📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 ইয়াকীনের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন

📄 ইয়াকীনের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন


৮৫৪. আবূ মুহাম্মাদ আল জারিরি বলেন, "আমি সাহাল ইবনু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: 'তোমরা যবকে খাবার বানাও, ক্ষুধাকে তরকারি বানাও, খেজুরকে মিষ্টান্ন বানাও, পশমকে কাপড় বানাও, মাসজিদকে ঘর বানাও, সূর্যকে শীত বস্ত্র বানাও, চাঁদকে বাতি বানাও, পানিকে সুগন্ধি বানাও, সতর্কতাকে দ্বীন বানাও, সকল বিষয়ের সন্তুষ্টিকে তোমাদের নিদর্শন বানাও, আল্লাহভীতিকে পাথেয় বানাও। দিনে ঘুমাবে আর রাতে খানা খাবে। যিকর যেন হয় তোমাদের কথা। চিন্তাভাবনা এবং শিক্ষাগ্রহণ যেন হয় তোমাদের লক্ষ্য- উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা যেন তোমাদের আশ্রয়স্থল এবং সাহায্যকারী হন। লজ্জা যেন হয় তোমাদের পোশাক। আস্থা যেন হয় তোমাদের সম্পদ। মৃত্যু পর্যন্ত তোমাদের অন্তরকে এভাবেই তৈরি করে নাও। বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত অন্তর দিয়ে আল্লাহকে না দেখে, অদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ না করে এবং ইয়াকীন তার কাছে ধরা না দেয়, ততক্ষণ সে এই বিষয়গুলোর পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারে না। যখন সে এগুলো লাভ করে, তখন কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায় তার জন্য। ইয়াকীন অর্জনের মাধ্যমে তারা পানি ও বাতাসের ওপরও হাঁটতে পারে। যে ব্যক্তি এগুলো অর্জন করতে পারল না, সে যেন কোনো কিছুই অর্জন করতে পারল না।”

৮৫৫. ওহাইব আল মাক্কি থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
لَوْ عَرَفْتُمُ اللهَ حَقَّ مَعْرِفَتِهِ لَعَلِمْتُمُ الْعِلْمَ الَّذِي لَيْسَ مَعَهُ جَهْلٌ ، وَلَوْ عَرَفْتُمُ اللهَ حَقَّ مَعْرِفَتِهِ لَزَالَتِ الْجِبَالُ بِدُعَائِكُمْ ، وَمَا أُتِيَ أَحَدٌ مِنَ الْيَقِينِ شَيْئًا إِلَّا مَا لَمْ يُؤْتَ مِنْهُ أَكْثَرُ مِمَّا أُتِيَ ، قَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ : وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : وَلَا أَنَا
"যদি তোমরা ভালোভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে, তাহলে এমন ইলম অর্জন করতে পারতে যার সাথে কোনো অজ্ঞতা নেই। যদি ভালোভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে সক্ষম হতে, তাহলে তোমাদের দুআতে পাহাড় পর্যন্ত টলে যেত। কাউকে ইয়াকীনের চেয়ে অধিক কিছু প্রদান করা হয়নি।” মুয়ায ইবনু জাবাল তখন বলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনাকেও না?” তিনি বলেন, “আমাকেও না।”
মুয়ায ইবনু জাবাল বলেন, "ঈসা ইবনু মারিয়াম পানির ওপর দিয়ে হাঁটতেন বলে জানি!" নবি তখন বলেন, "যদি তিনি আরও বেশি ইয়াকীনের অধিকারী হতেন, তাহলে শূন্যেও হাঁটতে পারতেন।”[৫৬৭]

৮৫৬. হিলাল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইম থেকে বর্ণিত, হাওয়ারিরা [৫৬৮] একবার তাদের নবি ঈসা-কে হারিয়ে ফেলে। তখন তাদের বলা হলো, "সমুদ্র অভিমুখে যাও।” তারা তাঁকে খুঁজতে সমুদ্র অভিমুখে চলতে লাগল। সমুদ্রের কাছে পৌঁছে দেখতে পেল, তিনি পানির ওপর হেঁটে হেঁটে আসছেন। সমুদ্রের ঢেউ তাঁকে একবার ওপরে তোলে আরেকবার নিচে নামায়। আর তাঁর পরনে কেবল একটি চাদর, যার অর্ধেকটা দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ ঢাকা আর বাকি অর্ধেকটা দিয়ে নিচের অংশ। এ সুরতে হেঁটে হেঁটে তিনি তাদের কাছে পৌঁছলে তাদের একজন বলে, “আল্লাহর নবি, আমরাও আসি?” এই বলে তিনি এক পা পানিতে রেখে আরেক পা রাখতে গিয়েই বলে উঠেন, “নবিজি, নবিজি! আমি তো ডুবে গেলাম।” ঈসা তখন বলেন, “আরে অল্প ঈমানওয়ালা, হাতটা বাড়াও।” এরপর তিনি বলেন, “যদি বনী আদম যব পরিমাণ ইয়াকীনেরও অধিকারী হত, তাহলে সে পানির ওপর হাঁটতে পারত।”[৫৬৯]

