📄 দানশীলতার মাধ্যমে রিযক সহজ হওয়া
৮৩৪. ইমরান ইবনু হুসাইন বলেন, "নবি একদিন পেছন দিক থেকে এসে আমার পাগড়ি ধরে বলেন:
يَا عِمْرَانُ ، إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الإِنْفَاقَ ، وَيُبْغِضُ الإِقْتَارَ ، فَأَنْفِقْ وَأَطْعِمْ ، وَلَا تُصِرُّ صَرًا ، فَيَعْسُرَ عَلَيْكَ الطَّلَبُ ، وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُحِبُّ النَّظَرَ النَّاقِدَ عِنْدَ مَجِيءِ الشُّبُهَاتِ ، وَالْعَقْلَ الْكَامِلَ عِنْدَ نُزُولِ الشَّهَوَاتِ ، وَيُحِبُّ السَّمَاحَةَ وَلَوْ عَلَى تَمَرَاتٍ ، وَيُحِبُّ الشَّجَاعَةَ وَلَوْ عَلَى قَتْلِ حَيَّةٍ
'ইমরান, আল্লাহ দান করা পছন্দ করেন, কৃপণতা অপছন্দ করেন। তাই দান করো, মানুষকে খাওয়াও। কৃপণতা কোরো না। না হলে রিযক খোঁজাটা তোমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। জেনে রাখো, সন্দেহজনক বিষয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা সূক্ষ্ম দৃষ্টিপাত পছন্দ করেন। আর প্রবৃত্তির লালসার ক্ষেত্রে পছন্দ করেন পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা। তিনি বদান্যতা পছন্দ করেন। এমনকি তা কয়েকটি খেজুর দিয়ে হলেও। আর পছন্দ করেন সাহসিকতা, এমনকি কোনো সাপ হত্যার মাধ্যমে হলেও।”[৫৫১]
টিকাঃ
[৫৫১] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৬/৫৮২, ১৫/৮৯২。
📄 জান্নাতি কিংবা জাহান্নামি হওয়ার প্রধান কারণ
৮৩৫. আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি একদিন সাহাবিদের বলেন:
أتدرون ما أكثر ما يُدخل الناسُ النار؟ قالوا : الله ورسوله أعلم، قال: فإنّ أكثر ما يُدخل الناس النار الأجوفان: الفرج والفم، أتدرون ما أكثر ما يدخل الناس الجنّة؟ قالوا: الله ورسوله أعلم، قال: فإن أكثر ما يُدخل الناس الجنة تقوى اللهِ وحُسْنُ الخلق
“মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করার সবচেয়ে বড় কারণ কী, জানো?”
সাহাবায়ে কেরাম বলেন, “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালো জানেন।” নবি তখন বলেন, “দুটি গর্ত—মুখ ও লজ্জাস্থান। আর জান্নাতে প্রবেশ করার সবচেয়ে বড় কারণ জানো?” তারা আবারও বলেন, “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালো জানেন।” তিনি তখন বলেন, “আল্লাহর ভয় এবং উত্তম চরিত্র।”[৫৫২]
টিকাঃ
[৫৫২] তিরমিযি, আস সুনান, ২০০৪; হাদীসের সনদ সহীহ।
📄 সাহাবিকে তাকওয়া অবলম্বনের ওসিয়ত
৮৩৬. মুয়ায ইবনু জাবাল বলেন, “নবি একবার আমার হাত ধরে এক মাইল হেঁটে বলেন:
يا معاذ أُوصيك بتقوى الله، وصدق الحديث، ووفاء العهد وأداء الأمانة، وترك الخيانة، ورحم اليتيم، وحفظ الجوار، وكظم الغيظ، ولين الكلام، وبذل السلام، ولزوم الإمام، والتفقه في القرآن، وحب الآخرة، والجزع من الحساب، وقصر الأمل، وحسن العمل، وأنهاك أن تشتم مسلما، أو تُصدِّقَ كاذبًا، أو تُكَذِّبَ صادقا، أو تعصي إمامًا عادلا، وأن تُفسد في الأرض، يا معاذ اذكر الله عند كل شجر وحجر، وأحدث لكل ذنب توبة. السر بالسر، والعلانية بالعلانية
