📄 তিন প্রকারের জিনিস ও সেসবের করণীয়
৮১০. আলি ইবনু আবদিল হামীদ গাযায়িরি থেকে বর্ণিত, সিররি সাকতি বলেছেন: “তিন ধরনের জিনিস আছে। একটা হলো, যা স্পষ্টত সঠিক। সেটার অনুসরণ করে যাবে। দ্বিতীয়টা হলো, যা স্পষ্টত ভুল। সেটা পরিহার করে চলবে। আর তৃতীয়টা হলো, অস্পষ্ট বিষয়। তা থেকে বিরত থেকো। আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করে দিয়ো সেটা। আল্লাহ তাআলাকে পথপ্রদর্শনকারী বানাবে। নিজের দারিদ্র্য তাঁর কাছে ন্যস্ত করলে অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারবে।”
📄 কম কথা ও অধিক ভাবনা তাকওয়ার অংশ
৮১১. আবূ আবদির রহমান থেকে বর্ণিত, উমার ইবনু আবদিল আযীয বলেছেন: “মুত্তাকী হলো ওই ব্যক্তি, যার মুখে লাগাম পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”[৫৪২]
৮১২. বিশর ইবনুল হারিস বলেন, "উমারকে বলতে শুনেছি: 'মুমিন সকল বিষয়েই প্রথমে চিন্তাভাবনা করে নেয়। কল্যাণকর হলে তা বাস্তবায়ন করে। আর অকল্যাণকর হলে তা থেকে বিরত থাকে।”
৮১৩. বিশর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, উমার ইবনু আবদিল আযীয বলেছেন: "মুমিনের মুখে লাগাম পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
টিকাঃ
[৫৪২] ইবনু সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ৫/৩৭৪。
📄 সংযোগ ও ইন্দ্রিয়ের তাকওয়া
৮১৪. মুহাম্মাদ ইবনু আবী তামিলা বলেন, “আমি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে বলতে শুনেছি: 'যে কারোর সাথে মেশা করা উচিত নয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ
তাদেরকে আমার আয়াত নিয়ে উপহাসে লিপ্ত দেখলে তাদের কাছ থেকে সরে পড়বেন, যে পর্যন্ত না তারা অন্য বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়।[৫৪3]
অপর এক আয়াতে তিনি বলেন:
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكَفِّرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِّثْلُهُمْ
আর কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। অন্যথায় তোমরাও তাদেরই মতো হয়ে যাবে। [৫৪8]
তেমনিভাবে মুমিন চাইলেই যে কারও দিকে তাকাতে পারে না, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। [৫৪৫]
তেমনি যে বিষয়ের জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথাবার্তা বলা, যে-কারও থেকে যে-কোনো কিছু শোনা ও যে-কোনো দিকে ছুটে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً
যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তর এদের প্রত্যেকটিই সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হবে।”[৫৪৬]
টিকাঃ
[৫৪৩] সূরা আনআম, ৬: ৬৮。
[৫৪8] সূরা নিসা, ৪: ১৪০。
[৫৪৫] সূরা নূর, ২৪: ৩০。
[৫৪৬] সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭: ৩৬。
📄 আল্লাহকে পাওয়ার অন্যতম উপায় তাকওয়া
৮১৫. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “আমি মুযাইয়ানকে বলতে শুনেছি: ‘মানুষ অন্বেষণ ছাড়া ইলম অর্জন করতে পারে না। ইলম ছাড়া আল্লাহভীরুতা অর্জন করতে পারে না। আল্লাহভীরুতা ছাড়া দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করতে পারে না। দুনিয়াবিমুখতা ছাড়া সবর অর্জন করতে পারে না। সবর ছাড়া শোকর তথা কৃতজ্ঞতা অর্জন করতে পারে না। আর শোকর ছাড়া রিযা তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। আর রিযা অর্জন ব্যতীত আল্লাহকে পেতে পারে না। রিযা হলো আল্লাহর তিক্ত ফায়সালাতেও অন্তর সন্তুষ্ট থাকা। শোকর হলো আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে তাঁর প্রতি অন্তরের বিনয়ী হয়ে উঠা। সবর হলো অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। দুনিয়াবিমুখতা হলো দুনিয়ার ভোগবিলাসিতা দুনিয়ার জন্য রেখে দেওয়া। আল্লাহভীরুতা হলো হারাম বিষয়ে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় সন্দেহজনক বিষয় থেকে সর্বশক্তি দিয়ে পলায়ন করা। তাকওয়ার সারকথা হলো, প্রশংসনীয় কি নিন্দনীয়—সর্বাবস্থায় অন্তরে আল্লাহর গভীর ভয় রাখা। ইলম হলো বিভিন্ন বস্তু মূল্যায়নের যোগ্যতা লাভ করা। আর তলব হলো উদ্দিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি আগ্রহ না থাকা।”