📄 প্রতিবার মিশরে তাকওয়ার আলোচনা করা
৮৪০. আয়িশা বলেন, “নবি যতবার মিম্বারে উঠেছেন, প্রত্যেক বারই তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনেছি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
'হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের কার্যাবলী সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসফল্য অর্জন করবে। [৫৫৭][৫৫৮]
টিকাঃ
[৫৫৭] সূরা আহযাব, ৩৩: ৭১。
[৫৫৮] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসুর, ৬/৬৬৭。
📄 পূর্বের আসমানি কিতাবে তাকওয়ার গুরুত্ব
৮৪১. আমর ইবনুল হুসাইন বলেন, “আমার বাবাকে বলতে শুনেছি: ‘তাওরাতে লেখা রয়েছে, আল্লাহকে খোঁজো, তাহলে তাঁকে পেয়ে যাবে। তাঁকে ভয় করো, তাহলে বেঁচে যাবে। কেবল পান করবে, তাহলেই পরিতৃপ্ত হবে। যে ব্যক্তি পরামর্শ করে না, সে লজ্জিত হয়। দারিদ্র্য হলো লাল মৃত্যু।”[৫৫৯]
৮৪২. সালাম ইবনু মিসকিন থেকে বর্ণিত, কাতাদা বলেছেন, "তাওরাতে লেখা রয়েছে: 'হে বনী আদম, আল্লাহকে ভয় করে তুমি যেখানে খুশি, সেখানে ঘুমিয়ে যেতে পারো। কারণ, তখন আল্লাহ তাআলাই তোমার সাথে থাকবেন। সকল বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেন তোমাকে।' এরপর তিনি বলেন:
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَواْ وَالَّذِينَ هُم تُحْسِنُونَ
'নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ণ।”[৫৬০]
টিকাঃ
[৫৫৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৪/৪৮; (এতে উল্লিখিত বিষয়টির কিয়দাংশ রয়েছে)。
[৫৬০] সূরা নাহল, ১৬: ১২৮。
📄 কাঁটাভরা পথে সাবধানে চলার উপমা
৮৪৩. সুহাইল ইবনু আবী সালিহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি আবূ হুরায়রা -কে জিজ্ঞেস করে, “তাকওয়া কী?” আবূ হুরায়রা তাকে বলেন, “কখনো কাঁটা-বিছানো-রাস্তায় হেঁটেছ?” লোকটি বলে, “হ্যাঁ।” তিনি তখন বলেন, “তখন পথ চলেছ কীভাবে?” সে উত্তরে বলে, "কাঁটা থেকে দূরে দূরে হেঁটেছি কিংবা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।” আবূ হুরায়রা বলেন, “এটাই তাকওয়া।”
📄 নফসের আধিক্যের চেয়ে হালাল-হারাম ঠিক রাখা বেশি জরুরি
৮৪৪. আবদুর রহমান ইবনু মাইসারা আল হাদরামি থেকে বর্ণিত, উমার ইবনু আবদিল আযীয বলেছেন: “দিনে সাওম থাকা এবং রাতে লম্বা সময় সালাত আদায় করা আর এর মধ্যবর্তী সময়ে নিজেকে হালাল-হারام কাজে একাকার করে ফেলার নাম তাকওয়া নয়। বরং তাকওয়া হলো আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা পরিত্যাগ করা। আর তিনি যা আবশ্যক করেছেন, তা আদায় করা। এরপর যদি কাউকে অর্থ-সম্পদ প্রদান করা হয়, তাহলে সেটা তো সোনায়-সোহাগা।”[৫৬১]
টিকাঃ
[৫৬১] ইবনুল জাওযী, সীরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, ২৩৯。