📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহকে পাওয়ার অন্যতম উপায় তাকওয়া

📄 আল্লাহকে পাওয়ার অন্যতম উপায় তাকওয়া


৮১৫. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “আমি মুযাইয়ানকে বলতে শুনেছি: ‘মানুষ অন্বেষণ ছাড়া ইলম অর্জন করতে পারে না। ইলম ছাড়া আল্লাহভীরুতা অর্জন করতে পারে না। আল্লাহভীরুতা ছাড়া দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করতে পারে না। দুনিয়াবিমুখতা ছাড়া সবর অর্জন করতে পারে না। সবর ছাড়া শোকর তথা কৃতজ্ঞতা অর্জন করতে পারে না। আর শোকর ছাড়া রিযা তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। আর রিযা অর্জন ব্যতীত আল্লাহকে পেতে পারে না। রিযা হলো আল্লাহর তিক্ত ফায়সালাতেও অন্তর সন্তুষ্ট থাকা। শোকর হলো আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে তাঁর প্রতি অন্তরের বিনয়ী হয়ে উঠা। সবর হলো অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। দুনিয়াবিমুখতা হলো দুনিয়ার ভোগবিলাসিতা দুনিয়ার জন্য রেখে দেওয়া। আল্লাহভীরুতা হলো হারাম বিষয়ে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় সন্দেহজনক বিষয় থেকে সর্বশক্তি দিয়ে পলায়ন করা। তাকওয়ার সারকথা হলো, প্রশংসনীয় কি নিন্দনীয়—সর্বাবস্থায় অন্তরে আল্লাহর গভীর ভয় রাখা। ইলম হলো বিভিন্ন বস্তু মূল্যায়নের যোগ্যতা লাভ করা। আর তলব হলো উদ্দিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি আগ্রহ না থাকা।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হারাম খাদ্যের ফলে আমল কবুল হয় না

📄 হারাম খাদ্যের ফলে আমল কবুল হয় না


৮১৬. আবু বকর আল হারবি বলেন, “সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি : 'মুক্তি রয়েছে তিন বিষয়ে। উত্তম খাবারদাবার, পূর্ণাঙ্গ আল্লাহভীরুতা এবং হিদায়াতের পথ।”

৮১৭. বিশর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, ইউসুফ ইবনু আসবাত বলেছেন : “যখন কোনো যুবক ইবাদাতে লিপ্ত হয়, তখন ইবলিস তার সাঙ্গপাঙ্গদের বলে, 'দেখো তো, তার খাবারের ব্যাবস্থা কোত্থেকে হচ্ছে। খাবার-দাবারের উৎস খারাপ হলে বলে, 'তাকে তার মতো ছেড়ে দাও। আমাদের ব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সে মুজাহাদা করে ইবাদাত-বন্দেগী করতে থাকুক। নিজের খাবারের মাধ্যমেই সে তোমাদের কাজ করে দিয়েছে।”

৮১৮. জারিরি বলেন, “সাহাল ইবনু আবদিল্লাহকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি নিজের খাবার-দাবারের হালাল-হারামের প্রতি লক্ষ্য রাখে, তার মধ্যে আপনাতেই দুনিয়াবিমুখতা তৈরি হয়। আর যে নিজের নফসের সাথে কিংবা অন্য কারও সাথে তোষামোদি করে বেড়ায়, সে কখনো সঠিক পথের গন্ধও পাবে না।”

৮১৯. শুয়াইব ইবনুল হারব থেকে বর্ণিত, সুফিয়ান সাওরি বলেছেন: “তোমার অর্থ-সম্পদ কোত্থেকে আসছে, সেটার প্রতি লক্ষ রাখবে আর শেষ কাতারে সালাত আদায় করবে।”[৫৪৭]

৮২০. ইসহাক আল আনসারি থেকে বর্ণিত আছে যে, হুজাইফা আল মারআশি একদিন দেখেন, মানুষ প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। তখন তিনি বলেন, “এর চেয়ে বরং হালাল খাবার গ্রহণের প্রতিযোগিতা করা উচিত ছিল তাদের।”

