📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 কম কথা ও অধিক ভাবনা তাকওয়ার অংশ

📄 কম কথা ও অধিক ভাবনা তাকওয়ার অংশ


৮১১. আবূ আবদির রহমান থেকে বর্ণিত, উমার ইবনু আবদিল আযীয বলেছেন: “মুত্তাকী হলো ওই ব্যক্তি, যার মুখে লাগাম পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”[৫৪২]

৮১২. বিশর ইবনুল হারিস বলেন, "উমারকে বলতে শুনেছি: 'মুমিন সকল বিষয়েই প্রথমে চিন্তাভাবনা করে নেয়। কল্যাণকর হলে তা বাস্তবায়ন করে। আর অকল্যাণকর হলে তা থেকে বিরত থাকে।”

৮১৩. বিশর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, উমার ইবনু আবদিল আযীয বলেছেন: "মুমিনের মুখে লাগাম পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

টিকাঃ
[৫৪২] ইবনু সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ৫/৩৭৪。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 সংযোগ ও ইন্দ্রিয়ের তাকওয়া

📄 সংযোগ ও ইন্দ্রিয়ের তাকওয়া


৮১৪. মুহাম্মাদ ইবনু আবী তামিলা বলেন, “আমি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে বলতে শুনেছি: 'যে কারোর সাথে মেশা করা উচিত নয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ
তাদেরকে আমার আয়াত নিয়ে উপহাসে লিপ্ত দেখলে তাদের কাছ থেকে সরে পড়বেন, যে পর্যন্ত না তারা অন্য বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়।[৫৪3]

অপর এক আয়াতে তিনি বলেন:
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكَفِّرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِّثْلُهُمْ
আর কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। অন্যথায় তোমরাও তাদেরই মতো হয়ে যাবে। [৫৪8]
তেমনিভাবে মুমিন চাইলেই যে কারও দিকে তাকাতে পারে না, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। [৫৪৫]
তেমনি যে বিষয়ের জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথাবার্তা বলা, যে-কারও থেকে যে-কোনো কিছু শোনা ও যে-কোনো দিকে ছুটে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً
যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তর এদের প্রত্যেকটিই সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হবে।”[৫৪৬]

টিকাঃ
[৫৪৩] সূরা আনআম, ৬: ৬৮。
[৫৪8] সূরা নিসা, ৪: ১৪০。
[৫৪৫] সূরা নূর, ২৪: ৩০。
[৫৪৬] সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭: ৩৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহকে পাওয়ার অন্যতম উপায় তাকওয়া

📄 আল্লাহকে পাওয়ার অন্যতম উপায় তাকওয়া


৮১৫. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “আমি মুযাইয়ানকে বলতে শুনেছি: ‘মানুষ অন্বেষণ ছাড়া ইলম অর্জন করতে পারে না। ইলম ছাড়া আল্লাহভীরুতা অর্জন করতে পারে না। আল্লাহভীরুতা ছাড়া দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করতে পারে না। দুনিয়াবিমুখতা ছাড়া সবর অর্জন করতে পারে না। সবর ছাড়া শোকর তথা কৃতজ্ঞতা অর্জন করতে পারে না। আর শোকর ছাড়া রিযা তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। আর রিযা অর্জন ব্যতীত আল্লাহকে পেতে পারে না। রিযা হলো আল্লাহর তিক্ত ফায়সালাতেও অন্তর সন্তুষ্ট থাকা। শোকর হলো আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে তাঁর প্রতি অন্তরের বিনয়ী হয়ে উঠা। সবর হলো অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। দুনিয়াবিমুখতা হলো দুনিয়ার ভোগবিলাসিতা দুনিয়ার জন্য রেখে দেওয়া। আল্লাহভীরুতা হলো হারাম বিষয়ে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় সন্দেহজনক বিষয় থেকে সর্বশক্তি দিয়ে পলায়ন করা। তাকওয়ার সারকথা হলো, প্রশংসনীয় কি নিন্দনীয়—সর্বাবস্থায় অন্তরে আল্লাহর গভীর ভয় রাখা। ইলম হলো বিভিন্ন বস্তু মূল্যায়নের যোগ্যতা লাভ করা। আর তলব হলো উদ্দিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি আগ্রহ না থাকা।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হারাম খাদ্যের ফলে আমল কবুল হয় না