‘মুয়ায! আমি তোমাকে ওসিয়ত করছি আল্লাহকে ভয় করার, সত্য কথা বলার, ওয়াদা পূরণের, আমানত আদায় করার, খিয়ানত না করার, ইয়াতীমদের প্রতি অনুগ্রহ করার, নিরাপত্তা রক্ষা করার, ক্রোধ সংবরণ করার, নম্র কথা বলার, সালাম দেওয়ার, ইমামের আনুগত্য করে যাওয়ার, কুরআন কারীমের গভীর জ্ঞান অর্জনের, পরকালকে ভালোবাসার, হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে ভীতসন্ত্রস্ত থাকার, বড় বড় স্বপ্ন না দেখার, উত্তম আমল করার। আর আমি তোমাকে নিষেধ করছি কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া থেকে, মিথ্যুককে সত্যবাদী বলে আখ্যায়িত করা থেকে, সত্যবাদীকে মিথ্যুক আখ্যায়িত করা থেকে, ন্যায়পরায়ণ শাসকের অবাধ্যতা করা থেকে, পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা থেকে। মুয়ায, প্রতিটি গাছপালা আর পাথরের কাছে আল্লাহকে স্মরণ কোরো। গুনাহ হয়ে গেলে সাথে সাথে তাওবা করে নিয়ো। গোপনে গুনাহ হয়ে থাকলে গোপনে তাওবা করবে। আর প্রকাশ্যে হয়ে থাকলে প্রকাশ্যে।”[৫৫৩]
৮৩৭. মুহাম্মাদ ইবনু যুবাইর থেকে বর্ণিত আছে যে, নবি মুয়াযকে ইয়ামানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিদায় নেওয়ার সময় তিনি এসে নবি-কে সালাম দিয়ে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি চলে যাচ্ছি। আমাকে কিছু উপদেশ দিন।" নবি তখন বলেন:
يَا مُعَاذ اتَّقِ اللهَ ما اسْتَطَعْتَ، وَاعْمَلْ بِقُوَّتِكَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا أَطَقْتَ، وَاذْكُرِ الله عزّ وجلَّ عند كل شجرة وحجر، وإِنْ أَحْدَثْتَ ذَنْبًا، فَأَحْدِثُ عِندَهُ تَوْبَةٌ، إِنْ سِرًّا فَسِرٌ وَإِنْ عَلَانِيَةً فَعَلَانِيَةٌ.
“যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করবে, মুয়ায। যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মাধ্যমে আল্লাহর জন্য আমল করবে। সকল গাছপালা ও পাথরের কাছে আল্লাহর যিকর করবে (যাতে তারা কিয়ামাতের দিন তোমার ইবাদাতের সাক্ষী হয়ে যায়)। যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে সাথে সাথে তাওবা করে নিয়ো। গোপনে গুনাহ হলে গোপনে তাওবা করবে, আর প্রকাশ্যে হয়ে থাকলে প্রকাশ্যে।”[৫৫৪]
টিকাঃ
[৫৫৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/২৪০; এর সনদ যঈফ。
[৫৫৪] তাবারানি, আল মুজামুল কাবীর, ২০/১৫৯; এর সনদ হাসান。
📄 শিরক পরিহার করা আল্লাহভীতির অংশ
৮৩৮. আনাস ইবনু মালিক বলেন, "আমি নবি-কে তিলাওয়াত করতে শুনেছি:
وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ 'আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তারা উপদেশ গ্রহণ করবে না। একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী। [৫৫৫]
নবি এরপর বলেন, 'তোমাদের প্রতিপালক বলবেন, আমি হলাম সেই সত্তা, যার সাথে অন্য কাউকে ইলাহ বানানো যায় না। অতএব, যে ব্যক্তি আমার সাথে কাউকে ইলাহ বানানো থেকে বেঁচে থাকবে, সে আমার ক্ষমার উপযুক্ত।”[৫৫৬]
টিকাঃ
[৫৫৫] সূরা মুদ্দাসসির, ৭৪ : ৫৬。
[৫৫৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৩/ ১৪২, ১৪৩。