখন আপনি জীবনের এই মিশনকে গ্রহণ করবেন তখন হয়তো আপনার মনে হতে পারে যে আপনার যে মানের পরিশুদ্ধি অর্জন প্রয়োজন, আপনার ইসলাম সংক্রান্ত জ্ঞান ঠিক সে মানের নয়, যদিও এমনটি হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এই অনুভূতি যেন কোনো অবস্থাতেই আপনাকে হতাশায় আচ্ছন্ন না করে। আপনার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা যেন আপনার ইসলামের অনুসরণে বাধা না হয়। মনে রাখতে হবে যে জীবনে ইসলামের অনুসরণ ও আমলের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে ইসলামের জ্ঞান বাড়বে। এটা এমন নয় যে আগে জ্ঞান অর্জন হবে অতঃপর অনুসরণ শুরু হবে। প্রতিদিনই আপনার চেষ্টা থাকবে কীভাবে আগের চাইতে জ্ঞান ও আমল আরও বাড়ানো যায়, আরও পরিশুদ্ধ করা যায়।

অর্থাৎ তাক্বিয়া আপনার আত্মোন্নয়নের নতুন এমন একটি প্রক্রিয়া যা ধাপে ধাপে অগ্রসর হবে। কেউ একবারেই এর চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হতে পারবে না। বস্তুত এটা স্বাভাবিক মানব প্রকৃতিরও বিরোধী। রসুল সা. তাঁর পাশের জনগণের পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়াতেও এই ধাপে ধাপে উন্নয়নের বিষয়টিতে খেয়াল রাখতেন। যখন কেউ নতুন ইসলাম গ্রহণ করতো তখনই রসুল সা. একবারে তার উপর ইসলামের সব আইন কানুন চাপিয়ে দিতেন না। বরং ওই ব্যক্তি সেই মুহূর্তে যতটুকু দায়িত্ব পালনে সক্ষম ততটুকু দায়িত্বই তাকে দিতেন। একই মূলনীতি লক্ষ্য করা যায় ২৩ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে কুরআন নাজিলের প্রক্রিয়ায়। একজন উত্তম মুমিন হওয়ার প্রক্রিয়ায় আপনাকেও এই ধীর ও ধারাবাহিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় আপনি নিজের জন্য এমন অসম্ভব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবেন যা অর্জন করতে আপনি ব্যর্থ হয়ে অবশেষে হতাশ হয়ে পড়বেন। আমলের এই পর্যায়ে আসবে আল্লাহ তায়ালার সাথে আপনার লেনদেনের সম্পর্কের বিষয়টি। যদিও আপনার মনে হতে পারে যে আল্লাহ তায়ালার সাথে আবার বান্দার লেনদেনের সম্পর্কটি কী ধরনের। কিন্তু মুমিনদের সাথে আল্লাহ তায়ালার এই বেচা কেনার সম্পর্কের কথাটি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল করিমে ঘোষণা করেছেন:

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের নিকট হতে তাদের হৃদয়-মন এবং তাদের মাল-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহ তায়ালার পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে। তাদের প্রতি (জান্নাত দানের ওয়াদা) খোদার জিম্মায় একটি পাকা পোক্ত ওয়াদা যা তিনি দিয়েছেন তওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআনে। আর খোদার অপেক্ষা নিজের ওয়াদা বেশি পূরণকারী আর কে থাকতে পারে (সুরা তাওবা, ৯: ১১১)।

বস্তুত যখন থেকেই আপনি নিজেকে আল্লাহ তায়ালার পথে নিবেদিত বলে দাবি করবেন তখন থেকেই নিজের জান এবং মাল এভাবেই আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করতে হবে। যদিও এটা ইমানের এমন এক স্তর যাতে উপনীত হওয়া খুব সহজ নয়। কাজেই আপনাকে এটা অনুধাবন করতে হবে যে কঠিন কাজটিই আপনাকে সাধন করতে হবে। হয়তো নিজের সর্বস্ব এভাবে আল্লাহ তায়ালার রাহে বিলীন করার স্তরে উপনীত হওয়া একদিনেই সম্ভব হবে না। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা ক্রমাগত এবং অবিরাম চালিয়ে যেতে হবে। এভাবে নিজের সবকিছু আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করার চেষ্টার নামই জেহাদ যার আর এক অর্থ-তাযকিয়া।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 তাযকিয়ার পূর্বশর্ত

📄 তাযকিয়ার পূর্বশর্ত


যখন আপনি বেহেশতের লক্ষ্যে পরিচালিত আপনার নতুন পথে অগ্রসর হবেন তখন আপনার মনে হবে যে এই পথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ এবং কঠিন। এ পথের বাধাসমূহ অনেক সময় আপনার কাছে অনতিক্রম্য মনে হবে। এক্ষেত্রে তাযকিয়ার কিছু পূর্বশর্ত অনুসরণ করলে আপনার কাছে এসব সমস্যা সমাধান সহজতর হতে পারে। এসব পূর্বশর্ত নিম্নরূপ:

১. তাযকিয়া-আপনার ব্যক্তিগত দায়িত্ব
আপনাকে বুঝতে হবে যে, তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত প্রক্রিয়া এবং এজন্য আত্মশুদ্ধি অর্জনটা ব্যক্তির নিজস্ব দায়িত্ব। আপনার আত্মশুদ্ধি অন্য কেউ করে দিতে পারবে না। আপনার মধ্যে আত্মশুদ্ধি আসতে পারে আপনার ব্যক্তিগত অনুধাবন এবং অবিরাম চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে। আপনার চেষ্টাকে অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষক বা সংগঠন প্রতিস্থাপিত করতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

কোনো বোঝা বহনকারী অপর কারো বোঝা বহন করবে না, কোনো বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি নিজের বোঝা বহনের জন্য ডাকে, তবে তার বোঝা সামান্য অংশও বহন করতে কেউ এগিয়ে আসবে না- তা সে কোনো নিকট আত্মীয়ই হোক না কেন (সুরা মায়েদা, ৫: ১৮)।

ব্যক্তির দায়িত্ব সম্পর্কিত এই ধারণা হচ্ছে ইসলামের সঠিক এবং মৌলিক আবেদন। আমরা প্রত্যেকে হাশরের ময়দানে নিজের দায়িত্ব পালন সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হবো। যদি আপনার কাজ অন্য কেউ করে দেয় তবে আপনার পরিবর্তে তিনিই পুরস্কৃত হবেন। আপনার আখেরাতে পুরস্কার অর্জনের ইচ্ছা থাকলে আপনাকে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,

যে কেউ (আল্লাহ তায়ালার পথে) সংগ্রাম সাধনা করবে তা সে নিজেরই কল্যাণের জন্যই করবে। আল্লাহ তায়ালা নিঃসন্দেহে দুনিয়া জাহানের কারো মুখাপেক্ষী নন। আর যারা ইমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদের দোষগুলি আমরা তাদের থেকে দূর করে দিব এবং তাদের উত্তম কাজের উপযুক্ত প্রতিফল দান করবো (সুরা আনকাবৃত, ২৯: ৬-৭)।

কিছু লোক অন্যের নির্দেশনা মতো নিজেদের চালিত করে। কুরআনেও এটা বর্ণিত হয়েছে যে, হাশরের দিনে কিছু দুর্বল চিত্ত মানুষ এ অজুহাত দেখাবে যে, তারা অন্যের পরিচালনা ও নির্দেশনায় ভুল পথে চালিত হয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই যুক্তি আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন না এ জন্য যে, সত্য পথ থেকে সরে যাওয়ার দায়িত্ব ব্যক্তির নিজের (সুরা ক্বাফ, ৫০: ২৬-২৮)।

