📄 নফসের আধিক্যের চেয়ে হালাল-হারাম ঠিক রাখা বেশি জরুরি
৮৪৪. আবদুর রহমান ইবনু মাইসারা আল হাদরামি থেকে বর্ণিত, উমার ইবনু আবদিল আযীয বলেছেন: “দিনে সাওম থাকা এবং রাতে লম্বা সময় সালাত আদায় করা আর এর মধ্যবর্তী সময়ে নিজেকে হালাল-হারام কাজে একাকার করে ফেলার নাম তাকওয়া নয়। বরং তাকওয়া হলো আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা পরিত্যাগ করা। আর তিনি যা আবশ্যক করেছেন, তা আদায় করা। এরপর যদি কাউকে অর্থ-সম্পদ প্রদান করা হয়, তাহলে সেটা তো সোনায়-সোহাগা।”[৫৬১]
টিকাঃ
[৫৬১] ইবনুল জাওযী, সীরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, ২৩৯。
📄 যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা তাকওয়া
৮৪৫. আসিম আল আহওয়াল থেকে বর্ণিত, একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হলে তালক ইবনু হাবিব বলেন, “তাকওয়ার মাধ্যমে এ ফিতনা থেকে বেঁচে থাকো।” তখন বকর ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “যদি সংক্ষেপে একটু তাকওয়ার ব্যাখ্যা করতেন!” তিনি উত্তরে বলেন, "তাকওয়া হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নূরের ভিত্তিতে তাঁর রহমত পাওয়ার আশায় তাঁর আনুগত্য করে যাওয়া। তাকওয়া হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নূরের ভিত্তিতে আল্লাহর আযাবের ভয়ে গুনাহ ও পাপাচার পরিত্যাগ করা।"
📄 আল্লাহভীরুতার তিন প্রমাণ
৮৪৬. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, দাউদ একদিন তাঁর ছেলে সুলাইমান-কে বলেন: “তিনটি বিষয় আল্লাহভীরুতার প্রমান বহণ করে: এক. আপতিত বিপদাপদে উত্তমভাবে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। দুই. আল্লাহ তাআলা যা দিয়েছেন, উত্তমভাবে তাতে সন্তুষ্ট থাকা। তিন. অপেক্ষমান বিষয়ে উত্তমরূপে ধৈর্য ধারণ করা।”
📄 ইয়াকীনের স্বরূপ
৮৪৭. তিনি বলেন, “আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি : 'তিনটি বিষয় হলো ইয়াকীনের আলামত। সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রতি লক্ষ্য করা, সকল বিষয়ে তাঁর নিকট ফিরে যাওয়া এবং সর্বক্ষেত্রেই তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়া।”
৮৪৮. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “সিররিকে তার এক সঙ্গীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছি : 'যেসব বিষয় ঈমানকে দুর্বল করে ফেলে, সে বিষয়ে বেশি চিন্তাভাবনা করবে না। কেননা ঈমানের দুর্বলতা হলো সকল গুনাহ, দুশ্চিন্তা ও টেনশনের মূল। এর পরিবর্তে ওইসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে, যা অন্তরে ইয়াকিন তৈরি করে থাকে। কারণ ইয়াকিনের মাধ্যমে সকল আনুগত্য করা যায়। এর মাধ্যমেই সকল দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা যায়। এটাই তোমাকে এসব ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ রাখবে এবং সকল প্রশান্তি ও আনন্দের নিকটবর্তী করে দেবে。
নবি থেকে এমনটাই বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন:
مَا أُوتِيَ عَبْدُ خَيْرٌ لَهُ مِنَ اليَقِينِ
বান্দাকে ইয়াকীনের চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করা হয়নি।”[৫৬২]
৮৪৯. আবূ উসমান বলেন, “আমি সিররিকে বলতে শুনেছি : ইয়াকীন কাকে বলে, জানো? আমলের সময় অন্তর প্রশান্ত থাকা। শয়তানের পক্ষ থেকে তাতে কোনো ভয়ভীতির স্থান না থাকা। কোনোরূপ আশঙ্কা তাতে প্রভাব বিস্তার না করা। অন্তর এতটাই প্রশান্ত থাকা যে, তাতে দুনিয়ার কমবেশ কোনো ধরনের ভয়ভীতি বিদ্যমান না থাকা। অন্তরে যদি কোনো কল্যাণকর কাজের ইচ্ছা জাগে, তাহলে তাতে বাধা প্রদানকারী কোনো চিন্তার উদ্রেক না ঘটা। এমন কোনো চিন্তা মনে না আসা, যা অন্তরকে সেই কল্যাণ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্বল বানিয়ে দেয়। বরং কল্যাণকর কাজটি অন্তরে এমন স্থিরতা দান করে যে, মনে হবে যেন এটাই অন্তরের স্বভাবজাত বিষয়। বিষয়টা অন্তরে এতটা দৃঢ় থাকা, যেন এর ওপর কোনো পাহাড় স্থাপন করা হয়েছে। জেনে রাখো, কেবল আল্লাহ তাআলার মাধ্যমেই উপকার লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা না চাইলে কোনো কিছুই হয় না। আর তাঁর ইচ্ছা ছাড়া মানুষ কোনো কিছু করতে সক্ষম নয়। এই বিষয়টি অন্তরে স্থিরতা লাভ করলে, কেবল আল্লাহর ওপরই বিশ্বাসীদের অন্তর প্রশান্ত হয়ে উঠে, অন্য কিছুতে নয়। তখন সে আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে কোনো কিছুর আশা রাখে না, তাঁকে ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। তার অন্তর থেকে সৃষ্টিজীবের সকলের আশা- আকাঙ্ক্ষা ও ভয়ভীতি বিদূরীত হয়ে যায়। তাই সে কারও ওপর নির্ভর করে না। কারও অর্থ-সম্পদ, দেহ বা কৌশল—কোনো কিছুর ওপরই সে ভরসা করে না। এভাবেই সে আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে উঠে এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে যায়।”
টিকাঃ
[৫৬২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ১/৮; সনদ হাসান。