📄 স্বচক্ষে দেখে অর্জিত ইয়াকীনের মর্যাদা
৮৬০. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, “যুননুনকে বলতে শুনেছি : 'প্রকৃতপক্ষেই যখন অন্তরে ইয়াকীন স্থান লাভ করে, তখন তাতে আল্লাহর প্রকৃত ভয় চলে আসে।"
৮৬১. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, “যুননুনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'ইয়াকীনের অধিকারীরা গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে কেন?' তাকে এর উত্তরে বলতে শুনেছি: 'গুনাহের কারণে তারা নিজেদের ওপরই অবিচার করে, আর এ অবিচারের মাধ্যমে আল্লাহ তাদের ওপর নিজ অনুগ্রহ ও ইহসানের ক্ষমতা বোঝাতে চান। তাদের নতুন নতুন নিয়ামাত দিতে চান। তিনি চান, যেন তারা তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে উঁচু স্তরে উন্নীত হতে পারে। অন্তরে যদি প্রকৃত ইয়াকীন স্থান পায়, তাহলে এর ফল হিসেবে বিবেক-বুদ্ধি পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। আর বান্দার আমলের হাকীকাতের মাধ্যমে ইয়াকীনের নূর স্থিরতা লাভ করে। বিবেক-বুদ্ধির মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর ফরয বিধান আদায় করে, তাঁর নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকে এবং আল্লাহ তাআলার বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে থাকে। অন্তরে সবসময় এক ধরনের বেদনা অনুভব করে সে। আসলে বান্দা যেন পরকাল এবং পরকালীন বিষয়াদি পর্যবেক্ষণের সুযোগ লাভ করে, সেজন্যই আল্লাহ তাআলা অন্তরে ইয়াকীন তৈরি করে দেন।”
৮৬২. ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
ليس الخبر كالمعاينة، إنَّ الله تعالى خبر موسى بما صنع قومه في العجل، فلم يلق الألواح، فلما عاين ما صنعوا، أَلقى الألواح
"শুনে জানতে পারা আর স্বচক্ষে দেখা একইরকম নয় (যেমন) মূসা -এর স্বজাতির বাছুরপূজার ঘটনা আল্লাহ তাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এই সংবাদ পেয়ে তিনি আল্লাহর দেওয়া ফলক ফেলে দেননি। কিন্তু যখন তিনি প্রকৃত অবস্থা স্বচক্ষে দেখেছেন, তখন (রাগের মাথায়) সেই ফলক ফেলে দিয়েছেন।”[৫৭২]
টিকাঃ
[৫৭২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ১/২১৫, ২৭১; এই হাদীসের সনদ সহীহ。