📄 তাকওয়া লজ্জার নিজের প্রতিই যথেষ্ট
৭৯১. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আবু উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'তাকওয়া হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা অনুসরণ করে চলা, এতে কোনোরূপ ত্রুটি না করা এবং সীমালঙ্ঘন না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ
যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজের ওপরই যুলুম করে।”[৫৩৪][৫৩৫]
টিকাঃ
[৫৩৪] সূরা তালাক, ৬৫: ১。
[৫৩৫] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৪৮১。
📄 গুনাহ থেকে বিরতকারী উপাদান
৭৯২. আবুল হাসান ইবনু আলি-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "তাকওয়া কাকে বলে?” তিনি উত্তরে বলেছেন, "হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা।” তাকে জিজ্ঞেস করা হয় ")ورع( আল্লাহভীরুতা কাকে বলে?” তিনি উত্তরে বলেন, "সন্দেহ-সংশয় থেকে বেঁচে থাকা।” তিনি আরও বলেন, “আল্লাহভীরুতা হলো যা তোমাকে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা দিয়ে রাখে।”
এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, "তাকওয়া কাকে বলে?” উত্তরে তিনি বলেছিলেন, "তা হচ্ছে ওলিদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার একধরনের পর্যবেক্ষণ।”
📄 তাকওয়ার মাধ্যমে ইয়াকীনের উচ্চতর স্তর অর্জন
৭৯৩. আমি তাকে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি কুফর এবং নিফাক তথা কপটতা থেকে বেঁচে থাকে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের মারিফাত লাভ করে থাকে, যাকে বলা হয় ইলমুল ইয়াকিন। আর যে ব্যক্তি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে আরেক ধরনের মারিফাত লাভ করে, যাকে বলা হয় আইনুল ইয়াকিন। আর যে ব্যক্তি সগীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের মারিফাত লাভ করে, যাকে বলা হয় হাক্কুল ইয়াকিন।”
📄 ত্যাগ স্বীকারের প্রতিদান নিশ্চিত
৭৯৪. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি থেকে বর্ণিত, বলা হয়, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা একবার আবদুল্লাহ ইবনু মারযুকের কাছে গিয়েছিলেন। ইবনু মারযুক সমতল ভূমিতে শুয়ে ছিলেন তখন। বাতাসে ধুলোবালি উড়ে এসে তার গায়ে লাগছিল। এ অবস্থা দেখে সুফিয়ান তাকে জিজ্ঞেস করেন, "আবূ মুহাম্মাদ! আমি তো জানি, যে ব্যক্তি পার্থিব কিছু পরিত্যাগ করে, বিনিময়ে আল্লাহ দুনিয়াতেই তাকে কিছু দান করেন। আপনি কী পেলেন, বলুন শুনি!” তিনি উত্তরে বলেন, "আমি পেয়েছি বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকার সামর্থ্য।”
বর্ণনাকারী বলেন, একবার আবদুল্লাহ মক্কায় গিয়েছিলেন। তাকে তখন জিজ্ঞেস করা হয়, “বাহনে চড়ে এসেছেন না কি পায়ে হেঁটে?” তিনি উত্তরে বলেন, “অবাধ্য বান্দার জন্য মনিবের দুয়ারে বাহনে চড়ে আসার কোনো অধিকার নেই। যদি পারতাম, তাহলে মাথা দিয়ে হেঁটে হেঁটে আসতাম।”
৭৯৫. উবাইদ ইবনু উমাইর থেকে বর্ণিত, উবাই ইবনু কাব বলেছেন: “কেউ যদি আল্লাহর জন্য কোনো ত্যাগ স্বীকার করে, তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে কল্পনাতীত উৎস থেকে আরও উত্তম জিনিস দেন। পক্ষান্তরে কেউ আল্লাহর কোনো বিষয় নিয়ে তাচ্ছিল্য করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে এমন কঠোরভাবে পাকড়াও করেন, যার ধারণাও সে করতে পারেনি।”[৫০৬]
টিকাঃ
[৫০৬] ইবনু আসাকির, তাহযিবু তারিখি দিমাশক, ২/৩৩৩。