এমনকি স্বয়ং শয়তানও হাশরের ময়দানে দাঁড়িয়ে পাপীদের উদ্দেশ্যে বলবে, আমি তো তোমাদের পাপ কাজে শুধু আহ্বানই করেছিলাম, আর তোমরা নিজেরাই তাতে সাড়া দিয়েছো। কাজেই আমাকে দোষারোপ করো না, তোমাদের নিজেকে দোষারোপ করো (সুরা ইবরাহিম, ১৪: ২২)।

এভাবেই অবশেষে পুরস্কার বা শাস্তি যাই হোক তা হবে আপনার নিজের, কারণ দায়িত্বটা তো ছিল আপনারই। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

সেদিন লোকেরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ফিরে আসবে যেন তাদের আমল তাদেরকে দেখানো যায়। পরম্ভ, যে লোক বিন্দু পরিমাণ নেক আমল করবে সে তা দেখে নিবে এবং যে লোক বিন্দু পরিমাণ বদ্ আমল করে থাকবে সেও তা দেখতে পাবে (সুরা যিলঝাল, ৯৯ ৬-৮)।

এক্ষণে আপনার নিজের গভীর দায়িত্বের কথা মনে করে আপনার মনে হতে পারে যে এটা আপনার জন্য অসাধ্য। কিন্তু স্মরণ করুন যে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কত যোগ্যতা দিয়ে শ্রেষ্ঠ করে তৈরি করেছেন। অতত্রব নিশ্চিন্ত হোন যে আপনি আপনার উপর অর্পিত ইমানি দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

আমরা মানুষকে অতীব উত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তাকে আবার সর্বনিম্নস্তরে পৌঁছে দিয়েছি। সেই লোকদের ছাড়া যারা ইমান এনেছে এবং নেক আমল করতে থেকেছে। তাদের জন্য রয়েছে অপরিসীম প্রতিদান (সুরা আততিন, ৯৫: ৪-৬)।

তাযকিয়া বলতে শুধু কিছু বিমূর্ত ধারণাকেই বুঝায় না বরং এটা জীবনের কাজ-কর্ম ও আচার-আচরণের মাধ্যমে মূর্ত হয়। কুরআন মতে, প্রকৃত ইমান অর্জনের মধ্যেই সাফল্য নিহিত। প্রকৃত ইমান অর্জনের জন্য আপনাকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এজন্য আন্তরিকতার সাথে কুরআন ও সুন্নাহর অধ্যয়ন করতে হবে। অতঃপর কুরআন সুন্নাহ থেকে অর্জিত জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। জীবনকে কুরআনময় করে তুলতে আপনার সিদ্ধান্ত ও অধ্যবসায় থাকতে হবে। এই জ্ঞান নির্ভর জীবন পরিচালনাই আপনার মধ্যে আমল সালেহ বা সদাচরণ প্রতিষ্ঠা করবে।

আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনে আপনার প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল এবং প্রাণবন্ত করতে আপনি অবশ্যই একই উদ্দেশ্য সাধনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বন্ধুত্ব বা সান্নিধ্য খুঁজবেন। তারা আপনাকে এ পথে অটল থাকতে প্রেরণা ও সাহস দেবে এবং আপনার ভুলত্রুটি শুধরে আপনার বিচ্যুতির সম্ভাবনা দূর করবে। মুমিন লোকদের সাথে আপনার বন্ধুত্ব শুধু পরিচয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তা হবে আপনার সাথে তাদের ধারণার বিনিময়, জ্ঞানের আদান প্রদান, সৎপথে চলতে গিয়ে লব্ধ অভিজ্ঞতার বিনিময় দ্বারা সমৃদ্ধ। মুমিনদের মাঝে এ ধরনের বন্ধুত্ব পৃথিবীতে এক সৎ সঙ্গের সৃষ্টি করে। যা সৎ মানুষ সৃষ্টিতে এক ইনস্টিটিউটের মতো কাজ করে এবং বস্তুবাদী পৃথিবীতে একজন মুমিনকে ইমানের উপর দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।

২. নিখাদ প্রচেষ্টা
তাযকিয়া অর্জনের চেষ্টায় সফল হতে চাইলে আপনাকে একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার লক্ষ্যে সব ধরনের চেষ্টা নিয়োজিত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

আর যারা আমাদের জন্য চেষ্টা সাধনা করবে তাদেরকে আমরা আমাদের পথ দেখাবো। আর আল্লাহ তায়ালা নিশ্চিতই সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে রয়েছেন (সুরা আনকাবূত, ২৯: ৬৯)।

পরিশুদ্ধি অর্জনের আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে কর্মে তার প্রতিফলন ঘটবেই। কেউ কেউ মনে করেন তাকিয়ায়ে নফসের লক্ষ্যে শুধু আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করেই পরিশুদ্ধি লাভ সম্ভব। কিন্তু এটা অবাস্তব ধারণা। দোয়া অবশ্যই এই কাজের পূর্বশর্ত, আল্লাহ তায়ালার অনুমোদন ও মদদ ছাড়া বান্দার পক্ষে তাক্বিয়া অর্জন অসম্ভব। আল্লাহ তায়ালার মদদ অর্জন করতে হলে বান্দাকে তাক্বিয়া অর্জনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করতে হবে। তার কাজের মাধ্যমে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে পরিশুদ্ধি অর্জনে সে কত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, প্রচেষ্টার সাথে কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে পরিশুদ্ধি চাইলে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই দোয়া কবুল করবেন। দোয়া মানুষের প্রচেষ্টায় বরকত দান করে। সৎ ও পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রাথমিক ইচ্ছা ও পরবর্তী প্রচেষ্টা হচ্ছে একটি আজীবন চলমান প্রক্রিয়া। এটা এমন নয় যে নির্দিষ্ট কয়েকদিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ করেই আজীবনের জন্য পরিশুদ্ধি অর্জিত হয়ে যাবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

হে ইমানদারগণ আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, যেমন তাঁকে ভয় করা উচিত; আর মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে তোমারা মৃত্যুবরণ করো নায় (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১০২)।

পরিশুদ্ধির এই প্রক্রিয়ায় কোনো মানুষের পক্ষেই কখনো এই দাবি করা সম্ভব নয় বা উচিত নয় যে তিনি আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন বা কামেলিয়াত অর্জন করেছেন। যদি কখনও আপনার মনে এমন ধারণার জন্ম হয় তবে নিশ্চিত জানবেন যে আপনার আত্মোউন্নয়নের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং এখন আপনার নৈতিক অধঃপতন শুরু হবে। অতএব সাবধান! আবার কখনও আপনার এমন অবস্থা হতে পারে যে, আপনি যতই মুসলিম হিসেবে আপনার দায়িত্ব পালনে ব্রতী হবেন ততই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার গ্লানিতে আক্রান্ত হবেন।

যুবক থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের মধ্যেই আত্মশুদ্ধির চেষ্টায় এসব অভিজ্ঞতা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে অধিক উচ্ছ্বসিত বা হতাশ না হয়ে যেটা করা উচিত তা হচ্ছে সব সময় মনে রাখতে হবে যে আমাদের সৎ কর্মের নিয়ত আর আন্তরিক প্রচেষ্টাই আল্লাহ তায়ালা দেখবেন, আমাদের অর্জিত ফল দিয়ে তিনি আমাদের বিচার করবেন না। কাজেই আমাদের পরিশুদ্ধির প্রচেষ্টা হতে হবে সব সময়ের চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় সাফল্যের বিষয়ে ও আল্লাহ তায়ালার সাহায্য প্রাপ্তির আশায় সর্বদা আশাবাদী থাকতে বলা হয়েছে:

অতএব, দুঃখভারাক্রান্ত হয়ো না, হতাশ হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে- যদি তোমরা ইমানদার হও (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৩৯)।

