📄 তাকওয়ার মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি অর্জন
৭৮৭. আবূ আবদির রহমান বলেন, “আমি আবুল কাসিম নসর আবাযিকে বলতে শুনেছি: তাকওয়া হলো হকের লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ
'কখনোই এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”[৫৩২]
৭৮৮. আবূ বকর রাযি বলেন, “আমি আবূ মুহাম্মাদ জারিরিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি মুরাকাবা এবং তাকওয়াকে নিজের এবং আল্লাহ তাআলার মাঝে বিচারক বানায় না, সে কাশফ এবং মুশাহাদার স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।"
৭৮৯. আল্লাহ তাআলার বাণী : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانَا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করো, তবে আল্লাহ তোমাদের ন্যায়-অন্যায় ফায়সালা করার শক্তি দেবেন। "[৫৩৩]
জাফর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু নুসাইর খলাদি বলেন, "আমি আবুল কাসিম জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি, 'যখন কেউ আল্লাহকে ভয় করে তখন আল্লাহ তাআলা তাকে হক ও বাতিলের পার্থক্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান দান করেন।' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তাকওয়া কি হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী নয়?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই। প্রথমটা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত আর দ্বিতীয়টা মানুষের অর্জন। তাই কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে অনেক জটিল বিষয় সহজে বুঝতে সক্ষম হয়। এমনকি এর ফলে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্যও অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠে তার কাছে।”
টিকাঃ
[৫৩২] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩৭。
[৫৩৩] সূরা আনফাল, ৮: ২৯。
📄 যিকর ও আমলের ভিত্তি
৭৯০. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, “আমি আবূ উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি তাকওয়া এবং জ্ঞানের ওপর আপন প্রাসাদ নির্মাণ করে, তার যিকর-আযকার এবং আমলগুলো নির্মল এবং স্বচ্ছ হয়ে উঠে। আল্লাহভীতি তার মধ্যে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, সে বুঝতেও পারে না।”
📄 তাকওয়া লজ্জার নিজের প্রতিই যথেষ্ট
৭৯১. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আবু উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'তাকওয়া হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা অনুসরণ করে চলা, এতে কোনোরূপ ত্রুটি না করা এবং সীমালঙ্ঘন না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ
যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজের ওপরই যুলুম করে।”[৫৩৪][৫৩৫]
টিকাঃ
[৫৩৪] সূরা তালাক, ৬৫: ১。
[৫৩৫] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৪৮১。
📄 গুনাহ থেকে বিরতকারী উপাদান
৭৯২. আবুল হাসান ইবনু আলি-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "তাকওয়া কাকে বলে?” তিনি উত্তরে বলেছেন, "হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা।” তাকে জিজ্ঞেস করা হয় ")ورع( আল্লাহভীরুতা কাকে বলে?” তিনি উত্তরে বলেন, "সন্দেহ-সংশয় থেকে বেঁচে থাকা।” তিনি আরও বলেন, “আল্লাহভীরুতা হলো যা তোমাকে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা দিয়ে রাখে।”
এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, "তাকওয়া কাকে বলে?” উত্তরে তিনি বলেছিলেন, "তা হচ্ছে ওলিদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার একধরনের পর্যবেক্ষণ।”