📄 হারাম খাদ্যের ফলে আমল কবুল হয় না


৮১৬. আবু বকর আল হারবি বলেন, “সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি : 'মুক্তি রয়েছে তিন বিষয়ে। উত্তম খাবারদাবার, পূর্ণাঙ্গ আল্লাহভীরুতা এবং হিদায়াতের পথ।”

৮১৭. বিশর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, ইউসুফ ইবনু আসবাত বলেছেন : “যখন কোনো যুবক ইবাদাতে লিপ্ত হয়, তখন ইবলিস তার সাঙ্গপাঙ্গদের বলে, 'দেখো তো, তার খাবারের ব্যাবস্থা কোত্থেকে হচ্ছে। খাবার-দাবারের উৎস খারাপ হলে বলে, 'তাকে তার মতো ছেড়ে দাও। আমাদের ব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সে মুজাহাদা করে ইবাদাত-বন্দেগী করতে থাকুক। নিজের খাবারের মাধ্যমেই সে তোমাদের কাজ করে দিয়েছে।”

৮১৮. জারিরি বলেন, “সাহাল ইবনু আবদিল্লাহকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি নিজের খাবার-দাবারের হালাল-হারামের প্রতি লক্ষ্য রাখে, তার মধ্যে আপনাতেই দুনিয়াবিমুখতা তৈরি হয়। আর যে নিজের নফসের সাথে কিংবা অন্য কারও সাথে তোষামোদি করে বেড়ায়, সে কখনো সঠিক পথের গন্ধও পাবে না।”

৮১৯. শুয়াইব ইবনুল হারব থেকে বর্ণিত, সুফিয়ান সাওরি বলেছেন: “তোমার অর্থ-সম্পদ কোত্থেকে আসছে, সেটার প্রতি লক্ষ রাখবে আর শেষ কাতারে সালাত আদায় করবে।”[৫৪৭]

৮২০. ইসহাক আল আনসারি থেকে বর্ণিত আছে যে, হুজাইফা আল মারআশি একদিন দেখেন, মানুষ প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। তখন তিনি বলেন, “এর চেয়ে বরং হালাল খাবার গ্রহণের প্রতিযোগিতা করা উচিত ছিল তাদের।”

৮২১. মাসউদি বলেন, “ইউনুস ইবনু উবাইদ বলেছেন: 'হালাল খাত থেকে একটা পয়সা পাওয়াও এখন আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।' ইউনুস ইবনু উবাইদের মতো ব্যক্তি যখন এই কথা বলেন, তখন আমাদের কথা তো বলাই বাহুল্য。

৮২২. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “আমি ফুযাইলকে বলতে শুনেছি : 'সত্তর বছরের ইবাদাতের চেয়ে হালাল খাতের এক পয়সা অধিক উত্তম।” তিনি আরও বলেন, “ফুযাইলকে বলতে শুনেছি: 'মাপে কম দেওয়াটা কিয়ামাতের দিন চেহারায় কালি লেপনের নামান্তর।”

৮২৩. ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আইয়ুব বলেন, “আমি সাহাল ইবনু আবদিল্লাহকে বলতে শুনেছি: 'আমাদের মৌলিক বিষয় হলো পাঁচটি। আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে থাকা, নবি ﷺ-এর সুন্নাত অনুসরণ করা, হালাল খাদ্য গ্রহণ করা, পাপাচার থেকে বিরত থাকা এবং হক আদায় করা।”[৫৪৮]

৮২৪. মালিক ইবনু আনাস থেকে বর্ণিত আছে, রবি ইবনু খাইসাম একবার এক সাথিকে বিদায় জানাতে তার সাথে চলছিলেন। বিদায় গ্রহণের সময় সাথি তাকে বলে, "আমাকে কিছু ওসিয়ত করুন।” রবি তখন বলেন, "উত্তম কাজ কোরো এবং হালাল খাদ্য খেয়ো।"

টিকাঃ
[৫৪৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৬৮。
[৫৪৮] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২১০; হিলইয়াতুল আউলিয়ায় আরেকটি অংশ অতিরিক্ত রয়েছে, তা হলো, কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং তাওবা করা। (হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/ ১৯০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00