৩. সুদৃঢ় ইচ্ছা শক্তি
জীবনে পরিশুদ্ধি অর্জনের এ পরম লক্ষ্য অর্জনের জন্য দৃঢ় সংকল্প এবং ইচ্ছাশক্তি থাকা প্রয়োজন। এ নিয়ত হতে হবে সব সময় ক্রিয়াশীল এবং অটল। কুরআনের ভাষায় এটাকে বলা হয় ইরাদা। আমাদের সকল প্রচেষ্টার মৌলিক বিষয় হচ্ছে এই ইরাদা যা ছাড়া কোনো কিছুই অর্জন সম্ভব হয় না।

এই ইরাদা শব্দের অর্থের ব্যাপকতা এটাকে ইচ্ছা শব্দের চাইতে ভিন্ন করেছে। আমরা প্রায়ই লোকদের কাছে শুনে থাকি যে তাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোনো নির্দিষ্ট কাজ হচ্ছে না। এর মূল কারণ তাদের মধ্যে কাজ করার সাধারণ ইচ্ছাই আছে কাজ হাসিলে দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা আর চেষ্টা নেই। এটা থেকেই ইচ্ছা এবং ইরাদা শব্দের পার্থক্য বুঝা যায়।

কুরআনও এটা বলেছে যে মানুষের আত্মউন্নয়নের ইচ্ছা পূরণের সবচাইতে বড় বাধা হচ্ছে মানুষের ইচ্ছা শক্তির দৃঢ়তার অভাব। আদম আ.-এর কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

আমরা ইতিপূর্বে আদমকে একটি হুকুম দিয়েছিলাম। কিন্তু সে তা ভুলে গেল। আর আমরা তার মধ্যে কোনো দৃঢ় সংকল্প পাইনি (সুরা ত্বহা, ২০: ১১৫)।

ইরাদার জন্য দৃঢ়তা ও অবিচলতা দরকার। বস্তুত এটা সন্দেহ, দ্বিধা এবং অলসতার বিপরীত ধারণা। যখন আপনার মধ্যে ইরাদা প্রতিষ্ঠিত হবে তখন আপনি দেখবেন যে আপনার মধ্যে কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা নেই।

কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হাসিলে ইরাদা বা দৃঢ় ইচ্ছা শক্তিই মূল প্রেরণা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

আর যে লোক পরকালকামী হয় এবং উহার জন্য যথাযথ চেষ্টা সাধনা করে, তাহলে এমন মুমিন ব্যক্তির চেষ্টা সাধনাই অবশ্যই পুরস্কৃত হবে (সুরা বনি ইসরাঈল, ১৭: ১৯)।

৪. আল্লাহ তায়ালার উপর নির্ভরতা
বিশ্বাসীদের মনে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তখনই আসে যখন তার এ বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান হয় যে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাঁর পথে সংগ্রামরত বান্দাকে মদদ দান করেন। যে আল্লাহ তায়ালা সর্বক্ষণ আপনাকে দেখছেন, রক্ষা করছেন, তাঁর অপরিসীম রহমতের ধারায় আপনাকে অভিষিক্ত করছেন তাঁর প্রতি দৃঢ় আস্থা আর আনুগত্যই আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস আনবে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

পরন্তু যে লোক (আল্লাহ তায়ালার পথে) ধনমাল দিল, (আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি হতে) আত্মরক্ষা করল এবং কল্যাণ ও মঙ্গলকে সত্য বলে মেনে নিল তাকে আমি সহজপথ চলায় সাহায্য করবো (সুরা লাইল, ৯২: ৫-৭)।

আত্মবিশ্বাস এই আস্থা থেকেও আসে যে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তাঁর অপরিসীম দয়ায় পার্থিব সকল দায়িত্ব পালনে যোগ্য করে তৈরি করেছেন। তাঁর মতো দয়ালু সত্ত্বার পক্ষে এটা অসম্ভব যে আপনাকে সমস্যা মোকাবেলায় উপযোগী না করে তিনি আপনার উপর সমস্যা চাপিয়ে দেবেন। এভাবেই মুমিনের আত্মবিশ্বাস তার আল্লাহ তায়ালার উপর পূর্ণ আস্থা থেকেই জন্ম নেয়। সে এই প্রত্যয় রাখে যে তার ইমানের পথে যাত্রার প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহ তায়ালা তার সাথী। কেউ যদি সবসময় নিজের অক্ষমতার কথাই ভাবে এবং এর পক্ষে যে কোনো অজুহাত দাঁড় করায় তবে তার পক্ষে কখনো সফল হওয়া সম্ভব হবে না। আপনি কখনও এমন চিন্তা মনে ঠাঁই দেবেন না যে আল্লাহ তায়ালা আপনার উপর সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে আপনার উপর অবিচার করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

আল্লাহ তায়ালা কোনো প্রাণীর উপরই তার শক্তি সামর্থ্যের অধিক দায়িত্ব-বোঝা চাপিয়ে দেন না (সুরা বাকারা, ২: ২৮৬)।

একইভাবে, আপনার প্রচেষ্টা ও উদ্যমের সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই সংগ্রামে বিজয়ের দৃঢ় আশা সার্বক্ষণিক মনে রাখা। আপনাকে সব সময় মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের চেষ্টায় আপনি যে শ্রমই দেবেন আল্লাহ তায়ালা তাঁকেই কবুল করবেন। এক্ষেত্রে আপনার কোনো রকম অহংকার বা উন্নাসিকতা আত্মউন্নয়নের পথে অন্তরায় হবে। অন্যদিকে আপনার নিজের প্রতি অনাস্থা জন্ম দেবে হীনমন্যতার। কাজেই আপনি কখনোই এই ধারণাকে প্রশ্রয় দেবেন না যে আপনি আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অথবা আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা অর্জন করতে পারবেন না। আপনার সাফল্যের জন্য দৃঢ় আস্থা, অনন্ত আশা এবং কঠোর প্রতিজ্ঞা আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
আর যাদের নিকট লোকেরা বলেছে যে, জনগণ তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাদের ভয় করো এই কথা শুনে তাদের ইমান বরং আরো বৃদ্ধি পেল এবং উত্তরে তারা বললো:

আল্লাহ তায়ালাই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক অতঃপর তারা খোদার অনুগ্রহ ও নেয়ামতসহ এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করল যে তাদের কোনো প্রকার ক্ষতি হলো না এবং খোদার মর্জি অনুযায়ী চলার সৌভাগ্যও তারা লাভ করলো (সূরা আলে ইমরান, ৩: ১৭৩-১৭৪)।

এই ধরনের প্রক্রিয়ায় আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে নিজের উপর আস্থা অর্জন করতে গিয়ে আপনি আবার এই আত্মবিশ্বাস না ভোগেন যে আপনি স্বয়ংসম্পূর্ণ। নিজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা সম্পর্কে যে আধুনিক ধারণা পাশ্চাত্যে বিরাজ করছে তা অনেক ক্ষেত্রেই এক ধরনের শিরকের সমতুল্য। সেই পন্থায় কখনো কখনো একজনের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে এমন কথা বলা হয় যা শুধুমাত্র পূর্ণাঙ্গ সত্তা আল্লাহ তায়ালারই প্রাপ্য। ইসলাম মতে আত্মনির্ভরশীলতা ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবার দর্শন আল্লাহ তায়ালার উপর নির্ভরশীলতার (তাওকায়াক্কালতু আলাল্লাহু) দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত। কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালাই কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনিই একমাত্র স্বনির্ভর আর সবাই তাদের অস্তিত্বের জন্য আল্লাহ তায়ালার উপর নির্ভরশীল।

