📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 উত্তম ও হালাল সম্পদ

📄 উত্তম ও হালাল সম্পদ


৭৯৬. আসমা ইবনু উবাইদ বলেন, “আমি ইউনুস ইবনু উবাইদকে বলতে শুনেছি: 'দুটি বিষয়ের চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কিছু হতে পারে না। একটি হলো উত্তম সম্পদ আর অপরটি হলো সুন্নাত অনুযায়ী আমলকারী ব্যক্তি।”

৭৯৭. তিনি আরও বলেন, “ইউনুস ইবনু উবাইদকে বলতে শুনেছি: 'ব্যাপারটা মাত্র দুটি পয়সার। একটি পয়সা, যা মানুষ নিজের জন্য খরচ করে। অপরটি হলো, যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর ফরয হক আদায় করে।”

৭৯৮. আবদুল মালিক ইবনু হারুন ইবনু আনতারা বলেন, “আমার বাবা হাসান বাসরির সূত্রে বলেছেন : 'যদি হালাল পয়সার কোনো উৎসের কথা জানতে পারি, তাহলে বাহনে চড়ে হলেও সেটা নিয়ে আসব। তা দিয়ে আটা কিনে খামিরা করে রুটি বানাব। তারপর টুকরো টুকরো করে খাব সেটা। আর অসুস্থ কারও কাছে গেলে সে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তাকে পান করাতে থাকব।”

৭৯৯. আব্বাস আদ দুরি বলেন, “বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি: 'মানুষের আগে খেয়াল রাখা উচিত যে, তার নিজের রুটিরুজি কোত্থেকে আসছে। সে নিজের পরিবার-পরিজনকে যে বাসস্থানে রাখছে, সেটা কীভাবে অর্জিত হলো। তারপর অন্যদের ব্যাপারে কথা বলা উচিত।”[৫৩৭]

৮০০. আবদুল জাব্বার ইবনু বিশরান বলেন, “সাহালকে বলতে শুনেছি: 'যাতে আল্লাহর অবাধ্যতা করা হয় না, তা হালাল। আর যাতে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া হয় না, তা নির্মল ও পরিচ্ছন্ন।”

টিকাঃ
[৫৩৭] ইবনু সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ৫/৩৬৮。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নৈঃশব্দ্য পরিহার

📄 নৈঃশব্দ্য পরিহার


৮০১. রবাহ ইবনু উবায়দা থেকে বর্ণিত আছে, একবার রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সুগন্ধি বের করে উমার ইবনু আবদিল আযীয -এর সামনে রাখা হয়। নাকে ঘ্রাণ যাওয়ার আশঙ্কায় উমার সাথে সাথে নাকে হাত চেপে ধরেন। তখন তার এক সাথি বলেন, “আমিরুল মুমিনীন! গন্ধ নাকে গেলে সমস্যা কী? (ব্যবহার তো আর করছেন না)” তিনি বলেন, “আরে, সুগন্ধীর গন্ধই তো মানুষ উপভোগ করে।”[৫৩৮]

৮০২. হামযা ইবনু হুসাইন সামসার থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আল জাওহারিকে বলতে শুনেছেন: “এক গ্রীষ্মের দিনে জুমুআর সালাত আদায় করে বিশর ইবনুল হারিসের সাথে হাঁটছিলাম। পথিমধ্যে ইসহাক ইবনু ইবরাহীমের বাড়ির পাশ দিয়ে যাই। রাস্তায় এসে পড়ছিল বাড়ির ছায়া। আমি বিশরকে ছায়াতে আনার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তিনি রোদেই হাঁটছিলেন। মনে মনে বলি, 'আল্লাহর কসম! আমি তাকে জিজ্ঞেস করেই ছাড়ব যে, রোদে হেঁটে নিজেকে কষ্ট দেওয়ার মধ্যে আল্লাহভীরুতার কী আছে।' পরে তাকে জিজ্ঞেস করি, 'আবূল হুসাইন! আমি আপনাকে ছায়ার দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু আপনি রোদেই হেঁটে গিয়েছেন। এর কারণ কী?' তিনি উত্তরে আমাকে বলেন, 'ছায়াটা ছিল এক পাপিষ্ঠের বাড়ির।”[৫৩৯]

৮০৩. মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু হামদান এবং মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আশ শাবহি বলেন, “আমরা মাহফুজকে বলতে শুনেছি: 'তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে প্রথমে হারাম বিষয়ে, এরপর সন্দেহজনক বিষয়ে, এরপর অনর্থক বিষয়ে।”

৮০৪. আল্লাহ তাআলার বাণী : أُوْلَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى “আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন। "[৫৪০] আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আমি এই আয়াতের ব্যাপারে আবূ সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহ তাদের অন্তরকে পরীক্ষা করার অর্থ হচ্ছে, তাদের অন্তর থেকে তিনি প্রবৃত্তির তাড়না বিদূরিত করে দিয়েছিলেন।"
আবূ সুলাইমান বলেন, "রাতে এক লোকমা কম খেতে পছন্দ করি। কারণ, এর ফলে রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সময়টাই ইবাদাতে কাটিয়ে দিতে পারি আমি।"

টিকাঃ
[৫৩৮] ইবনুল জাওযী, সীরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, ১৯২。
[৫৩৯] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৫/১৯৬。
[৫৪০] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ৩。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 তাকওয়ার কিছু বৈশিষ্ট্য

📄 তাকওয়ার কিছু বৈশিষ্ট্য


৮০৫. মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আল ফাররা থেকে বর্ণিত, আবূ হাফস বলেছেন : "তাকওয়া হলো নিরেট হালাল বিষয়।”

৮০৬. আবুল হুসাইন আল ফারিসি বলেন, “ইবনু আতাকে বলতে শুনেছি : 'তাকওয়ার একটি বাহ্যিক এবং একটি অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে। বাহ্যিক দিক হলো আল্লাহর সীমারেখা অনুসরণ করে চলা। আর অভ্যন্তরীণ দিক হলো বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস。

৮০৭. আবূল হুসাইন আল ফারিসি বলেন, “আমি আবুল হাসান ইবনু আলিকে বলতে শুনেছি: 'তাকওয়ার ওপর তাকওয়া হলো তাকওয়ার ওপর ধৈর্য ধারণ করা। তথা সবসময় তাকওয়ার ওপর বহাল থাকা।”

৮০৮. আবুল হুসাইন আল ফারিসি বলেন, "আমি আবুল হাসান ইবনু আলিকে বলতে শুনেছি : 'তাকওয়া হলো মুত্তাকীদের পর্যবেক্ষক আর ঈমান হলো মুমিনের পর্যবেক্ষক। ইলম হলো আলিমের পর্যবেক্ষক আর ইহসান হলো মুহসিনের পর্যবেক্ষক।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 পরিমাণ নয়, মান বিবেচ্য

📄 পরিমাণ নয়, মান বিবেচ্য


৮০৯. আলি ইবনু আবদিল হামীদ গাযায়িরি বলেন, "সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি : 'বিদআত-মিশ্রিত আধিক্যের চেয়ে সুন্নাত-সম্মত সামান্য অর্জনই উত্তম। তাকওয়ার সাথে কৃত আমল যত কমই হোক, ফেলনা নয়।'”[৫৪১]

টিকাঃ
[৫৪১] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00