৮২১. মাসউদি বলেন, “ইউনুস ইবনু উবাইদ বলেছেন: 'হালাল খাত থেকে একটা পয়সা পাওয়াও এখন আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।' ইউনুস ইবনু উবাইদের মতো ব্যক্তি যখন এই কথা বলেন, তখন আমাদের কথা তো বলাই বাহুল্য。

৮২২. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “আমি ফুযাইলকে বলতে শুনেছি : 'সত্তর বছরের ইবাদাতের চেয়ে হালাল খাতের এক পয়সা অধিক উত্তম।” তিনি আরও বলেন, “ফুযাইলকে বলতে শুনেছি: 'মাপে কম দেওয়াটা কিয়ামাতের দিন চেহারায় কালি লেপনের নামান্তর।”

৮২৩. ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আইয়ুব বলেন, “আমি সাহাল ইবনু আবদিল্লাহকে বলতে শুনেছি: 'আমাদের মৌলিক বিষয় হলো পাঁচটি। আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে থাকা, নবি ﷺ-এর সুন্নাত অনুসরণ করা, হালাল খাদ্য গ্রহণ করা, পাপাচার থেকে বিরত থাকা এবং হক আদায় করা।”[৫৪৮]

৮২৪. মালিক ইবনু আনাস থেকে বর্ণিত আছে, রবি ইবনু খাইসাম একবার এক সাথিকে বিদায় জানাতে তার সাথে চলছিলেন। বিদায় গ্রহণের সময় সাথি তাকে বলে, "আমাকে কিছু ওসিয়ত করুন।” রবি তখন বলেন, "উত্তম কাজ কোরো এবং হালাল খাদ্য খেয়ো।"

টিকাঃ
[৫৪৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৬৮。
[৫৪৮] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২১০; হিলইয়াতুল আউলিয়ায় আরেকটি অংশ অতিরিক্ত রয়েছে, তা হলো, কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং তাওবা করা। (হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/ ১৯০)

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হালাল উপার্জনের যুদ্ধ

📄 হালাল উপার্জনের যুদ্ধ


৮২৫. হাম্বল ইবনু ইসহাক থেকে বর্ণিত, সুলাইমান ইবনুল হারব বলেছেন : "আসওয়াদ ইবনু শাইবানের চেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ আর কে হতে পারে? তিনি উটে চড়ে হাজ্জ করতে গিয়েছিলেন। পথে এ উটের দুধই ছিল তার খাদ্য। সে উটের পিঠে চড়েই হাজ্জ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। রাস্তায় উটের দুধ ছাড়া আর কিছুই খাননি। [৫৪৯]
তিনি অন্যের বাড়িতে থাকতেন। সেই বাড়ির একটি ঘরের ছাদ-ই ছিল না।”

৮২৬. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, "সিররি সাকতির সামনে একবার সাওয়াদে ইরাকের (ইরাকের গ্রামাঞ্চল) কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি তখন সেখানকার কোনো খাবার গ্রহণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে জমির মালিক হওয়াটাও তিনি অপছন্দ করতেন। অত্যন্ত কঠোরতা করতেন তিনি এ ব্যাপারে। সেখানকার কোনো শাক-সবজি ও ফল-ফলাদি খেতেন না। তেমনি সেখানকার কোনো কিছু গ্রহণ করা থেকেও যথাসাধ্য বিরত থাকতেন। আমি নিজে দেখেছি এক ব্যক্তি আলজাজিরা থেকে গুঁড় তৈরির ফল এবং শসা নিয়ে এসেছিল তার জন্য। তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। অথচ সন্দেহজনক বিষয় থেকে তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে বেঁচে থাকতেন।”