৫. সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার
সময় অর্থও নয়, স্বর্ণও নয়। এ হচ্ছে আমাদের জীবন, যা সীমিত। আপনাকে এখন থেকে জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্রতম মুহূর্তের সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয় সচেতন হতে হবে। পার্থিব জীবনের শত চাহিদা ও নানামুখী ব্যস্ততার মাঝেও আপনাকে আত্ম-উন্নয়নের জন্য সময় বের করতে হবে এবং এই সময়ের সর্বোত্তম ফায়দা নিতে হবে। আত্ম-উন্নয়নের সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে এই লক্ষ্যে নিবেদিত সকল চেষ্টাকে একটি সংগঠিত প্রাত্যহিক রুটিনের অংশ বানাতে হবে। হজরত ইমাম গাজ্জালী বলেছেন, তুমি তোমার সময়কে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যয় করো। প্রতিদিনের কাজগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সময় বরাদ্দ করো। কিন্তু একটির সময় যেন আর একটিতে নষ্ট না হয়। চারণভূমির পশুদের মতো উদ্দেশ্য- লক্ষ্যহীনভাবে পথচলা আর অপরিকল্পিতভাবে কিছু করলে বা সামনে যে কাজ আসে শুধু তার পেছনেই ধাবিত হলে তোমার গোটা জীবনই অপচয়ের খাতায় যাবে। তোমার সময় তোমার জীবন, তোমার জীবন তোমার পুঁজি এবং এই পুঁজিই হচ্ছে (আল্লাহ তায়ালার সাথে) তোমার বিনিময়ের ভিত্তি, আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে চিরকালস্থায়ী শান্তি (বেহেশত) অর্জনের উপায়। তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস হচ্ছে এক একটি মহামূল্যবান রত্ন যা একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না (এহইয়াউ উলুমুদ্দিন)।

আরো মনে রাখবেন: আল্লাহর তায়ালার নিকট মানুষের সেই সৎকর্মগুলো সবচাইতে প্রিয় যা নিয়মিতভাবে পালন করা হয়, এমনকি তা পরিমাণে অল্প হলেও (বুখারি, মুসলিম)। আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোত্তম ব্যবহার করার চেষ্টার সাথে এটাও চেষ্টা করতে হবে যাতে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে আপনি উৎকর্ষের স্বাক্ষর রাখতে পারেন। সেটা শিক্ষালয়েই হোক, বাড়িতেই হোক কর্মস্থলে বা খেলার ময়দানে হোক সর্বত্রই আপনার কাজের মাঝে উৎকর্ষ আর শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ থাকে। এজন্যই রসুল সা. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা সকল কাজে ইহসান (দক্ষতা ও উৎকর্ষের সমন্বয়) চান (মুসলিম)।

৬. তাযকিয়া- একটি সার্বিক প্রক্রিয়া
ইসলাম পরিশুদ্ধির নামে এমন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে না যেখানে একজন তার হৃদয়কে পবিত্র করলো বলে দাবি করলো আর অন্যদিকে সে অর্থনৈতিক সামাজিক বা রাজনৈতিক অসততায় লিপ্ত থাকলো। বস্তুত তাক্বিয়ার প্রভাব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়তে হবে, যা আমাদের অন্তরকে এমনভাবে পরিশুদ্ধ করবে যে এর ফল আমাদের দ্বারা কৃত সব কাজে অনুভব করা যাবে। জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা বা নির্দেশনা অনুসারে করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা অনুসারে চলতে গেলে আপনি লক্ষ্য করবেন আপনার জীবনে বিভিন্নমুখী কর্তব্য বা দায়বদ্ধতার প্রতি মনোযোগের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হচ্ছে। আপনার কর্তব্য আছে আল্লাহ তায়ালার প্রতি, তেমনি আপনার কর্তব্য আছে সমাজের অন্যদের প্রতি, আপনার কর্তব্য আছে আপনার নিজের প্রতি। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো বাড়াবাড়ি ও প্রান্তিকতা এড়িয়ে চলা আপনার কর্তব্য। একটি হাদিসে আছে যে রসুল সা. আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলেন: হে আবদুল্লাহ, আমি শুনেছি যে তুমি প্রতিদিন রোজা রাখো এবং সারারাত নফল নামাজ পড়ো। আবদুল্লাহ হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে রসুল সা. বললেন, এমন করবে না, কারণ তোমার উপর তোমার দেহের অধিকার আছে, তোমার চোখের অধিকার আছে, তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে, তোমার মেহমানের অধিকার আছে, কাজেই রোজা রাখো আবার পানাহারও করো; নামাজে দাঁড়াও আবার ঘুমাও (বুখারি, মুসলিম)।

কাজেই, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে তাক্বিয়ার পরিধির আওতায় না আনতে পারলে আপনার জীবন চরমভাবে একমুখী হয়ে পড়বে। এতে জীবনে অশান্তি ও অসুখ নেমে আসবে। অন্যদিকে জীবনের প্রতিটি কাজ এবং ক্ষেত্রে তাযকিয়ার অনুসরণ করলে আপনি দেখবেন আপনার জীবনের প্রতিটি কাজ একটি আরেকটির সহায়ক হিসেবে আসছে। দেখবেন এই ভারসাম্য রক্ষাই আপনাকে প্রতিনিয়ত আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনার অনুগামী করছে, আপনাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির দিকে, জান্নাতের দিকে চালিত করছে।

আপনি যখন আল্লাহ তায়ালার পথে চলাকেই জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে স্থির করবেন তখন মনে রাখবেন যে এ পথে আপনার সামনে রয়েছে এক অপূর্ব মডেল বা আদর্শ। এই মডেল হচ্ছেন রসুল সা.। প্রায়ই আমরা আমাদের পিতা-মাতা, শিক্ষক, বন্ধু বা আমাদের দৃষ্টিকাড়া খেলাধুলা-তারকাদের আমাদের আদর্শ বানাই, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে আপনার আত্মিক উন্নয়নের জন্য উত্তম আদর্শ হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালার রসুল সা.। এ বিষয়ে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

প্রকৃতপক্ষে তোমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার রসুলের জীবনে এক সর্বোত্তম নমুনা বর্তমান আছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ তায়ালা এবং পরকালের আস্থাশীল এবং যে খুব বেশি করে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে (সুরা আহযাব, ৩৩: ২১)।

যখন আপনি বেহেশতের লক্ষ্যে পরিচালিত আপনার নতুন পথে অগ্রসর হবেন তখন আপনার মনে হবে যে এই পথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ এবং কঠিন। এ পথের বাধাসমূহ অনেক সময় আপনার কাছে অনতিক্রম্য মনে হবে। এক্ষেত্রে তাযকিয়ার কিছু পূর্বশর্ত অনুসরণ করলে আপনার কাছে এসব সমস্যা সমাধান সহজতর হতে পারে। এসব পূর্বশর্ত নিম্নরূপ:

১. তাযকিয়া-আপনার ব্যক্তিগত দায়িত্ব
আপনাকে বুঝতে হবে যে, তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত প্রক্রিয়া এবং এজন্য আত্মশুদ্ধি অর্জনটা ব্যক্তির নিজস্ব দায়িত্ব। আপনার আত্মশুদ্ধি অন্য কেউ করে দিতে পারবে না। আপনার মধ্যে আত্মশুদ্ধি আসতে পারে আপনার ব্যক্তিগত অনুধাবন এবং অবিরাম চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে। আপনার চেষ্টাকে অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষক বা সংগঠন প্রতিস্থাপিত করতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

কোনো বোঝা বহনকারী অপর কারো বোঝা বহন করবে না, কোনো বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি নিজের বোঝা বহনের জন্য ডাকে, তবে তার বোঝা সামান্য অংশও বহন করতে কেউ এগিয়ে আসবে না- তা সে কোনো নিকট আত্মীয়ই হোক না কেন (সুরা মায়েদা, ৫: ১৮)।