৮৫৭. আল্লাহ তাআলার বাণী: أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ * لِيَوْمٍ عَظِيمٍ “এরা কি চিন্তা করে না যে, এরা পুনরুত্থিত হবে মহাদিবসে?”[৫৭০]
গাইলান আবী আবদিল্লাহ বলেন, “আমি হাসানকে এ আয়াত তিলাওয়াত করে বলতে শুনেছি : 'মানুষ যদি এ চিন্তাও করত, তবুও সঠিক পথের নিকটবর্তী হয়ে যেত।”

৮৫৮. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আহমাদ ইবনু আসিম আন্তাকিকে বলতে শুনেছি : 'সামান্য ইয়াকীন-ই অন্তর থেকে সকল ধরনের সন্দেহ- সংশয় দূর করে দেয়। আর সামান্য সন্দেহই অন্তর থেকে সকল ইয়াকীন বিদূরিত করে দেয়।”[৫৭১]

টিকাঃ
[৫৬৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/ ১৫৬; এর সনদ মুনকাতি ও মুরসাল。
[৫৬৮] ঈসা ইবনু মারিয়াম-এর সাহাবিদের হাওয়ারি বলা হয়。
[৫৬৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৫৭。
[৫৭০] সূরা মুতাফফিফীন, ৮৩: ৫。
[৫৭১] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৩/১২৮。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 ইয়াকীনের আরও আলামত

📄 ইয়াকীনের আরও আলামত


৮৫৯. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, "আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি: 'তিনটি বিষয় হলো ইয়াকীনের আলামত। উঠাবসায় মানুষের সাথে বিরোধিতা কমিয়ে আনা, দান করে মানুষের প্রশংসায় কান না দেয়া, আর বিপদাপদে এবং কোনো কিছু না পেলে তাদের নিন্দা থেকে বেঁচে থাকা। আর ইয়াকীনের আলামত হচ্ছে তিনটি। তা হচ্ছে, সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রতি লক্ষ করা, সর্ববিষয়ে তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তন করা এবং সর্বাবস্থায় তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়া。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 স্বচক্ষে দেখে অর্জিত ইয়াকীনের মর্যাদা

📄 স্বচক্ষে দেখে অর্জিত ইয়াকীনের মর্যাদা


৮৬০. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, “যুননুনকে বলতে শুনেছি : 'প্রকৃতপক্ষেই যখন অন্তরে ইয়াকীন স্থান লাভ করে, তখন তাতে আল্লাহর প্রকৃত ভয় চলে আসে।"

৮৬১. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, “যুননুনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'ইয়াকীনের অধিকারীরা গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে কেন?' তাকে এর উত্তরে বলতে শুনেছি: 'গুনাহের কারণে তারা নিজেদের ওপরই অবিচার করে, আর এ অবিচারের মাধ্যমে আল্লাহ তাদের ওপর নিজ অনুগ্রহ ও ইহসানের ক্ষমতা বোঝাতে চান। তাদের নতুন নতুন নিয়ামাত দিতে চান। তিনি চান, যেন তারা তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে উঁচু স্তরে উন্নীত হতে পারে। অন্তরে যদি প্রকৃত ইয়াকীন স্থান পায়, তাহলে এর ফল হিসেবে বিবেক-বুদ্ধি পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। আর বান্দার আমলের হাকীকাতের মাধ্যমে ইয়াকীনের নূর স্থিরতা লাভ করে। বিবেক-বুদ্ধির মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর ফরয বিধান আদায় করে, তাঁর নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকে এবং আল্লাহ তাআলার বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে থাকে। অন্তরে সবসময় এক ধরনের বেদনা অনুভব করে সে। আসলে বান্দা যেন পরকাল এবং পরকালীন বিষয়াদি পর্যবেক্ষণের সুযোগ লাভ করে, সেজন্যই আল্লাহ তাআলা অন্তরে ইয়াকীন তৈরি করে দেন।”

৮৬২. ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
ليس الخبر كالمعاينة، إنَّ الله تعالى خبر موسى بما صنع قومه في العجل، فلم يلق الألواح، فلما عاين ما صنعوا، أَلقى الألواح
"শুনে জানতে পারা আর স্বচক্ষে দেখা একইরকম নয় (যেমন) মূসা -এর স্বজাতির বাছুরপূজার ঘটনা আল্লাহ তাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এই সংবাদ পেয়ে তিনি আল্লাহর দেওয়া ফলক ফেলে দেননি। কিন্তু যখন তিনি প্রকৃত অবস্থা স্বচক্ষে দেখেছেন, তখন (রাগের মাথায়) সেই ফলক ফেলে দিয়েছেন।”[৫৭২]

টিকাঃ
[৫৭২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ১/২১৫, ২৭১; এই হাদীসের সনদ সহীহ。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00