📄 হালাল উপার্জনের যুদ্ধ
৮২৫. হাম্বল ইবনু ইসহাক থেকে বর্ণিত, সুলাইমান ইবনুল হারব বলেছেন : "আসওয়াদ ইবনু শাইবানের চেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ আর কে হতে পারে? তিনি উটে চড়ে হাজ্জ করতে গিয়েছিলেন। পথে এ উটের দুধই ছিল তার খাদ্য। সে উটের পিঠে চড়েই হাজ্জ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। রাস্তায় উটের দুধ ছাড়া আর কিছুই খাননি। [৫৪৯]
তিনি অন্যের বাড়িতে থাকতেন। সেই বাড়ির একটি ঘরের ছাদ-ই ছিল না।”
৮২৬. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, "সিররি সাকতির সামনে একবার সাওয়াদে ইরাকের (ইরাকের গ্রামাঞ্চল) কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি তখন সেখানকার কোনো খাবার গ্রহণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে জমির মালিক হওয়াটাও তিনি অপছন্দ করতেন। অত্যন্ত কঠোরতা করতেন তিনি এ ব্যাপারে। সেখানকার কোনো শাক-সবজি ও ফল-ফলাদি খেতেন না। তেমনি সেখানকার কোনো কিছু গ্রহণ করা থেকেও যথাসাধ্য বিরত থাকতেন। আমি নিজে দেখেছি এক ব্যক্তি আলজাজিরা থেকে গুঁড় তৈরির ফল এবং শসা নিয়ে এসেছিল তার জন্য। তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। অথচ সন্দেহজনক বিষয় থেকে তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে বেঁচে থাকতেন।”
৮২৭. তিনি আরও বলেন, "সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি: 'আমি একবার তারসুস শহরে ছিলাম। যেই বাড়িতে থাকতাম, সে বাড়িতেই দুইজন ইবাদাতগুজার যুবক থাকত। রুটি তৈরির একটি বড় চুলা ছিল সেখানে। ওই যুবকেরা তাতে রুটি তৈরি করত। একবার চুলাটি ভেঙ্গে গেলে আমি আমার অর্থ দিয়েই তা সংস্কার করে দিই। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করি যে, এরপর থেকে তারা সে চুলায় আর কখনো রুটি তৈরি করেনি।'” [৫৫০]
৮২৮. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল ওয়াহহাব বলেন, আমি আলি ইবনু ইসামকে বলতে শুনেছি: "বিশর ইবনুল হারিস উব্বাদান নামক স্থানে দশ বছর অবস্থান করেছিলেন। এ সময় তিনি শুধু সমুদ্রের পানি পান করতেন। সুলতানদের তৈরি করা হাউজের পানি না। দীর্ঘদিন সমুদ্রের পানি পান করায় তার পেটে সমস্যা দেখা দেয়। তখন নিজের বোনের কাছে চলে আসেন তিনি। বোন তার দেখাশোনা করতেন। তিনি সুতা কাটার চরকা বিক্রি করে জীবিকা উপার্জন করতেন এ সময়।”
৮২৯. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, “আমি সিররি সাকতিকে আবূ ইউসুফ আল গাসুলির কথা আলোচনা করতে শুনেছি। আবূ ইউসুফ সবসময় সীমান্ত এলাকায় থাকতেন এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। রোমে কোনো অভিযানে গেলে তার সঙ্গীরা রোমানদের জবাই করা পশু-পাখি ও ফল-মূল খেত ঠিকই। কিন্তু তিনি খেতেন না। তারা তাকে তখন বলত, ‘আবূ ইউসুফ! এগুলো হালাল না?’ তিনি উত্তরে বলতেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ।’ তখন তারা বলত, ‘তাহলে খান!’ তিনি তখন বলতেন, ‘হালাল খাদ্যের মধ্যেই তো দুনিয়াবিমুখতার প্রয়োগ ঘটাতে হয়।”