ব্যক্তির দায়িত্ব সম্পর্কিত এই ধারণা হচ্ছে ইসলামের সঠিক এবং মৌলিক আবেদন। আমরা প্রত্যেকে হাশরের ময়দানে নিজের দায়িত্ব পালন সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হবো। যদি আপনার কাজ অন্য কেউ করে দেয় তবে আপনার পরিবর্তে তিনিই পুরস্কৃত হবেন। আপনার আখেরাতে পুরস্কার অর্জনের ইচ্ছা থাকলে আপনাকে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,

যে কেউ (আল্লাহ তায়ালার পথে) সংগ্রাম সাধনা করবে তা সে নিজেরই কল্যাণের জন্যই করবে। আল্লাহ তায়ালা নিঃসন্দেহে দুনিয়া জাহানের কারো মুখাপেক্ষী নন। আর যারা ইমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদের দোষগুলি আমরা তাদের থেকে দূর করে দিব এবং তাদের উত্তম কাজের উপযুক্ত প্রতিফল দান করবো (সুরা আনকাবৃত, ২৯: ৬-৭)।

কিছু লোক অন্যের নির্দেশনা মতো নিজেদের চালিত করে। কুরআনেও এটা বর্ণিত হয়েছে যে, হাশরের দিনে কিছু দুর্বল চিত্ত মানুষ এ অজুহাত দেখাবে যে, তারা অন্যের পরিচালনা ও নির্দেশনায় ভুল পথে চালিত হয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই যুক্তি আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন না এ জন্য যে, সত্য পথ থেকে সরে যাওয়ার দায়িত্ব ব্যক্তির নিজের (সুরা ক্বাফ, ৫০: ২৬-২৮)।

এমনকি স্বয়ং শয়তানও হাশরের ময়দানে দাঁড়িয়ে পাপীদের উদ্দেশ্যে বলবে, আমি তো তোমাদের পাপ কাজে শুধু আহ্বানই করেছিলাম, আর তোমরা নিজেরাই তাতে সাড়া দিয়েছো। কাজেই আমাকে দোষারোপ করো না, তোমাদের নিজেকে দোষারোপ করো (সুরা ইবরাহিম, ১৪: ২২)।

এভাবেই অবশেষে পুরস্কার বা শাস্তি যাই হোক তা হবে আপনার নিজের, কারণ দায়িত্বটা তো ছিল আপনারই। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

সেদিন লোকেরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ফিরে আসবে যেন তাদের আমল তাদেরকে দেখানো যায়। পরম্ভ, যে লোক বিন্দু পরিমাণ নেক আমল করবে সে তা দেখে নিবে এবং যে লোক বিন্দু পরিমাণ বদ্ আমল করে থাকবে সেও তা দেখতে পাবে (সুরা যিলঝাল, ৯৯ ৬-৮)।

এক্ষণে আপনার নিজের গভীর দায়িত্বের কথা মনে করে আপনার মনে হতে পারে যে এটা আপনার জন্য অসাধ্য। কিন্তু স্মরণ করুন যে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কত যোগ্যতা দিয়ে শ্রেষ্ঠ করে তৈরি করেছেন। অতত্রব নিশ্চিন্ত হোন যে আপনি আপনার উপর অর্পিত ইমানি দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

আমরা মানুষকে অতীব উত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তাকে আবার সর্বনিম্নস্তরে পৌঁছে দিয়েছি। সেই লোকদের ছাড়া যারা ইমান এনেছে এবং নেক আমল করতে থেকেছে। তাদের জন্য রয়েছে অপরিসীম প্রতিদান (সুরা আততিন, ৯৫: ৪-৬)।

তাযকিয়া বলতে শুধু কিছু বিমূর্ত ধারণাকেই বুঝায় না বরং এটা জীবনের কাজ-কর্ম ও আচার-আচরণের মাধ্যমে মূর্ত হয়। কুরআন মতে, প্রকৃত ইমান অর্জনের মধ্যেই সাফল্য নিহিত। প্রকৃত ইমান অর্জনের জন্য আপনাকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এজন্য আন্তরিকতার সাথে কুরআন ও সুন্নাহর অধ্যয়ন করতে হবে। অতঃপর কুরআন সুন্নাহ থেকে অর্জিত জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। জীবনকে কুরআনময় করে তুলতে আপনার সিদ্ধান্ত ও অধ্যবসায় থাকতে হবে। এই জ্ঞান নির্ভর জীবন পরিচালনাই আপনার মধ্যে আমল সালেহ বা সদাচরণ প্রতিষ্ঠা করবে।

আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনে আপনার প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল এবং প্রাণবন্ত করতে আপনি অবশ্যই একই উদ্দেশ্য সাধনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বন্ধুত্ব বা সান্নিধ্য খুঁজবেন। তারা আপনাকে এ পথে অটল থাকতে প্রেরণা ও সাহস দেবে এবং আপনার ভুলত্রুটি শুধরে আপনার বিচ্যুতির সম্ভাবনা দূর করবে। মুমিন লোকদের সাথে আপনার বন্ধুত্ব শুধু পরিচয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তা হবে আপনার সাথে তাদের ধারণার বিনিময়, জ্ঞানের আদান প্রদান, সৎপথে চলতে গিয়ে লব্ধ অভিজ্ঞতার বিনিময় দ্বারা সমৃদ্ধ। মুমিনদের মাঝে এ ধরনের বন্ধুত্ব পৃথিবীতে এক সৎ সঙ্গের সৃষ্টি করে। যা সৎ মানুষ সৃষ্টিতে এক ইনস্টিটিউটের মতো কাজ করে এবং বস্তুবাদী পৃথিবীতে একজন মুমিনকে ইমানের উপর দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।

২. নিখাদ প্রচেষ্টা
তাযকিয়া অর্জনের চেষ্টায় সফল হতে চাইলে আপনাকে একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার লক্ষ্যে সব ধরনের চেষ্টা নিয়োজিত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

আর যারা আমাদের জন্য চেষ্টা সাধনা করবে তাদেরকে আমরা আমাদের পথ দেখাবো। আর আল্লাহ তায়ালা নিশ্চিতই সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে রয়েছেন (সুরা আনকাবূত, ২৯: ৬৯)।

পরিশুদ্ধি অর্জনের আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে কর্মে তার প্রতিফলন ঘটবেই। কেউ কেউ মনে করেন তাকিয়ায়ে নফসের লক্ষ্যে শুধু আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করেই পরিশুদ্ধি লাভ সম্ভব। কিন্তু এটা অবাস্তব ধারণা। দোয়া অবশ্যই এই কাজের পূর্বশর্ত, আল্লাহ তায়ালার অনুমোদন ও মদদ ছাড়া বান্দার পক্ষে তাক্বিয়া অর্জন অসম্ভব। আল্লাহ তায়ালার মদদ অর্জন করতে হলে বান্দাকে তাক্বিয়া অর্জনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করতে হবে। তার কাজের মাধ্যমে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে পরিশুদ্ধি অর্জনে সে কত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, প্রচেষ্টার সাথে কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে পরিশুদ্ধি চাইলে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই দোয়া কবুল করবেন। দোয়া মানুষের প্রচেষ্টায় বরকত দান করে। সৎ ও পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রাথমিক ইচ্ছা ও পরবর্তী প্রচেষ্টা হচ্ছে একটি আজীবন চলমান প্রক্রিয়া। এটা এমন নয় যে নির্দিষ্ট কয়েকদিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ করেই আজীবনের জন্য পরিশুদ্ধি অর্জিত হয়ে যাবে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

হে ইমানদারগণ আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, যেমন তাঁকে ভয় করা উচিত; আর মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে তোমারা মৃত্যুবরণ করো নায় (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১০২)।