৮২৭. তিনি আরও বলেন, "সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি: 'আমি একবার তারসুস শহরে ছিলাম। যেই বাড়িতে থাকতাম, সে বাড়িতেই দুইজন ইবাদাতগুজার যুবক থাকত। রুটি তৈরির একটি বড় চুলা ছিল সেখানে। ওই যুবকেরা তাতে রুটি তৈরি করত। একবার চুলাটি ভেঙ্গে গেলে আমি আমার অর্থ দিয়েই তা সংস্কার করে দিই। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করি যে, এরপর থেকে তারা সে চুলায় আর কখনো রুটি তৈরি করেনি।'” [৫৫০]

৮২৮. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল ওয়াহহাব বলেন, আমি আলি ইবনু ইসামকে বলতে শুনেছি: "বিশর ইবনুল হারিস উব্বাদান নামক স্থানে দশ বছর অবস্থান করেছিলেন। এ সময় তিনি শুধু সমুদ্রের পানি পান করতেন। সুলতানদের তৈরি করা হাউজের পানি না। দীর্ঘদিন সমুদ্রের পানি পান করায় তার পেটে সমস্যা দেখা দেয়। তখন নিজের বোনের কাছে চলে আসেন তিনি। বোন তার দেখাশোনা করতেন। তিনি সুতা কাটার চরকা বিক্রি করে জীবিকা উপার্জন করতেন এ সময়।”

৮২৯. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, “আমি সিররি সাকতিকে আবূ ইউসুফ আল গাসুলির কথা আলোচনা করতে শুনেছি। আবূ ইউসুফ সবসময় সীমান্ত এলাকায় থাকতেন এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। রোমে কোনো অভিযানে গেলে তার সঙ্গীরা রোমানদের জবাই করা পশু-পাখি ও ফল-মূল খেত ঠিকই। কিন্তু তিনি খেতেন না। তারা তাকে তখন বলত, ‘আবূ ইউসুফ! এগুলো হালাল না?’ তিনি উত্তরে বলতেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ।’ তখন তারা বলত, ‘তাহলে খান!’ তিনি তখন বলতেন, ‘হালাল খাদ্যের মধ্যেই তো দুনিয়াবিমুখতার প্রয়োগ ঘটাতে হয়।”

৮৩০. মুহাম্মাদ ইবনু দাঊদ আদ দিনাওয়ারি বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনুল জালাকে বলতে শুনেছি : ‘আমি এমন এক ব্যক্তির কথা জানি, যিনি মক্কায় ত্রিশ বছর ছিলেন। এ সময় তিনি যমযম কূপের ততটুকু পানি পান করেছেন, যতটুকু পানি মশক ও পানি তুলতে ব্যবহৃত রশিতে থাকত। মিশর থেকে আমদানি করা খাবার কখনো খাননি তিনি।”

টিকাঃ
[৫৪৯] তাহযিবুত তাহযিব, ১/৩৪০。
[৫৫০] সিররি সাকতির অর্থের উৎস জানা না থাকায় তারা সতর্কতা হিসেবে এমন করেছিল।-অনুবাদক。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মালিকানাহীন জিনিস গ্রহণ না করা

📄 মালিকানাহীন জিনিস গ্রহণ না করা


৮৩১. সাঈদ ইবনু উসমান আল হান্নাত বলেন, “সিররি ইবনু মুগাল্লাসকে বলতে শুনেছি : ‘একবার এক মরুভূমিতে আমি ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ি। পথিমধ্যে এক জায়গায় কিছু পানি ও তার আশপাশে ঘাস দেখতে পাই। বাহন থেকে নেমে বিশ্রাম নিতে থাকি সেখানে। তারপর নিজেই নিজেকে বলি, ‘সিররি! জীবনে হালাল খাবার এবং পানীয় গ্রহণের একটা সুযোগ এলে সেটা আজকেই।’ তখন হঠাৎ অদৃশ্য থেকে এক আওয়াজ শুনতে পাই, ‘সিররি ইবনু মুগাল্লাস, এগুলোর মূল্য পরিশোধ করলে কীভাবে?’ তখন আমার নিজেকে অনেক নীচু মনে হতে লাগল।”

৮৩২. মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন বলেন, “কথায় আছে, অর্থকড়ির ক্ষেত্রেই প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় পাওয়া যায়।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00