৮৩০. মুহাম্মাদ ইবনু দাঊদ আদ দিনাওয়ারি বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনুল জালাকে বলতে শুনেছি : ‘আমি এমন এক ব্যক্তির কথা জানি, যিনি মক্কায় ত্রিশ বছর ছিলেন। এ সময় তিনি যমযম কূপের ততটুকু পানি পান করেছেন, যতটুকু পানি মশক ও পানি তুলতে ব্যবহৃত রশিতে থাকত। মিশর থেকে আমদানি করা খাবার কখনো খাননি তিনি।”
টিকাঃ
[৫৪৯] তাহযিবুত তাহযিব, ১/৩৪০。
[৫৫০] সিররি সাকতির অর্থের উৎস জানা না থাকায় তারা সতর্কতা হিসেবে এমন করেছিল।-অনুবাদক。
📄 মালিকানাহীন জিনিস গ্রহণ না করা
৮৩১. সাঈদ ইবনু উসমান আল হান্নাত বলেন, “সিররি ইবনু মুগাল্লাসকে বলতে শুনেছি : ‘একবার এক মরুভূমিতে আমি ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ি। পথিমধ্যে এক জায়গায় কিছু পানি ও তার আশপাশে ঘাস দেখতে পাই। বাহন থেকে নেমে বিশ্রাম নিতে থাকি সেখানে। তারপর নিজেই নিজেকে বলি, ‘সিররি! জীবনে হালাল খাবার এবং পানীয় গ্রহণের একটা সুযোগ এলে সেটা আজকেই।’ তখন হঠাৎ অদৃশ্য থেকে এক আওয়াজ শুনতে পাই, ‘সিররি ইবনু মুগাল্লাস, এগুলোর মূল্য পরিশোধ করলে কীভাবে?’ তখন আমার নিজেকে অনেক নীচু মনে হতে লাগল।”
৮৩২. মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন বলেন, “কথায় আছে, অর্থকড়ির ক্ষেত্রেই প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় পাওয়া যায়।”
📄 জমি-জমার ব্যাপারে তাকওয়া
৮৩৩. হিশাম বলেন, “ইবনু সিরিন একবার ওয়াসিত ও আহওয়াযের মধ্যবর্তী দুর্গ থেকে একটি জমি কিনেছিলেন। সেটা বিক্রি করলে তার আশি হাজার দিরহাম লাভ হতো। কিন্তু হঠাৎ এ জমির ব্যাপারে তার অন্তরে কিছু একটা সন্দেহ দেখা দেয়, তখন তা বাদ দিয়ে দেন তিনি। আল্লাহর কসম, তাতে সুদের কিছুই ছিল না।”
📄 দানশীলতার মাধ্যমে রিযক সহজ হওয়া
৮৩৪. ইমরান ইবনু হুসাইন বলেন, "নবি একদিন পেছন দিক থেকে এসে আমার পাগড়ি ধরে বলেন:
يَا عِمْرَانُ ، إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الإِنْفَاقَ ، وَيُبْغِضُ الإِقْتَارَ ، فَأَنْفِقْ وَأَطْعِمْ ، وَلَا تُصِرُّ صَرًا ، فَيَعْسُرَ عَلَيْكَ الطَّلَبُ ، وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُحِبُّ النَّظَرَ النَّاقِدَ عِنْدَ مَجِيءِ الشُّبُهَاتِ ، وَالْعَقْلَ الْكَامِلَ عِنْدَ نُزُولِ الشَّهَوَاتِ ، وَيُحِبُّ السَّمَاحَةَ وَلَوْ عَلَى تَمَرَاتٍ ، وَيُحِبُّ الشَّجَاعَةَ وَلَوْ عَلَى قَتْلِ حَيَّةٍ
'ইমরান, আল্লাহ দান করা পছন্দ করেন, কৃপণতা অপছন্দ করেন। তাই দান করো, মানুষকে খাওয়াও। কৃপণতা কোরো না। না হলে রিযক খোঁজাটা তোমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। জেনে রাখো, সন্দেহজনক বিষয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা সূক্ষ্ম দৃষ্টিপাত পছন্দ করেন। আর প্রবৃত্তির লালসার ক্ষেত্রে পছন্দ করেন পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা। তিনি বদান্যতা পছন্দ করেন। এমনকি তা কয়েকটি খেজুর দিয়ে হলেও। আর পছন্দ করেন সাহসিকতা, এমনকি কোনো সাপ হত্যার মাধ্যমে হলেও।”[৫৫১]
টিকাঃ
[৫৫১] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৬/৫৮২, ১৫/৮৯২。