পরিশুদ্ধির এই প্রক্রিয়ায় কোনো মানুষের পক্ষেই কখনো এই দাবি করা সম্ভব নয় বা উচিত নয় যে তিনি আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন বা কামেলিয়াত অর্জন করেছেন। যদি কখনও আপনার মনে এমন ধারণার জন্ম হয় তবে নিশ্চিত জানবেন যে আপনার আত্মোউন্নয়নের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং এখন আপনার নৈতিক অধঃপতন শুরু হবে। অতএব সাবধান! আবার কখনও আপনার এমন অবস্থা হতে পারে যে, আপনি যতই মুসলিম হিসেবে আপনার দায়িত্ব পালনে ব্রতী হবেন ততই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার গ্লানিতে আক্রান্ত হবেন।

যুবক থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের মধ্যেই আত্মশুদ্ধির চেষ্টায় এসব অভিজ্ঞতা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে অধিক উচ্ছ্বসিত বা হতাশ না হয়ে যেটা করা উচিত তা হচ্ছে সব সময় মনে রাখতে হবে যে আমাদের সৎ কর্মের নিয়ত আর আন্তরিক প্রচেষ্টাই আল্লাহ তায়ালা দেখবেন, আমাদের অর্জিত ফল দিয়ে তিনি আমাদের বিচার করবেন না। কাজেই আমাদের পরিশুদ্ধির প্রচেষ্টা হতে হবে সব সময়ের চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় সাফল্যের বিষয়ে ও আল্লাহ তায়ালার সাহায্য প্রাপ্তির আশায় সর্বদা আশাবাদী থাকতে বলা হয়েছে:

অতএব, দুঃখভারাক্রান্ত হয়ো না, হতাশ হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে- যদি তোমরা ইমানদার হও (সুরা আলে ইমরান, ৩: ১৩৯)।

৩. সুদৃঢ় ইচ্ছা শক্তি
জীবনে পরিশুদ্ধি অর্জনের এ পরম লক্ষ্য অর্জনের জন্য দৃঢ় সংকল্প এবং ইচ্ছাশক্তি থাকা প্রয়োজন। এ নিয়ত হতে হবে সব সময় ক্রিয়াশীল এবং অটল। কুরআনের ভাষায় এটাকে বলা হয় ইরাদা। আমাদের সকল প্রচেষ্টার মৌলিক বিষয় হচ্ছে এই ইরাদা যা ছাড়া কোনো কিছুই অর্জন সম্ভব হয় না।

এই ইরাদা শব্দের অর্থের ব্যাপকতা এটাকে ইচ্ছা শব্দের চাইতে ভিন্ন করেছে। আমরা প্রায়ই লোকদের কাছে শুনে থাকি যে তাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোনো নির্দিষ্ট কাজ হচ্ছে না। এর মূল কারণ তাদের মধ্যে কাজ করার সাধারণ ইচ্ছাই আছে কাজ হাসিলে দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা আর চেষ্টা নেই। এটা থেকেই ইচ্ছা এবং ইরাদা শব্দের পার্থক্য বুঝা যায়।

কুরআনও এটা বলেছে যে মানুষের আত্মউন্নয়নের ইচ্ছা পূরণের সবচাইতে বড় বাধা হচ্ছে মানুষের ইচ্ছা শক্তির দৃঢ়তার অভাব। আদম আ.-এর কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

আমরা ইতিপূর্বে আদমকে একটি হুকুম দিয়েছিলাম। কিন্তু সে তা ভুলে গেল। আর আমরা তার মধ্যে কোনো দৃঢ় সংকল্প পাইনি (সুরা ত্বহা, ২০: ১১৫)।

ইরাদার জন্য দৃঢ়তা ও অবিচলতা দরকার। বস্তুত এটা সন্দেহ, দ্বিধা এবং অলসতার বিপরীত ধারণা। যখন আপনার মধ্যে ইরাদা প্রতিষ্ঠিত হবে তখন আপনি দেখবেন যে আপনার মধ্যে কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা নেই।

কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হাসিলে ইরাদা বা দৃঢ় ইচ্ছা শক্তিই মূল প্রেরণা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

আর যে লোক পরকালকামী হয় এবং উহার জন্য যথাযথ চেষ্টা সাধনা করে, তাহলে এমন মুমিন ব্যক্তির চেষ্টা সাধনাই অবশ্যই পুরস্কৃত হবে (সুরা বনি ইসরাঈল, ১৭: ১৯)।

৪. আল্লাহ তায়ালার উপর নির্ভরতা
বিশ্বাসীদের মনে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তখনই আসে যখন তার এ বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান হয় যে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাঁর পথে সংগ্রামরত বান্দাকে মদদ দান করেন। যে আল্লাহ তায়ালা সর্বক্ষণ আপনাকে দেখছেন, রক্ষা করছেন, তাঁর অপরিসীম রহমতের ধারায় আপনাকে অভিষিক্ত করছেন তাঁর প্রতি দৃঢ় আস্থা আর আনুগত্যই আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস আনবে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

পরন্তু যে লোক (আল্লাহ তায়ালার পথে) ধনমাল দিল, (আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি হতে) আত্মরক্ষা করল এবং কল্যাণ ও মঙ্গলকে সত্য বলে মেনে নিল তাকে আমি সহজপথ চলায় সাহায্য করবো (সুরা লাইল, ৯২: ৫-৭)।

আত্মবিশ্বাস এই আস্থা থেকেও আসে যে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তাঁর অপরিসীম দয়ায় পার্থিব সকল দায়িত্ব পালনে যোগ্য করে তৈরি করেছেন। তাঁর মতো দয়ালু সত্ত্বার পক্ষে এটা অসম্ভব যে আপনাকে সমস্যা মোকাবেলায় উপযোগী না করে তিনি আপনার উপর সমস্যা চাপিয়ে দেবেন। এভাবেই মুমিনের আত্মবিশ্বাস তার আল্লাহ তায়ালার উপর পূর্ণ আস্থা থেকেই জন্ম নেয়। সে এই প্রত্যয় রাখে যে তার ইমানের পথে যাত্রার প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহ তায়ালা তার সাথী। কেউ যদি সবসময় নিজের অক্ষমতার কথাই ভাবে এবং এর পক্ষে যে কোনো অজুহাত দাঁড় করায় তবে তার পক্ষে কখনো সফল হওয়া সম্ভব হবে না। আপনি কখনও এমন চিন্তা মনে ঠাঁই দেবেন না যে আল্লাহ তায়ালা আপনার উপর সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে আপনার উপর অবিচার করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

আল্লাহ তায়ালা কোনো প্রাণীর উপরই তার শক্তি সামর্থ্যের অধিক দায়িত্ব-বোঝা চাপিয়ে দেন না (সুরা বাকারা, ২: ২৮৬)।

একইভাবে, আপনার প্রচেষ্টা ও উদ্যমের সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই সংগ্রামে বিজয়ের দৃঢ় আশা সার্বক্ষণিক মনে রাখা। আপনাকে সব সময় মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের চেষ্টায় আপনি যে শ্রমই দেবেন আল্লাহ তায়ালা তাঁকেই কবুল করবেন। এক্ষেত্রে আপনার কোনো রকম অহংকার বা উন্নাসিকতা আত্মউন্নয়নের পথে অন্তরায় হবে। অন্যদিকে আপনার নিজের প্রতি অনাস্থা জন্ম দেবে হীনমন্যতার। কাজেই আপনি কখনোই এই ধারণাকে প্রশ্রয় দেবেন না যে আপনি আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অথবা আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা অর্জন করতে পারবেন না। আপনার সাফল্যের জন্য দৃঢ় আস্থা, অনন্ত আশা এবং কঠোর প্রতিজ্ঞা আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
আর যাদের নিকট লোকেরা বলেছে যে, জনগণ তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাদের ভয় করো এই কথা শুনে তাদের ইমান বরং আরো বৃদ্ধি পেল এবং উত্তরে তারা বললো:

আল্লাহ তায়ালাই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক অতঃপর তারা খোদার অনুগ্রহ ও নেয়ামতসহ এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করল যে তাদের কোনো প্রকার ক্ষতি হলো না এবং খোদার মর্জি অনুযায়ী চলার সৌভাগ্যও তারা লাভ করলো (সূরা আলে ইমরান, ৩: ১৭৩-১৭৪)।

এই ধরনের প্রক্রিয়ায় আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে নিজের উপর আস্থা অর্জন করতে গিয়ে আপনি আবার এই আত্মবিশ্বাস না ভোগেন যে আপনি স্বয়ংসম্পূর্ণ। নিজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা সম্পর্কে যে আধুনিক ধারণা পাশ্চাত্যে বিরাজ করছে তা অনেক ক্ষেত্রেই এক ধরনের শিরকের সমতুল্য। সেই পন্থায় কখনো কখনো একজনের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে এমন কথা বলা হয় যা শুধুমাত্র পূর্ণাঙ্গ সত্তা আল্লাহ তায়ালারই প্রাপ্য। ইসলাম মতে আত্মনির্ভরশীলতা ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবার দর্শন আল্লাহ তায়ালার উপর নির্ভরশীলতার (তাওকায়াক্কালতু আলাল্লাহু) দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত। কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালাই কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনিই একমাত্র স্বনির্ভর আর সবাই তাদের অস্তিত্বের জন্য আল্লাহ তায়ালার উপর নির্ভরশীল।

৫. সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার
সময় অর্থও নয়, স্বর্ণও নয়। এ হচ্ছে আমাদের জীবন, যা সীমিত। আপনাকে এখন থেকে জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্রতম মুহূর্তের সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয় সচেতন হতে হবে। পার্থিব জীবনের শত চাহিদা ও নানামুখী ব্যস্ততার মাঝেও আপনাকে আত্ম-উন্নয়নের জন্য সময় বের করতে হবে এবং এই সময়ের সর্বোত্তম ফায়দা নিতে হবে। আত্ম-উন্নয়নের সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে এই লক্ষ্যে নিবেদিত সকল চেষ্টাকে একটি সংগঠিত প্রাত্যহিক রুটিনের অংশ বানাতে হবে। হজরত ইমাম গাজ্জালী বলেছেন, তুমি তোমার সময়কে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যয় করো। প্রতিদিনের কাজগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সময় বরাদ্দ করো। কিন্তু একটির সময় যেন আর একটিতে নষ্ট না হয়। চারণভূমির পশুদের মতো উদ্দেশ্য- লক্ষ্যহীনভাবে পথচলা আর অপরিকল্পিতভাবে কিছু করলে বা সামনে যে কাজ আসে শুধু তার পেছনেই ধাবিত হলে তোমার গোটা জীবনই অপচয়ের খাতায় যাবে। তোমার সময় তোমার জীবন, তোমার জীবন তোমার পুঁজি এবং এই পুঁজিই হচ্ছে (আল্লাহ তায়ালার সাথে) তোমার বিনিময়ের ভিত্তি, আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে চিরকালস্থায়ী শান্তি (বেহেশত) অর্জনের উপায়। তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস হচ্ছে এক একটি মহামূল্যবান রত্ন যা একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না (এহইয়াউ উলুমুদ্দিন)।

আরো মনে রাখবেন: আল্লাহর তায়ালার নিকট মানুষের সেই সৎকর্মগুলো সবচাইতে প্রিয় যা নিয়মিতভাবে পালন করা হয়, এমনকি তা পরিমাণে অল্প হলেও (বুখারি, মুসলিম)। আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোত্তম ব্যবহার করার চেষ্টার সাথে এটাও চেষ্টা করতে হবে যাতে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে আপনি উৎকর্ষের স্বাক্ষর রাখতে পারেন। সেটা শিক্ষালয়েই হোক, বাড়িতেই হোক কর্মস্থলে বা খেলার ময়দানে হোক সর্বত্রই আপনার কাজের মাঝে উৎকর্ষ আর শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ থাকে। এজন্যই রসুল সা. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা সকল কাজে ইহসান (দক্ষতা ও উৎকর্ষের সমন্বয়) চান (মুসলিম)।

৬. তাযকিয়া- একটি সার্বিক প্রক্রিয়া
ইসলাম পরিশুদ্ধির নামে এমন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে না যেখানে একজন তার হৃদয়কে পবিত্র করলো বলে দাবি করলো আর অন্যদিকে সে অর্থনৈতিক সামাজিক বা রাজনৈতিক অসততায় লিপ্ত থাকলো। বস্তুত তাক্বিয়ার প্রভাব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়তে হবে, যা আমাদের অন্তরকে এমনভাবে পরিশুদ্ধ করবে যে এর ফল আমাদের দ্বারা কৃত সব কাজে অনুভব করা যাবে। জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা বা নির্দেশনা অনুসারে করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা অনুসারে চলতে গেলে আপনি লক্ষ্য করবেন আপনার জীবনে বিভিন্নমুখী কর্তব্য বা দায়বদ্ধতার প্রতি মনোযোগের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হচ্ছে। আপনার কর্তব্য আছে আল্লাহ তায়ালার প্রতি, তেমনি আপনার কর্তব্য আছে সমাজের অন্যদের প্রতি, আপনার কর্তব্য আছে আপনার নিজের প্রতি। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো বাড়াবাড়ি ও প্রান্তিকতা এড়িয়ে চলা আপনার কর্তব্য। একটি হাদিসে আছে যে রসুল সা. আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলেন: হে আবদুল্লাহ, আমি শুনেছি যে তুমি প্রতিদিন রোজা রাখো এবং সারারাত নফল নামাজ পড়ো। আবদুল্লাহ হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে রসুল সা. বললেন, এমন করবে না, কারণ তোমার উপর তোমার দেহের অধিকার আছে, তোমার চোখের অধিকার আছে, তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে, তোমার মেহমানের অধিকার আছে, কাজেই রোজা রাখো আবার পানাহারও করো; নামাজে দাঁড়াও আবার ঘুমাও (বুখারি, মুসলিম)।

কাজেই, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে তাক্বিয়ার পরিধির আওতায় না আনতে পারলে আপনার জীবন চরমভাবে একমুখী হয়ে পড়বে। এতে জীবনে অশান্তি ও অসুখ নেমে আসবে। অন্যদিকে জীবনের প্রতিটি কাজ এবং ক্ষেত্রে তাযকিয়ার অনুসরণ করলে আপনি দেখবেন আপনার জীবনের প্রতিটি কাজ একটি আরেকটির সহায়ক হিসেবে আসছে। দেখবেন এই ভারসাম্য রক্ষাই আপনাকে প্রতিনিয়ত আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনার অনুগামী করছে, আপনাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির দিকে, জান্নাতের দিকে চালিত করছে।

আপনি যখন আল্লাহ তায়ালার পথে চলাকেই জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে স্থির করবেন তখন মনে রাখবেন যে এ পথে আপনার সামনে রয়েছে এক অপূর্ব মডেল বা আদর্শ। এই মডেল হচ্ছেন রসুল সা.। প্রায়ই আমরা আমাদের পিতা-মাতা, শিক্ষক, বন্ধু বা আমাদের দৃষ্টিকাড়া খেলাধুলা-তারকাদের আমাদের আদর্শ বানাই, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে আপনার আত্মিক উন্নয়নের জন্য উত্তম আদর্শ হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালার রসুল সা.। এ বিষয়ে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

প্রকৃতপক্ষে তোমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার রসুলের জীবনে এক সর্বোত্তম নমুনা বর্তমান আছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ তায়ালা এবং পরকালের আস্থাশীল এবং যে খুব বেশি করে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে (সুরা আহযাব, ৩৩: ২১)।

📘 সুবহে সাদিক আধ্যাত্মিক ও আত্মন্নয়ন ভাবনা > 📄 আশীর্বাদ ও সুফল

📄 আশীর্বাদ ও সুফল


আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার চেষ্টা তখনই সফল হবে যখন আপনি এই লক্ষ্যকে জান্নাত অর্জনের লক্ষ্যের সাথে একীভূত করবেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনের পন্থাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন। তখন এই সমগ্র অনুসৃত প্রক্রিয়া শুধু আপনার আত্মাকেই বিশুদ্ধ করবে না বরং তা আপনার সমগ্র জীবনকেই আল্লাহ তায়ালার রঙে রঞ্জিত করবে এবং তখন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা অনুসরণই আপনার জন্য সহজতম মনে হবে। তখন দেখবেন যে অবচেতনভাবেই আপনার কৃত সকল কাজ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অনুযায়ী হচ্ছে এবং আপনি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির দিকে তথা জান্নাতের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

আপনাকে মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি পাপই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় ক্ষমাযোগ্য এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমাই হচ্ছে বেহেশত প্রাপ্তির উপায়। একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত; আপনি আপনার নিজের আত্মিক মানোন্নয়নের চেষ্টা করবেন অন্যদিকে সব সময় নিজের ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট মাফ চাইতে থাকবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

এবং যারা তওবা করে নিয়েছে এবং ইমান এনে নেক আমল করতে শুরু করেছে তাদের দোষত্রুটি ও অন্যায়কে আল্লাহ তায়ালা ভালো দ্বারা বদলে দিবেন; আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াবান (সুরা ফুরকান, ২৫ : ৭০)।

এটা ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র বেহেশত অর্জন জীবনের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করলেই তা পাওয়া যায়। তেমনি এটাও ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমেই বেহেশত পাওয়া যায়। বরং বাস্তবতা হচ্ছে এটাই যে বেহেশত অর্জনের ইচ্ছে থাকলে সেটাকে জীবনের মূল লক্ষ্য ধরে জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে তাক্বিয়ার আওতায় আনতে হবে। জীবনের প্রত্যেকটা কাজকে তাক্বিয়ার আওতায় আনার জন্য নিচের প্রশ্নমালা খেয়াল করুন -

১. বেহেশত হাসিলের জন্য সততা কি একটি মাধ্যম নয়?
২. দায়িত্বানুভূতি কি আমাকে বেহেশতে যেতে সক্ষম করে তুলবে না?
৩. মানুষের অভাব মোচনের চেষ্টা কি আমাকে বেহেশতে প্রবেশের উপযুক্ত করবে না?
৪. সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্পর্কে আমার সচেতনতা কি বেহেশত অর্জনের মাধ্যম নয়?
৫. নিষ্ফল কথাবর্তা ও উদ্দেশ্যহীন কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা কি আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না?
৬. ওয়াদা পালন করা এবং সময়মতো নামাজ পড়া যা খোদাভীরুতার বিশেষ পরিচয় কি আমাকে বেহেশত প্রবেশের রাজপথে তুলে দেবে না?
৭. উপরের সবগুলো কাজই কি বেহেশত অর্জনে বাঞ্ছিত নয়?

বস্তুত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিবেদিত প্রতিটি বৈধ কাজই তাকিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

এভাবে ইনশাআল্লাহ্, যদি আপনি উপরে আলোচিত তাক্বিয়া অর্জনের সব পন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে মনোযোগী হন তবে আপনি অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় সঠিক পথের সন্ধান পাবেন, যোগ্য এবং সৎ বন্ধু ও সাথি পাবেন যাদের সহায়তায় আপনার আত্মগঠন প্রক্রিয়া সহজ এবং সফল হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

অতএব, সুসংবাদ দাও আমার সেই বান্দাদেরকে যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং এর উত্তম দিকগুলো অনুযায়ী আমল করে। এরা সেই লোক যাদের আল্লাহ তায়ালা হেদায়েত নসিব করেছেন আর এরাই হচ্ছে প্রজ্ঞাবান (সুরা যুমার, ৩৯: ১৭-১৮)।

আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার চেষ্টা তখনই সফল হবে যখন আপনি এই লক্ষ্যকে জান্নাত অর্জনের লক্ষ্যের সাথে একীভূত করবেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনের পন্থাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন। তখন এই সমগ্র অনুসৃত প্রক্রিয়া শুধু আপনার আত্মাকেই বিশুদ্ধ করবে না বরং তা আপনার সমগ্র জীবনকেই আল্লাহ তায়ালার রঙে রঞ্জিত করবে এবং তখন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা অনুসরণই আপনার জন্য সহজতম মনে হবে। তখন দেখবেন যে অবচেতনভাবেই আপনার কৃত সকল কাজ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অনুযায়ী হচ্ছে এবং আপনি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির দিকে তথা জান্নাতের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

আপনাকে মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি পাপই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় ক্ষমাযোগ্য এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমাই হচ্ছে বেহেশত প্রাপ্তির উপায়। একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত; আপনি আপনার নিজের আত্মিক মানোন্নয়নের চেষ্টা করবেন অন্যদিকে সব সময় নিজের ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট মাফ চাইতে থাকবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

এবং যারা তওবা করে নিয়েছে এবং ইমান এনে নেক আমল করতে শুরু করেছে তাদের দোষত্রুটি ও অন্যায়কে আল্লাহ তায়ালা ভালো দ্বারা বদলে দিবেন; আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াবান (সুরা ফুরকান, ২৫ : ৭০)।

এটা ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র বেহেশত অর্জন জীবনের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করলেই তা পাওয়া যায়। তেমনি এটাও ভ্রান্ত ধারণা যে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমেই বেহেশত পাওয়া যায়। বরং বাস্তবতা হচ্ছে এটাই যে বেহেশত অর্জনের ইচ্ছে থাকলে সেটাকে জীবনের মূল লক্ষ্য ধরে জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে তাক্বিয়ার আওতায় আনতে হবে। জীবনের প্রত্যেকটা কাজকে তাক্বিয়ার আওতায় আনার জন্য নিচের প্রশ্নমালা খেয়াল করুন -

১. বেহেশত হাসিলের জন্য সততা কি একটি মাধ্যম নয়?
২. দায়িত্বানুভূতি কি আমাকে বেহেশতে যেতে সক্ষম করে তুলবে না?
৩. মানুষের অভাব মোচনের চেষ্টা কি আমাকে বেহেশতে প্রবেশের উপযুক্ত করবে না?
৪. সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্পর্কে আমার সচেতনতা কি বেহেশত অর্জনের মাধ্যম নয়?
৫. নিষ্ফল কথাবর্তা ও উদ্দেশ্যহীন কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা কি আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না?
৬. ওয়াদা পালন করা এবং সময়মতো নামাজ পড়া যা খোদাভীরুতার বিশেষ পরিচয় কি আমাকে বেহেশত প্রবেশের রাজপথে তুলে দেবে না?
৭. উপরের সবগুলো কাজই কি বেহেশত অর্জনে বাঞ্ছিত নয়?

বস্তুত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিবেদিত প্রতিটি বৈধ কাজই তাকিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

এভাবে ইনশাআল্লাহ্, যদি আপনি উপরে আলোচিত তাক্বিয়া অর্জনের সব পন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে মনোযোগী হন তবে আপনি অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার দয়ায় সঠিক পথের সন্ধান পাবেন, যোগ্য এবং সৎ বন্ধু ও সাথি পাবেন যাদের সহায়তায় আপনার আত্মগঠন প্রক্রিয়া সহজ এবং সফল হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

অতএব, সুসংবাদ দাও আমার সেই বান্দাদেরকে যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং এর উত্তম দিকগুলো অনুযায়ী আমল করে। এরা সেই লোক যাদের আল্লাহ তায়ালা হেদায়েত নসিব করেছেন আর এরাই হচ্ছে প্রজ্ঞাবান (সুরা যুমার, ৩৯: ১৭-১৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00